মামু, ফরম ভরনা জরুরী হ্যায় কেয়া?
এটা বলিউডের "মুন্নাভাই এমবিবিএস" ছবির একটা ডায়ালোগ। ছবিটা দেখেছিলাম কয়েকবছর আগে, এই ডায়ালোগটা কিভাবে যেনো মনে আছে।
হাসপাতালে রোগীকে নেয়ার পর ফরম পুরন, ব্যক্তিগত তথ্যাদি পুরনের নামে অনেক মুল্যবান সময় নষ্ট হয়, সেই প্রেক্ষিতেই ঐ ডায়ালোগটা বলা হয়েছিলো, আর সেই "খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি"র অভিজ্ঞতা আমার নিজেরই হয়েগেলো গত রবিবার, কোন তৃতীয় বিশ্বের দেশে না, অষ্ট্রেলিয়াতে।
সোমবার একটা প্রেজেন্টেশন ছিলো, সেটাই তৈরি করছিলাম মেঝেতে পা দুটো আড়াআড়ি করে দিয়ে, আর তাকাচ্ছিলাম বার বার উপরে থাকা কম্প্যুটার স্ক্রীনের দিকে। এমনভাবে চলেছে প্রায় একঘন্টার বেশি কিছু সময়, এরপর যখন উঠলাম তখন দেখি বাম পা অবশ হয়ে আছে। এটা খুবই স্বাভাবিক, হাটা শুরু করলে "ঝি ঝি" ধরে এরপর ঠিক হয়ে যায় দ্রুতই। কিন্তু সেদিন আর অবশ ভাবটা যাচ্ছিলো না, প্রায় দু ঘন্টা শুয়ে বসে হেটেও সেই অবশ ভাবটা দুর করা যাচ্ছিলো না। একটু চিন্তায় পড়লাম, ইন্টারনেটে ঘাটাঘাটি শুরু করলাম, এবং ভয় পেলাম। কারন "বাম পা অবশ হওয়া" অনেক বড় বড় রোগ বা শারীরিক জটিলতার সিম্পটম, যেমনঃ হৃদরোগ, ব্রেইন ক্যান্সার, নার্ভাল ডিসওর্ডার.......। সো ভয় পাওয়াই উচিত। এই বিদেশ বিভূয়ে বউ আর মেয়ের জন্য আমি ছাড়া আর কেউ তো নেই, সো দুশ্চিন্তা শুরু হলো। ফোন করলাম "হেল্থ ডাইরেক্ট অষ্ট্রেলিয়ায়", কারন সেদিন জিপি বা জেনারেল প্র্যাকটেশনাররা কেউ চ্যাম্বার খুলবে না, রোববার বলে। হেল্থ ডাইরেক্ট থেকে আমার সকল সমস্যা শুনে বললো হাসপাতালে যাও দ্রুত।
এক পড়শিকে ফোন দিলাম, উনার হাতের কাছের হাসপাতালে একরাত থাকার অভিজ্ঞতা আছে, সো মনে করলাম উনিই বলতে পারবেন কি করা যায়। যা হোক উনার সাথে গেলাম হাসপাতালের ইমার্জেন্সীতে। ইমার্জেন্সির রিসেপশনে থাকা নার্স এসে আমার কি কি সমস্যা শুনে বললো তেমন কিছু না হয়তো, কিন্তু আমরা কিছু চেক করবো, তুমি ওয়েট করো। ওয়েট করলাম কিছুক্ষন, কল আসলো একটা কাউন্টার থেকে, এর পর শুরু হলো ফরম পুরনের পালা। আমার-জ্ঞাতি গুষ্টির বৃত্তান্ত, কি করি, কবে গেছি ঐ দেশ...... লাব লাব লাব লা...... এইটা চললো ১৫ মিনিট ধরে, ওদিকে বউ চিন্তিত মুখে পায়চারি করছে। আর মেয়ে খেলার নতুন জায়গা পেয়ে.....।
১৫ মিনিট পর ছাড়া পেলাম সে কাউন্টার থেকে, আমাকে ভেতরের রুমে নিয়ে গেলেন আরেক নার্স চেক আপের জন্য..... তখন মনে হলো "মামু, ফরম ভর্না জরুরী হ্যায় কেয়া?"
যা হোক, পুরা ৩ ঘন্টা ওদের অবজারভেশনে ছিলাম, যেহেতু বাম পায়ে অবশ ভাব আর ঘাড়ে একটু অস্বস্তি ছাড়া আর নতুন কোন লক্ষন দেখা যায় নাই, তাই তারা ধরেই নিলো এটা হার্ট রিলেটেড কিছু না, এক নিউরোলজিস্ট এসে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলো, এরপর বললো যে তেমন মেজর কিছু না, তবে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ঠিক না হলে আবার যেতে। আর পা ভাজ করে বসায় রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়া, তার সাথে বার বার উপরের দিকে তাকানোয় নার্ভে চাপ পড়ায় এই অবস্থা হয়েছে বলে তাদের ধারনা.....
