খুশী
শরীরটা ভয়ঙ্কর খারাপ...গলায় খুসখুসে কাশি...ঢোক গিলতেও কষ্ট হচ্ছে...তাপমাত্রা উঠানামা করছে। তারপরও কেন জানি খুব খুশী খুশী লাগছে...কারণটা এখনও সুস্পষ্ট নয়। রাতে শরীর খারাপের লক্ষন দেখেই মাথার মধ্যে পরের দিন কাজ ফাকিঁ দেয়ার প্ল্যান সাজিয়ে আয়েশ করে একটা ঘুম দিলাম।"কাজ করার মধ্যে যেরকম আনন্দ আছে ...মাঝেমধ্যে কাজ ফাঁকি দেওয়ার মধ্যেও আছে.." মেয়ের আদুরে স্পর্শে মনটা অনেকটা আবেগে গলিয়ে গেল। ভালোই একটা বাহানা পেয়ে গেল মায়ের পাশে শো্যার। বারবার বলছে ''Mummy, don't worry I will look after you, and i will sleep with you until you feel better..okay?' আবার আড়চোখে আমার reaction বুঝার চেষ্টা করছে, আমি যদি আবার মানা করে দেই
প্রতিদিন alarm-য়ের শব্দ শো্নার পরও যে মেয়েটা বলতো, "5 more minutes mummy please please please''. আজকে alarm-এর শব্দ শুনেই জাম্প মেরে উঠল বেড থেকে, উঠেই আমার মাথায় হাত দিয়ে তাপমাত্রা বুঝার চেষ্টা করল আর বলল, ''একটু কমেছে, mummy make sure drink plenty of water,' অন্যদিন হলে আমার মুখে ফেনা তুলি্যে ফেলত কথা বলাতে বলাতে ' Tasnim get ready fast, we are getting late!' আজকে দেখি লক্ষী মেয়ের মতো দাতঁ ব্রাশ করে স্কুল ড্রেস পড়ল, তারপর নীচতলায় এসে নিজে নিজে ব্রেকফাস্ট করে প্যাক লাঞ্চও রেডি করল। বুঝেও না বুঝার ভান করে বললাম, 'আজকে দেখি আমার তাসুমনি অনেক লক্ষী'। উত্তরে মেয়ে বলল, ''That because i know your throat hurts when you speak'' হঠাৎ করেই মনে হলো মেয়েটা চোখের সামনেই বড় হয়ে উঠছে...এতদিন এটা টের পাইনি, মেয়েটার দিখে খুশী ভরা দৃষ্টিতে কয়েক মুহুর্ত তাকিয়ে থাকলাম।
আমার শরীর খারাপ হলেই বাবা-মাকে প্রথম ফোন করি। দেশের বাইরে থাকলে ফোনই যোগাযোগের একমা্ত্র মাধ্যম থাকে। ফোনটা ধরেই আম্মু ঐ পাশ থেকে বললেন, 'আমার যাদূর শরীর খারাপ কিভাবে হল?' এই কথা শুনেই শরীর অর্ধেক ভাল হয়ে গেল! এত বড় হয়ে গেছি তারপরও আদর পেতে ইচ্ছে করে, বাবা-মায়ের কাছে ছোটো বাচ্ছাই রয়ে গেলাম, এটা ভাবার মধ্যেও অনেক তৃপ্তি কাজ করে। আব্বু বললেন, কেন তো্মার গাড়ী চালাও না? ঠান্ডা লাগল কিভাবে? গাড়ী চালানো্র সাথে শরীর খারাপের কি সম্পর্ক প্রথমে ঠিক বুঝলামনা। পরে চিন্তা করে বের করলাম, 'মেয়ে ইউরোপ দেশে গাড়ী চালায় এটা বলার মধ্যেও উনার আনন্দ'। যাই হোক আব্বু-আম্মু দু'জনেরই প্ল্যান খুব শীগ্রই সিলেটের বাসায়(জিন্দাবাজার) উঠে যাবেন, আম্মু লিফট নিয়ে একটু আতঙ্কের মধ্যে আছেন, যদি লিফট হঠাৎ কাজ বন্ধ করে দেয় আর উনি লিফটের ভেতর আটকে থাকেন...এই রকম experience নাকি উনার একবার সিলেটের একটা ক্লিনিকে হয়েছিল...ইত্যাদি ইত্যাদি। আব্বু চিন্তা করছেন ইন্টারকম নিয়ে...