আগে কি সোন্দর দিন কাটাইতাম!
প্রকৃতির পাঠশালায় পড়ে থাকি…
সবুজ প্রান্তর ছাপিয়ে বিস্তৃতি তার কতই অবাধ
সবুজ পাতাকে পড়ি, ঘাসফুল তুলে নিই হাতে,
দু'পায়ে মেখে নিই দূর্বাদলে লেগে থাকা ভোরের শিশির,
শৈশবের 'সবুজ-সাথী' দুলে উঠে স্মৃতির ঝালরে।
খুঁজে-খুঁটে দেখি বৃক্ষ-লতা-পাতা,
বয়সী বটের মতো আমিও সুস্থিত হই, শেকড় ছড়াই।
বৃক্ষের বাকলে খুঁজি প্রপিতামহীর মুখের ভাঁজ
নীড়ে ফেরা পাখিদের ঝুমঝুমি কোলাহলে ভারী হয়ে আসে
গোধুলির গোলাপী আকাশ।
অতঃপর সন্ধ্যা হলে ঝিঁ ঝিঁ ঢাকে
মন্ত্রের মতো প্রাচীন সংগীত এক, মস্তিস্কের কোষে কোষে
ধ্যানী হয়; থেকে থেকে সন্ধ্যের সুরেলা আযান ভেসে আসে
রাত্রিতে পুঁথি পাঠ গানের আসর
রহমান বয়াতির ধরণে আমাকে জানান দেয়
"আগে কি সোন্দর দিন কাটাইতাম!"
বিধি বাম!
তোমার সবুজ প্রান্তরে বিষাক্ত সীসার মতো
কে যেন ছড়ায় সন্ত্রাস, ভাঙ্গে নীড়,
ঘর-মন-গেরস্থালি তছনছ, পোড়ামাটি, বিধ্বস্ত মন্দির
কে যেন নিমেষে গুঁড়িয়ে দেয় স্বপ্নসাধ, আমাদের সম্প্রীতি অবাধ।
প্রতিমার ভাঙা হাত, দেহের বিচ্ছিন্ন অংশ চারিদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে…
এ কোন 'রক্তাক্ত প্রান্তর' দেখি আজ?
হে প্রিয় মাতৃভূমি, জননী আমার!
তোমার দুধের ঋণ আমি শুধিব কেমনে?
তাই মনে মনে…
নীরবে-নিভৃতে আমি বাবুইয়ের মত নিশিদিন স্বপ্নকে যাই বুনে
কৃষ্ণপক্ষ কেটে যাবে মাভৈ! মাভৈ!
'পাখিসব করে রব, রাতি পোহাইল'
আবার আসিবে ভোর, ফুটিবে কুসুম কলি…
তোমার মুক্ত আকাশের নীলে চোখ মেলে দিয়ে
বুক ভরে শ্বাস নেব আমি;
ফুসফুসে টেনে নেব তোমার বিশুদ্ধ বাতাস।





রোমেল ভাই!
ভাল লাগল আপনার লেখা দেখে।
(আমি সচলের গান্ধর্বী)
মন্তব্য করুন