যত্তোসব নাই কাহীনি
সন্ধ্যা হয় হয় অবস্থা, মাত্র মাগরিবের আযান দিচ্ছে। টিকাটুলির মোড়ের আমগাছ তলায় দাড়িয়ে আছি করতোয়া সিটিং সার্ভিসে (একচুলি জটিং সার্ভিস) চড়ে চাষাড়া যাবো। কিছুক্ষণ পর কাঙ্খিত বাস এলে ভিড়ের মধ্যে ঠেলেঠুলে পিছনের গেইট দিয়ে বাসে উঠলাম। 
বাসে উঠে লক্ষ করলাম পিছনের গেট দিয়ে আমি একাই উঠেছি। সিটিং সার্ভিস বাস হলেও দুই দিকের সারির মাঝ খানের জায়গাতে দাঁড়িয়ে রড ধরে ঝুলতে ঝুলতে যাচ্ছি। আর কেউ উঠে নাই অথচ উঠার সময় ঠেলাঠেলি করতে হলো কেন এর কারণ নিয়া ভাবছি। দেখতে দেখতেই শনির আখড়ায় পৌঁছলাম। হঠাৎ টাইম দেখতে হাতের দিকে তাকিয়ে দেখি শখের QsQ ঘড়িটা হাত থেকে নাই। মনটা খারাপ হলেও টিকাটুলির ঠেলাঠেলির রহস্য শেষ পর্যন্ত উদঘাটিত হলো। 
খালাতো ভাইয়ের সাথে তার দাদার বেড়াতে গেছি, নরসিংদীর কোন এক গ্রামে। বাড়ির সামনে গভীর পুকুর, পুকুরের চারপাশে ঝুঁকে আছে বিভিন্ন রকম বৃক্ষ। দুপুরে গোসলের সময় দেখলাম বাড়ির পোলাপান সব গাছে উঠে সেখান থেকে পুকুরে লাফিয়ে পড়ছে। আমিও লুঙ্গিতে কাছা মেরে পুকুরের উপরে ঝুঁকে থাকা একটা গাছের মগ ডালে উঠে পরলাম। পুকুর ঘাটে কয়েকটা কিশোরী থাকায় দ্বিগুন উৎসাহ বোধ করছিলাম। গাছের উপর থেকে লাফ দিয়ে পুকুরে পড়লাম ঠিকই কিন্তু সেই সাথে আবিষ্কার করলাম পড়নের লুঙ্গিটা নাই। লাফ দেয়ার পড় সেইটা গিঁঠ খুলে কোথায় জানি তলিয়ে গেছে। এদিকে পুকুর ঘাটে কিশোরীরা বসা, বিরাট বেতইজ্জতি কারবার।
কলেজের প্রথম বর্ষে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে দল বেঁধে গেছি বাংলা সিনেমা দেখতে। (সিনেমার নাম মনে পড়ছে না।) সবাই ব্লাকে টিকিট কাটলাম এবং দল বেঁধে হলে ঢুকে গেলাম। যথারীতি অর্ধেক সিনেমার পর বিরতী, বাইরে গিয়ে সবাই ভাবের সাথে বিড়ি টানলাম। বিরতির পর যখন আবার সিনেমা শুরু হলো তখন লাইট ম্যান সবার টিকিট চেক করছে। বন্ধুবান্ধব সবার পকেটে টিকিট আছে শুধু আমার পকেটে টিকিট নাই।
ঈদের সিজন ঢাকার রাস্তাঘাট মার্কেট লোকে লোকারণ্য। যথারীতি কেনাকাটা করতে গেলাম বঙ্গবাজার। বঙ্গবাজারের সুবিধা হলো আপনি খালি কালার আর ডিজাইন পছন্দ করেন, সাইজ কোন ম্যাটার না। দোতলায় কারিগরেরা সেলাইমেশিন নিয়ে বসে আছে। ২০ টাকায় খাড়ার উপ্রে যেকোন শার্ট বা পেন্টকে আপনের সাইজে ফিট বানিয়ে দিবে। এক দোকানে ঢুকে দুইটা জিন্স পছন্দ করলাম, টাকা ২৭৫ ইচ। দাম দিতে গিয়ে জগত সংসার দুলে উঠলো। কারণ পকেট থেকে থেকে আস্ত মানিব্যাগ নাই। মরার উপ্রে খাড়ার ঘা হিসেবে দোকানি একচোট ঝাড়ল। মৃদু প্রতিবাদ করাতে দোকানি শেষ পর্যন্ত তুই তুকারীতে নেমে গেল। দোকানি বলছে; ব্যাবসার সময় মার্কেটে দিল্লাগি করতে আইছস। থাব্রা না দিতে গেলি? 
তখন আমার দুরন্ত কাল। বাসার সামনে নদী থাকলেও বর্ষা কালে পানি অত্যধিক ঘোলা ও স্রোত বেশী থাকায় ভূঁইয়াদের ও দেওয়ানদের পুকুরে ঘন্টার পর ঘন্টা ডুবাইতাম, চলত নানারকম খেলা। দুইটা পুকুরের ঘাটই ছিলো বাঁধানো এবং ঘাট সব সময় শ্যাওলাতে পিচ্ছিল হয়ে থাকত। একদিন ভুঁইয়াদের পুকুরে একজনকে আচ্ছামতো চুবিয়ে মোটামুটি কাহিল করে ফেলেছি। তারপর দৌড়ে ঘাটে উঠে পালাতে গিয়ে পিছলা খেয়ে ধরাম করে পড়লাম। আছাড় খাওয়া সেই বয়সে কোন ব্যাপারই না। কিন্তু চাপায় ভোতা যন্ত্রনা অনুভূত হতে হাত দিয়ে দেখি, দুইটা দাঁত নাই। 






