ইউজার লগইন

হ্যাপি মাহে রমজান, ক্ষুধা ও খাদ্য বিলাস শুভ হোক

রমজান মাস এসে গেল। বাঙ্গালী মুসলিমদের ‘হ্যাপী মাহে রমজান’ জানাতেও দেরি করে ফেললাম। এজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
বেহেশত নিশ্চিত করার জন্য এ মাসে মুসলিমদের ছোটাছুটির অন্ত থাকে না। যদিও রমজানের মানে শুনি সংযম। কিন্তু মুসলিমদের দিকে তাকালে দেখা যাবে বাস্তবতা ভিন্ন। রোজা হলো সচ্ছল মুসলিমদের ক্ষুধা ও খাদ্য বিলাস। বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। যদিও কট্টোর ডানপন্থী মুসলিমরা এ কথায় গোসসা করতে পারেন, কারন তাদের কাছে কোনো জবাব নেই। অন্ধ ব্যক্তিকে অন্ধ বললে যেমন তিনি রেগে যান বিষয়টা অনেকটা সেরকম। অবচেতনে হলেও তারা জানে কথাটা সত্য।
বিষয়টা আর একটু ন্যাংটা করে বলি, নানা কিসিমের খাদ্যের নিশ্চয়তা থাকার পরও অনাহারে থেকে যে বিলাসিতা করা হয় সেটাই ক্ষুধা বিলাস। আর খাদ্য বিলাস নিয়ে তো বেশি কিছু বলার নেই। ক্ষুধা লাগিয়ে ইফতারির সময় ফল-ফাকড়া থেকে শুরু করে নানা কিসিমের খাদ্য প্রতিদিন ইফতারির সময় যেভাবে মাক মাক করে সেঁটে দেওয়া হয়, তাতে খাদ্য বিলাস সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়ার আবশ্যকতা থাকে না।
কিন্তু আমরা বিষয়টাকে এভাবে দেখি না। দেখতে চাই না, কারন ভয়। পাছে বেহেশত যদি অনিশ্চিত হয়ে যায়!
জম্পেশ ক্ষুধা লাগিয়ে সন্ধ্যায়যে খাদ্য উৎসব চলে, আহা! এর কোনো জুড়ি নেই। বেজায় সুখের একটা বিষয়। রমজানে বেশিরভাগ মুসলিমদের সময় কাটে খাদ্য বিলাসের সামগ্রী জোগাড়ে। সারা দিনের ক্ষুধার ঝাল মেটাতে প্রতিটা বাসায় দুপুর থেকে শুরু হয় ছোটাছুটি।
শুনেছি, এ মাসে বিশ্বের বাইজী বাড়ীতেও (সৌদি আরব, দুবাই) নাকি অপচয়ের বন্যা বয়ে যায়।বাইজী বাড়িতে (বিশ্বের সোনাগাছিও বলা হয়ে থাকে) অবশ্য সব সময়ই বিলাসিতা আর অপচয় ঘটে। আবার বাইজী বাড়ির পাশেই আফ্রিকার সোমালিয়ার মত কিছু দেশের বিপুল সংখ্যক লোকদুর্ভীক্ষপীড়িত। তারা না খেয়ে থাকে। এক দিকে চলে সৃষ্টিকর্তার নামে আয়োজন করে বিলাসিতা, আর অপর দিকে খাদ্যের জন্য হাহাকার! তাতে কি আসে যায়?
হুজুররা বলে থাকেন, রোজা থাকলে নাকি গরিবের কষ্ট বোঝা যায়। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ফালতু কথা।নিশ্চিত খাবারের বন্দোবস্ত রেখে অনাহারে থাকার বিলাসিতা গরিবেরা করে না। তাদের অনাহারে থাকার কষ্ট সম্পূর্ণ আলাদা। ক্ষুধা বিলাসের সঙ্গে দরিদ্রের এ কষ্টের কোনো তূলনাই চলে না। ঘরে কোনো খাবার নেই। কখন খাবার আসবে, তাঁরও কোনো নিশ্চয়তা নেই। আর খাবার আসলেও কতটুকু আসবে এবং তাতে আদৌ পেট ভরবে কিনা তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। হরেক রকম খাবারের নিশ্চিত বন্দোবস্ত রেখে অনাহারে থাকার সৌভাগ্য রমজান মাসে তো দুরের কথা কোনোদিনই গরিবের হয় না। চারপাশে তো গরিবের অভাব নেই। তাদের ক্ষুধা দূর না করে নিজেই ক্ষুধা নিয়ে বিলাস করা দরিদ্রদের সঙ্গে তামাশা ছাড়া আর কি?
