ইউজার লগইন

মিলিনিয়াম দশকের ঢাকা-------- প্রবাসীনির চোখে (আপডেটেড)

২০০০ সালে নতুন দশকের সাথে সূচনা হয় নতুন সহস্রাবব্দের। সারা পৃথিবী জুড়ে এনিয়ে হৈ চৈ শুরু হয়। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। নিরানব্বই – দুই হাজারে বাংলাদেশের অনেক দোকান পাটের নাম হয় এই অনুসারে। ঢাকার নিউমার্কেটে চলে আসে “মিলিনিয়াম বিরানী হাউজ”। নামকরনের এই ব্যাপারটি বাংলাদেশে ইউনিক। চায়নীজ রেষ্টুরেন্টের নাম ‘ম্যাকডোনাল্ডস”, চুল কাটার দোকানের নাম “কাসাব্লাংকা হেয়ার কাটিং”, জিগাতলায় আছে “সুনামী রেষ্টুরেন্ট”। যেকোন জিনিস যেকারনেই আলোচিত তার দ্বারাই কিছু না কিছু দেশে নামাংকিত। বুশ আর সাদ্দামের যুদ্ধের কারনে সে সময়কার জন্মানো প্রচুর ছেলে শিশুর নাম “সাদ্দাম”। আর একটি জিনিস আমার বাংলাদেশের খুব মনে ধরে রাস্তার দুপাশে মনোরম সব বিলবোর্ড। এ জিনিসটি আমি খুব একটা বাইরে দেখিনি দক্ষিন এশিয়া বাদে। পশ্চিমে থাকে খুবই ছোট সাইজের সামান্য বিজ্ঞাপন, কিন্তু প্রকট রঙ ব্যবহার করে, পেল্লায় সাইজের এই বিলবোর্ড একান্তই দক্ষিন এশিয়ার গৌরব।

এই গৌরবজ্জল সহস্রাবব্দের সূচনা হয়েছে বাংলাদেশে খুবই কলঙ্কজনকভাবে। থার্টি ফার্ষ্ট নাইট উদযাপন করতে অনেক ছেলেদের পাশাপাশি কিছু মেয়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বের হয়েছিল। সেখানে “বাঁধন” নামে এক তরুনীকে প্রকাশ্যে লান্থিত করা হয়। যার কারনে তার ব্যক্তিগত জীবন প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়, তার সেই সময়ের বাগদত্তা তাদের বাগদান ভেঙ্গে দেন। ২০১০ সালে অপরাধ প্রমানিত না হওয়ায় সেইদিনের সব অপরাধীকে আদালত মুক্তি দেন। সমন জারী করা সত্বেও একদিনও বাঁধন আদালতে আসেননি, শুনানীতে কিংব সাক্ষ্য গ্রহনে অংশগ্রহন করেননি। পৃথিবী জুড়ে যে সহস্রাবব্ধের সূচনা হয়েছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে, সেখানে বাঁধন নিজের ওপর হয়ে যাওয়া অন্যায়টুকুর প্রতিবাদ করার সাহস পাননি নিজ দেশে।

এই দশকে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে তার ডাবল হ্যাট্রিক অর্জন করে বিশ্বজোড়া অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন থাকে। মধ্যবিত্তের জীবন ধারায় প্রভূত পরিবর্তন ও উন্নতি দেখা যায়। প্রায় বাড়িতেই রঙীন টিভি, ডীপ ফ্রিজ, এসির মতো ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী সাধারন ঘটনায় পরিনত হয়। প্রায় সবার হাতে হাতেই মোবাইল। সবচেয়ে আনন্দের ব্যাপার মোবাইল – টিভি এগুলো তখন মধ্যবিত্ত নয় নিম্নবিত্তের হাতে পৌঁছে গেছে। প্রায় প্রতি মধ্যবিত্ত ঘরেই কম্পিউটার বর্তমান। এবং আধুনিক জেনারেশন ব্যাপকভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারও করছেন। আগের মতো সিদ্ধ করে পানি ছেঁকে ঢালার পরিবর্তে বাড়িতে বাড়িতে ফিল্টার মেশিনের প্রচলন হয়। ঢাকায় বসুন্ধরা - শর্পাস ওয়ার্ল্ড এর মতো শপিং মল এসেছে মধ্যবিত্তের জীবনে। সারা গুলশান – ধানমন্ডি ভরে গেছে বাহারী ইংরেজী, বাংলা নামের আধুনিক ও অভিজাত রেষ্টুরেন্টে। বিশ্ববিখ্যাত ফার্ষ্ট ফুড চেইন কেন্টোকী ফ্রাইড চিকেন, পিজা হাট তাদের বাংলাদেশের প্রথম দোকান খুলেন গুলশানে। বুমারস এর মতো রেষ্টুরেন্ট ছাত্র ছাত্রীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। কিংস বেকারী ব্রাউন ব্রেড নিয়ে আসেন ঢাকার বাজারে। আগে মাছওয়ালা, মুরগীওয়ালা শুধু বিক্রি করেই চলে যেতেন। এখন তারাও বাড়তি সেবা প্রদানে মনোযোগী হয়েছেন। বিক্রির পর মাছ – মুরগী কেটে দিয়ে যান। সারা দেশ জুড়েই ফার্মের মুরগী খাওয়ার প্রচলন হয় দেশি মুরগীর পাশাপাশি।

