ইউজার লগইন

জীবন যেখানে যেমন (শেষ পর্ব)

ঘুমের মধ্যেও যেনো আজকাল গানের শব্দ পায় রেনু, ঘুমোলেও আজকাল নাচের মাষ্টারমশায়কে স্বপ্নে দেখে সে। মাস্টারমশায় যেনো এক দুই তিন বলে নাচের প্র্যাকটিস করাচ্ছেন সব বাচ্চাদেরকে একসাথে, আর তারা সবাই ভীত মন নিয়ে প্র্যাকটিস করে যাচ্ছে। একটু ভুল হলেই গালাগালির সাথে আছে মার আর তার চেয়েও বড় ভয় হলো কাজ থেকে বের করে দেয়া। আর কাজ না থাকলে তারা খাবে কি? এমনিতেই তার স্বাস্থ্য খারাপ দেখে কাজ দিতে চায় না তাকে বেশী কেউ। সিনেমায়তো আর তার মতো রোগা পটকা চেহারার বাচ্চার তেমন দরকার হয় না, দরকার থাকে সুন্দর সুন্দর গোলগাল চেহারার বাচ্চাদের। কিন্তু নাদুস নুদুস চেহারা কোথায় পাবে রেনু? বন্যায় গ্রামে সব ভেসে যাওয়ার পর মা-ভাইয়ের হাত ধরে শহরের এই বস্তিতে এসে উঠেছে তাদের পুরো পরিবার। সবাই কাজ খুজেছে পাগলের মতো। একদিন বস্তির একজনের কাছেই জানতে পারল সিনেমার শুটিং এর জন্য বাচ্চা ভাড়া নেয়া হয়, সিনেমায় নাচের জন্য, দাড়িয়ে থাকার জন্য, একসাথে অনেক বাচ্চার প্রয়োজন হয় আর যারা এফ। ডি। সি এর গেটে আগে থেকে দাড়িয়ে থেকে প্রোডাকশনের লোককে কমিশন দেয় তারা কাজ পায়, যেতে পারে ভিতরে। তো একদিন সেই হদিসমতো রেনুর মাও সাত / আট বছর বয়সী রেনুর হাত ধরে এসে দাড়ালেন এফ।ডি।সির গেটে। প্রথমদিকে কদিন দাড়িয়ে থেকেও কোন কাজ পায়নি রেনু, লোকজনের ডাকাডাকি আর ধাক্কাধাক্কির ফাকে কোথায় উড়ে যেতো রেনু আর তার মা। এখন আস্তে আস্তে রেনুও লোক চিনে গেছে তাই মোটামুটি রেনুও কাজ পায়। সুন্দর জামাকাপড় পরে নাচ করা বাচ্চাদের সিনেমার পর্দায় দেখলে কারো রেনুদের কাঠফাটা রোদে আর গরমে সারাক্ষন দাড়িয়ে থাকার, প্র্যাকটিসের কষ্টের কথা কল্পনাও হয়তো করতে পারবে না। কিন্তু এখানের কাজে কমিশন দিয়েও ভালো পয়সা হাতে থাকে তাছাড়া রেনু যখন জুনিয়র থেকে সিনিয়র হবে তখন আরো অনেক বেশী পয়সা পাবে সেদিকটাও ভাবে। আর এখানে কাজের সুবাদে অনেক বড় বড় নায়ক নায়িকাকেও কাছ থেকে দেখতে পাচ্ছে সেটাও কি কম কথা, যাদেরকে একজনর দেখার জন্য গেটের বাইরে হরহামেশা ভীড় লেগেই থাকে। বড় বড় গাড়ি হাকিয়ে অনেক বড় বড় লোক আসেন ষ্টুডিওতে, অনেক সময় তাদের সাথে থাকে ফুটফুটে সব বাচ্চা। সেসব গোলগাল ফুটফুটে বাচ্চারাই সিনেমার মেইন রোল পায়। রেনুরও বড্ড ইচ্ছে করে ঐসব গোল গোল সাহেব বাচ্চাদের মতো ফটফটিয়ে ইংরেজীতে কথা বলতে, বাবা-মায়ের কাছে নানারকম বায়না করতে, সিনেমার মেইন রোল করতে। কিন্তু কি করে হবে সব, তারাতো পড়াশোনা জানে, রেনু জানে না। কিন্তু পড়াশোনা করতে