ইউজার লগইন

মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা আসলে কতো ??

খুব সম্ভবত বদরুদ্দিন উমরের একটা লেখা পড়েছিলাম। উনি আক্ষেপ করে
বলেছিলেন " দেশে সৈনিকের সংখ্যা বেরে যাচ্ছে "। হয়তো এ জন্যই পত্রিকার পাতায় আজ কাল হড়েক রকমের সৈনিকের নাম চোখে পরে। ৫২য় ফিডার খাওয়া শিশুও অনেক সময় ভাষা সৈনিক হয়ে যায়, একাত্তরে ঘরের নিরাপদ পরিবেশ আকাশবাণী বা স্বাধীন বাঙলা বেতার কেন্দ্র শোনা যুবাও হয়ে যায় বীর মুক্তিযোদ্ধা। আসলে মুক্তিযোদ্ধা সংখ্যা কতো ?

আজকের ( ১৭ ডিসেম্বর ২০০৯ ) দৈনিক প্রথম আলোতে
( http://www.prothom-alo.com/detail/date/2009-12-17/news/25785) মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত? আর্টিকেলটা পড়ে মনে হলো আসলেই প্রকৃত সংখ্যাটুকু কত ? এক লাখ, দুই লাখ না আরো বেশী !!

প্রত্যেক সরকারের সময়েই মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে জড়িপ চালানো হয়েছে, তালিকা করা হয়েছে। এর সবগুলোই দলীয় দৃস্টিভংগি থেকেই। আওয়ামী লিগ করা মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়েছে বিএনপি, একই কাজ করেছে আওয়ামী লিগ; যেনো দলীয় রাজনীতি করলে কারো মুক্তিযোদ্ধাত্ব খারিজ হয়ে যায়। সাধারন নির্দলীয় মুক্তিযোদ্ধাদের অবশ্য তালিকায় নাম উঠা দূরের কথা জড়িপের সময় কেউ খোঁজও নেয় না।

জানা যায়, চারটি খসরা ও একটি চুড়ান্ত তালিকা করা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে যার শুরু সামরিক শাষক এরশাদের সময়ে ১৯৮৬-৮৭ সালে। সে সময়ের খসড়া তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১,০২,৪৫৮ বলে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে ৬৯,৮৩৩ জন মুক্তিযোদ্ধার নামের তালিকা রয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর জেনারেল
(অব.) আমিন আহম্মদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, " ভারতে যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তাঁদের ছবিসংবলিত নাম-ঠিকানা তাঁরা ভারত সরকারের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন এবং এখনো তা সংরক্ষিত আছে।" তিনি জানান, ’৭৪-৭৫ সালে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রসঙ্গত, সেনা সদর দপ্তর থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হয়ে ’৮৬ সালে ওই তালিকা আমিন আহম্মদ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে। কল্যাণ ট্রাস্টে এ তালিকার ফটোকপি আছে। আর মূল তালিকা রয়েছে চট্টগ্রামে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট সেন্টারে। তবে এ তালিকায় মুজিব বাহিনী ও বিএলএফ সদস্যদের নাম নেই। ওই সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি হবে না বলে আমিন আহম্মদ জানান। এছাড়া কাদেরীয়া বাহিনী, হেমেয়েত
বাহিনী, আফসার বাহিনীর মতো স্বীকৃত বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত সংখ্যা ও তালিকাও পাওয়া যায় না। এ ব্যপারে জেনারেল আমিন বলেন, " স্বাধীনতার ৩৮ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিয়ে বারবার এভাবে কাটাছেঁড়া করা আসলেই হাস্যকর। ভারত সরকারের হিসাব বিভাগে খোঁজ নিলেই প্রকৃত তালিকা পাওয়া যাবে। কারণ, মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেওয়া সবাই ভারত সরকার থেকে কম-বেশি ভাতা পেতেন।"