এই দশকে আবারো জলপাই রঙধারীরা প্রায় দুবছর দেশ শাসন করেন। বিদ্যুৎ সমস্যা প্রকট আকার ধারন করে এই দশকে। বিদ্যুৎ সমস্যা, পানির সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, অসহ্য যানজট নিয়ে চলেছে এই দশকের মধ্যবিত্তের জীবন। বিদ্যুৎ সমস্যার আপাত সমাধান বের করেন মধ্যবিত্তরা আইপিএসের মাধ্যমে। শনির আখড়ায় ২০০৬ সালে অতিষ্ঠ এলাকাবাসি তাদের জনপ্রতিনিধিকে ধাওয়া করেন এক পর্যায়ে। বাংলা ভাই নামের এক সন্ত্রাসীর উত্থান ঘটে এবং হাজার নাটকের মাধ্যমে তাকে সরকার গ্রেফতার দেখিয়ে এই নাটকের আই ওয়াশ সমাপ্তি ঘটান। একযোগে ৬৩টি জেলায় বোমা বিস্ফোরনের ঘটনাও এদশকেই ঘটে। ২১শে আগষ্ট ২০০৪ সালে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ২০১০ সাল পর্যন্ত এই ঘটনার তদন্ত কাজ চলছিল। তবে এই দশকে বংগবন্ধু হত্যা মামলার আসামীদের সাজা হয় আর জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়। রমনা বটমূলে নতুন বছরের প্রথম প্রহরে সন্ত্রাসীরা বোমা হামলা করে। বোমা বিস্ফোরন, বিল্ডিং ধ্বসে মৃত্যু, অগ্নিকান্ডে মৃত্যু, হত্যা সর্বোপরি অপমৃত্যুর হার এই দশকে সর্বকালের রেকর্ড ছাড়ায়। যারই অপমৃত্যু হোক না কেনো, যেকোন কারনে তার সুবিচার পাওয়া বাংলাদেশে অসম্ভব এটাও এই দশকেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।

আনিসুল হকের লেখা আর মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী এর পরিচালনায় ব্যাচেলর নামক ছবিটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয় মধ্যবিত্ত দর্শকদের কাছে। ব্যাচেলর সিনেমার ভাষারীতির দ্বারা তরুন সমাজ ব্যাপক প্রভাবিত হন। প্রমিত ভাষার পরিবর্তে উঠতি লেখকরাও ফারুকী ভাষা ব্যবহারে উৎসাহী হয়ে ওঠেন। নগর জীবনে, স্কুল কলেজে, নাটকে, সিনেমায় এই ভাষাটির প্রচলন শুরু হয়। সুশীল সমাজে এই নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত মধ্যবিত্তের জীবনের কোথাও এই ভাষারীতিটি রয়ে যায়। তিশা, শ্রাবন্তী, তিন্নি, প্রভা, অপূর্ব, শাহেদ, হাসান মাসুদ, অপি করিম এরা এসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা অভিনেত্রী। আনিসুল হকের লেখা ধারাবাহিক ৬৯, ৫১, দৈনিক তোলপাড় মধ্যবিত্তের কাছে ব্যাপক প্রশংসা পায়। সেই সময় নাটকেরও গ্রুপ তৈরী হয়। হুমায়ূন আহমদের গ্রুপ, সালাহউদ্দিন লাভলু গ্রুপ, আনিসুল হক গ্রুপ ইত্যাদি। প্রত্যেক গ্রুপের কিছু ফিক্সড অভিনেতা অভিনেত্রী ছিলেন। হুমায়ূন আহমেদ মানেই শাওন, সালাহউদ্দিন লাভলু মানেই তানিয়া আর ফারুকী মানেই তিশা। এ সময়ের আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিক ছিল ৪২০, লাবন্যপ্রভা, রঙের মানুষ।