কে যেন বলেছিলেন, ‘বেশিরভাগ হুজুরদের দাড়ি-টুপির মাঝে আমি দেখতে পাই নিকৃষ্ট লোভের ছায়া’ ।
মনে আছে উঠতি যৌবনে একবার মসজিদে হুজুরের হুরপরীর বর্ননা শুনে আমার সুপ্ত লিঙ্গখানি সদ্যপ্রসূত গোবৎসের ন্যায় তিড়িং করিয়া লাফাইয়া উঠেছিল। আমার মতো হয়তো অনেকেরই হয়েছিল। যাইহোক শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের লাফালাফি আমার আলোচনার মূল বিষয়বস্তু নয়। নিকৃষ্ট লোভের ছায়া শুধু হুজুরদের দাড়ি-টুপির মাঝে নয়, আমি সর্বত্রই দেখতে পাই। তবে সমাজের বেশিরভাগ লোক দেখেও দেখতে চান না। অনেকে অবচেতনে হলেও বুঝতে পারেন। কিন্তু চেতন মনে আনার সাহস ও শক্তি কোনোটিই তাদের নেই। আর অনেকে বুঝতেই পারেন না, কারন তারা সমাজের স্রোতের সঙ্গেই চলেন। স্রোতের বিপরীত দিক সম্পর্কে তাদের ধারণা নেই। সমাজের প্রতিষ্ঠিত প্রতিটি কদর্য জিনিসই আমরা দেখেও না দেখার ভান করি। কারন তাতে ভালো থাকা যায়। স্রোতের বিপরীতে চলতে অনেক মেহনতের দরকার হয়। স্রোতের সঙ্গে চললে ভোগ বিলাস বাধাগ্রস্ত হয় না। তবে এর মধ্যে যদি কেউ স্রোতের বিপরীতে গিয়ে অপ্রিয় সত্য তুলে ধরে, তাকে কোপানো হয় । যেমন হুমায়ূন আজাদকে কোপানো হয়েছিলো। আমাদের কট্টর ডানপন্থী মুসলিমদের জ্ঞান আবার খুবই সীমিত। তারা হুমায়ূন আজাদকে কুপিয়েছে। কিন্তু আরও অনেক কবি সাহিত্যিক রয়েছেন যারা হুমায়ূন আজাদের চেযেও অনেক বেশী ইসলামবিরোধী কথা বলেছেন বিভিন্নভাবে।কিন্তু জ্ঞান সীমিত হওয়ার কারনে তারা সেটা ধরতে পারে নি। হুমায়ূন আহমেদও ব্যাঙ্গাত্মক অনেক কথাই বলেছেন, কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর কট্টর ডানপন্থী ইসলামিস্টরা আহাজারি জানিয়েছে অজ্ঞতার জন্য। তসলিমা নাসরিনের ‘লজ্জা’ নিয়ে তারা আন্দোলন করেছিল, অথচ লজ্জাতে কোনো ইসলামবিরোধী কোনো কথা নেই।
শুক্রবারের জুম্মার নামাজ বাদে অন্য ওয়াক্তগুলোতে ঢাকা শহরের বিভিন্ন মহল্লার মসজিদগুলোতে খুবই অল্প সংখ্যক লোকের সমাগম ঘটে। অর্থাৎ ওই অল্প সংখ্যক লোকই নিয়মিত নামাজ পড়েন। তাদের মধ্যে যদি জরিপ চালানো হয় তাহলে দেখা যাবে, তাদের কমপক্ষে ৯০ শতাংশ লোক বুইড়্যা এবং স্থানীয় বাড়ির মালিক। তাদের এক পা এরইমধ্যে কবরে গিয়ে বসে রয়েছ। এদের বেশিরভাগই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আমলা, কর্মকর্তা বা ব্যবসায়ী। যৌবনকালে তারা ঘুষসুদ খেয়েছেন সমানে, অন্যান্য আকাম কুকামও বাদ যায় নি। দুনিয়াতে সন্তানদের ভবিষ্যত নিশ্চিত করে শেষ বয়সে তারা এসেছেন পরোকালের ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে। বাকী ১০ শতাংশের ৯ শতাংশ দেখা যাবে তারা ঘুষসুদ খাওয়ার সুযোগ পান নি। পেলে নিশ্চিতভাবেই খেতেন। ১ শতাংশ নিরেট ভাল মানুষ পাওয়া যেতে পারে। এলাকাভেদে এ হার কমবেশী হতে পারে।
