ধরা খাওয়ার কাহিনীনামা (নুশেরা'বু ও কাকনা'দিকে)
সবগুলো ঘটনাই মাতুলবাসের ঘটনা।
১) সে বছর প্রাইমারী থেকে নতুন হাই স্কুলে উঠছি মাত্র। কাঞ্চন ভারতচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র এটা ভাবতেই কেমন গর্বিত গর্বিত ফিল হইয়া সিনা কয়েক ইঞ্চি উঁচু হইয়া যাইতো। ক্লাস সিক্সের ঘটনা।
আমাদের প্রথম ঘন্টার ক্লাস ইংরেজী, আর ইংরেজী পড়াতেন পৃথিস চন্দ্র স্যার। বিড়াট কড়া ও খাইষ্ঠা টাইপের শিক্ষক। স্যারের ছিলো সুচিবায়ুর সমস্যা। এমনিতে বিকেলে স্কুলের পরে উনি হুমিওপাথির ডাক্তার হিসেবে নিজের চেম্বারে বসতেন। স্যারের সুচিবায়ু এতোই প্রবল ছিলো যে উনি টাকাকে কখনো হাত দিয়া ধরতেন না, স্টিলের চিমটা দিয়ে ধরতেন। কথিত আছে, বাসায় এসে নাকি উনি কাজের লোক দিয়া ভিজিটের সব টাকা সাবান দিয়া ধোয়াইতেন।
এদিকে ইংরেজী বিরাট খটমট সাবজেক্ট, ডাক্তার আসিবার পুর্বে রুগী মরল নাকি ডাক্তার চলে যাওয়ার পরে মরল এইটা নিয়া সবসময়ে বিরাট টেন্সিত থাকি। এই সব টেসনের চাপে আমাদের সভা কবি পৃথিশ স্যারকে নিয়া দুই লাইনের কবিতা রচনা করে ফেললঃ "পিটিস পিটিস কামনা, তুমি আমায় ভুলোনা"।ঠিক হইলো স্যারকে যখনি দেখিবে তখনি কোন চিপায় অবস্থান নিয়া এই কবিতাটা কমপক্ষে দুইবার উচ্চস্বরে পাঠ করে ঝাড়া দৌড় দিবে। যেই ভাবা সেই থেরাপি। আমাদের চমকিত করে দিয়ে কবিতা হেব্বি একশন দেখাইতে শুরু করল। এই কবিতা পুরা এলাকায় রাষ্ট্র হইয়া গেল। আর যে'ই এই কবিতা পাঠ করে স্যার তাকেই ধুতি গুটাইয়া ধাওয়া করেন। কিন্তু স্কুলের সময় ক্লাসে এসে স্যার রুদ্রমুর্তী ধারন করেন। কঠিন কঠিন সব ট্রান্সলেশনের মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে আমাদের অবস্থাও কাবু আর পিঠের চামরার পুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাইতেছে। অবশেষে স্যারকে সায়েস্তা করার জন্য আমরা সভাসদরা অভিনব পন্থা বেছে নিলাম।
এখানে বলে রাখা ভালো আমাদের স্কুলে প্রতিটি ক্লাসে স্যার যেই স্টেজের উপর চেয়ার টেবিল নিয়ে বসেন সেই স্টেজটা কাঠের চৌকি বৈ আর কিছু না। যার তলা ফাঁকা।
প্রথমে ভাবলাম সারের চেয়ারের তলায় ভিমরুল ফিট করে দেয়া যায় কিনা। কিন্তু ভিমরুল যোগার করতে গিয়া কয়েকজন বেশ কাবু হইয়া হস্ত পদ স্কন্ধ মাথা ফুলাইয়া পরাজিতের বেশে ফিরলাম। অবশেষে সভার চিফ এডভাইজার মাইনুদ্দিন উরুফে "বেংগা" পরামর্শ দিলে কিছু "পাদরা পাতা" যোগার করে স্যারের টেবিলের নিচে প্রতিস্থাপন করা যায়। "পিটিস" স্যারের যেহেতু সুচিবায়ু আছে সেহেতু উনি ক্লাসে ঢুকে পাদরা পাতার মহিমায় কিছুক্ষনের মধ্যেই হার্টফেল টাইপের কিছু একটা করে বসতে পারেন।
