জোছনার ধবল পাড়- পর্ব ২
হেমন্তের সোনালী বিকেল, ফুরফুরে হাওয়ায় ভর করে দুপুরটা উড়ে গিয়ে কখন যে বিকেল নেমে আসে একদম টের পাওয়া যায়না। চন্দনা রোদের কোমল পরশ শরীরে জাগায় আলসে উষ্ণতা। রোদ লেগে হলদেটে হয়ে যাওয়া পাতাগুলো আরো একটু হলুদ সেজেছে, হেমন্তের ঝিরঝিরে বাতাসে কেঁপে কেঁপে উঠে ফিসফিস করে গাইছে যেনো অপার্থিব কোন গান। দিদার সাহেব তখনো বারান্দায় বসা, একটু আগে জর্দা দিয়ে পান খেয়েছেন তিনি। অনভ্যস্ত ভঙ্গিতে থুকতে গিয়ে সাদা পাঞ্জাবীর নানান যায়গায় খয়েরি ছোপ লাগিয়ে ফেলেছেন। আজকাল তিনি প্রায়ই অভ্যাস বিরোধী উদ্ভট কর্ম করেন। এই শেষ বেলায় এসে শিশুসুলভ আচরণে নতুন করে জীবনের স্বাদ নিচ্ছেন যেনো।
দিদার সাহেব এই মাত্র ঠিক করেছেন আজ সমস্ত বিকেল ঘুরে বেড়াবেন। এমন সুন্দর একটা বিকেলে কোলা ব্যাঙের মত ঘরে বসে থাকার কোন মানে হয়না। জীবনের প্রতিটি কাজ ভেবেচিন্তে করলেও ইদানিং তিনি হুটহাট সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ঝটপট কুলি করে নতুন পাঞ্জাবী গায়ে দিয়ে নাগড়া পায়ে বেড়িয়ে পড়লেন। বাড়ি থেকে বেরুলেই গ্যাম্য সড়ক, পূর্ব দিকে রাস্তাটা নদীতে গিয়ে মিলেছে আর পশ্চিমে মেঠোপথ। দিদার সাহেব মেঠোপথ ধরে এগিয়ে চললেন। কয়েকটা বাড়ির পরেই উন্মোক্ত ফসলের মাঠের বুক চিরে চলে গেছে রাস্তাটা। সেই আগের দেখা কাঁচা রাস্তাটা ইট সলিং হলেও বাকি সব দৃশ্য একই রকমে রয়ে গেছে।
রাস্তার দুধারে বাঁশের খুটি পুঁতে সুঁতো ছড়িয়ে দিয়েছে তাঁতী। কাঁচা সুতোর ঝাঁঝালো ঘ্রানে কেমন একটা নেশা ধরা টান। দিদার সাহেবের শৈশবে তাদের বাড়িতেও দুটো তাঁত ছিলো। রাতভর তাঁত বুনতো বাড়ির রাখাল, মাঝে মাঝেই তাঁত ঘরে বসতো গানের আসর। কতো রাত চুপিসারে ঘর থেকে বেড়িয়ে গিয়ে তাত ঘরে কাটিয়েছে তার হিসেব নেই। কালের জোয়ারে সব ভেসে গিয়ে এখন শুধু কিছু স্মৃতি পড়ে আছে, মনের অজান্তেই একটা নাতিদীর্ঘ শ্বাস গোপন করলেন দিদার সাহেব।
এখন হেমন্তের মাঝামাঝি সময়, বিস্তৃত ধানি জমিতে সোনালী রঙ লাগতে শুরু করেছে কেবল। আগামি সপ্তাহের শুরুতেই হয়তো ফসল ঘরে তোলার আয়োজন লেগে যাবে। কৃষক তার কাস্তেতে ধার দিতে শুরু করেছে। ইষৎ সোনালী ধানের গায়ে চন্দন ছোঁয়া লাগিয়ে দিচ্ছে শেষ বিকেলের মায়াবী রোদ। দিগন্তের সীমানা পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা ধানি জমিনের মাঝ দিয়ে ঘোর দৃষ্টি নিয়ে হেটে যাচ্ছেন দিদার সাহেব। হাল্কা মিষ্টি কাঁচা ধানের ঘ্রান আবার তাকে ছুড়ে ফেলছে দামাল বেলায়। দিদার সাহেব চোখের সামনে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন কিছু হারিয়ে যাওয়া মুহুর্ত। হাল দেয়ার পর কাদা ক্ষেতে মই দিচ্ছে তরুন দিদার আর তার বাবা, বাঁশের মইয়ের উপর বসে আছেন তিনি আর সেই মইকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে দুটো হালের গরু। একটা বাসের পাঁজোন (লাঠি) হাতে গরু দুটোকে তাড়া দিচ্ছে তার বাবা।
অনেক্ষন পথ চলার ক্লান্তি কিংবা স্মৃতির ক্লান্তিতে ক্লান্ত হয়ে রাস্তার পাশে সবুজ ঘাসে বসে পড়লেন দিদার সাহেব। বয়সটা শরীরে ছাপ রাখতে না পারলেও আজকাল ভেতরে ভেতরে প্রচন্ড হাঁপিয়ে উঠেন তিনি। শেষ বেলায় এসে জীবনের প্রচন্ড একাকিত্ব দিদার সাহেবের অস্তিত্বকে নাড়িয়ে দিয়ে যায় প্রতিনিয়তই। ছেলেটার কথাও মনে হয় খুব। শীতে বউ ছেলেমেয়ে নিয়ে বেড়াতে আসবে বলে চিঠি দিয়েছে। হয়তো কিছু দিন আনন্দেই কাটবে তারপর এই বিরাণ সময়ে একা পড়ে থাকবেন তিনি আর তার পরিচিত কিছু স্মৃতি।