বাসায় আছেন কি না এটা আর এড়ানো যাবেনা। আম্মুকে একটু শান্ত্বনা দিচ্ছিলাম, মৌ্লভীবাজার ছাড়তে হয়ত উনার খুব খারাপ লাগবে,এতো বছর এক জায়গায় থাকলে একটা মমতা কাজ করে। আমার ধারণা পুরোপুরি উল্টো করে বললেন,' 'আমার মধ্যে যেমন পিছুটান কাজ করে না, ঠিক তেমনি গোঁড়ামীও নেই', পিছনের দিকে তাকালে জীবনে কখনও আগানো যায়না''। ইঙ্গিতে আমাকেও অনেক কিছু বুঝিয়ে দিলেন। সারাজীবন শিক্ষকতা করেছেন যে মহিলা ,এরকম কথা উনার মুখে শুনে মোটেও অবাক হইনি। বরঞ্ছ একটা অদ্ভুত অহঙ্কার কাজ করল আমার মধ্যে নিজের মাকে নিয়ে। বললেন শুধু ,''রাস্তার জন্য একটু খারাপ লাগবে, সিলেটের রাস্তাঘাট বেশ ভালোনা''। বললাম, 'আম্মু বাসা ভাড়া দিয়ে দেন কয়েক মাসের জন্য,আস্তে আস্তে মুভ করবেন' শুনে একটু রেগেই বললেন, 'আমার বাসা ভাড়া দিতে যাব কেন? আমার এত শখের বাসা ভাড়াটেরা ভেঙ্গে চুরমার করবে...কি উল্টা পাল্টা বকছিস? এই রকম একটা বাসার আমার সারাজীবনের স্বপ্ন ছিল।আল্লাহ আমার স্বপ্ন পুরণ করেছেন''। আমাদের বেশীর ভাগ রিলেটিভস সিলিটেই থাকেন এইজন্য হয়ত এখন বেশী খারাপ লাগছে না উনাদের...পরে হয়ত লাগবে। আমি সিলেটে থেকে পড়াশুনা করেছি বেশীর ভাগ সময় তারপরও আমার শহর মৌলভীবাজারের জন্য একটা অন্য রকম মমতা কাজ করে। আর কথা না বাড়িয়ে অজুহাত দেখিয়ে ফোনটা আলতো করে কেটে দিলাম। 
তারপর লম্বা একটা ঘুম দিলাম...দুপুরবেলা কলিংবেলের শব্দে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল, উঠে দেখি আমার বাঙালি প্রতিবেশী হরেক রকমের তরকারী নিয়ে এসেছেন আমার শরীর খারাপ শুনে, শরীর খারাপের জন্য হয়ত নিজের রান্না বিষাক্ত মনে হত, তিক্ত মুখে মনে হচ্ছিল এত মজার খাবার এই জীবনে আর খাইনি।
মনের অজান্তেই ফেসবুকে লগ ইন করলাম, শরীর খারাপ তারপরও এই নেশা থেকে মুক্তির উপায় নেই। কি এক অদ্ভুত নেশা!চেট রুমে আমার অতি প্রিয় এক বন্ধু জেবিন উৎসাহ দিতে লাগল ব্লগে লিখার জন্য, ওকে বললাম আমার লেখা পড়ে যদি সবাই হাসে? জেবিন বলল, '' দূর কে হাসবে নিজের ইচ্ছে মতোই তো লিখবা ,নিজেকে হাস্যকর কি আমরা করি ? মোট কথা হলো, নিজের যেটা মনে হয় ,''হ্যা, ভালো লিখছি ...তখনই দিবা'',
অসুস্থ শরীরের মধ্যেও মনের মধ্যে এক অদ্ভুত খুশী কাজ করছে। লেখালেখির ভুতটা হঠাৎ করে মাথায় চেপে বসল...এটা কি আমার নতুন কোনো hobby নাকি স্বল্প সময়ের পাগলামী? আসলেই একটা লেখিকা লেখিকা ভাব চলে আসছে...লেখিকা সাকেরা জেবী...ভাবতেই ভাল লাগছে। জানিনা এই ভুতটা কতোদিন মাথায় ঘুরপাক খাবে।
লিখতে লিখতেই আমার প্রতিবেশী মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে আসল। মেয়ে ঘরে পা দিতেই বলল...''Are you feeling better mummy?Look, I made a 'get well soon' card for you, I hope it will make you feel better'. মেয়ের কার্ডটা দেখে আসলেই মনটা খুশীতে ভরে গেল।মেয়েকে জড়িয়ে ধরে আদর করলাম কিছুক্ষন... মন খুশী হওয়ার কারণটাও এখন সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।