একটা অভিজ্ঞতা হয়ে গেলো, এদের নার্স আর ডাক্তারদের ব্যবহার-রোগী হ্যান্ডেল করাটা প্রশংসার যোগ্য। সিম্পলী গ্রেট।
শুধু সেই একটা কথাই খোচায় "মামু, ফরম ভরনা জরুরী হ্যায় কেয়া?"





এরা ফরম ভালো পায়
; এখন কি অবস্থা আপনার?
হাছা কতা।
এখন বিন্দাস আছি....
আমার পায়ের আঙ্গুল আর নখের দফারফা নিয়ে গেলাম এক জিপির কাছে। ফরমের মহাভারত লেখার পর দুনিয়ার হিস্ট্রি নিচ্ছে... ফুডহ্যাবিট, ধূঁয়া-মদ-ড্রাগ হেনতেন, মহিলা হিসেবে উপরি পাওনা বিশেষ প্রশ্নমালা... সব কিছুর পর যখন দেখে সমস্যা কী, ব্যাটা নিজেই নিজের উপর ত্যক্ত হয়ে বলে, তো এতোসব ক্যান জিগাইলাম!
অবহেলা করবেন না, কম্পিউটার ফ্যাটিগ সিনড্রোম সূঁচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বের হয়। টেইক কেয়ার।
হাহাহা, এই জিপিরা ইন্টারেসটিং জিনিষ। আমাদের হাতের কাছের জিপি বুড়ি মহিলা, রোগী না থাকলে হেভি গল্প শুরু করে দেয়..।
কম্পূটার এখন সাবধানে ইউজ করি, ব্রেক দিয়ে দিয়ে..
যাক, আপ্নিতো হেল্প পেয়েছেন, আমাদের এইখানে অনেক সময় এইটা পাওয়াও দুস্কর!
মরার দেশে যে যেমন রাজা, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলৈ বড় মাস্তান, উল্টা সেবা নেয়..।
আম্রার দেশই ভালা...পঞ্চাশ ট্যাকা ধরায় দিলেই ফরমালিটিজ বাদ
হাহাহাহা,ঈমানে কৈ, মাঝে মাঝে এইগুলা মিস করি, কোন কাজ তাড়াতাড়ি করাতে চাইলে এই জিনিসটা বড়ৈ হেল্প করে..
কেউ দেখে শেখে না এই দেশে..আর শুনে পড়ে শেখার আশা সুদূরপরাহত
সময় লাগবো, বাকী সবার পরে..
হ মাইট।
দারুন অভিজ্ঞতা
কন কি? এইটা দারুন অভিজ্ঞতা?
ইউ.কে'র হাসপাতাকে আমার কিছু অভজ্ঞতা আছে। এরা এত সময় ধরে বসয়ে রাখে যে রোগী দুরে থাক রোগীর সাথে আসা ব্যক্তি পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে যায়।
হাহাহাহা, এরা বলে এইটারে অবজারভেশন.. তবে নার্সরা খুবি অমায়িক, আর ডাক্তারখান সুন্দরী আছিল...।
কম্পিউটারই আমার ভূড়ি তৈরি হওয়ার পেছনের কারণ। তাই ঠিক কর্ছি কম্পিউটারের সামনে বসা কমায়া দিমু। গতকাল থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করছি। ব্লগেও তাই কম আসা হবে।
তইলে কেম্নে হবে বস!ভুরি কমার সাথে সাথে তো আপ্নের উপস্থিতিও কইমা যাইব
লাভ নাই, পারবেননা। এর চেয়ে দাড়ায়া দাড়ায়া ব্লগিং করা শুরু করেন.....
মুকুল ... কম্পিউটার টেবিলটা উচু করো... তাইল দাড়িয়ে কাজ করতে পারবা
মলিদা... ফর্মের বেপারে বাংলাদেশ বেস্ট
... শুধু একটা টিকেট কাটা
এখন কি অবস্থা?
মুকুলরে আমিও সেই বুদ্ধিই দিলাম।
এখন ভালো আছি, আসলে পরেরদিন থেকেই ফিট।
সো কম্পিুটার এর অতি ব্যবহার থেকে সাবধান।
@ টুটলা,
কাজ করা সুযোগ আর পাইলাম কৈ!
ব্যাক পেইনের কারনে ডাক্তার আমাদের দাড়াইয়া সব কাজ করতে কৈছে
@ টুটলা,
তাতে অসুবিধা কী? মাঝে মইধ্যে নতুন টেশের দক্কার আছে।
ভবিষ্যতে এইরাম ট্রান্সিলিশন হৈতারে
"ফরম ভরার আগেই রুগী অক্কা পাইলো"
সিরিয়াস কিছু না জাইনা রিলিফ পাইলাম।
ফরম পূরন করিবার পূর্বেই রোগী মারা গেল।
আমার আবার ফরম ভরতে ভালোই লাগে...অবশ্য ইমার্জেন্সী খাইনাই এখনো কোনোদিন..
আমি ভালো আছি, হসপিটালাইজড হলে টের পাই যে অসুস্থ হয়েছিলাম নইলে বুঝি না
মন্তব্য করুন