আর হুজুররা তো নিয়মিত নামাজি হবেনই, কারন ওটাই তাঁদের পেশা। জুম্মার নামাজে হুজুরদের বয়ানের একটা বিরাট অংশ থাকে মসজিদের জন্য ভিক্ষাবৃত্তি। এর মধ্যেও ব্যক্তিগত সুবিধার ব্যাপার রয়েছে। মসজিদকেন্দ্রিক হুজুরদের বসবাস। মসজিদ পাকাপোস্তা হলে এক পর্যায়ে তাদের থাকার ব্যবস্থাও উন্নত হয়। তাই তারা বহুকাল ধরেই ধর্মের দোহাই দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করছেন। এতো গেল নামাজি ভণ্ডদের কথা।
আর এক শ্রেণীর ভণ্ডদের আমি দেখতে পাই যারা নামাজ কেন ইসলামের কোনো নির্দেশই ঠিকমত পালন করেন না, অথচ ইমান তাদের ষোলআনা। ইসলামবিরোধী কোনো কথা শুনলেই তারা ফাল দিয়ে উঠেন। অথচ এই ফাল দেওয়ার অধিকারই তাদের নেই। এরা আরও স্বার্থপর, ভণ্ড এবং ক্ষতিকর জীব। কেন খারাপ?
তাহলে একটা গল্প বলি। হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই ভাই। ছোট ভাই মা-কালীর খুবই ভক্ত। নিয়মিত পূজা অর্চনা করেন। আর বড় ভাই নাস্তিক। তিনি কালী-ফালী একেবারেই ঠেঙান না।
একদিন ছোট ভাই মা-কালীকে স্বপ্ন দেখলেন, স্বপ্নে কালী তাকে বলছেন, তোর বড় ভাই আমার নামে আজেবাজে কথা বলে, আমার পূজাটুজা কিছু করে না, তুই ওকে সাবধান করে দিস। জবাবে ছোটো ভাই বললো, এসব কথা আমাকে বলতে বলছো কেন? তুমি সরাসরি ওকে গিয়ে বল। কালী তখন বললো, ওমা বলে কি, আমি ওকে নিষেধ করবো কোন মুখে? ওতো আমাকে মানেই না!!
নাস্তিকরা সৃষ্টিকর্তা মানেন না, কাজেই সৃষ্টিকর্তা তাদের কাছে কিছু আশাও করেন না। এক্ষেত্রে তাদের ক্ষেত্রে কোনো ভণ্ডামি থাকে না। আর যারা মেনেও তাঁর কথামতো চলেন না তারা কি ভণ্ড নয়? এই ভণ্ডগুলোই দুনিয়ার সব সুখ নিয়ে শেষ বয়সে গিয়ে বেহেশত নিশ্চিত করার জন্য নামাজ ধরবে। হজে যাবে, নামের আগে হাজী টাইটেল লাগাবে। আর যৌবনকালে সপ্তাহের জুম্মার নামাজ বা মাসে চান্দে সৃষ্টিকর্তার দরবারে হাজিরা দিয়ে সৃষ্টিকর্তাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করবে, ‘আছি তোমার সঙ্গে। তয় দুনিয়ার ভোগ বিলাসও একটু করতে দাও।’
বুইড়া হয়ে যাওয়ার পর পরোকালের সুখের জন্য এরা পারমানেন্টলি সৃষ্টিকর্তার কাছে সোপর্দ করে বেহেশতোর সুখের জন্য।
দীর্ঘর্দিন থেকে সমাজের তথাকথিত শিক্ষিত বাবা-মায়েরা চান, তাদের সন্তানেরা বিসিএস দিয়ে সরকারি আমলা হোক। কারন তারা মানসিকভাবে দুই নাম্বার। কিন্তু ওপরে ওপরে ভদ্দরনোক। আমলা হলে ঘুষসুদ থেকে শুরু করে ক্ষমতার অপব্যবহারের ব্যপক সুযোগ রয়েছে এ দেশে। এ কারনেই প্রথম শ্রেণীর কেরানির প্রতি তাদের এতো লোভ। ওই চাকুরিতে আহামরি কোনো বেতন দেওয়া হয় না। উপরি কামাইয়ের জন্যই ওই চাকুরির প্রতি তাদের এতো লোভ। বিকৃত পুঁজিবাদী সমাজের এসব দুই নম্বর ভদ্দরলোক, ঘুষখোর আমলা, পুলিশ, ধর্ম ব্যবসায়ী, দুর্তিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ, কসাই ডাক্তার, শ্রমিক ঠকানো ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সবাই ঠিকমতো মাল কামিয়ে শেষ বয়সে এসে ইসলামী লেবাস ধরেছেন এবং ধরছেন। হজে যাচ্ছেন, নিয়মিত নামাজ পড়ছেন। আজীবন নিকৃষ্ট লোভের পূজা করে যাচ্ছেন। এবং এরাই সমাজ শাসন করছেন। মসজিদ কমিটির পদেও এরাই থাকেন।