লেখালেখির জন্য ব্লগ মাধ্যমটিও ঢাকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সামহোয়ারইন নামক বাংলা ব্লগটি প্রথম বাংলা ভাষাভাষীদের প্রতিষ্ঠিত ব্লগ। অনেক প্রতিষ্ঠিত লেখক সাংবাদিক প্রিন্ট মিডিয়ার পাশাপাশি অন্তর্জালেও লেখালেখি শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক, হাই ফাইভ, অর্কুট, টুইটার, গুগল বাজ এগুলোর বিশদ ব্যবহার ঢাকাবাসী শুরু করেন। মোবাইলের মাধ্যমে অন্তর্জাল ব্যবহার করাও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এসময়। মিলা, তিশমা, আনুশেহ, শাহরিয়ার জয়, অর্নব, বাপ্পা, পার্থ, হাবিব, বালাম, তপু, তাহসান এরা সেসময়ের জনপ্রিয় গায়ক গায়িকা। দেশি কাপড় ব্যবহার করে দেশে তৈরী পোশাক তখন তারকাদের কাছেও বেশ জনপ্রিয়। ফ্যাশন হাউজ রঙ, ড্রেসিড্যাল, ইনফিনিটি, স্মার্টেক্স, বাংলার মেলা, মায়াসীর, দর্জি, মান্ত্রা এরা নিজেদের ডিজাইনের স্বাতন্ত্র্যের কারনে মধ্যবিত্তের মন কাড়েন। মধ্যবিত্তকে ভারত থেকে বাংলাদেশমুখী করে তুলেন এই ফ্যাশন হাউজগুলো। অনে্কে বিয়ের উৎসবের জন্যেও দেশি ফ্যাশন হাউজের ওপর নির্ভর করতে লাগলেন। পাটিয়ালা সালোয়ার নামক অনেক কুচি দেয়া পাঞ্জাবী সালোয়ার ২০০৪ – ২০০৫ এর দিকে খুব জনপ্রিয় ছিল। আবার সেই সময় ওপরে কলার তোলা বান্টি বাবলী কামিজের ডিজাইনও হট কেক ছিল। যদিও বিভিন্ন সময় ভীর জারা থ্রীপিস, লাক্ষৌ চিকেনের কাজ করা থ্রীপিস, চুন্দরী থ্রীপিস, কটকী থ্রীপিস ঘুরে ঘুরে ফ্যাশনে ছিলো। এ সময়ে কিশোরী তরুনীদের কাছে জীন্স ফতুয়া বেশ জনপ্রিয় ছিল। আধুনিক ছেলেরা অলঙ্কার পরা শুরু করেন এ দশকে। হাতে নানা ধরনের ব্রেসলেট, গলায় মালা সহ অনেককেই দেখা যেতো। অনেক ছেলেই রঙীন পাঞ্জাবী ও ফতুয়া পরতেন।