১৯৯৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভোটার তালিকায় ৮৬,০০০ ; ১৯৯৮ - ২০০১ সাল পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের খসড়া তালিকায় ১৮৬,০০০ জন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাকে মুক্তিবার্তা তালিকা বলা হয়। আর ওই সময়ে পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বেড়ে যায় প্রায় এক লাখ।

সর্বশেষ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) গেজেটে প্রকাশিত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা এক লাখ ৯৮ হাজার ৮৮৯। তবে জোট সরকারের গঠিত জাতীয় কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দুই লাখ ১০ হাজার ৫৮১ জন। অর্থাৎ জোট আমলে সংখ্যাটি আবার বেড়ে যায়। আশা করা যায়, আওয়ামী সরকারের সময় এ সংখ্যা আবারো বেরে যাবে।

এ ব্যাপরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক এ এস এম শামসুল আরেফিন বলেন,
"মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণ করা সবার আগে জরুরি। আর সেটি না থাকায়
ঢালাওভাবে যে খুশি সে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যাচ্ছে তালিকায় নাম লিখিয়ে, এটা
মেনে নেওয়া যায় না। " অস্ত্র হাতে যিনি সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে মৃত্যু ভয়
উপেক্ষা করে যুদ্ধে গিয়েছিলেন আর যিনি তাদের সহায়তা করেছিলেন তাদের সম্মান কি সমান হতে পারে ? যদিও একজন শব্দ সৈনিক, একজন কলম সৈনিক, একজন সাহায্য কারী, একজন অস্ত্রধারী মুক্তিযোদ্ধা-- সবার চেস্টায়ই মুক্তিযুদ্ধ সফল হয়েছিলো।

ব্যক্তিগত ভাবে আমি ইবিআরসিতে সংরক্ষিত তালিকাকেই একমাত্র ও নির্ভরযোগ্য তালিকা মনে করি। একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধারা একটি নির্দিস্ট প্রকৃয়ার মাঝ দিয়ে যেতেন। যুব ক্যাম্প হয়ে প্রশিক্ষন শিবির। এ সময়ে সবার নাম ছবি সহ তালিকা করা হয়। এ তালিকা সরকারের কাছে আছে। এ ছাড়া ২ নম্বর সেক্টরের বামপন্থী মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই আছেন যাদের নাম সরকারী তালিকায় নাও পাওয়া যেতে পারে। অন্যান্য বাহিনীর জন্য একই কথা প্রযোজ্য। এরকম একটি তালিকা করা কি একদমই অসম্ভব ? এ না হলে দেখা যাবে মুক্তিযোদ্ধাদের বদনা আগিয়ে দেয়া কিশোরও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুবিধা নিতে ব্যস্ত, আর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যথারীতি সুবিধাবন্চিত।

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

সাঈদ's picture


কবে যে আবার গো-আ , নিজামীর নাম আবার মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে উঠে যায়, সেই ভয়ে আছি।

তানবীরা's picture


ভয় পেয়েন না, অচিরেই সংশোধিত তালিকা আসবে তাদের নাম শুদ্ধ।

রন's picture


মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও টানাটানি, হতাশ হইতে হই এইরকম লেখা পড়ে
দেশ-এর জন্য কি সরকার গুলা কি পারেনা এই বিষয় টাকে সবার অপরে স্থান দিতে?

তানবীরা's picture


এ না হলে দেখা যাবে মুক্তিযোদ্ধাদের বদনা আগিয়ে দেয়া কিশোরও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুবিধা নিতে ব্যস্ত, আর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যথারীতি সুবিধাবন্চিত।

তাইতো হচ্ছে

সোহেল কাজী's picture


ভাইরে আমাদের লজ্জার ইতিহাস শুনলে মাথা হেট হয়ে যায়।
কত শক্তি আসলো গেলো তালিকাটা অপুর্নই রয়ে গেল।
সবচেয়ে খারাপ লাগে যখন এই অকুতোভয় লোকগুলোকে নিয়েও রাজনীতি হয়।

