ইউজার লগইন

মেঘলা শ্রাবনী'এর ব্লগ

বিভীষিকা

যখন সময় কাটানো আজগুবি মনে হয় তখন উদ্ভট কিছু চিন্তা মাথায় আসে। ঠিক এরকম আজগুবি ও উদ্ভট চিন্তা করছিলাম প্রকৃতির নিষ্ঠুর কিন্তু অনিবার্য একটি নিয়ম নিয়ে। এর নাম হল "মৃত্যু"। ভাবছিলাম যদি মৃত্যু নামক জিনিষটা না থাকত তাহলে ইহ জগতের চেহারাটা কেমন হত? একটু ভেবে দেখুন-

০১। মৃত্যু না থাকলে "মৃত্যু" শব্দসহ অনেক শব্দের উদ্ভব হতনা
০২। মৃত্যু না থাকলে "বেঁচে থাকা" নামক বিষয়টাই থাকতনা
০৩। পৃথিবীর জন্ম থেকে জনসংখ্যা এখন পর্যন্ত কত হত কে জানে
০৪। পৃথিবীতে খাবারের প্রয়োজন হতনা কারন আপনি মরবেননা খাবেন কেন?
০৫। খাবার উৎপাদনকারী শিল্পকারখানা থাকতনা, থাকতনা কৃষিকাজ, থাকতনা কৃষক
০৬। অর্থনীতির ধরণ হত আলাদা, শিল্পের ধরণ ও প্রয়োজন হত সীমিত
০৭। সারা দুনিয়ায় মানুষের সাথে অন্য জীব-জন্তুর সংখ্যাও হত অস্বাভাবিক
০৮। জীব-জন্তুরও খাবারের প্রয়োজন হতনা বিধায় তারা কি করত কে জানে

বিবর্তন

১.
দেশী রুই, কাতলা, মাগুর, চিকন চালের ভাত আর খুঁজে পাওয়া দায়। বরং দেখি ইন্ডিয়ান রুই, সিল্ভার কার্প, আফ্রিকান মাগুর আর হাইব্রিড ধানের ভাত। কবুতরের মাংস, বিলের কই, বিলের মাগুর-শিং, পুটি, আইড়, বোয়াল মাছের স্বাদ আজ ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তাজা ছোট মাছের চচ্চরি, বাইম মাছের দ্বো-পেয়াজা, পাঁচ মিশেলি শাঁক আর সাথে মশুর ডালের পাঁচ-ফোঁড়ন মেশানো গন্ধ ও স্বাদ কবে উবে গ্যাছে মনে নেই। আগুনে পোড়ানো ঝুপরি বেগুনের ভর্তা খাওয়ার মজা যা আজোও ভোলা যায়না সেই বেগুন-ই নেই বাজারে। আছে এক কেজি ওজনের বিলেতি বেগুন। পোড়ালে ঔষধের গন্ধ।

গুরু হইতে পয়সা লাগেনা

"গুরু হইতে পয়সা লাগেনা", তাহলে? গুরুই দেখিয়েছেন গুরু হওয়ার রহস্য। তিনিই মনে হয় এই উপমহাদেশের একমাত্র কোটি মানুষের মন জয় করা শিল্পী যার কোন আভিধানিক জ্ঞান নেই সঙ্গিতের উপর। আর এটাই তার গুরু হওয়ার রহস্য।

১৯৮৭ সাল বা তার সমসাময়িক সময়ে যখন দেশে স্যাটেলাইট টেলেভিশন আবিস্কার হয়নি তখন পাশের বাসায় ক্যাসেট প্লেয়ারে গুরুর গান শুনেছি প্রথমবার। গানের ধরন-টরনই আলাদা। ঐ সময়ে কতবার যে আলাল-দুলাল, সালেকা-মালেকা, পাপড়ী কেন বোঝেনা এসব গান শুনেছি তার কোন হিসেব নেই।

এরপরে গুরুকে দেখার আগ্রহ জাগে। আবাসিক হলে যখন থাকতাম তখন এক নবীন-বরণ অনুষ্ঠানে গুরুকে আনার চেষ্টা চলে। ঐ সময় ওনাকে ম্যানেজ করা আর রাজ্য জয় করা সমান কথা। তখন ১৯৯৪ সাল। গুরুর স্টেজ পোগ্রাম মানেই শহর ভেঙ্গে মানুষের ঢল। জায়গা পেতে অনুষ্ঠান শুরুর ২ ঘন্টা আগে থেকেই ভেন্যুর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

পড়ন্ত বিকেল

ক্লান্ত মনে গ্রীলজানালার পাশে সুদুর নিলীমা ঘেষে-
কখনও বকপাখি আবার কখনও বা চিল,
দেখেছি উড়ে যেতে অসম উচ্চতার
প্রতিযোগীতায় মেতেছে অধীর।

সুপ্ত ইচ্ছার হাতছানি মৃদু শরীরের ঝাকুনি বেয়ে
নীচে নেমে যায় শান্ত প্রকৃতির সাথে হাত মেলাতে।
মৌনক্ষুধা বক্ষে বেধে রাখি,
কখন সে আসবে-
আলিঙ্গনে তৃপ্ত হৃদয় হবে রঙ্গিন।