গয়নায়ও আসে যুগান্তকারী পরিবর্তন। হাল ফ্যাশনের গয়নার পরিবর্তে আগের দিনের ভারী ভারী সেকেলে গয়নার ডিজাইন বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। রুপোর গয়নায় সোনার জল দিয়ে তাতে নানা রঙের ম্যাচিং পাথর বসিয়ে মেয়েরা পরতে লাগলো। সোনার বদলে রুপো হয়ে ওঠলো মধ্যবিত্তের অলংকার। বিয়ের সাজেও আগের মতো প্রচুর ফেস পেন্টিং বাদ গেলো। হাত ভর্তি করে কনুই পর্যন্ত মেহেদী দেয়া হতো বিয়ের কণেদের। অনেকে পায়েও দিতেন। কনেরা লালের পাশাপাশি অন্য রঙের কাপড়ের ব্যবহার শুরু করলেন বিয়েতে। অনেক সময়ই দেখা যেতো বর কনে রঙের সামঞ্জস্য করেই কাপড় পরেছেন। বরদের শেরোয়ানী, পাগড়ী প্রভৃতিতে মুম্বাইয়ের লেটেষ্ট মডেলের ছাপ দেখা যেতো। বিয়েতে আলাদা আলাদা কোনে ছেলে মেয়েকে আলাদা করে বসানোর পরিবর্তে, বরকনেকে পাশাপাশি চেয়ারে বসানোর রেওয়াজ শুরু হলো। গায়ে হলুদে গান নাচের প্রচলন হয় ব্যাপক ভাবে। মধ্যবিত্ত মেয়েরা প্রচন্ড ত্বক, রুপ সচেতন হয়ে ওঠে সে সময়। প্রায় প্রতি পাড়ায় মোড়ে বিউটি পার্লার দেখা যেতো এসময়টায়। অনেক মধ্যবিত্ত মেয়েরা নিজেরাও এ ব্যবসার প্রশিক্ষন নিয়ে বিউটি পার্লার চালাতে উদ্যেগী হন, তাতে করে বিউটি পার্লার মানেই চায়নীজ কিংবা হংকং এ ধারনাটা পালটে যায়। ক্লান্তিময় নগরজীবন থেকে অব্যহতি পেতে অনেকেই ঈদের ছুটি ছাটায় সেন্টমার্টিন, কুয়াকাটা কিংবা সুন্দরবনে বেড়াতে যেতেন।

মোবাইলের ব্যবহারের কারনে কিংবা অন্তর্জালের সহজ লভ্যতার জন্যেই হোক আশঙ্কাজনকভাবে পরকীয়া প্রবনতা বৃদ্ধি পায়। এজন্য অনেকে সন্তানের জীবন নিতেও পিছপা হননি। সাহসী কিছু ছেলে মেয়ে এসময় লিভ টুগেদার করতেন। ইভ টিজিং এর ঘটনায় মেয়েদের আত্মহত্যার হার যেকোন দেশের যেকোন কালের রেকর্ড ছাড়ায়। কিন্তু সবচেয়ে আর্শ্চয্যের ব্যাপার হলো এনিয়ে সুশীল সমাজ বিশেষ করে মহিলা মহল একে বারেই চুপচাপ ছিলেন। তাদেরকে কোন ধরনের মানব বন্ধন, প্রতিবাদ সভা, নিদেন পক্ষে পত্রিকায় দু একটা কলাম লিখতেও দেখা যায়নি।

২০১০ সালের ১৩ই নভেম্বর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টে পূর্ববর্তী সরকার থেকে পাওয়া ১৬৮ কাঠা আয়তনের সুরম্য প্রাসাদ থেকে সেনাবাহিনী বের করে দেন। জননেত্রী কেনো সেনাবাসে থাকবেন এবং প্রচন্ড ধনী হওয়া সত্বেও কেনো তিনি সরকারী সম্পদ এখনো ভোগ দখল করবেন এই ছিল তখনকার সবার যুক্তি। ২৯শে নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ে তিনি আইনি লড়াইয়েও হেরে যান এবং বাড়িটির দাবী তাকে আপাতত ছাড়তে হয়।

তানবীরা
৩০।১০।২০১০

পোস্টটি ১১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নুশেরা's picture


এই দশকে বছর দুয়েক ঢাকায় ছিলাম, অবাক হয়ে ভাবছি তেমন কিছু্ই খেয়াল করা হয়নি!