রেনুরও বড় সাধ মনে, হবে কি সেই সাধ পূর্ণ কখনও? সারাদিন রেনুর এই কোলাহলেই কেটে যায়, তবে ওদের মধ্যে যাদের চেহারা ভালো তারা অনেক সময় দু বেলাই কাজ পায় সেদিক থেকে রেনুর কপাল মন্দ বললেই হয়, দুবেলা কাজ খুব কমই পায় সে। কিন্তু তাই বলে সন্ধ্যে নামলেই রেনুর ছুটি হলো এ কথা ভাবার কোন কারণ নেই, বাড়ি ফিরে মাকে ঘরের সমস্ত কাজে সাহায্য করে, সব গুছিয়ে সেই রাতের বেলায় তার ছুটি হয়।

জরিনা, জরিনা চা নিয়ে আয়তো দু-কাপ। নার্সদের চিৎকার করে ডাকার বিরাম নেই আট / নয় বছরের জরিনাকে। জরিনা এ ক্লিনিকের সব ডাক্তার-নার্সদের ফুট ফরমাশ খাটে আর মায়ের সাথে সাথে ক্লিনিকের সাফ-সাফাই করে। মাঝে মাঝে রুগীদেরও ফরমাস খেটে দেয় সে আর তার বিনিময়ে পায় বখসীস। মায়ের আলাদা বখসীস আর তার আলাদা। জরিনার মা এ ক্লিনিকের আয়া। কাজে আসার সময় জরিনার মা জরিনাকে কোথায় রেখে আসবেন? তাই ছোটবেলা থেকেই সাথে নিয়ে আসতেন জরিনাকে এখানে। সেই থেকে এখন আস্তে আস্তে জরিনাও এই ক্লিনিকের এক অবিচ্ছেদ্য কর্মী হয়ে গেছে। সবার মুখে মুখে এখন সারাক্ষন তার নাম ঘুরে। সারাদিনে দম ফেলানোর সুযোগ নেই জরিনার। পাশের দোকান থেকে রোগীদের প্রয়োজনীয় জিনিস এনে দাও, ডাক্তারদেরকে দফায় দফায় চা এনে দাও আবার মায়ের সাথে ক্লিনিক মুছতে হাত দাও। মাঝে মাঝে এই দৌড়াদৌড়িতে মাথা ঘুরতে থাকে তার মনে হয় এখুনি পড়ে যাবে। এতো দৌড়াদৌড়ির জন্যই স্বাস্থ্যটা খারাপ জরিনার। না কোন অসুখ নেই তার কিন্তু পাটকাঠি চেহারা। তার বয়সী বাচ্চা যারা ক্লিনিকে আসে তারা কতোই না ঝরঝরে স্বাস্থ্যের থাকে, আর সে হাড় জিরজিরে। তবে সবাই ভালোবাসে জরিনাকে, মাঝে মাঝেই হাতে দু / চার টাকা দেয় চকোলেট খাবার জন্য, কোন কোন ডাক্তার আঙ্কেল-আন্টি তাকে তাদের বাচ্চাদের পুরোন কাপড় এনে দেন বাড়ি থেকে আবার কেউ কেউ ঈদে নতুন জামা কেনার পয়সাও দেন। এই রোজ দিনের বিশ / তিরিশ টাকা একসাথে করে মাসের শেষে দেখা যায় অনেক টাকা হয়ে গেছে তার, এটাকা সে মায়ের কাছে দেয়। মা খরচ করেন কিংবা কিছুটা হয়তো জমান। না বাধা কোন বেতন নেই তার। ডাক্তার আঙ্কেল আন্টিদেরকে দেখতে কিই সুন্দর যে লাগে জরিনার। গলায় মালার মতো স্টেথিসকোপ ঝুলিয়ে কি সুন্দর করেই না গটগট করে হেটে যান তারা। কি মিষ্টি করেই না তারা কথা বলেন রোগীদের সাথে। জরিনারও খুব সাধ হয় স্কুলে যেতে অনেক পড়তে, তবেই না একদিন সে এমন করে সুন্দর গাড়ি থেকে নেমে এভাবে গলায় ষ্টেথিসকোপ ঝুলিয়ে রুগী দেখতে পারবে। মাকে কতোবার বলেও সে কথা, বায়না করে, ওমা আমিও স্কুলে যাব। মা ঝাঝিয়ে উঠেন বলেন খাওয়ার