ইউজার লগইন

শ্যাম পুলক'এর ব্লগ

আমি বাঙ্গালী তাই বিদ্রোহী

সূর্যের বুকে তারার আঘাতে
মহাভারতের গঙ্গার পুবেতে
জন্ম নেয়া
আমি বঙ্গবীর
আমি শতাব্দীর
আমি সহস্রাব্দের
লক্ষ বছরের অধীর।

আমি দ্রাবিড়ের সাথে করেছি যুদ্ধ
আমি বাঙ্গালী
আমি বঙ্গের।
আর্যরা এসে আমার ভয়েতে
শরনাপন্ন ব্রহ্মার পায়েতে
সভা ডাকে ইন্দ্রের।

আসে ব্রহ্মার বর,
আসে অবতারের পর অবতার।
আমি লোকায়ত রাজা মহারাজা পরমেশ্বর।
আমি চার্বাক, আমি নিজেরেই নিজে ভাবি ঈশ্বর।

একের পর এক আসে আর্যের আঘাত
যুদ্ধের সাথে আসে বেদ ব্রাহ্মন মহাকাব্য
তারা নিজেরাই নিজেদের ভাবে
তারাই শুধু সভ্য।

তারা বলেছে, তুই শুদ্র হ
নয় থাক চার্বাক নাস্তিক দ্রোহী।
কিন্তু পারে নি আমাকে দমাতে
পারে নি আমাকে থামাতে
আমি বাঙ্গালী তাই বিদ্রোহী।

আমি বার বার বলেছি,
ছাড় মিথ্যে ক্ষমতার লোভ, ব্রাহ্মণত্বের নেশা।
বেদ ব্রাহ্মনের পাতায় পাতায় ক্ষমতার আশা।

আমি ক্যাশ্যপ
আমি প্রক্রুদ্ধ
আমি আঘাতে আঘাতে ভেঙ্গেছি ব্রহ্মার ভব দ্বাড়
আমি অজিত
আমি সঞ্জয়
আমি বাঙ্গালী, রক্তের দামে করি আমি আহার।

আমি লোকায়ত বেশে ঘুরেছি পথে পথে
ওরা একে একে ভেঙ্গে দিতে চায় সব

এমন কি ছিল কথা?

সচরাচর যেমন হয়,
শুধু তাঁর কাছে ভয়,
শুধু সত্যের কাছে ভয়,
শুধু মিথ্যার অভিনয়।
শুধু মিথ্যার জয়।

সচরাচর যেমন হয়,
শুধু অস্তিত্তের আশায়
মিথ্যে ভালবাসায়
মিথ্যে সম্পর্কের সমন্বয়,
শুধু বিচ্ছেদের জয়।

সচরাচর যেমন হয়,
শুধু সম্পদের আশায়
আঘাতের প্রস্রয়।
সুখ শান্তির ভাষায়
দস্যুতার অন্বয়।

সচরাচর যেমন হয়,
যাতে নারীর ভয়
পুরুষের জয়।
যেখানে মিথ্যে দম্ভে
মনুষত্ত্বের পরাজয়।

সচরাচর যেমন হয়,
যেখানে নারীত্বের বেঁচাকেনা
সমাজের অহংকার।
যৌতুকের দেনায়
নারীত্বের সৎকার।

সচরাচর যেমন হয়,
যেখানে ঘুষের আগুনে পোড়া
মনুষত্তের গৌরব।
মানুষেরা অসহায়
নেই ফুলেল সৌরভ।

সচরাচর যেমন হয়,
যখন যুদ্ধের জয়,
শান্তির ক্ষয়
মিথ্যে সেবার ভাষায়,
মুল্যবোধের অবক্ষয়।

সচরাচর যেমন হয়,
ধর্মের ছায়ায়
সন্ত্রাসের জয়।
মানুষের স্বপ্নে, আশায়
বোমা গর্জায়।

সচরাচর যেমন হয়,
ঘরে কোণায়
নারীর আস্রয়।
তাদের কান্নায়
ধর্মীয় স্লোগান বাজায়।

আর কতকাল এমনি কাটবে দিন
আর কতকাল ঘটবে মনুষত্বের বিলীন।
আর কতকাল প্রস্রয় পাবে ঈস্রাফিলের বীণ।
হবে কোন কালে অত্যাচারীর বিষাক্ত হাত অস্রহীন।

