ইউজার লগইন

ক্ষোভ প্রকাশের উছিলা মাত্র

আমাদের আশা কতটুকু হলে, আমরা তা পূরণ করতে পারব। আমি কেন আমরা বলছি, আমি আমার নিজের আশার কাছ দিয়েও যেতে পারি না। কেন শুধু শুধু আমরা বলে ব্যাপারটাকে আরো ঘোলাটে করছি। কিছুক্ষন আগে একটা ছিনেমা দেখলাম, নামঃ Up in the air।

এই মুভিটা আমি ঘুরে ফিরে বারবার দেখি। এর কারন এই না যে, মুভিটা পুরষ্কার প্রাপ্ত, অথবা আমার দেখা সেরা ছবি। আমি দেখি এই কারণে যে, এই মুভিটা দেখার পরেয় নিজের মধ্যে একটা ভাললাগা তৈরী হয়, আবার তার থেকেও বেশি পরিমানে খারাপ লাগা তৈরী হয়। কি এক ভয়াবহ কনফ্লিক্ট এর মধ্যে দিয়ে আমাদের জীবনটা পার করছি। ভালো লাগে এই ভেবে, যে ছিনেমার নায়ক অনেক এলিট একটা জীবনযাপন করে, কিন্তু শেষে এসে সে নিজেকে নিঃসঙ্গ খুজে পায় এবং চারিদিকে সকল মানুষ বিভিন্ন দিকে তাদের গন্তব্যে যাচ্ছে, কিন্তু তার যাওয়ার কোন যায়গা নেই। আমার অন্তত কোন না কোন গন্তব্য আছে।

আবার খারাপ লাগে এই ভেবে যে, ওইখানে কেউ কেউ বছরে আয় করছে ৯০হাজার ডলার, আর নায়ক নিজেই নিজের আয়ের ডিজিট কত তাই জানে না। সেই জায়গায় আমি আয় করি বড়জোড় ২৫০০ ডলার (সবমিলিয়ে বছরে)। ওরা বাচে একজনকে নিয়ে আর আমি বাচি ৪/৫ জনকে নিয়ে। আমি ছিনেমার কাহিনী লিখতে বসি নাই, তাই আর বিস্তারিত লিখছিনা। আরো খারাপ লাগে, যখন এই চিন্তাটা আরো ঘনীভূত হয়। আমার নিজের আশে পাশেই অনেকে আছে, যারা আমার মত অকালকুষ্মান্ড আমজনতাকে ব্ল্যাকমেইল করে ৬ ডিজিট এর উপরে ডলার ইনকাম করে (মাসে না বছরে তা হিসাব করার সাধ্য নাই), আর নাগরিক সকল ছিআইপি (CIP) সুবিধা ভোগ করে। এখানে আমি সকল আয়কে ডলারে হিসাব করছি, কারন আমার চিন্তাও ডলারে হিসাব করছে, পরিমানের পার্থক্যটাকে হিসাবের সুবিধার জন্য। তাও ভাল (আমার মত অকালকুষ্মান্ড আমজনতার পক্ষে ভাল বলা ছাড়া আর কিছু করার নাই), সারাদিন কঠো পরিশ্রম করার পরে, ঘর্মাক্ত দূর্গন্ধ গায়ে এসে গোছল করে, মায়ের হাতে করা ভর্তা আর গরম ভাত মনটাকে একটু শান্ত করে। কিন্তু মনের ঝড় শেষে এইবার সারারাত ধরে মনের ক্ষত দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। কারণ ভাল বাজার করতে পারি না, বাজারের অশান্ত দ্রব্যমুল্য, সাথে আছে দুর্নীতি পরায়ন সেই ব্ল্যাকমেইলাররা যারা বাজার করে নিলামে তোলার মতো উর্ধগতির দাম দিয়ে। ওইখানে, আমার নিজেকে ঘুরে বেড়ানো তেলাপোকার মত লাগে। বিশ্বাস করবেন, সেই জন্য আমি বাজারে নিতান্ত ঠেকায় না পরলে যেতে চাইনা। মাকে বলি ফেরীওয়ালার কাছ থেকে কিনতে।