এবার আসি দেশের নামীদামি ইসলামী চিন্তাবিদদের কথায়।
২০০০ এর দশকে (সালটা মনে নেই) একবার দেশে মারাত্মক বন্যা হলো। দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তায় আশ্রয় নিলো। বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হলো। ঠিক একই সময়ে দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ কোটি কোটি টাকা খরচ করে হজে গেল। দেশের কোনো ইসলামী চিন্তাবিদ বললেন না, যে এবার হজ না করে টাকাটা বন্যাদুগর্তদের দেওয়া হোক। মানুষের জন্য ধর্ম না ধর্মের জন্য মানুষ? ইসলামে কি বলে?
যতদুর জানি ইসলামে একটা কথা স্পষ্ট বলা আছে, প্রতিবেশী ক্ষুধার্ থাকলে ঈমান থাকে না। ঈমানই যদি না থাকে তাহলে হজ হয় কিভাবে? উর্বর মস্তিষ্কের ইসলামী চিন্তাবিদদের অবস্থাই যদি এই হয়, তাহলে সাধারন মুসলিমদের অবস্থা কি সেটা অনুমান করতে খুব বেশি মেহনতের দরকার হয় না। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে ইজমা-কিয়াস অনুযায়ী প্রতিবেশীর সংজ্ঞাও নিশ্চয় পাল্টেছে। আমরা মুহুর্তের মধ্যে জানতে পারি, কোথায় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হেনেছে। কোথায় মঙ্গা বিরাজ করছে। কোথায় মানুষ না খেয়ে আছে। সমগ্র মুসলিম জাতি কি পারে না বাইজী বাড়ীর খদ্দেরদের বিলাসিতা আরও তরান্বিত না করে এক বছরের হজের টাকা সোমালিয়ার দুর্ভিক্ষপীড়িতদের দিতে। পারে না কারন, তাতে ধর্ম রক্ষা হলেও হাজী টাইটেল পাওয়া যাবে না। এসব মুসলিমদের আসল কথা দাড়িয়েছে, দুনিয়া এবং আখেরাত দুটোই আমার চাই। তারা ইসলামকে এমনভাবে সাজিয়েছেন, যেন দুনিয়ার ব্যক্তিগত ভোগবিলাস, নাম যশ সম্পূর্টাই অটুট থাকে। সেই সঙ্গে বেহেশতও।
আর একটা ভণ্ড শ্রেণী আছেন যারা ইনট্যাক্ট মস্তিষ্ক নিয়ে নিয়মিত তাবলীগ করে বেড়ান। যখন কেউ আপনাকে বলে, আসেন ভাই নামাজ পড়তে যাই তখন বুঝতে হবে সে প্রধানত নিজের সওয়াবের জন্যই বলছে। আপনার সওয়াবটা তার লক্ষ্য নয়। তাঁর নিজের লাভ না থাকলে সে আপনাকে কখনোই বলতো না। এটাই বাস্তবতা। ধর্মের সব নির্দেশই সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে দেওয়া-নেওয়ার সম্পর্কে বাধা।
নিয়মিত (অনিয়মিতদের কথা বলছি না) তাবলীগকারীদের বেশিরভাগেরই করার মতো তেমন কোনো কাজ নেই। এরমধ্যে কারও কারও কাজ থাকলেও তারা মানসিকভাবে অসুখী, মোটকথা দুনিয়াতে তাদের অপ্রাপ্তিই বেশী। এই অপ্রাপ্তির অভাব আখিরাতে পূরণ করতে তারা মরিয়া। ধর্ম পালন ছাড়া তাদের আর কোনো কাম নাই, সেই সঙ্গে কোনো কাজও নাই। কিন্তু ইনট্যাক্ট মস্তিষ্ক নিয়ে তাবলীগ করা যায় না। মগজ ধোলাইয়ের কাজ অতো সোজা না।
একবার এক মাঠে আমরা কয়েক বন্ধু আড্ডা দিচ্ছি। প্রত্যেকের হাতে বিড়ি। এমন সময় তাবলীগের কিছু লোক আমাদের ওপর হানা দিলেন। গদবাধা একই ডায়ালোগ, ‘ভাই দুনিয়া আর কয় দিনের.......এইসব আর কি!! আমি বললাম, ভাই, ধরুন কোনো ব্যক্তির সেক্স জিনিসটাই নষ্ট, এখন সেই ব্যক্তি যদি বলে বসেন, আসুন পরনারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া থেকে বিরত থাকি, তাহলে কি বিষয়টা হাস্যকর হয়ে দাড়ায় না? আমার এক বন্ধু তো বলেই বসলো, দুনিয়াতে কি আমরা বাল ছেড়ার জন্য এসেছি? পরোকালে তো আর দুনিয়া পাওয়া যাবে না। দুনিয়ার দাম আমাদের কাছে কম নয়। সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে আমাদের কোনো চাওয়া-পাওয়ার সম্পর্ক নেই।
সৃষ্টিকর্তা যদি বলতেন, দুনিয়ার পর সব শেষ, আর কোনো হিসাব নিকাশ নেই। তারপরও তোমরা যদি আমার এই এই নির্দেশগুলো পালন করো, তবে আমি খুশি হবো। তাহলে সৃষ্টিকর্তার খুশিকে কোনোদিনই কি সমাজের চারপাশের এইসব স্বার্থপর ভণ্ডরা মূল্য দিত?
এই মুহুর্তে নচিকেতার একটি গানের কথা মনে পড়ছে। কপি পেস্ট মেরে দিলাম:

যখন, ঘনায় রাত্রি এই পাথুরে শহরে
যখন, ছড়ায় দীর্ঘশ্বাস আকাশ অঝোরে
ঠিক তখখুনি সস্তার মেকাপেতে মুখ ঢেকে লাজলজ্জার সংস্কারকে পিছে রেখে
এই সাধারণ মেয়েটাই শহরে বিলোতে প্রেম রাস্তায় এসে দাড়ায়
প্রেমহীন শহরের কদর্য লোক গুলো তার কাছে প্রেম চেয়ে দুহাত বাড়ায়

ঠিক তখ্খুনি মন্দির মসজিদ গির্জায় শুরু হয় পূজো আরাধনা
বিশ্বপ্রেমের বাকে শিক্ষিত হয় লোক আঁকে প্রেমের আলপনা
সব পাপ দিয়ে আসে মানুষ দেবস্থানে দেবতারা হাসে তুলে মাথা
মাঝ রাত্তির হলে ফিরে যায় সেই মেয়ে গড়ে রোজগার বার টাকা

সারা গায়ে কাল শীতে খিদের মাশুল
জীবন তরণী বায় হোক প্রতিকুল
মুখ চেয়ে সন্তুতি হারি চরে না
বেজন্মা গালাগালে পেটভরে না