যখন হবে শেষ ঐ সব রাত্রির যবনিকা টানা
তখন আমি আসব তোমার সাথে।
ঐ হাতে একঠায় রাখবে ধরে তুমি ঝালমুড়ির ঠোঙ্গা,
তুমি রবে মোর পানে চেয়ে, আর-
আমি শশব্যস্ত ঝালমুড়ির পানে।

কখন যে নামবে সন্ধ্যা
আকাশের বুকে দেখবনা আর সেই-
কখনও বকপাখি আবার কখনও বা চিল
গ্রীলজানালা ধরে চেয়ে থাকি নির্বাক, কখনো
ছুড়ে মারি চিরকুটের ঢিল।

মানানসই বেমানান

যদি বলি কোন শব্দগুলো শুনতে ভালো লাগে? উত্তর খুঁজে বের করে আনা টাফ নয়। গান, বাজনা, পাখির ডাক, মায়ের ডাক, বৃষ্টি, সাগরের ঢেউ, নদীর পানির ছলাৎ ছলাৎ, শিশুর অস্ফুট বাক্য, বাশির সুর, ঘুম পাড়ানির গান এরকম হাজারটা খুঁজে পাওয়া যাবে।

যদি বলি শুনতে বিরক্তিকর শব্দগুলো কি? এখানেও এমনি। যেমন বাসের হর্ন, বাপের বকুনি, বন্দুকের শব্দ, বেসুরো গান, নাক ডাকা, সজোরে দরজা লাগানো, ইট ভাঙ্গা, ড্রিলিং, কানের কাছে ভ্যান ভ্যান, মশা-মাছির প্যান প্যান ইত্যাদি ইত্যাদি...

কিন্তু এমন কিছু শব্দ আছে যে গুলোকে কোন ভাবেই শ্রেনীভুক্ত করা যায়না, দেখুন-
ঝমাঝম রেলগাড়ীর শব্দ, কনসার্ট, মাঝরাতে শিয়ালের ডাক, সাইকেলের ক্রিং ক্রিং, বাচ্চার কান্না, মায়ের বকুনি, বজ্রপাত, আঙ্গুল ফোটানো, ভোর বেলা মোরগের ডাক ইত্যাদি।

ঢিল ছোঁড়া

পিচ্ছিকালে কিছুটা নয়, বলতে গেলে বাড়াবাড়ি রকমের পিছলা ছিলাম। কেউ ধরতে গেলেও ছলাৎ করে পিছলে দৌড় দিতাম। আমার ঢিল ছোঁড়ার অভ্যাসটা তখন থেকেই। ঢিল ছুঁড়ে পিছলামির কয়েকটা উদাহরণ এমন-

১. ঢিল মারলাম আমগাছের মগডালে আমের ঝুপি বরাবর, এক সাথে তিনটা আম পড়ল, দে দৌড়- কে আগে সে আম কুঁড়াতে পারে
২. ঢিল মারলাম লিছু গাছের ঝোপা বরাবর, পড়ল, খেলাম, হায়রে টক!
৩. ঝগড়ার এক ফাঁকে ঢিল ছুঁড়লাম নাক বরাবর, পালা পালা...
৪. দূরে ঢিল ছুঁড়ে কব্জির শক্তি পরীক্ষা যখন তখন
৫. দোয়েল পাখিকে ঢিল ছুঁড়ে একবার আহত করলাম, তারপর নিজেই তার চিকিৎসক
৬. পুকুরে ঢিল ছুঁড়ে ব্যাঙ ঝাঁপানো খেলা, সেতো সবাই জানে
৭. ঢিল ছুড়লাম কোথায়, লাগলো জানালায়
৮. ঢিল ছুঁড়ে নারকেল পারার ব্যর্থ চেষ্টা বহুবার
৯. ঢিল ছুঁড়েছি লোহার গোল পোস্ট বরাবর জাস্ট "টং" করে শব্দ হওয়ার জন্যে
১০. ঢিল ছুঁড়ে পুকুরের মাছ মারার ব্যর্থ চেষ্টা

ব্লগে আমাকে স্বাগত জানানো হোক

এই লিখাটি আমার ব্লগের প্রথম লিখা। মনের মাঝে হাজারো কথা কিন্তু এত কথা লিখি কি করে? আচ্ছা, না হয় লিখলাম তো আপনাদের এত সময়-ই বা কোথায় পড়ার? যাহোক, ছোট্ট একটা কথা লিখে শুরু করছি এখানকার ব্লগিং। আশাকরি আপনারা আমার সাথেই থাকবেন...

ছোট্ট বেলায় আমার সবচে প্রিয় কবিতাটা ছিল "পাকাপাকি", সেটা এরকম---

"আম পাকে বৈশাখে কুল পাকে ফাগুনে
কাঁচা ইট পাকা হয় পোড়ালে তা' আগুনে
................"

বাকি টুকু মনে করতে থাকেন...
পরবর্তী লিখা নিয়ে আসছি এখনি......