এইখানে বলে রাখা ভালো "পাদরা পাতা" স্বনামেই মহিমান্বিত। যেমন নাম তার অনুরুপ কাম।
তো আমরা কয়েকজন মিলে নাকে মুখে গামছা ঠাসিয়া সাহাদের জঙ্গলে প্রবেশ করে সেই পাদরা লতা কিছু হরণ করে স্কুলে নিয়া আসলাম। উফ! পাদরা লতার সেকি মহিমা। গামছার প্রাচীর ভেদ করে বিভতস গন্ধে আমাদের নারীভুরী উল্টাইয়া আসার যোগার।
ঘন্টা বাজার আগেই কোনমতে পাদরা লতা সারের টেবিলের নিচে চালান দিয়া আমরা যথারীতি "করিম ভালো ছেলে"র মত ভদ্র হইয়া বসলাম। ক্লাসে ঢুকিয়া আসন গ্রহন করিয়াই স্যার এতিউতি চাইছেন আর নাক ঘসছেন। আমরাও অন্য ছাত্রের পিঠে মুখ লুকাইয়া মুচকি মুচকি হাসি। এক সময় আর নাপারিয়া স্যার চেয়ার ছেড়ে উঠে গন্ধের স্বরুপ সন্ধানে ব্যাস্ত হয়ে পড়লেন। অবশেষে চৌকির তলা থেকে দুই দুইটা পাদরা লতা উদ্ধারে সক্ষম হলেন। লতা দেখিয়াই স্যারের চৌক্ষুদ্বয় জ্বলজ্বল করতে লাগল। ক্লাস কেপ্টেন হাবলা মনিরকে ডাকিয়া স্যার বললেন, পাতাগুলো ছিড়িয়া বিশুদ্ধ কলের জ্বল দিয়া ধৌত করে আনতে, সেই সাথে শিক্ষকদের মিলানয়তন থেকে কিছু লবন নিয়া আসিতে।
কেপ্টেন বেচারা মুখ চোখ কুচকাইয়া সেই পত্র ধুয়ে লবন নিয়া ক্লাসে হাজির হলে। পৃথিস চন্দ্র স্যার একটা একটা করে সেই পাতা লবন মাখাইয়া মুখে পুড়িতে লাগিলেন। প্রতিটা পাতা মুখে দিয়া উনি চৌখ বন্ধ করে ফেলেন যেন সমুদ্র মথিত অমৃত চাখিয়া দেখিতেছেন। এই দৃশ্য দেখে আমাদের চর্মচৌক্ষু কোটর বহির্গত হবার যোগার।
পত্র ভক্ষণ শেষে স্যার উক্ত পত্রের অম্বল কম্বলে আরাম সহ অন্যান্য ভেষজ গুনাগুন আমাদের বয়ান করতে করতে শুধাইলেন কে এই লতা ক্লাসে আনায়ন করিয়াছে।
আমরা দুয়েকজন সিনা উঁচাইয়া স্বগর্বে দন্ডায়মান হইলে স্যার বলিলেন কাল থেকে রোজ স্যারের জন্য কমপক্ষে দশটা করিয়া পাদরা পাতা সংগ্রহ করতে হবে। অন্যথায় লরিকান্তের চুম্বন আস্বাদন অত্যাবশ্যক (স্যারের বেতের নাম ছিলো লরিকান্ত)। 
(উপরে সিরিয়াল এক দিলেও লেখাটা বড় হয়ে গেল তাই পরেরগুলা টাইপ করতে আইলসামি লাগতেছে।)
ক্ষুদ্র জীবনে এই রকমের ধরাখুব কম খাইছি। তবে পাঠক চাইলে বাল্য চোট্টামির বিবরন দিয়া এই সিরিজ চলতে পারে। আই প্রমিজ। 