৭০, ৮০,৯০ এর চেয়ে জীবনযাপনে অস্থিরতা, জটিলতা অনেক গুণে বেড়েছে- এটা বুঝতে সমস্যা হয় না।

বাঁধন-অ্যাসল্ট ঘটনায় জড়িত একজন সিভিল সার্ভিসে জয়েন করেছে, চাকরির যে কোটায়, সেটার নাম বললাম না Sad

শেষের প্রসঙ্গে লেখালেখি হয়ে আসছে, হয়েছে। নারী বিষয়ক পাতায়। মাঝেমধ্যে উপসম্পাদকীয়ও হয়েছে। সম্পাদকীয় অথবা প্রথম পাতার বিশেষ প্রতিবেদন পর্যায়ে উঠে আসার জন্য শিক্ষক মিজান অথবা জননী চাঁপারাণীর প্রাণহরণ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে এই যা।

অনেক পরিশ্রমের কাজ করেছো তানবীরা। সাধুবাদ।

তানবীরা's picture


তুমি কিছু খেয়াল করো নাই এটা আমার জন্য একটা নিদারুন দুসংবাদ। আমি ভাবলাম শেষ পর্বটা তোমার তথ্য দিয়েই শেষ করবো।

দারুন কাজ করেছি কি না জানি না, কিন্তু নিজের জীবনটা কোথাও ধরে রাখতে ইচ্ছে করছিলো, সেই ইচ্ছে থেকেই এ প্রয়াস।

তোমার লেখা কোথায়?

নাজমুল হুদা's picture


"তুমি কেমন করে গান কর হে গুণী,
আমি অবাক হয়ে শুনি, শুধু শুনি ----"
(স্মৃতিশক্তি দূর্বল তো, ভুল মার্জনীয়)

তানবীরা's picture


ধন্যবাদ

ঈশান মাহমুদ's picture


তানবীরা, আপনি প্রবাসে থাকলেও আপনার মনপ্রাণ যে দেশে পড়েছিল,এই ধারাবাহিক লেখাগুলো তার প্রমাণ। আমরা দেশে থাকলেও এতো নিবিড় ভাবে দেশেকে দেখিনি। আপনার মতো এতো গভীর বিশ্লেষনী দৃষ্টিও নেই। অত্যন্ত শ্রমসাধ্য একটি কাজ করেছেন। আপনাকে অভিনন্দন।

তানবীরা's picture


শারীরিক ভাবে প্রবাসে থাকলেও মানসিক ভাবে দেশেই থাকি সারাবেলা সারাক্ষন

অরিত্র's picture


অনেক বিষয় এক সাথে তুলে আনা আসলেই দুৰসাধ্য বিষয়।
ধন্যবাদ তানবীরা

তানবীরা's picture


আপনাকেও ধন্যবাদ অরিত্র

মাহবুব সুমন's picture


দারুন পর্যবেক্ষন ক্ষমতা।

বাঁধন কোন সাহসে কথা বলবে যেখানে তার পাশে দাঁড়ানোর মতো কাউকে পাবে না বা পায়নি। এ সমাজে সাহসী মেয়েদের " খারাপ মেয়ে " বলে।
বাঁধনের সেই ঘটনায় যুক্ত এক নন্দ দুলাল মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোটায় চাকুরি পেয়েছে।

১০

মাহবুব সুমন's picture


মধ্যবিত্তের আর্থিক উন্নতি কিন্তু তেমন একটা ঘটেনি, সময়ের সাথে জীবনযাত্রার পরিবর্তন আসলেও আর্থিক দিক থেকে বেশিরভাগ মানুষ কিন্তু সেই একই রয়ে গিয়েছে।

তবে এ দশকে মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চ মধ্যবিত্তে রুপান্তরিত হয়েছে অনেক মানুষ কালো টাকার মাধ্যমে

১১

তানবীরা's picture


সুমন ভাই, আপনার দুটো কথাই নিদারুন সত্য। সহমত বলা ছাড়া আর কিছুই বলার নাই

১২

মাইনুল এইচ সিরাজী's picture


ধনী-গরিবের ব্যবধান বেড়েছে ঢাকায় এবং সারাদেশে। গরিবের ঢাকা- সে এক অন্যচিত্র।
ধন্যবাদ তানবীরা।

১৩

তানবীরা's picture


সেটা ঠিক মাইনুল ভাই। তাই মধ্যবিত্ত অংশটা নিয়েই লিখলাম

১৪

রশীদা আফরোজ's picture


ব্যাচেলর-ই তাহলে ভাষার সর্বনাশ করেছে, আমি তো জানতাম ৫১বর্তী।
প্যাকেট মসলা, হালিম ইত্যাদি মধ্যবিত্তদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়।
আবৃত্তির কথা বললে না ?