চিন্তা নেই তো স্কুল। বাস্তবকে অস্বীকার করতে পারে না, কি করবে জরিনা? তবে সে মাঝে মাঝে ক্লিনিকের দারোয়ান, ড্রাইভার, অন্য আয়াদের বাচ্চাদের সাথে খেলা করে, ক্লিনিকের সবার সাথে বসে টিভি দেখে। টিভি দেখতে জরিনার ভীষন ভালো লাগে। কি সুন্দর সুন্দর জামা কাপড় পড়া ছেলে মেয়েরা কি সুন্দর করে নাচে, গান গায়। ফাক পেলে জরিনাও একা একা আপন মনে সেসব গান গুনগুন করে।

সারাঙ্গা তার ছোট ছোট হাতে ফুট ম্যাসাজ করতে করতে ক্লান্ত চোখ মেলে বাইরের দিকে তাকায়, আকাশ দেখে বুঝে নিতে চায় সন্ধ্যা হতে আর কতো দেরী। সকাল নটা থেকে রাত নটা পর্যন্ত কাজ করে সারাঙ্গা এই বিউটি পার্লারে। ছোট সারাঙ্গা দু বছর ধরে কাজ করছে এই বিউটি পার্লারে। সারাঙ্গার গ্রামের এক মেয়ে বিউটি পার্লারে চাকরী করতো তার সাথে দশ বছরের সারাঙ্গাও ঢাকায় চলে এসেছিল জীবনের খোজে। গ্রামের মেয়েটি সারাঙ্গাকে তার সাথে কাজে নিয়ে নেয় মালিককে বলে কয়ে। প্রথমে ছিল কাজ শেখার পালা তখন সারাঙ্গা শুধু থাকা আর খাওয়ার পয়সা পেতো। আস্তে আস্তে কাজ শেখার পর থেকে সারাঙ্গা এখন বেতন পাচ্ছে আর তা থেকে নিজের খরচ বাচিয়ে সে বাবা মাকে মাসে মাসে টাকা পাঠাতে পারে। সারাদিন অবিশ্রান্ত খাটতে হয় অবশ্য সারাঙ্গাকে এজন্য। ম্যাসেজ করতে করতে এক এক সময় হাত আর চলতে চায় না তার কিন্তু কাজে কোন ফাকি দেয়ার অবকাশ নেই। কাজের সামান্য একটু হেরফের হলেই কাষ্টমাররা ডিরেক্ট নালিশ করেন মালিককে আর শুরু হয় মালিকে বকাঝকা, মাঝে মাঝে অনেকের বেতনও কেটে নেন মালিক। অথচ এক সময় কতো স্বপ্ন ছিল সারাঙ্গার, অনেক অনেক পড়াশোনা করবে, বাবা-মায়ের দুঃখ ঘুচাবে, নিজে বড় হবে, নিয়মিত স্কুলে যেতোও সারাঙ্গা সেজন্য। পড়াশোনাও করতো মন দিয়ে কিন্তু প্রয়োজন সারাঙ্গাকে সে সুযোগ দিল না। নিষ্ঠুর অভাব সারাঙ্গাকে তার আগেই তার স্বপ্নের পথ থেকে ছিড়ে এই কঠিন বাস্তবে নিয়ে এলো। সপ্তাহে সাত দিনের সাত দিনই কাজ করতে হয় সারাঙ্গাকে। তবে মাঝে সাঝে যখন পার্লার কম ব্যস্ত থাকে তখন একবেলা কিংবা বা দু/তিন ঘন্টার ছুটি নেয় সারাঙ্গা। তখন দু / তিন জন সহকর্মী মিলে একসাথে ঘুরতে বের হয়, ঝালমুড়ি খায়, এটা ওটা টুকটাক বাজার করে বাড়ির জন্য, যখন বাড়ি যাবে নিয়ে যাবে সাথে। সারাদিন কাজের পর বাসায় যেয়ে সারাঙ্গা যখন টিভি দেখে তখন সারাঙ্গার খুব ভালো লাগে। সারাদিনের মধ্যে এই টিভি দেখার সময়টুকুই সারাঙ্গা নিজের জীবনের সব দুঃখ ভুলে যেয়ে আনন্দে মেতে উঠতে পারে অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে।