প্রতিদিন দুইটা করে পাদরা লতা, থুক্কু ধরা-পোস্ট, দিতেই হবে।
উৎসর্গ দেইখা চিত্তে ব্যাপক সুখশান্তি লাভ করলাম। শুকরিয়া কাজীদা।
আপনার হুজুর কাহিনী আর সেই পোশটে আপনার আর কাকনাদির কমেন্ট পড়ে এতোই হাসছি যে কৃতজ্ঞতা স্বরূপ একটা পোষত কুরবানী না করলে গোনাহে কবিরা হাসেল হতে পারে। তাই উৎসর্গ
বাল্য চোট্টামি:-O:-O
বুঝছি মাথার ভিতরে কাহিনী ঘুরতাছে , না করলেও আপনি পোস্টাবেন , সিরিজ ওয়েলকাম
হেঃহেঃহেঃ জমিদার সাব আছেন কিরাম? বহুদ্দিন বাদে দেখলাম

"বাল্য চোট্টামি" নীড়ু'দার কপিরাইট। আমি যাস্ট একটু ধার করলাম আরকি
আছি ভাল ,
আপনি বই মেলায় যান নাই ,
হেঃহেঃহেঃ দেশে আইলে যামু, বাড়ির পাশেইতো আরশী নগর
পাদরা পোস্ট থুক্কু ধরা পোস্ট মজারু হইছে। চলুক।
মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে এই লতা থেকে একদিন পাতা ছিড়ছিলাম। উফ কি গন্ধরে বাবা!
হ, বিশ্রি গন্ধ, স্যার অইটা কেমনে মজা কইরা খাইলো সেইটাই ভাবি
এইটার ঔষধীগুন মেলা।
এই রকম পাতা আছে জানতাম না। ছোটবেলায় বিছুটি পাতার গুণ সম্পর্কে জানতাম। চলুক ধরা কাহিনী।
ধনিয়া আপু, দুনিয়াতে বহুত আজব গাছ গরান আছে যা আমাদের অনেকেরই জানা নাই। মলিদা জানে
।ক্লাশ নাইনে একজন এরকম পাতা আনছিল , পরে ধরা খাইয়া ৩০+ বেতের বাড়ি।
নিজের নাম আরেকজনের উপ্রেদা চালায়া দিতাছেন মুনয়
পাদরা পোস্ট থুক্কু ধরা পোস্ট মজারু হইছে। চলুক।
দনিয়া জয়িবু
হাহাহা, আমার লগে মিলছে কিছুটা।
স্কুলে নুর ই আলম স্যার ছিলো ভয়ংকর লোক, হুদাই পিটাইতো, একহাতে কন্টিনিউয়াস বেত মেরে যেতো। তারে সাইজ করার প্ল্যান করলাম। স্যারদের বসার ডেস্ক থাকতো দুইটা চৌকির উপরে, আমরা দুই চোউকি দুইদিকে সরায়া দিলাম, মাঝে এক পা ঢুকে যাবার ফাক। এবং স্যার এসে যথারীতি সে ফাকে এক পা দিলেন, পুরা ক্লাস হাইসা উঠলো। স্যার এরপর কত চেষ্টা করছে লেকিন আমরা কেউ স্বীকার যাই নাই। কইছি আমরা এইটা দেখিই নাই।
পাদরা পাতা বা গন্ধভেদুলী পাতা নিয়া একটা কাহিনী। ক্লাশ টেনে করছিলাম লাট্টু স্যারের সাথে। লোক্টাও হুদাই পিটাইতো, সালাম দিলেও মনে করতো তার সাথে টিটকারী করা হইতেছে। স্যারের চেয়ারের এক পা ছিলো খাটো, সেটার নিচে দিলাম পাতা, স্যার বসার পর সামনে পিছনে যায়, আর পাতা ছেচে গন্ধ বের হয়, কি বিকট মুলা খাওয়া গন্ধ! স্যার এরপর গালাগালি শুরু করলেন, "বদ্মাইশ, খাচ্চর, তোরা ভদ্র ঘরের পোলাপাইন না".।
বদ্মাইশ, খাচ্চর, তোরা ভদ্র ঘরের পোলাপাইন না"
খারাপ কয় নাই
আপনি এইসব করতেন ছিঃ ছিঃ। আমি খুব ভাল ছিলাম।
হে হে। নুরী আলম আর লাট্টুর মাইর তো খান নাই। খাইলে আপ্নেও এই কাম করতেন।
হেঃহেঃহেঃ কাহিনী দুইটাই হাহাপগে
বাইল্য কালে এইরাম দুষ্টামি না করলে কি এখন লেখতারতাম
পাদরা পোস্ট থুক্কু ধরা পোস্ট মজারু হইছে।
চলুক।
বদ্মাইশ, খাচ্চর, তোরা ভদ্র ঘরের পোলাপাইন না"

ধনিয়া শওকত ভাই।
থেঙ্ক্যু শওকত ভাই

ঐদ্য জাতীয় ধরা দিবস
মদিনার গরে গরে আলন্দ
হ সেদিন মুনয় ধরা দিবস ছিলো
এডা তো চরম....এই গান্ধা পাতা কাগু খাইলো ক্যাম্নে?
যাউক গা, আপনের চুট্টামীর কাহিনীও জানতে চাই....অতি শীঘ্রই.....
হ কাগু কেমতে খাইলো সেইটাই বাভিয়া পাইনা।