১৫

তানবীরা's picture


আবৃত্তির কোন কথাটা? ধরতে পারি নি। বিস্তারিত জানার অপেক্ষায় রইলাম

১৬

রশীদা আফরোজ's picture


চলচ্চিত্র, গান, নাটক নিয়ে বলা হলো কিন্ত আবৃত্তি, নৃত্যের কথা বলা হলো না।

১৭

তানবীরা's picture


ঠিক, তুই একটু বিস্তারিত লিখে দে, আমি যোগ করে দিবো পোষ্টে।

১৮

অতিথি(সাজ্জাদ)'s picture


তানবীরাপু, ছেলেদের পোশাকের কথা তো লিখলেন না।
ধন্যবাদ।

১৯

তানবীরা's picture


ছোটভাই ওয়েলকু। ছেলেদের দিকেতো আমি তাকাই না, তাই তাদের কাপড় চোপড় সম্বন্ধে আমি জানি না। আপনি একটু বলে দেন, আমি সেটা যোগ করে দিবো।

আর শুধু কমেন্ট না, মাঝে মাঝে লেখাও চাই।

২০

শওকত মাসুম's picture


এই পর্ব একটু গবেষণা প্রতিবেদন টাইপ মনে হচ্ছে।দূর থেকে দেখছেন বলে?

২১

তানবীরা's picture


সেটা পাঠকরা বলতে পারে মাসুম ভাই। লেখার মূল্যায়ন করবে পাঠক।

২২

সাহাদাত উদরাজী's picture


আপনার দেখার মন আছে।

২৩

তানবীরা's picture


মন দিয়ে দেখে নাকি? চোখ দিয়ে কি করে তাহলে? At Wits End

২৪

জ্যোতি's picture


বরাবরের মতাই ব্যাপক ভালো লাগলো। এই পোষ্টগুলা অসাধারণ । আপনার স্মৃতিশক্তি আমারে এক্টু ধার দিয়েন তো তাতাপু।

২৫

তানবীরা's picture


Big smile Glasses

২৬

মীর's picture


এই পর্ব একটু গবেষণা প্রতিবেদন টাইপ মনে হচ্ছে। দূর থেকে দেখছেন বলে?

২৭

তানবীরা's picture


Cool

২৮

সাঈদ's picture


গবেষণা কর্ম ভালা হইছে কিন্তু এত দ্রুত লিখে গেছেন কেন ????

২৯

তানবীরা's picture


যাতে লেখাটা হয়, আস্তে ধীরে লিখবো বলে রেখে দিলে আর লেখাটাই হবে না

৩০

জুলিয়ান সিদ্দিকী's picture


এক্সপ্রেস ট্রেনের মত না ছুটলে লেখাটা অনেক বড় হতো। সেই সঙ্গে আরো অনেক কিছু যুক্ত হতে পারতো। কিন্তু লেখিকার সময় নিয়ে কথা। তবুও অনেক কিছু উঠে এসেছে। এসময়টাতেই বাংলাদেশের শহরাঞ্চলের মেয়ে-বউদের বেশিরভাগই ভারতীয় বিভিন্ন সিরিয়ালের ভক্ত হয়ে ওঠে।

পড়তে পড়তে ভাবছিলাম পরকীয়া নিয়ে কিছু বলা হলো না! কিন্তু দেখি তাও বাদ পড়েনি।

যাই হোক, ভাবনায় আন্তরিকতায় বিবেচনায় এবং আলস্য(সহস্রাবব্দের) মিলিয়ে বেশ ভালো একটা লেখা হলো।

৩১

তানবীরা's picture


আপনার আন্তরিক মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি

৩২

শাওন৩৫০৪'s picture


শেষের প্যারার পরকীয়ার চাইতেও ভয়ানক জিনিষ, ব্যাক্তিগত অন্তরঙ্গ ভিডিওর ব্যাপক প্রচার শুরু হয় ইন্টারনেটে।
মূলত ভারত থেকে এই কালচারটা ঢুকে, এমএমএস ক্লিপস নামে ব্যাপক সাড়া এখনো।
আর, এই পর্বে, ছোটো ডিটেইলসের বদলে, সামগ্রিক চিত্র নিয়া আসছেন কাকী, এডা আগের পর্ব গুলার স্টাইলে হয়নাই।
কিছুটা পত্রিকা রিপোর্টের মত হৈছে, কিন্তু ভালো হৈছে।

৩৩

তানবীরা's picture


শাওন, আগের পর্বের মতো হওয়া এটার পক্ষে সম্ভব না, তাই শিরোনামটাই পালটে দিয়েছি।

ধন্যবাদ

৩৪

গৌতম's picture


লেখা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় নাই। এই ব্লগের কারণেই যে আপনার সাথে আমার পরিচয় হ্‌ইসে সেইটা না লিখলে লেখা সম্পূর্ণ হয় ক্যাম্নে?