লেখালেখি শুভ হোক। সেরে উঠুন জলদি!
অসংখ্য ধন্যবাদ

লেখালেখি শুভ হউক...

আমরা বন্ধুতে স্বাগতম
Thank you!
লেখালেখি শুভ হোক।
আমরা বন্ধুতে
ধন্যবাদ!
আমি খুব খুশী হলাম !
ধন্যবাদ 
লেখালেখি শুভ হোক, সেরে উঠুন জলদি!!!!!!
আমরা বন্ধুর নতুন বন্ধুকে
লেখিকা সাকেরা জেবীকে এবিতে স্বাগতম
'লেখিকা' শুনে মনটাই খুশীতে ভরে গেল
কেমন আছেন এখন ? ভাল হয়ে উঠুন।
আমি ভাল আছি, আমার লেখা পড়ার জন্য ধন্যবাদ!
লেখিকা কে স্বাগতম
এত মন্তব্য পড়ে আসলেই খুব ভাল লাগছে
ধন্যবাদ!
এবি তে সুস্বাগত।
সুন্দর শুরু।
তাড়াতাড়ি সেরে উঠুন,
লেখার ভূত আপনাকে একটু বেশি ই জ্বালাতনা করুক! শুভকামনা।
তাসনীমের জন্য অনেক অনেক আদর।
ও কোন ক্লাসে পড়ে?বাংলা বলতে পারে না ছোট্ট পরী টা?
বিষণ্ণ বাউন্ডুলেকে ধন্যবাদ জানাই সুন্দর মন্তব্যের জন্য !


তাসনিমকে আদর পৌঁছে দেব
বাংলা ভালোই বলতে পারে,সব মিক্স করে বলে। বয়স ৭ বছর মা্ত্র কিন্তু কথাবাত্রায় অনেক পাকা।আজকালকের বাচ্ছা বলে কথা
কথাবাত্রা ? কথাবার্তা
বাংলা কি ভুলে গেলাম ? 
এখনকার ব্লগাররা দারুন পাকাপোক্ত! আমরা প্রথম পোষ্ট দিতাম,"আইলাম, আমি নতুন"এই টাইপের দু-তিন লাইনের! কারন মাথায়ই ছিলো না কিচ্ছু! আর এরা কি দারুন গল্প বলে দেয় গড়গড় করে!
লেখিকা সাকেরা'রে স্বাগতম! পড়েন, লেখেন, আমরা বন্ধু'র সবার বন্ধু হয়ে উঠেন।
হাহাহাহা..তোমার মন্তব্য পড়ে খুবি মজা পেলাম। আমার আসলেই খুব ভালো লাগছে!

তোমাকেও ধন্যবাদ আমাকে এই ব্লগে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য।
লেখালেখি শুভ হোক। সেরে উঠুন জলদি!
থ্যাঙ্কু!
মন্তব্য করুন