ইউজার লগইন

প্রধানমন্ত্রী, আপনার কথা শুনলাম, এবার আমাদের ডিমের গল্পটি আপনাকে শুনতেই হবে

মাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি খুবই কড়া লেখা বিডি নিউজে প্রকাশিত হয়েছে। সেই লেখার পাঠপ্রতিক্রিয়া এটি।

প্রধানমন্ত্রী, বলুন তো বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আপনার কাছে কি চায়? তারা মাছ, মাংস, ঘি, পোলাও চায়না। তারা তাদের শুকনো ভাতে একটুখানি লবণ চায়। ব্যাস এতটুকুই। এবং প্রধানমন্ত্রী আপনি, আপনার পূর্বসুরী বেগম খালেদা জিয়া এবং তার পূর্বসুরী এরশাদ এবং তাদেরও পূর্বসুরীরা, সাধারণ মানুষের ছোটখাটো অতি সাদাসিধে চাহিদা পূরণে কতখানি সফল হয়েছেন, বলুন তো? আপনি একবার দয়া করে ঢাকার যেকোন সাধারণ গলিতে ঢুকুন। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাঘাটের কী ভয়াবহ অবস্থা। কোন গর্ভবতী মা এই রাস্তা দিয়ে যেকোনো বাহনে গেলে তার গর্ভপাত হয়ে যাবে। গ্রামীণ ব্যাংকের পেছনের যে রাস্তাটা আছে, সেই রাস্তা ধরে, আপনি যদি মিনিট পাঁচেক যেতে পারেন, তাহলে আমার বাকী জীবন ধরে আমি ব্লগ, ফেসবুক এবং পত্রিকায় আপনার প্রশস্তি রচনা করে কাটিয়ে দেবো। আজ দীর্ঘ আড়াই বছরে আপনারা রাস্তা ঠিক করেন নি। আপনি কি করেছেন? নানাকাণ্ড করে গ্রামীন ব্যাংক থেকে ইউনূসকে হটিয়েছেন। এই কাজ করতে গিয়ে আপনার টীম যে সময়, মেধার অপচয় করেছেন, তার এক শতাংশ দিয়ে গ্রামীন ব্যাংকের পেছনের রাস্তার মতো ঢাকার সমস্ত রাস্তা মেরামত করে ফেলা সম্ভব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, গ্রামীন ব্যাংক থেকে ইউনূস হটানো হয়তো জরুরী বিষয়। কিন্তু তারচে অনেক বেশি জরুরী বিষয় রাস্তাগুলো মেরামত করা।

মানুষের চাওয়া সামান্য। তারা চায়, তাদের গলিটা যেন ঠিক থাকে। একটা আধুনিক বিমানবন্দরের চেয়ে যার যার রাস্তাটা অনেক বেশি গুরুত্ব। অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যানজট কমানো। বিগত বছরে আমরা কী দেখলাম? আপনি ঝাপিয়ে পড়লেন, আরেকটি আধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজে। তারও আগে অনেক আয়োজন করে জিয়া বিমানবন্দরের নাম বদলে ফেললেন। সেই বিমানবন্দরের নাম বদলাতে কত টাকা খরচ হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমি শুনেছি কয়েক শত কোটি টাকা। ব্যাপারটা কি সত্যি? জনগণের এই কয়েক শ কোটি খরচ করে, কী লাভ হয়েছে আমাদের বলেন তো?

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, বাজারে এক হালি ডিমের দাম কতো, সেটি জিজ্ঞাসা করার ধৃষ্টতা আমার নেই। আমি বরং আপনাকে একটা ডিমের গল্প করতে পারি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করা আমার এক ছোটভাই গত সপ্তাহে ফোন দিয়ে আমাকে বলল, ভাই, একটা নিউজ করেন, একটা ডিমের দাম ৭ টাকা। আমি খামু কি?

ছেলেটার নাম জাকির। চাকরি এখনো জোগাড় করে উঠতে পারেনি, প্রাইভেট টিউশনিই ভরসা। দিনে একবেলা সে ডিম দিয়ে ভাত খায়। যেদিন ফোন দিয়েছিলো, সেদিন থেকে সেই ডিমটিও তার সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি লিখেছেন, জাতীয় প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬.৭ হয়েছে। তা আপনি যেহেতু বলেছেন, হয়তো হয়েছে। এতো জ্ঞানীগুণী, স্যুটটাই পড়া আপনার উপদেষ্টামন্ত্রীদের কথা তো মিথ্যা হতে পারেনা। কিন্তু আমাদের জাকির জাতীয় প্রবৃদ্ধি বোঝেনা। সে দিনে অন্তত একবেলা ডিম দিয়ে ভাত খেতে চায়। জাতীয় প্রবৃদ্ধি বেড়ে আকাশ ফুড়ে মহাকাশে চলে যাক , তাতে জাকিরের কিছুই আসে যায়না। আমাদেরও কিছুই আসে যায়না। পরিসংখ্যান দিয়ে জীবন চলে না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন বেড়েছে, প্রবৃদ্ধি বেড়েছে , কোটি কোটি মেট্রিকটন খাদ্য উৎপাদন হয়েছে , বাজেটের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বেড়েছে, এইসব কথা শুনতে আর ভালো লাগেনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যখাত নিয়ে আরেকটা ছোট্ট ঘটনা বলি? গত বৃহস্পতিবার বারডেম হাসপাতালের দোতলায় দুপুর তিনটা থেকে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত উচ্চ শব্দে কনসার্ট এবং উদ্দাম নাচগান হয়েছে। কর্মচারী ইউনিয়ন এই কান্ডটি করেছে। জ্বী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এটি হয়েছে একটি হাসপাতালে, ডায়বেটিক রোগীদের একমাত্র আশ্রয়স্থলে। বিজয়ী কর্মচারী গাননাচের মাঝখানে জয় বাংলাসহ আপনার নামে স্লোগান দিচ্ছিলেন। যেসব ভুক্তভোগী রোগীরা হাসপালাতের বিছানায় শুয়ে দিনভর এই যন্ত্রণা সহ্য করেছেন এবং আপনার নামে স্লোগান শুনেছেন, তারা কোনদিন আপনাকে ভোট দেবে না, এটি আমি মোটামুটি নিশ্চিত। কাজেই, গণমাধ্যমসহ নানা জায়গায় যারা আপনার সমালোচনা করে, তারা আপনার শত্রু নয়। বরং যারা আপনার নামে যত্রতত্র আকাশফাটিয়ে এখন স্লোগান দিচ্ছে, তারা আপনার কতখানি উপকার করছে, একটু ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখবেন।