৩৫

তানবীরা's picture


এই ঐতিহাসিক সত্যটা আমি ভুল্লাম কেম্নে, বলোতো? Tongue

৩৬

তায়েফ আহমাদ's picture


একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম। আগের পর্বগুলোর চাইতে এই পর্ব অনেক গতিময়। অন্যভাবে বলতে গেলে দশক দশকে যত লেখা এগিয়েছে, ততই লেখার গতি বেড়েছে-অনেকটা আমাদের গ্রবর্ধমান গতিময় জীবনের সমার্থক।
তবে, প্রতিটি লেখায় অনেক অনেক কিছু রোমন্থন হলো-জানা হল। এ সবই ভাল খবর।
খারাপ খবর হল, এর পরের পর্বের জন্য আমাদেরকে কমপক্ষে দশ বছর অপেক্ষা করে থাকতে হবে! ততদিন সময় কী পাবো!

৩৭

তানবীরা's picture


এর পরের পর্বের জন্য আমাদেরকে কমপক্ষে দশ বছর অপেক্ষা করে থাকতে হবে! ততদিন সময় কী পাবো!

এই লাইনটি কিন্তু ভাবিনি তায়েফ। আমি অতি আবেগ প্রবন মানুষ, কথায় কথায় কাঁদি। আপনার কথায় চোখ ভিজলো, মন ভিজলো।

এখন বিভিন্ন কারনে আর আগের মতো দেশে গিয়ে ছুটি কাটাতে পারি না। সময়টাও এতো ব্যস্ত যায় যে হেটে হেটে আগের মতো ঢাকা দেখাও আমার আর সম্ভব হয় না। আগে এমন ছিলো যে আমার ঢাকা আমি কারো কাছে রেখে গেছি, পরে গিয়ে আমি খুঁজে খুঁজে দেখেছি কেমন ছিলো আমার ঢাকা। দীর্ঘদিনের প্রবাসী জীবনের কারনে অনেক কিছুতে বিরক্তও হই দ্রুত।

এরপরের কোন পর্ব লেখা হলেও সেটা হয়তো খবরের কাগুজে রিপোর্টিং টাইপ হবে। সেটার কি দরকার আছে?

ভালো থাকবেন।

৩৮

তায়েফ আহমাদ's picture


আমি নির্দিষ্ট করে কিছু ভেবে কথাটা বলি নি-এমনিতেই মনে হয়েছিল-বলে দিয়েছি। ভিজিয়ে দেবার ইচ্ছে ছিল না। Shock
দশ বছর পরেরটা খবরের কাগুজে রিপোর্টিং টাইপ হবে।কীনা কিংবা সেটার কি দরকার আছে কীনা - সেটি আমরা কেউই বলতে পারি না। যেমন- এই সিরিজের কথাও বলতে পারতাম না!
সময়ই ঠিক করে দেব।
তখন হয়তো তায়েফ-তানবীরা থাকবে না!

৩৯

টুটুল's picture


এরপর প্রতি বছরের মূল্যায়ন লিখেন

এই ধরেন... আজ পহেলা নভেম্বর ... আপনার এই প্রিয় ব্লগটার ১ বছর পূর্তি... অনেক কাছ থেকে ব্লগটাকে দেখছেন আপনি.... তার একটা ব্যবচ্ছেদ হোক

