নারী
বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের ও বেশী নারী। এই বিশাল গোষ্ঠী কর্মক্ষেত্রে পুরুষের সাথে সমান তালে এগিয়ে চলছে। শিক্ষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান, ধর্ম, দর্শন সবখানেই আজ নারীর উল্লেখযোগ্য পদচারনা। তারা আজ আর ঘরের কোনে, চার দেয়ালে বন্দী থাকতে রাজী নয়। তাদের মেধা, মনন, সৃজনশীলতা দিয়ে উদ্ভাবন করে চলেছে নতুন নতুন সব অজানা রহস্য কে। বিশ্ব কর্মক্ষেত্রের এমন কোন জায়গা নেই , যেখানে আজ নারীদের পদচারনা নেই।পুরুষের পাশাপাশি আজ নারীদের অবস্থান বিশ্বকে আরও উন্নতির দিকে ধাবিত করছে। বিশ্ব জয়ের নেশায় আজ তারা মাতোয়ারা।
আবার স্নেহ, মায়া-মমতায়, সেবায় এরা সিদ্ধ হস্ত। এদের কোমল প্রানের ছোয়ায় মরুতেও উদ্ভিদ জন্মায়। সেই বৃহৎ নরী সমাজকে আমাদের দেশের পুরুষ শাসিত সমাজ ঘরে বন্দী করে রাখতে চায়। এই পুরুষগুলো প্রভুর আসনে থেকে নারীদের দাসী বানিয়ে রাখতে চায়। অবজ্ঞা, অবহেলা আর শাসনের ছড়িটা যেন সবসময়ই নারীদের জন্য প্রযোজ্য। ধর্মের নামে কতগুলো অযৌক্তিক ফতোয়া জারি করে তাদের কে দমিয়ে রাখতে চায়। যেন ধর্মীয় ফতোয়া সব নারীদের জন্য।
আজ একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক যুগে এসেও আমাদের এই পুরুষ জাতির এত হীনমন্যতা কেন? আজ নারীদের প্রতি যে নিয়ম আপনারা করেছেন, সেই নিয়ম যদি আপনাদের উপর চাপানো হত, আপনারা কি করতেন?
যে নারী আপনার মা, আপনাকে কত কষ্টে মানুষ করেছেন। জন্ম থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত তিলে তিলে স্নেহ মায়া-মমতা দিয়ে বড় করেছেন (যেখানে আপনার মায়ের অবদান ৯০ ভাগ আর আপনার বাবা মানে পুরুষটির অবদান ১০ ভাগ) সেই মায়ের জাতিকে আপনি ফতোয়ার জালে বন্দী করে ঘরে আটকে রাখতে চান? কিন্তু কেন? নারী কি শুধুই আপনার দাস, যে সারাক্ষন আপনার মনোরঞ্জনে লিপ্ত থাকবে? নারীও তো মানুষ। আর মানুষ কখনো কারো দাস হতে পারে না এক সৃষ্টিকর্তাকে ছাড়া। তাইতো আজ তারা আপনাদের দেয়া শৃংখল ভেঙ্গে বেড়িয়ে এসেছে আপনাদের এই প্রভূত্বের সমুচিত জবাব দেয়ার জন্য।





নারী আর পুরুষের অবদানের পরিসংখ্যান টানার দরকার নেই। তুলনারও দরকার নেই। পুরুষ যেমন মানুষ, নারীও তেমনি মানুষ। কেউ কাউকে ফতোয়া দিয়ে আটকে রাখার অধিকার রাখে না।
মন্তব্য করুন