গ্রামে হেমন্তের বিকেলটা ভীষন সুন্দর। দিদার সাহেবের কথা ভুলে আমি ধান খেতে নেমে পড়ি। :)
বিসমিল্লাহ বলে নেমে পড়েন আমি, আছি সাথেই
চলুক ....
চলবে

বর্ণনা আপনার বরাবরের মতই দারুন ।
তবে আজকের লেখাটা পড়ে মনে হল সার্ট-প্যান্ট পড়া কোট-স্যুট পড়া কোনো বর্ননা আর কি ..................
একেবারে সার্প ব্লেড দিয়ে সেইভ করা মস্রিন গাল মনে হচ্ছে ।।
কিন্তু ভাইডি আমার যে খোচা খোচা দাড়ি-ই ভালো লাগে, আর সার্টের বোতাম একটা খোলা থাকবে , আরেকটা বোতাম সাদা সার্টের মাঝে লাল সুতা দিয়ে কোনো রকম জোড়া তালি দিয়ে লাগানো থাকবে।
দুই সপ্তাহেও সার্ট খুলার নাম গন্ধ থাকবে না ।
এতো পরিস্কার দেখলে হিংসে হয় তো তাই !!!
হাঃহাঃহাঃ


আন্দাজ ছিলো এইরাম কিছু কইবেন
মাঝে মাঝে রোমান নীতি ফলু কর্তে হয়ে।
সুটকুট দেখি কতুদুর টিক্কা থাকে
সিরিজ শেষে আবার রাইতে ব্যাক কর্মু
আপ্নে ইনশটল কইরা জানান দিয়েন্তো
অটঃ প্লাগিন মনয় কামকর্তেছেনা
ক্ষেতের আইলে বইসা আসমানের দিকে তাকায়া , আর নাহয় বুক পকেটে রাখা মুড়ি চাবাইতে চাবাইতে হাগা পাব্লিক আমি ।।
হাগা শেষে মাটির চাকা দিয়া পুইচ্চা লাইছি । এখন টিস্যু পামু কই ?...
এইটাই ক্যান জানি ভালো লাগে । টিস্যু যে ইউজ করি নাই তাও কিন্তু না । মাগার আরাম পাই না ।। যাকগা সে কথা .........
আমিও ট্রাই দিছি দুইবার , কাম করে না ।। কি লিংক দিলো টুটুল ভাইয়ে ...........................
হাঃহাঃহাঃ প্রকৃতিরে চিন্তে হৈলে তার কাছাকাছি যাইতে হয় যেইটা সবাই পারেনা
টুটুল ভাইরে কইষ্যা মাইনাস
কি জানি !!
এই পারফিউমের যুগে হয়তো মানুষ তার আসল অস্তিত্ব ভুলে থাকতে চায় মেকীতে ।। তাই বলে গায়ে গু লাগায়া হাটুক তাও বলিনা ।
চাই !! যে যেমনে শান্তি পায় । আমার মারে আমি মা ডাকুম , আমি কই এই মা ভাত দিয়া যা ...
আমগো কিছু বন্ধু-বান্ধব আছে , তারা তাগো মায়েরে আপ্নে কইরা কয় ।।
আমি কি এখন আপ্নে কইরা কমু ? কাভি নেহি ।। এইটাতেই আমার আরাম । এইটাতেই মিশে আছি আমি । আর মিশে আমার অস্তিত্ব ।
বই পইড়া কথা কম বলার ট্রাই করি , আজো পাটক্ষেত,লাউক্ষেত, আর শষাক্ষেতের চাং মিস করি । আহা!! ............ পাহাড়ের কথা বাদ দিলাম।