৪০

তানবীরা's picture


ইয়ে মানে, লিখলে টাকা পয়সা কিছু দিবেন না Wink Wink

৪১

টুটুল's picture


ব্লগারদের পক্ষ থেকে এডভান্স দিলাম

১০০০ টাকা

৪২

তায়েফ আহমাদ's picture


কমেন্টে লাইক অপশনটা যোগ করা উচিৎ........ Big smile

৪৩

রাসেল আশরাফ's picture


অহনারে খুইজাঁ আনেন।এই নেন ঘুষ দিলাম।

images_0.jpg

৪৪

মামুন হক's picture


জীবনে এই প্রথম এক হাজার টাকার নোট দেখলাম। আমার জানাই ছিল না যে আমাদের এত্ত বড় নোট আছে! স্মৃতিচারণ জমজমাট হয়েছে তাতাপা Smile

৪৫

তানবীরা's picture


আমার ব্লগীয় জীবনে পাওয়া প্রথম সম্মানী। হোক ডিজিটাল। আমি প্রিন্ট করে ইহাকে বাধাই করিয়া রাখিব Big smile

৪৬

আশফাকুর র's picture


টাকার জাল ই-ভার্সন বের করার জন্য টুটুল ভাইয়ের বিচার চাই।

৪৭

মীর's picture


পহেলা নভেম্বর যে প্রিয় ব্লগটার বর্ষপূর্তি সেইটা কেউ জানাইলো না। Sad

৪৮

নাজমুল হুদা's picture


রসময় মন্তব্যে দু:খের মাঝেও হাসলাম ।

৪৯

তানবীরা's picture


এটাই আমাদের জাতীয় চরিত্র। সব ভুলে যাই আবার হাসি Laughing out loud

৫০

নড়বড়ে's picture


অনেক দেরিতে পড়লাম। নানানরকম দৌড়ের উপরে আছি, এর মাঝে এসে দেখি আপনেও দৌড়াতে দৌড়াতে লিখছেন, অনেক ফাস্ট এই পর্বটা। এই দশকটা একদম সদ্য, আমার মনে হয় বছর দশেক পরে আরও ভালভাবে মূল্যায়ন করা যাবে মিলেনিয়াম দশককে। ঝট করে বলতে গেলে বলব এই দশকের উল্লেখযোগ্য অবদান দেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে জোয়ার, অনেক নতুন শিল্পী, নতুন কম্পোজার, ভাল খারাপ নতুন সব গান ... হিন্দির একতরফা বাজার থেকে মুক্তি।

পুরা সিরিজ প্রিয়তে উঠায় রাখলাম। Smile

৫১

তানবীরা's picture


দৌড়ানি থামিয়ে কষ্ট করে একটু লিখে দেন, আমি আপনার কৃতজ্ঞতা সহকারে যোগ করে রাখি।

পড়ার জন্য ধন্যবাদ

৫২

বোহেমিয়ান's picture


এই সিরিজটা নিয়ে একটা ভবিষ্যৎ বাণী করি!! (আমার বিশ্লেষণ ক্ষমতা ব্যাপক সো! ভরসা রাখতে পারেন!)
এই সিরিজ ভবিষ্যতের পুলাপান পড়বে আর লিঙ্কাবে! আসলে আগের দিন কেমন ছিলো! (গুগল রিডারে বসেই সব পড়ছি! আপনার পার্সোনাল ব্লগ থেকে.।)
তাই, আপু, সময় সুযোগ পেলেই আপডেট দিয়েন!

তায়েফ ভাই আর আপনার মন্তব্যটা পড়ে একটু থমকে দাঁড়ালাম Sad রিসেন্টলি এক ক্লাসমেটকে হারাইছি Sad
সামনে কি আছে, কে বলতে পারে!

৫৩

তানবীরা's picture


হাহাহাহাহাহা, লজ্জা পেলাম বাপ্পী। আমার ব্লগবাড়ি সাজিয়ে দিবা কবে?

৫৪

বোহেমিয়ান's picture


নো চিন্তা! খুব শিঘ্রি!

৫৫

নরাধম's picture


এই সিরিজটার সবগুলা পর্বই পড়েছি, ডকুমেন্টারী (নাকি মকুমেন্টারী) করার মত সারবস্তু।
ব্যাপক পর্যবেক্ষণ আপু।

৫৬

তানবীরা's picture


পড়েছেন জেনে খুবই আনন্দিত হলাম

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

তানবীরা's picture

নিজের সম্পর্কে

It is not the cloth I’m wearing …………it is the style I’m carrying

http://ratjagapakhi.blogspot.com/