অপ্রকাশিত ভালবাসা

যে ভালবাসার কথা
বলা যায় না কোনদিন,
যে ভালবাসা প্রকাশ পায় না,
সে ভালবাসা চাঁদনী রাতের আলো হয়ে জোছনা ছড়ায় দিকে দিকে
জোছনার কিরণকে উজ্জ্বল থেকে করে উজ্জ্বলতর।
সে কিরণের ছোঁয়া তাই হৃদয়কে করে কোমল
মনের অনুভূতিতে যোগ হয় ফুলেল সুভাষ।
প্রেমের পূজারী তাই চাঁদনীকে পুজা করে
আর চাঁদনীরে খোঁজে ভালবাসার প্রতি প্রহরে প্রহরে।
তাই চাঁদনীতে সাগর আসে তীরের কাছে
জোছনা রাতের এ মিলনমেলায় তার যেন পেতেই হবে প্রিয়াকে।
আর প্রিয়ার হৃদয় খোঁজে প্রিয়ের হৃদয়;
চাঁদনী রাত তাই প্রেমের, চাঁদনী রাত তাই ভালবাসার।

২৭-১২-১২, জাজিরা।

কবিতা: তমা, তোমার চাহনিতে

আমি আজো আমৃত্যু-চঞ্চল মরুর পথের রথি; চলি ছুটে
অ্যাপোলোর সূর্যরথে আহোরন করে সহস্র জনম আগে,
আমি আজো চলেছি জ্বলে পুড়ে হৃদয় আত্মা; বড় ব্যাথা জাগে,
রাত্রি’ আঁধারে, তমা, থাকো কি জেগে? তব চোখে সব ব্যাথা টুটে।

যেমন সহস্র রাত্রির তারাদের ব্যাথায় চন্দ্রের উত্থান;
যেমন মরুর তপ্ত বালুতে জলের প্রবাহ; ঝর্ণার জয়,
অথবা লক্ষ বছরের জীবন্ত অগ্নিগিরি যাতে সুপ্ত হয়,
তমা, তোমার চাহনিতে, চোখের তারায় হৃদয় স্বর্গদ্যান।

তারপর কোন একদিন চাঁদনীতে হবে চোখে চোখে কথা;
হৃদয়ের ভাষা পারবে কি বুঝতে চন্দ্রের আলোয়? কী সেই ব্যাথা!
১৫-২৯/১০/২০১২, ঢাকা।

কবিতা: যুদ্ধ ধর্ম রক্ষায়

ধর্মের রোষানলে পড়া ধর্মের ধংসের স্তুপে খুঁজি ধর্মরে;
যে সহস্র বছর আগে ফারাও-ট্রয়-ব্যবিলন-বেদুইন
গড়েছিল মহান অন্তরলোক; মহান শাসন কেন সে বিলীন?
ক্রসেড, জিহাদ হীন অজুহাত; তবু সে মহান ধর্মের মন্দিরে।

শান্তির বাণী এনেছিল বুদ্ধ অনন্তের জয় আজিকে ক্ষয়,
যীশুর বুকের ‘পরে বারবার ক্রুশ বিদ্ধ করে; যুদ্ধ বানে
অনুসারী তার রক্তের দাগ মুছিবে কি করে; বাইবেল-কোরানে?
বৌদ্ধ শান্তি-খ্রীষ্ট মানবতা-ইমান-কৃষ্ণে যুদ্ধ ধর্ম রক্ষায়।

শান্তি চাই-শান্তি চাই; এ জন্যও চেয়েছে যুদ্ধ ধর্মের দল,
হউক সে যুদ্ধ শান্তির তরে; তবু সেকি নয় পাপীর ছল।

কবিতা:ব্যথার সাগরে জীবন চলিছে যে বয়ে।

সারারাত জেগে আছি; যেন রাতজাগা ব্যাথাতুর পাখি আমি;
জোনাকির আলো হয়ে; হয়তোবা প্রেম আলেয়ার হাতছানি;
হয়তো প্রিয়হারা; রাতজাগা পাখির তীক্ষ্ণ চিৎকার শুনি,
কত রাতে মোরে পরিবে মনে; তারাপানে থাকিবে চেয়ে তুমি।