তারপরও তো চলছে ...। ঐ যে সুখ পাইনা । সুখ যে কিসে আছে জসীম মিয়া ঘাসের ভিত্রে নাকি খুইজা গেছে ।।
হুম! সেইটাই, যার যার মূলে নিজ নিজ বসবাস, সেইখানে নাড়া দেয়া উচিত না।
সুখ জিনিষটা বরাবরই অধরা, অধরাকে খুঁজতে নাই। তবে মায়ার টানরে সুখ ভাবলে বোকামি। তাই সব কিছুরেই নিজের নিয়ম মতই ছাইড়া দেই। নিড়দার পোষ্টে কইলেন্না "যাহ! তরে করলামনা বিয়া"। সেইরাম ছাইড়া দেন যা আসার তা ভাইঙ্গাচুইড়াই আসপে। রোদ যতই মায়াময় হক তাকে মুঠোবন্দী করা যায়না
কমেন্টের ট্রাক মুনেয় চেঞ্জাইয়া লাইছি।
হাহাহা।.....।.....................
সুখ আর মায়ার পার্থক্য আইজো বুঝলাম না গো ভাইডি ।।
সহজ-সরল চিন্তা করি, তাই পার্থক্য করতে ভালো লাগে না ।
গান গাইতে ইচ্ছা করতাছে, "উড়িয়া যায়গো সুয়া পক্ষি পড়িয়া রয় যে কায়া , কিসের তোমার ঘর বাড়ি কিসের দয়া-মায়া গো"
একটা ১৮+ কমেন্ট করি । ((( ধইরা কি আর সুখ মিলেরে চান্দা ?
তাইলে তো বিয়ার পরে ২৪ ঘন্টাই ধইরা থাকা লাগবে ।। )))
হাসতে হাসতে বিষম খাইলাম।

কঠঠিন কথা কইছেন একটা।
আর পারথক্য এখন না বুঝলেও সময় মতোন ঠিকই বুঝপেন
আমার্তো ফায়ারফক্স এবং ফ্লক দুই ব্রাউজারেই কাম করে :(
চাপা, আমার ভাইস্তা + অগ্নিশিয়াল দুনুটাই লেটেষ্ট মাগার কামকরেনা :(
তাইলে কাইল্কা আপিসে যাইয়া ইশকিরিন দিমুনে :(
আমারেও দিয়েন গো টুটুল ভাই !!!
শব্দের ভুল নিয়ে ব্যাপক শরমিন্দার মাঝে দিনাতিপাত করিতেছি !!
https://addons.mozilla.org/en-US/firefox/addon/13660
> Add to Firefox
> Install Now
> Restart to complete the installation.
> একটা বাংলা শব্দ লিখুন
> ওই শব্দটার ওপরে রাইট ক্লিক চাপুন
> Languages (সবচাইতে নিচে দেখুন)
> Choose Bangali/Bangladesh
এইবার না পার্লে কৈলাম খপর আছে
হৈছেগো হৈছে, বুখে আয় কুদ্দুস
(এইখানে কুদ্দুস বানান ভুল দেখায়
)
আপ্নারে অশেষ ধনিয়া এই লন দেড় গ্লাস সরাব
যাউক কাজ হৈলেই হৈল :)
আপ্নে আসলেই কামেল আদ্মি হ্যায় ।
হইছে ।
শব্দ ভাণ্ডার মনে হয় এতো বেশী না ।
থাঙ্কু গো টুটুল ভাই !!!
বিঃদ্রঃ আপনার টুটুল নামের নীচে লাল দাগ দিছে, পরে রাইট ক্লিক কইরা দেখি লেখা , (( টুটান, পুটলী, পুটলি, টুটা))

