পার্থ'এর ব্লগ
টুকরো
আর কত টুকরো হলে তুমি খুশি হবে,
টুকরো হতে হতে তো বালির সমান হয়ে গেলাম।
তুমি কি চাও আরো টুকরো হই?
তবে তাই হোক।
বিভক্ত হতে হহতে একসময় গায়ে মাখা পাউডার এর সমান হব,
এর পর অনু-পরমানুতে বিভক্ত হয়ে যাব,
এরপর আমি বিলীন হয়ে যাব অসীম শক্তির মাঝে,
তখন তুমি চাইলেও আর আমাকে পাবে না।
আর কত নতজানু হলে তুমি খুশি হবে,
নতজানু হতে হতে আমি উপুড় হয়ে যাব।
তুমি কি চাও আরো নতজানু হই?
তবে তাই হোক।
নত হতে হতে একসময় আমি মাটির সাথে মিশে যাব,
পাতলা কাগজের টুকরোর মত পাতলা হয়ে শুয়ে থাকবো,
কাগজের টুকরোও আমাকে দেখে লজ্জা পাবে,
তখন আমার কোন মেরুদন্ড থাকবে না, আর আমাকে ধরলেই আমি ছিঁড়ে যাব।
তখন তোমার আর আমাকে পছন্দ হবে না।
আর কত তরল হলে তুমি আমার হবে?
তরল হতে হতে আমি উদ্বায়ী স্পিরিট এ রূপান্তরিত হলাম,
তুমি কি চাও আমি আরো তরল হই?
তবে তাই হোক,
তরল হতে হতে আমি বাষ্পে রূপান্তরিত হব,
অন্যরকম সংজ্ঞা
জীবনটা এখন খুব বিদ্ঘুটে ধরনের হয়ে গেছে। যেখানে জীবনের সকল সংজ্ঞা পালটে গেছে। যেমন, এখন ভালোবাসা বলতে বুঝি যৌবনের চাহিদাকে, ইচ্ছা বলতে বুঝি স্বার্থ উদ্ধারকে, বন্ধুত্ব বলতে স্বার্থ উদ্ধারের হাতিয়ারকে, সামাজিকতা বলতে বুঝি ফেইসবুক-টুইটারকে, জ্ঞান বলতে বুঝি অযৌক্তিক বাতুলতাকে, ধর্ম বলতে বুঝি বিবেককে দিক নির্দেশনা দিয়ে ইচ্ছাকে আটকে রাখার যন্ত্রাংশকে, খেলা বলতে বুঝি কতগুলো ব্যবসাকে, ব্যবসা বলতে বুঝি অসৎ চতুরতাকে, ধনী বলতে বুঝি ভয়ংকর স্বার্থপর কূটচরিত্র মানুষকে, দরিদ্র বলতে বুঝি কতগুলো
ক্ষোভ প্রকাশের উছিলা মাত্র
আমাদের আশা কতটুকু হলে, আমরা তা পূরণ করতে পারব। আমি কেন আমরা বলছি, আমি আমার নিজের আশার কাছ দিয়েও যেতে পারি না। কেন শুধু শুধু আমরা বলে ব্যাপারটাকে আরো ঘোলাটে করছি। কিছুক্ষন আগে একটা ছিনেমা দেখলাম, নামঃ Up in the air।
এই মুভিটা আমি ঘুরে ফিরে বারবার দেখি। এর কারন এই না যে, মুভিটা পুরষ্কার প্রাপ্ত, অথবা আমার দেখা সেরা ছবি। আমি দেখি এই কারণে যে, এই মুভিটা দেখার পরেয় নিজের মধ্যে একটা ভাললাগা তৈরী হয়, আবার তার থেকেও বেশি পরিমানে খারাপ লাগা তৈরী হয়। কি এক ভয়াবহ কনফ্লিক্ট এর মধ্যে দিয়ে আমাদের জীবনটা পার করছি। ভালো লাগে এই ভেবে, যে ছিনেমার নায়ক অনেক এলিট একটা জীবনযাপন করে, কিন্তু শেষে এসে সে নিজেকে নিঃসঙ্গ খুজে পায় এবং চারিদিকে সকল মানুষ বিভিন্ন দিকে তাদের গন্তব্যে যাচ্ছে, কিন্তু তার যাওয়ার কোন যায়গা নেই। আমার অন্তত কোন না কোন গন্তব্য আছে।
জাহাজীর মন খারাপ
বেশ খারাপ লাগছে। বেশ কিছুদিন ধরে এই রকম খারাপ প্রায়ই লাগছে।
ইতালির জ়েনোয়া বন্দরে আমাদের জাহাজটায় গত ১৮ ঘন্টা ধরে কাজ়
করছে। ছেড়ে যাওয়ার আর ৬ ঘন্টা আছে।
কেন খারাপ লাগছে। কারণ ইতালিতে কাল কিসের যেন একটা উতসব
আছে। জাহাজের সাইড রেলিং থেকে দূরের শহর দেখে বোঝা যাচ্ছে।
এমনকি বন্দর কর্তৃপক্ষও বলছে যে দ্রুত যেন কাজ শেষ করি, না হলে
কোন কারন ছাড়া আমাদেরকে ২ দিন বসে থাকতে হবে। তাতে বন্দর
ও জাহাজ ভাড়াটের অনেক ক্ষতি হবে। সবাই তাদের আনন্দের প্রস্তুতি
নিচ্ছে আর আমরা সেই আনন্দ থেকে দূরে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
গতবছর আমার নিজের দেশের বন্দর থেকেও ঈদের আগে একি ভাবে
বিদায় নিতে হয়েছে। আমরা কি মচ্ছব, যে সব আনন্দ থেকে বিদায়
নিতে হচ্ছে।
খুব বেশি পড়াশোনা করতে পারিনি, তাই প্রাইভেটে মেরিনারস ট্রেইনিং
এলেবেলে
অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করে কোনো কিছু লিখা হয়না। মানুষ কত কিছু লিখে, অথচ আমি কিছু লিখতে পারি না। এক প্রকার ইনফেরিওরিটি কমপ্লেক্স এ ভুগি। না জানি লিখা কেমন হয়। সবাই কত সুন্দর লিখে। আমার লিখা কি সেই রকম হবে? তারপরেও মাথায় কতকিছু ঘুরে, তাই আমি নিচের লিখাটি লিখলাম।
আমার এক ছোটভাই আমার উদ্দেশ্যে একটা গল্প লিখল। সেই গল্পটিতে দুইজন বন্ধুর কথা উল্লেখ করল। তারা দুইজন একটা দোকানে ঝাড়বাতি কিনতে গেল। তারা সেইখানে যেয়ে একটি বাতিও কিনতে পারলোনা। কারণ ঝাড়বাতিগুলো তাদের ঘরের সাথে মানানসই হচ্ছিলনা। গল্প শেষ হয়ে যায় ঝাড়বাতি না কেনার দুঃখ পর্য্ন্ত। এই রকম কত শত গল্প আমার মাথায় ঘুরতে থাকেয় কিন্তু কিছুই আমি লিখতে পারিনা। কারণ গল্প গুলোর শেষ রূপান্তর আমি কি দিব তাই বুঝতে পারিনা।