চুট্টামির কাহিনী আইবো মুন্মিজাজ ভালা হইলে
মন্তব্যের জন্য ধনিয়া
আমার হাত নিশপিশ করতেছে নিজের বদমায়েশীর সংবাদ লিখতে। আমাকে আর ধরে রাখা যাবে না। এখনি বসতেছি।
পোষ্ট ভালো হইছে কাজীদা
থেঙ্ক্যু আপু।
কুই আপ্নের পুষ্ট কুই
গান্ধা পুস্ট
হ গান্ধা ওয়াক
শিরোনামে নাম থাকার কারনে লাইক্কর্লাম; পাদরা পাতার নাম জীবনে প্রথম শুনলাম, কত কি ই যে জানিনা; আপনারা ভালো ধরাই খাইছিলেন; মলিকিউলের কাহিনী ও লাইক্কর্লাম
হেহেহে মলিদা বৃক্ষ গভেষক
লাইক্করায় ধনিয়া 
আমার একটা ধরা ছিলো গানের মাষ্টারের কাছে। সপ্তাহে একদিন বাসায় এসে আমাদের দুইবোনকে শিখাতেন, পৃথিবীর বিরক্তিকর চীজগুলার তালিকা করা হলে উনি অনায়াসে টপটেনে ঢুকতে পারবেন। আমি কী জাতের ছাত্রী ছিলাম আন্দাজ করা সহজ। একদিন কারেন্ট চলে গেছে, ভেতরে গিয়ে মোমদানীতে বড় একটা মোম জ্বালায় নিয়ে আসছি। বাম হাতে মোম নিয়ে স্যারের পিছন দিক দিয়ে এসে ডান হাতে উনার মাথার উপর একটা ঘুষি বাগানোর ভঙ্গি করলাম (যেন উল্টাপাশে বসা আপু দেখতে পায়)। সেইটা করার সাথে সাথে স্যার ঘুরে বসে হার্মোনিয়ামের উপরের ঢাকনাটা তুলে নিয়ে আমার হাতে এক বাড়ি। ঘটনা হইলো আমার ঘুষির অ্যাকশনটা মোমের আলোয় সামনের দেয়ালে বিশাল ছায়াছবি হয়ে দেখা গেছিলো...
হি হি হা হা হা ...


হিহিহি চরম ধরা এরেই কয়
হা হা হা ... বেচারা স্কুল-কলেজের স্যারদের আমরা যেই জালান জালাইছি, সবাই একটু করে অভিশাপ দিলেও খবর আছে
স্যারেরা কড়া হইলেও লুক ভালা আমাদের অভিশাপ দিবেনা
পাদরা পাতার পোস্ট গন্ধময় হৈছে
চিচিচি গন্ধ
হা হা প গে
ধনিয়া মুক্লা ভাই
ঐ বিশেষ পাতা খাওয়ার বর্ননা যেই ভাবে রসাইয়া রসাইয়া বলিলেন তাহাতে আমার নিজেরই তো সেই রসাস্বাদনে ইচ্ছা হইতেছে......
মাই গড কয় কি
নাহীদ ভাইডি/বোনডি এইটা কি কইলো
কাকন বুনডি নাহিদ যাহা বলিয়াছে সইতত বলিয়াছে..হোগগোলতেরি টেরাই মারা উচিত...যেমন কইরা রসাইয়া বরনোনা করছে...
নাহীদ তুমি এগিয়ে চলো .। আমরা নাই তোমার সাথে...
ফেইলার ইজ দা পিলার ওব সাকসেস...তোমরা টেরাই মারতে থাকো...একদিন দেখবা সাকসেস হইবাই...সো পোলাপাইন ধইরজো মাত হারাও...
ছুডু বেলায় যে বাসায় আছিলাম, তার পাশের বাসা হইতে প্রায়শই এই গন্ধ আসত। আমি তো বুঝতাম না, ঐ বাসায় আবার আমার সমবয়সী এক কইন্যা থাক্তো।

একদিন তারে বেকুবের মত জিগাইয়া বইলাম, "তুম্রার বাসায় রোজ রোজ ইরাম কইরা গন্ধ নির্গমন করে ক্যাডায়?? তার কি ডায়রিয়া কিসিমের কুনু প্রব্লেম??"
ঐ মেয়ে চেইতা- মেইতা ফায়ার!! কয়, "এইডা আমরা খাই, রাইন্ধা খাই, খুব টেস্টি, উপকারি"।
আমি তো তব্দা!!
যাওয়ার সময় আমারে আরো কইয়া গেল, "তুমি খারাপ কথা কও। আমার লগে আর কখনো কইবা না, তোমার লগে আড়ি!"
জীবনেও আর কথা কয় নাই।
মন্তব্য করুন