হাহাহাহাহাহা
হোহোহোহোহো
এড কৈরা দেন .. তাইল আর লাল দাগ দিপে না ;)
অদ্ভুত সুন্দর বর্ণনা।
একটু কৌতূহল, বড়গল্প হবে না উপন্যাস? নাকি এখনও ঠিক করেননি?
থেঙ্ক্যু নুশেরাবু।



ঠিক জানিনা কোনদিকে যাবে?
ইচ্ছে করলেই কয়েকটা ক্যারেকটার ইম্পোর্ট করে উপন্যাস বানানো যায় কিংবা বড় গল্প।
এই ব্যাপারে আমার ধৈর্য্য খুপই কম। পাঁচের পর ধৈর্য্য ফাইট্টা যায়
ইন্ডিংটা প্রিপ্ল্যানড দেখি কদ্দুর যায়
গল্পটা চলুক.. প্রয়োজনে কলোবর বৃদ্ধির সুপারিশ রইলো
দেখা যাক কেম্নে কই যায়, সুপারিশ বিবেচনাধীন আছে
পোষ্ট মারাত্নক সুন্দর।তবে কমেন্টগুলা ত জোশশশশশশশশশশশশশশ।কমেন্ট কেন করতারি না?যুদ্ধ করতে হইছে।
পোষ্ট মারাত্নক সুন্দর।তবে কমেন্টগুলা ত জোশশশশশশশশশশশশশশ।কমেন্ট কেন করতারি না?যুদ্ধ করতে হইছে।
হাঃহাঃহাঃ মাঝেমাঝে এমন হয়। তখন জোর না করে পোষ্ট থেকে বেরিয়ে এসে দেখবেন আপনার কমেন্ট পাব্লিশ হয়েছে। আর জোর করলে ডাবল পাব্লিশ হবে



ভালোলাগায় ধনিয়া পত্র
কাজীদা আজকের বর্ননাটা মনে হলো হালকার ওপর ঝাপসা দিয়া ছেড়ে দিয়েছেন।
যাই হোক পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম
হাঃহাঃহাঃ পাক কোরআনে আল্লাহ বলেছেনঃ হে মানব জাতি তোমাদের বড়ই তাড়াহুড়া। তাই মাঝেমাঝে আম্মো তাড়াহুড়ো করি
পরের পর্ব আসবে দুইএকের মধ্যেই
আল্লাহ পাকের নিজের তাড়াহুড়াও কিন্তু কম না ঃ)
খাইছে, এইটা জিগাতে গেলেইতো বিপদ
ভালো আগাইতেছে।
তাঁতের কথায় ছোটবেলার কথা মনে পড়ল। দাদার বাড়ি গেলে দেখতাম গ্রামের প্রায় সব বাসায়ই তাঁত। মাকুটা একবার ওইপাশে যায় আবার এইপাশে আসে। আর সাথে লাগানো সুতার বান্ডিল(নামটা এখন মনে করতে পারছিনা) থেকে সুতা এমাথা ওমাথা গিয়ে কাপড়ে পরিণত হতে থাকে। চমৎকার লাগত। প্রায়ই তাঁতীর পাশে বসে থাকতাম মাকুর কাজ দেখতে। একদিন তাঁতী বলে, 'তোমার বাপেও কাপড় বাইন্যাইতো'।
তাঁত জিনিষটা অনেক জায়গায়ই বিলুপ্ত প্রায়। আগে নাকি গ্রামের প্র্যায় বাড়িতেই দেখা যেতো।

আমার বাবারো তাঁত লোন বকেয়া ছিলো যদিও কোন দিন তাঁত কিনেন নাই
সুতার ববিন বলে মনেহয়।
আপাতত আঙ্গুল তুলিলাম।
ধনিয়া পত্র দিলাম
মন্তব্য করুন