সবশেষে আপনাকে ধন্যবাদ, আপনি লিখেছেন বলে। দুই বছর আগে আপনাকে উদ্দেশ্য করে আমি একটি ব্লগ লিখেছিলাম , যার মূল বাণী ছিল, আসুন প্রধানমন্ত্রী ব্লগিং করি। ডিজিটাল বাংলাদেশে স্বপ্নদ্রষ্টা যিনি , তিনি তো ইচ্ছে করলেই মাঝে মাঝে এভাবে লিখতে পারেন। তাতে কিছু মানুষের সাথে মিথষ্ক্রিয়া তো হয়। আপনার জানা প্রয়োজন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার লেখা সেই ব্লগটি বাংলা ভাষায় সর্বোচ্চ পঠিত ব্লগগুলোর একটি। অর্থাৎ আমার সেই দাবীর প্রতি মানুষের সমর্থন ছিল। কাজেই, আসুন, মাঝে মাঝে আমরা এভাবে কথা বলি। আপনার কথা আমরা যেমন শুনলাম, আমাদের কিছু কিছু কথা আপনি একটু শুনুন। ডিজিটাল শব্দটার মহাত্ন কিন্তু এখানেই। আবারো ধন্যবাদ।

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মাহবুব সুমন's picture


তেনারা ব্লগ পড়লেতো হইতোই। ক্ষমতায় গেলে তেনারা সব ভুলে যান, নিজের আখের গোছাতেই সময় কেটে যায়, আশে পাশে মানুষ মরলো কি বাঁচলো তাতে কিচ্ছু যায় আসে না।

তানবীরা's picture


আসুন প্রধানমন্ত্রী ব্লগিং করি।

Big smile Big smile Big smile

লীনা দিলরুবা's picture


প্রধানমন্ত্রী করবেন ব্লগিং!! বরং ব্লগ পড়ে তিনি ব্লগটাই বন্ধ করে দিতে পারেন এই আশংকা করি। আর ডিমের গল্প জানলে তিনি বলবেন - ডিম খাবার দরকার কী? আমি তো ডিম খাইনা, আমার মতো দেশপ্রেমিক ডিম খায়না, জাকির কেন খাবে Wink

 রাফিঅফ্লাইন's picture


রাজনীতিবিদরা ডিম খায় একমাত্র টিএফআই সেলে গেলেই। সো ডিম নিয়া তাদের চিন্তা নাই।

দুয়েকটা রাজনীতিবিদরে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে রাস্তায় আটকে রেখে মেরে ফেললেই টনক নড়বে।

মেসবাহ য়াযাদ's picture


ওয়েলকাম ভাগ্নে । কেমন আছো ?
তোমার লেখাটা ভাল লেগেছে। কিন্তু আমার ভাল লাগলেতো হবেনা।
যাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছো, তার ভাল লাগতে হবে।
ভাল না লাগুক তাতেও সমস্যা নেই। যদি খারাপ লাগে ?
নিয়মিত ব্লগ লিখো Big smile

সামছা আকিদা জাহান's picture


যাকে উদ্দেশ্য করে লেখা তিনি কোন দিন ও এটা পড়বেন না। তার এত্ত সময় নাই।

তার লেখা আমরা পড়ি কারন তা লেখা হল "বাণী"।

মাইনুল এইচ সিরাজী's picture


জাকিররা কেন মুরগির ডিম খাবে?
ওরা খাবে ঘোড়ার ডিম।

শওকত মাসুম's picture


দম্ভ আর হুমকি, এই হলো লেখার মূল কথা।

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


ডিমের দাম বেরেছে কারণ:
১। আন্তর্জাতিক বাজারে ডিমের দাম বেড়েছে
২। দশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে তাই তারা বেশী দামে ডিম কিনছে
৩। একটি মহল ডিমর দাম বাড়িয়ে যুদ্ধপরাধীদের বিচার বানচাল করার চেষ্টা করছে...

... আসেন আপাতত "ডিজিটাল ডিম" খাই আমরা... Laughing out loud

১০

একজন মায়াবতী's picture


ডিজিটাল ডিম Drooling

১১

সাগরিকা দাস's picture


বিশ্বাস করেন ভাইয়া। আমার মনের কথাগুলো কেমনে লিখলেন। কিন্তু দুঃখ হইলো তাহারা ক্ষমতায় গেলে চেয়ার ছাড়া কিছুই বোখেন না। অসাধারণ হয়েছে।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আশীফ এন্তাজ রবি's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি একজন ব্লগার। সামুতে লেখালেখি করি। পেশায় সাংবাদিক, যুগান্তরে আছি। দেশের বাড়ি মানিকগনজ। জন্ম ঢাকায়। ভাড়া বাড়িতে থাকি। নিজের কোনো গাড়ি নাই, বাসে করে অফিসে যাই।

আর বিশেষ কিছু বলার নাই