প্রেমে ক্ষয়ে ক্ষয়ে; আজিকে তারাদের সব ব্যাথা মোর হৃদয়ে;
যারা রচেছে নক্ষত্রের ইতিহাস; সে হৃদয়ে দূঃখের বাস;
তোমার দুয়ারে হাত পেতে পাইনি সান্তনা; প্রেমের আশ্বাস।
রাতের অন্ধকারে ব্যথার সাগরে জীবন চলিছে যে বয়ে।

তাই হৃদয়ে চাইনা বাঁধিতে তোমার প্রেম অথবা হৃদয়,
আমি রাতজাগা পাখি; ব্যাথার আঁখি; ভোরের আলোয় বিদায়।
৩০-০৯-১২,ঢাকা।

কবিতা: সচরাচর যেমন হয়

কবিতার শুরুটা এভাবে
যেমন ধরো,
সে অনেক সুন্দরী
তাকে আমি কখনই পাব না
সে বাসবেনা ভাল
আমার মত একজনকে।

তোমরা প্রশ্ন কর;

তাকে কী জানিয়েছো
তোমার মনের কথা ?
সে কী জানে
তুমি তাকে ভালবাস ?

আমি বলি
নাহ, জানাইনি তাকে
কিন্তু হয়তো সে জানে,

আর কীই বা বলবো গিয়ে
সব প্রশ্নের উত্তর তো
আমার জানা,

বলো
যে প্রশ্নের উত্তর জানা
সে প্রশ্ন করা কেন ?

এতো ক্ষতের উপর ক্ষত করা
এ যেন আগুনের উপর
জলের পরিবর্তে
পেট্রোর ঢালা,

তোমরা বলো
প্রেমের বেদনার কোন সীমা নাই
না আছে কম বেশি চেতনা…..
যতো ঢালো এ বেদনা বেদনাই…
তা তোমাকে সমভাবে আহত করবে,
আর বলেই দেখো
হয়তো হতেয় পারে দেবীর কৃপা;

আর যদি সে নাই ভালোবাসে!
তাহলে প্রিয়ার আঘাতেই হোক
বেদনার উত্তরণ।

আমি ভাবি,
যেমন বিষে মারে বিষ
হয়তো তেমনি
বেদনাই হানিবে আঘাত বেদনারে;

আর নাই যদি টুটে বেদনা
আলিঙ্গন করুক এ জীবন
মৃত্যুর অসীম সৌন্দর্যকে ।
30-06-12

কবিতা: স্বপ্ন

আমি এক স্বপ্ন দেখেছিলাম
স্বপ্নটা ছিল একটি কাক নিয়ে
হ্যাঁ! কালো কাক;
ওটা লাল চোখে চেয়েছিল মোরপানে।
এক অনাকাঙ্খিত চিন্তা
আমাকে উন্মাদ করে দিচ্ছিলো
সমস্ত আত্নশক্তি দিয়ে
আমি চেষ্টা করছিলাম স্থির থাকতে
কিন্তু ঐ রক্তবর্ণা চোখে
কেমন যেন এক ভাষা ছিল
আমার অস্তিত্তকে ভয়ার্ত এক খাঁচায়
বন্দি করে দিচ্ছিলো
ঐ স্তির দৃষ্টি
ভাবনা এসেছিল মনে
এই রক্তবর্ণে কেন এত আকর্ষন?
ঐ চোখে কি আছে হারিয়ে কোন অনুভূতি?
যা ছিন্ন করতে চেয়েছিল কোন
তীব্র আকর্ষন-
ব্যাথিত হৃদয়কি আমার
ভেসেছিল রক্তস্রোতে?
আমার মনের চিন্তাগুলো কেমন যেন
খাপছাড়া হয়ে যাচ্ছিলো
চিন্তাশক্তি হারিয়ে যাচ্ছিলো-
আর মনের কোণে ভেসে
আসছিল কোন স্মৃতি
“কোন পৃথিবী সৃষ্টির মূহুর্ত
সে ছিল আমার পৃথিবী
সৃষ্টি আমার মাধ্যমেই
আমি, তুমি আর তিনি এ তিন নিয়ে
যে সংসার।“
বেদনায় বুক চিড়ে যাচ্ছিলো
ঐ রক্তলাল!
আমার ভাবনায় উদয় হচ্ছিলো
মানব মনের এক অন্তর্নিহিত
বাক্য:
যদি হারিয়েই যেতে চায়

কি আর হবে?