আরো খারাপ লাগতে থাকে যখন চিন্তা করতে শুরু করলাম, আমাকে সবসময় বাসে চড়তে হয় বাজেট সল্পতার কারণে। শরীর যত খারাপই লাগুক না কেন, ওই প্যাকেট করা বাসে নরকের জল্লাদের শাস্তি ভোগ করতেই হবে। তারপর জিদ আর চেপে যায়, যখন দেখি ঠিক পাশ দিয়ে মিতসুবিসি ল্যান্সার এর নতুন মডেল এর চকচকে গাড়িতে করে আমার বয়েসী অথবা তার থেকেও ছোট কেউ তার প্রেমিকার(?) ঘাড়ে হাত রেখে এসির আরামে আমাদের প্যাকেট বাস এর পাস দিয়ে ভোভো ইঞ্জিন এর আওয়াজ তুলে চলে যায়। যাক তাও চিন্তা করি, আল্লায় ওরেও কপাল দিছে, আমারেও কপাল দিছে, সব দোষ আল্লার।

কিন্তু এরপর আরো ২গুন মাথা গরম করে দেয়, যখন আশে পাশে ওয়াজ নসীহত চলে -আমার জানা/অজানা অপরাধের কি কি বিচার হবে। সামনে শীতকাল আসছে, সারারাত ধরে আমার মত অকালকুষ্মান্ড এর কাছ থেকে চাদা তুলে, আমারই পাপের উপর ওয়াজ-নসীহত করবে। সেখানে ওয়াজকারী আমার ঘুমহারাম করে নরকের কাছাকাছি কোথাও থেকে ঘুরিয়ে আনবে এবং আমাকে পরকালে অবস্যম্ভাবী ভাবে নরকালে পাঠাবে।

এর পরে আরো অনেক ধাপ আছে, যেখানে আমার মস্তিষ্কের প্রতিটি কোষ উত্তেজিত হয়ে যায়। সেইগুলো আমি ভবিষ্যতে আপনাদের বলে আমার মনের দুঃখ ঝাড়তেও পারি আবার নাও পারি। কিন্তু একটা জিনিস না বলে পারছিনা, আমার মস্তিষ্কের কোষগুলো এইবার মরতে শুরু করে, যখন দেখি সকল প্রকার মিডিয়াতে ভালোবাসা এবং যৌনতাকে কতগুলো প্রোডাক্ট আকারে বিক্রি করা হচ্ছে। এই সমাজের একজন হিসেবে নিজেকে জাহির করার জন্য, ওই প্রোডাক্ট গুলো আমাকেও কিনতে হবে বা দেখে মন্তব্য দিতে হবে। আমি এখনো কোন মেয়ের সাথে মিশি নাই (এই মেলা-মেশা মানে বর্তমান সময়ের মেলামেশা), তাই আমি অনেকটা বিদ্ঘুটে একটা প্রানী অনেকের কাছে। আমাকে অনেকেই অনেক যুক্তি দেখিয়েছে, সেই যুক্তিতে আমি হার মেনেছি। এবং এইটাও শিখেছি ( আপনাদের দোয়ায়) যে কাউকে প্ল্যাটোনিক ভালোবাসা দিতেও আমাকে বাজেট ঠিক করতে হবে এবং আমাকে ওই প্রোডাক্ট ব্যবহার এর জন্য আমাকে আধুনিক, পছন্দসই মনের ও শরীরের (outlook) অধিকারী হতে হবে। ভালোবাসা নামক প্রোডাক্ট কেনার এবং বিয়ে করার জন্য যে বাজেট আমি পেয়েছি, তাতে আমাকে মোটামুটি ভাবে আমার চারটা কিডনী বিক্রয় করতে হবে।

আপাতত এই টুকু লিখছি, কারণ আপনারাও ত্যাক্ত-বিরক্ত হয়েছেন এই ভেবে যে, এই গেয়ো ছেলেটা কোথা থেকে জুটল আর কি আজে বাজে সেন্টিমেন্টাল লেখা শুরু করল। আমাকে এই জন্য আপনাদের ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি শুধু এই কথা গুলো লিখলাম এই কারণে যে, আমার মনের কথাগুলো লিখে যদি আমার মতো আর একজনকেও পাই, তাহলে আমার অসফল জীবনে বেচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার একটা উসিলা খুজে পাব।

