মা,
মা, তুমি আমাকে গর্ভে ধরেছিলে
দশ মাস দশ দিন,
কত না কষ্টে কেটে ছিল সেই সব
দিনগুলো তোমার।
জন্মস্থলে আমি বড় হারামজাদা ছিলাম ।
কি অসহ্য প্রসবযন্ত্রণা! তবুও তুমি তোমার
অবগুণ্ঠিত কান্নাকে করেছিলে সযতনে গোপন,
হাসিতে রাঙিয়েছিলে আমায় জন্ম দেয়ার
এক অনাবিল সাধ।
প্রসব ব্যথায় যখন তুমি শয্যা শায়িত
যখন তুমি মৃত্যু অথবা জীবন জয়ের খেলায়
নিজের ভাগ্যকে সাহসিকতার সাথে দাঁড় করেছিলে,
ঠিক তখনি আমি তোমার শরীরের
সব শক্তির উৎসটুকু
রাসের মত চুষে চুষে খেয়েছি;
কারণ, আমি বড় হারামজাদা ছিলাম।
প্রসবের অন্তিম মুহূর্তে
তোমায় আমি শান্তি দেইনি মা,
যখন তুমি দুহাত মুষ্টিবদ্ধ করে
অসহ্য প্রসব যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিলে,
আমি তখন গর্ভস্থলে বসে
ছোট ছোট লাথির আঘাতে তোমার প্রসব ব্যথাকে
আরও বেশী তীব্রতর করে তুলে ছিলাম,
আমি বড় হারামজাদা ছিলাম ॥
কত নিশি তুমি আমার শিয়রে বসি
যতনের দীপ জেলে
নিজ দেহটারে করেছিলে কঙ্কাল,
পৌষ মাসের রাতে আমার প্রস্রাব
আর মলে ভেজা কাঁথাগুলো শেষ হয়ে যেত;
কী স্নেহ মায়া-ভালবাসার দহনে তুমি
নিজ বক্ষের আবরণটুকু উন্মোচন করে
খেতে দিতে দুগ্ধ আমায়,
আঁচলে ঢেকে দিতে আমার শরীরের সবটুকু,
তোমার কি শীত ছিল না মা!
আমি বড় হারামজাদা ছিলাম ॥
একটি ফুলের আঘাত আমার শরীরে
দিতে দাওনি গো মা তুমি,
পারিনি মা আমার মুখের উপর
উৎপাত করা মাছি-মশাটি তাড়াতে
তুমি দৌড়ে এসে আঁচলের ছোঁয়াতে
মাছি-মশার কামড় থেকে যতন করতে,
বিধাতার পর-এ মর্তে তুমি
যেন এক জীবন্ত বিধাতা রূপী,
আর আমি,আমি বড় হারামজাদা ছিলাম ॥
নিজের উদর অন্নশূন্য করে
কত দিবস ও রাত মোরে করেছ বড়
হৃষ্ট পুষ্ট সন্তানের সুস্বাস্থ্য চেয়ে
নিজেরে রেখেছ সংগোপনে ক্ষুধার রাজ্যে-
শৈশব কৈশোর যৌবন কালে মুখে
ফিরনি কোরমা মিষ্টান্ন দুগ্ধ কত কী দিতে,
মা গো কত ত্যাগ, এত মমত্ব-মায়া!
তোমার কি ক্ষুধা ছিল না মা!
আমি বড় হারামজাদা ছিলাম ॥
অনাহারী মা আমার ছিন্ন বস্ত্রে জীর্ণ কুটিরে
ঝড়-বর্ষায়, শীতের রাত্রিতে আমারই প্রতীক্ষায়-
এক মুঠো অন্ন কিংবা পরনের দুখানা কাপড়
সামান্য কানা কড়িও তোমায় দেয়নি গো মা,
অকৃতজ্ঞ সন্তান আমি, মরীচিকাময় জীবন আমার!
আমি বড় হারামজাদা ছিলাম ॥
বহুদিন পর হঠাৎ শুনি
“মা” তুমি নেই এ ধরায়-
মৃত্যুর আগে মোরে ডেকে ছিলে,
শেষ দেখার বাসনায়,
অভিমানী চোখ দু’টি তোমার কান্নায়
অঝোরে ঝরে ছিল
আমি কুসন্তান, তোমার পাশে নেই বলে-
পারিনি তোমার মৃত্যুবেলায় মুখোখানি দেখতে
পারিনি তোমার পা দু’টি ধরে
শেষ মাটুকু চেয়ে নিতে,
আমি বড় হারামজাদা ছিলাম ॥
তারপর পেরিয়ে গেল কত দিন
আজ জীবন প্রদীপ নিভু নিভু
তারপর একদিন মরণের কোলে
আমার জীবনের দিনগুলো সাঙ্গ হলো,
এ মরা দেহটারে সমাধিস্থ করে কী লাভ,
সব অর্থ অনর্থক হয়ে যাবে
আমি তো বড় পাতকী পাপী
মানুষ সমাজের অন্তঃস্থলে আমি ঘৃণিত
পাত্র হিসেবেই সমাদৃত
নর্দমায় পচে যাওয়া আবর্জনার মত দুর্গন্ধ
কি প্রয়োজন সমাধিস্থ করে,
মৃত্তিকায় ফেলে রেখো -
ছিন্ন ভিন্ন করে খেয়ে যাক শেয়াল কুকুরে
আমার এ দুটি চোখ, আমার পাপিষ্ঠ চোখ
ভাগ্য নামের কপাল পৃষ্ঠে বসে
শকুনেরা কুরে কুরে খাক।
ছিঁড়ে ফেলুক আমার দেহের সবটুকু,
যদি পারে ঐ শকুনেরা আত্মা নামের
সেই বস্তুটিকে আরও বেশি করে
ছিঁড়ে ছিঁড়ে যেন খায়;
আত্মা বুঝুক ওর পাপের শাস্তি আরও
কতখানি হওয়া উচিত ছিল,
আসলে ঐ শালার আত্মাখানি ছিল
বড়ই হারামী বড়ই পাপিষ্ঠ,
আর আমি ছিলাম বড়ই হারামজাদা





পুরো কবিতা বোল্ড!
চোখে লাগে খুব
জীবন থাকতে আমরা মূল্য তেইনা। এই কবিতাটি তার প্রতিফলন আপনার কবিতায়। আসলে এটা ঠিক "মারা" কষ্টই করে। ভালো লেগেছে।
মা হারা এ হাড়াম জাদাদের কাঁদাতে কে অধিকার দিয়েছে আপনাকে?
আমি তো কাউকে কাঁদাতে চাইনি আমার মা নাই তাই আমি লিখলাম বাছ
মন্তব্য করুন