কাহিনী মজার... কিন্তু বানান ভুলের চোটে পড়তে ব্যাপক কষ্ট। ভুলের চেয়ে বেখেয়ালটাই বেশি। লেখাটা আরেকবার পড়ে সম্পাদনা করে দিতে অনুরোধ রইলো।
মুখ্যসুক্ষ মানুষ তাই বানানে বিরাট ধরা ভাইডো
পুকুর থেক উঠলেন ক্যাম্নে?
গরীবের ভরসা কেদেরী গামছা

নাই কাহানী ভালু নাগিল হয়...
ব্যাপুক ধনিয়াজ
কাজী সাহেব... ইবুকের লেখা কই?
তারাতারি মেইলান
এট্টু নিরালা পাইলে মেইলাইয়ালামু চিন্তাইতেছি। তয় যেই টপিক দিছেন কি লিখি ডরে আছি
লেখা পইড়া কোন কমেন্ট নাই।
...ভাইজান, ভাবী কই এখন?
"ব্যাবসার সময় মার্কেটে দিল্লাগি করতে আইছস। থাব্রা না দিতে গেলি?" --

কাহিনীটা পড়ে আরেকটা মনে পড়লো।
অনেক বছর আগে আমার এক প্রতিবেশী ১০/১১ বছরের গালিব বাসে করে ফিরছিল নিউমার্কেট থেকে। ছোট ছেলে একা এই প্রথম বাসে চড়েছে। ছোট হলেও ছেলে ব্যাপক বান্দর কিন্তু চেহারায় ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানে না।
শার্টের পকেটে কিছু টাকা ছিল শ'খানেক হতে পারে। মাঝপথে ভীড়ে চিড়ে চ্যাপটা হতে হতেও খেয়াল করলো একটা হাত আলগোছে আনমনে ওর শার্টের পকেটের দিকে এগোচ্ছে। ঘটনা বুঝে ফেললো বান্দর পোলা। কিন্তু ছোট মানুষ অত বড় পকেটমার ধরবে কি করে। বাধা দেবার শক্তিও হবে না। তাই চোরা হাতটা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছুবার আগেই ছোট হাতে উপরের পকেট থেকে টাকা সরিয়ে নীচে হাফ প্যান্টের পকেটে পুরে দিল অলক্ষ্যে।
চোরের হাত গন্তব্যে পৌছে টুপ করে টাকাটা টান দিতে গিয়ে ভীষন বিব্রত হলো। খালি হাতটা দ্রুত ফিরিয়ে নিতে গিয়ে গালিবের সাথে চোখা চোখি হলো তার। গালিবের মুখে তখন শয়তানী মুচকি হাসি। পকেটমার তখন তড়িঘড়ি পরের ষ্টপেজে নেমে গেল।
সেইরম সব কাহিনী।
মজারু হইছে।
'আমি কেন লুঙ্গী পড়ি না'-গল্পটা আমার কাছাকাছি।
পুকুরের লুঙ্গী এর কথা জাতি জানতে চায়
মন্তব্য করুন