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

ফিরোজ শাহরিয়ার's picture


তবুও তো বেঁচে থাকতে হয়। লেখাটি ভালো লেগেছে।

পার্থ's picture


কোথাও পালাতে পারলে ভালো লাগত।

নরাধম's picture


SmileSmile

বার্ষিক ৬ ডিজিটের ইনকাম হলেও ঝামেলা আছে কিন্তু। কাহিনী বলি আপনাকে কিছুটা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে। উল্লেখ্য আমি এখন জব করছি কিন্তু আর বছরখানেক করেই পিএইচডি শুরু করব ইনশাআল্লা্হ, কারন আমি জীবনকে যেভাবে কাটাতে চাই সেখানে পিএইচডিটা গুরুত্বপূর্ণ। কাহিনী হচ্ছে আপনি ধরেন বার্ষিক ১ লাখ ডলার ইনকাম করেন, তার মানে মাসিক ৮ হাজার ডলারের একটু বেশি। এখান থেকে ফেডারেল, স্টেইট, সোস্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স কেটে রাখবে প্রায় ২০০০ মত। মানে আছে ৬০০০।

যদি অনেকদিন চাকরি করার নিয়ত করেন তাহলে বেনেফিট ফান্ডে কেটে নিবে ৫০০ ডলারের কাছাকাছি, মেডিক্যাল ইন্সুরেন্স, হেনতেন মিলে আরো ৫০০ ডলার। বাকি আছে ৫ হাজার ডলার। যদি আন্ডারগ্র‌্যাড বা গ্র‌্যাজুয়েটে লোন নিয়ে পড়েন, যেটা এখানকার ৯০% লোকই পড়ে, যদিও আমি না, তাহলে লোন ইনস্টলমেন্ট যাবে ১ হাজার ডলার মত, বাকি ৪ হাজার ডলার। যদি মর্টগেইজ থাকে তাহলে যাবে আরো ১০০০ ডলার (আর বাড়িভাড়া হলে ৬০০ ডলার) অটো ইন্সুরেন্স, গাড়ির গ্যাস, রিপেয়ার হেনতেন ৫০০ ডলার। বাকি আছে ৩ হাজার ডলারেরও কম, ভাল গাড়ি থাকলে গাড়ির কিস্তি ৫০০ ডলার কমপক্ষে। যদি কিছু সোস্যাল ওয়ার্ক করেন, গরীব ছাত্রদের জন্য টাকা পাঠান যাবে আরো ৫০০ ডলার। এখনও কিন্তু আপনি দেশে আত্মীয়-স্বজন যাদের দরকার তাদের জন্য টাকা পাঠাননি, নিজের খাওয়া-দাওয়া, কাপর-চোপড় এসব কিছুই করেননি!! হাতে আছে ২০০০ ডলার মাত্র।

আমি কিন্তু সিংগেলদের কথা বলছি, যারা বিয়ে করেছেন তাদের কথা ভাবেন। যত রাজকীয় হালতের কথা দেশে থেকে ভাবা হয় তত রাজকীয় হালত কিন্তু না, হেহে!!

তবে আপনার ফ্রাসট্রেশান আর অভিযোগের জায়গাটা ধরতে পারছি। ভাল থাকুন।

পার্থ's picture


Laughing out loud অনেক সান্তনা পেলাম ভাই, সাথে মজাও পেলাম।

তৌহিদ উল্লাহ শাকিল's picture


বেশ তো লিখতে থাকেন আমরা ও পড়তে থাকি । বেশ কিছু অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন। শব্দটা ছিনেমা হবে নাকি সিনেমা হবে, আবার গোছল হবে নাকি গোসল হবে । বানানের দিকে খেয়াল রাখবেন । শুভকামনা রইল ।

বিষাক্ত মানুষ's picture


নির্মম সত্য কথন। অভিযোগগুলো কমবেশি একই রকম।

জ্যোতি's picture


কোথাও পালাতে পারলে ভালো লাগত।মনটা পালানোর জন্য উৎসুক হয়ে আছে।

মাহবুব সুমন's picture


ভালো লাগলো

উচ্ছল's picture


পালাতে চাই, কিন্তু এক অদৃশ্য সুতায় বাধাঁ জীবন।। বৃত্তের বাইরে িকছু সময় থাকা যায় কিন্তু কিছু সময় পর আবার বৃত্তবন্দী। ভালো লেখা। ভালো থাকুন।

১০

নাহীদ Hossain's picture


Puzzled Sad

১১

প্রিয়'s picture


ভালো লাগলো।

১২

তানবীরা's picture


একদিন ঠিক পালিয়ে যাবো দেখো Puzzled

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.