ভালো থাকবেন।

মলিকিউল's picture


মুক্তিযোদ্ধার কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। এটা কে বা কারা ক্ষমতায় আছে তার উপর নির্ভর করে বাড়ে বা কমে......। Sealed

সুবর্ণা's picture


শহীদের সংখ্যা কতো, মুক্তযোদ্ধার সংখ্যা কতো, কিম্বা নির্যাতনের সংখ্যা কতো তা নিয়ে এখনও সংশয়। সঠিক তথ্য জানার উপায় নাই।

নুশেরা's picture


আমার চাকরিজীবনে দীর্ঘ এক আবাসিক প্রশিক্ষণের সময় টানা পাঁচ মাস ভোর পাঁচটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত এক সিনিয়র কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ছিলাম। এমন কোন বিষয় নেই যেটা নিয়ে জ্ঞান দেননি। ওই ট্রেনিং পিরিয়ডের মধ্যে শহীদ দিবস আর স্বাধীনতা দিবসের আয়োজনও পড়ে। এতোগুলো দিন, এতো রকম আলোচনা কথাবার্তার মধ্যে ঘুণাক্ষরেও শুনিনি উনি মুক্তিযোদ্ধা। এখন পত্রিকায় দেখি উনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে চাইছেন। কেমন যেন লাগে।

আমরা মনে হয় লোভী জাতি, একটুখানি হালুয়ারুটির গন্ধ পাওয়া গেলেই হলো, আমাকে তার দাবীদার হতেই হবে। সত্য-মিথ্যা, বিবেক-বিবেচনা এইসব বোধ একশ হাত মাটির নীচে চাপা দেয়া সারা।

পোস্টের শেষ প্যারায় লেখকের বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত। নতুন বর্ধিত তালিকার সুযোগে নব্য মুক্তিযোদ্ধা(?) আর তাদের কোটার সেফটি নেট বেয়ে সরকারী চাকরিতে ঢুকে পড়া কিছু কুতুবকে দেখার দুর্ভাগ্য হয়েছে। আরও দেখেছি প্রত্যন্ত অঞ্চলে পড়ে থাকা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার হাল। কষ্ট লাগে, রাগ লাগে। ক্ষমতার রাজনীতিতে সততা না থাকলে এইই হবার কথা।

নজরুল ইসলাম's picture


একটা এপ্লাই করে রাখবো কী না ভাবতেছি। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল আমার বাড়ির সামনেই। জানালা দিয়া দরখাস্ত ফালাইলেই তারা পায়া যাইবো...

১০

লোকেন বোস's picture


ভালো লাগে না লোভের এই সর্বগ্রাস দেখতে... ছিহ্...

১১

টুটুল's picture


এইসব করে বিষয়টিকে হাস্যকর করে ফেলা হচ্ছে।

১২

পদ্মলোচন's picture


প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত জানতে চাইলে মনে হয় ভালো হয়। কারন এই ৩৮ বছরে অনেকেই মারা গেছেন । অনেকের নাম লিস্টে নেই। অনেকেই মনে করেন যুদ্ধ করেছেন দেশের জন্য নাম তালিকায় থাকলেও কি না থাকলেও কি? দিনের শেষে আপনি যা বললেন হয়ত সেইভাবেই খবর নিয়ে কিছু জানা যেতে পারে। তবে জাতির সেরা সন্তানদের নিয়ে রাজনীতি দেখে আমি ক্লান্ত/

১৩

মাহবুব সুমন's picture


ব্লগিং এ আমার আগ্রহ পাচ্ছি না, কমেন্টের উত্তর দিতেও তাই আগ্রহ পাই না। সবাইকে ধন্যবাদ পড়ার জন্য ও মন্তব্য করবার জন্য। ক্ষমা চাই সবাইকে আলাদা করে উত্তর দিতে না পারবার জন্য।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.