যদি মরেই যাই কি আর হবে?
মোর হৃদয় রবে তোমার সনে;
যা সপেছিনু আমি তোমার মনে;
যেইদিন পড়েছিল চোখ চোখে;
সে চোখে হৃদয় হৃদয়েরে দেখে,
গড়ে বন্ধন; যা চিরকাল রবে;
স্বপ্ন হয় সত্যি ভালবাসি যবে,
যদি মরেই যাই কি আর হবে?

যদি আর দেখা না হয় কি হবে?
তোমারই ছবি সদা ভাসে মনে;
সবখানে তুমি, স্বপ্নে প্রতি ক্ষনে
মহাস্বর্গ রচি; তুমি আমি সেথা,
মধুর সুর তোলে তোমার কথা;
সে সুরের সুধা আজীবন রবে।
যদি না থাকে স্বর্গ কি আর হবে?
যদি দেখা না হয় কি আর হবে?

যদি আর ভাল না বাসো কি হবে?
সেই প্রেম আজো মনে আলো জ্বালে,
যেই প্রেম তোমার চোখের কোলে;
মোর অপেক্ষায়; অশ্রুর কণায়
মিশে গিয়ে ভেজায় ভালবাসায়;
বলে, ‘এ প্রেম নাহি কভু হারাবে’;
তোমার সে অশ্রু কি অশ্রু ঝরাবে?
যদি ভাল না বাসো কি আর হবে?

যদি মরেই যাই কি আর হবে?
যদি আর দেখা না হয় কি হবে?
যদি আর ভাল না বাসো কি হবে?
যদি মরেই যাই কি আর হবে?
31-08-12, dhaka

সমুদ্রে সৈকত, কক্সবাজার

সমুদ্রে সৈকত, কক্সবাজার…….
শ্যাম পুলক
দূর থেকে ঢেউয়ের গর্জন শুনা যায়
অদৃশ্য মায়াবী সুর তার,
সে সুরে, সে মায়ায় বাঁধে হৃদয় আমার
এ সমুদ্রে সৈকত, কক্সবাজার…….

যতদুর চোখ যায় জলরাশি
মেশেছে আকাশে যা ভালবাসি,
তীরে তীরে সৃজে প্রেম-ফেনা তার
এ সমুদ্রে সৈকত, কক্সবাজার…….

বিশাল সাদা ঢেউয়ে মন দোলে
যেন ভাসি শুভ্রসাদা মেঘের কোলে,
ঢেউয়ে ঢেউয়ে বয় চঞ্চলতা প্রিয়ার
এ সমুদ্রে সৈকত, কক্সবাজার…….

যখন সকালে রোদ এসে ঢেউয়ে পরে
যেন স্বর্ণালী রুপ তার সমুদ্রেজলে,
সে সব যুগের সুবর্ণদেশ; অতীত আশার
এ সমুদ্রে সৈকত, কক্সবাজার…….

সহস্র নারী পুরুষ সমুদ্রে জলে
জলকেলী, প্রেম, খেলা ভেসে চলে,
রহস্য; সমুদ্র যৌবন ও তার বিশালতার
এ সমুদ্রে সৈকত, কক্সবাজার…….

গৌধলীয় রক্তিম আভা জীবনের রণতূর্য
সমুদ্রজলে আধডোবা রক্তরাঙা সূর্য,
সৃষ্ট সে সৌন্দর্য; যেন সবার স্বপ্ন-কল্পনার
এ সমুদ্রে সৈকত, কক্সবাজার…….

অথবা গভীর রাতের কোন চন্দ্রবাতি
শূভ্রজল, মধুর সুর সবার সাথী,
এই তীর নীরবে, আনমনে পা ফেলার
এ সমুদ্রে সৈকত, কক্সবাজার…….

যদি ছেড়েও যাই এ মন বারবার ফিরে তাকায়