ঠিক তখখুনি এনে দিল এক রাশ সুবাতাস সেই রোজগার বার টাকা
নেভাতে প্রেমের জ্বালা অবতার হয়ে এল সেই রোজগার বার টাকা

ঠিক তখখুনি গোণা হয় প্রণামির থালা লাভের ভাড়ার হয় পূর্ণ
দেবতাকে দিয়ে ঘুষ জমা রেখে সব পাপ মানুষ বাড়ায় তার পণ্য
সেই মেয়ে ভোর হলে শত বিদ্রুপ সয় দেবতারা দেখে তুলে মাথা
সত্যি বিলোয় প্রেম সেই মেয়ে নিঃস্বারে প্রণামি মাত্র বার টাকা

বি.দ্র.
এবার আসুন দেখি, আমার অপ্রিয় সত্য কথাগুলো কাদের হজম হয়েছে এবং কাদের বদহজম হয়েছে এবং কারা হজম হওয়ার পরও জোর করে উগড়ে দিতে চাইছেন। মন্তব্যের দিকে আমরা একটু তাকাই। নাকি?

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মডারেটর's picture


গ. "আমরা বন্ধু" তে শুধু নতুন লেখাই প্রকাশিত হবে। পুরনো লেখা রিপোস্ট করা যাবে না। অন্য কোনো কম্যুনিটি ব্লগে প্রকাশিত লেখা এবিতে প্রকাশ নিষিদ্ধ। এবিতে প্রকাশিত কোন লেখা ২৪ ঘন্টার মধ্যে অন্য কোনো কমিউনিটি ব্লগে প্রকাশ করা যাবে না। ব্যক্তিগত ব্লগ এবং পত্রিকা এই নিয়মের আওতার বাইরে।

লেখাটি অন্য একটি ব্লগে এক বছর আগে দেয়া হয়েছিল এবং পুরোনো লেখা এবি ব্লগে দেয়া নিষিদ্ধ! লেখাটি ব্লগের প্রথম পাতা থেকে সরানো হইলো!

পরাজিত মধ্যবিত্তের একজন's picture


সমস্যাটা কি ঠিক বুঝলাম না। অন্যের লেখা তো আর নয়। আমার আগের পোস্ট দুটিও অন্য ব্লগে লিখেছিলাম। সেটিতো প্রথম পেজ থেকে সরানো হয় নি।নীতিমালা পাল্টান। দ্বৈত নীতি পরিহার করুন। ধন্যবাদ।

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


সবকিছু নিয়ে মজা করাটা ভদ্রতার পর্যায়ে পড়ে না, ফাতরামির পর্যায়ে চলে যায়।

ব্লগের নীতিমালা নিয়ে সমস্যা থাকলে এই ব্লগ ছেড়ে আগের ব্লগে গিয়ে মজা করতে পারেন। শুভকামনা।

পরাজিত মধ্যবিত্তের একজন's picture


গঠনমূলক সমালোচনা করতে শিখুন। এটা না শিখে দয়া করে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। ক্ষমতা থাকলে উল্লেখ করুন কোন জায়গাটাতে ভুল বলেছি। ফালতু কথা দয়া করে এখানে বলবেন না। ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

পরাজিত মধ্যবিত্তের একজন's picture

নিজের সম্পর্কে

মধ্যবিত্তের তথাকথিত ভদ্দরনোকি আমার মধ্যে নাই। আমি কটূবাক্য বর্ষণ করতে পছন্দ করি। আমার কোনো পোস্টে মন্তব্য দেওয়ার সময় দ্বিতীয়বার চিন্তা করার আহবান জানাই। অবান্তর মন্তব্য করে আমাকে কটূশব্দ ও বাক্য টাইপ করতে বাধ্য করবেন না। আমার কাছে ভদ্দরনোক শব্দের অর্থ হলো আপোষকামী। মধ্যবিত্ত শ্রেনীটিকে আপোষ করে চলতে গিয়ে ভদ্দরনোক হতে হয়। এই শ্রেণীর অংশ হিসেবে বাধ্য হয়ে সমাজে আমাকেও আপোষ করে চলতে হয়। তাই আমি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অন্য পরাজিতদের মধ্যে একজন, যারা আপোষকামী নয়, কিন্তু বাধ্য হয়ে যাদেরকে আপোষ করে চলতে হয়।