বিউটির বাবা পুকুরে পুকুরে মাছ ধরে সেগুলো ঘরে ঘরে যেয়ে বিক্রি করে প্রায় সারা বছর। আর গ্রামে যখন শীতকালে নদী, পুকুর, খাল শুকিয়ে আসে সেখানের কাদা-পানিতে প্রচুর মাছ পাওয়া যায় যা হাতে ঘেটে ঘেটে ধরা যায়, বিউটি তখনও তার বাবার সাথে সাথে, সামনে পিছনে থেকে বাবাকে সাহায্য করে। বাবা মাছ ধরে দিলে ঝাপিতে পুড়ে রাখে, কিংবা ডেকচিতে পানির সাথে জিইয়ে রাখে। কখনও কখনও বাবার সাথে মাছ ধরতেও নেমে যায় কাদা পানিতে। রোগা লিকলিকে দশ বারো বছরের হাড় জিরজিরে বিউটি বাবার সাথে কাজ হয়ে গেলে মাকেও ঘরের কাজে, পানি আনা, খড়ি আনাতে সাহায্য করে। মাঝে মাঝে স্কুলেও যায় সে, স্কুলের খাতায়ও নাম আছে, স্কুলে গেলে চাল পাওয়া যায় তাই যাওয়া। পড়াশোনা করার সময় ও সুযোগ কম, কিন্তু চালটা পেলে বেশ উপকার হয় সংসারে, তাই মাসে দু-চার দিন স্কুলে যেতেই হয়। রোদে তাতানো, বৃষ্টিতে ভিজানো শরীর বিউটির, শ্রী বলতে কিছুই নেই। আর কাক ডাকা ভোর থেকে যে জীবন কাদা পানিতে আরম্ভ হয়, তার আর কিই বা শ্রী বাকি থাকে? কাদা মাখা নোংরা পানি ঘেটে ঘেটে হাতে পায়েও অনেক সময় ঘা এর মতো হয়ে থাকে। তবুও এই শরীর নিয়েই বিউটি আগামী দিনের সুন্দর স্বপ্ন দেখে। সে স্বপ্ন কেমন করে পূরন হবে তা বিউটি জানে না কিন্তু তবুও ওর কিশোরী মন একটি ছোট খড়ের ঘর, পেট ভরে খাওয়ার নিশ্চয়তার আশায় দিন গুনে। আর সেই স্বপ্নকে সফল করার জন্য তেজী টগবগে ঘোড়ার মতো দিনমান ছুটে চলে। মাঝে মাঝে আশে পাশের বাড়ির সমবয়সী মেয়েদের সাথে খেলা করে, বিভিন্ন পার্বনে মেলা হলে সেখানেও যায় বন্ধুদের সাথে, ছোট মাটির পুতুল কিনে এনে তাদের শাড়ি পড়ায়, সাজায় সাথে হয়তো আগামী দিনের কিছু স্বপ্নও আনমনে ভেসে যায় নিজের চোখে। আগামী একটি সুন্দর দিনের আকাংখাই হয়তো এই নিরানন্দময় কঠিন জীবনের বিউটিদের বাঁচিয়ে রাখে।

সুখী মধ্যবিত্তরা অল্প একটু সাংসারিক কাজ করলেই হাপিয়ে পড়ে, কাজের লোকের জন্য আশে পাশের চতুর্দিকে লোক লাগিয়ে খোজ করে, যতক্ষন লোক না পাওয়া যায় সংসারে চরম বিশৃংখলা সুদ্ধ, গৃহীনির মেজাজে অন্যদের বাড়ি টেকাই সাধারণত দায় হয়ে পড়ে। কাজের লোক থাকা সত্বেও রোজ দিনের এক ঘেয়েমি নিয়ম বদলানোর জন্য কিংবা নিয়মের ক্লান্িত কাটানোর জন্য ছুটি কাটানো, বেড়ানো থেকে আরম্ভ করে লোকে কতো কিনা করে। আর এই নিস্পাপ শিশুগুলি জীবন কি তা জানার আগেই যে কঠিন সংগ্রাম আরম্ভ করেছে তাদের বিশ্রাম কিংবা মুক্তি কোথায় হবে এবং কবে হবে? ক্লাশ এইট পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করা হলেও কজন বাচ্চা মেয়ে স্কুল পর্যন্ত পৌছতে পারে সংসারের এই সীমাহীন প্রয়োজনকে পাশ কাটিয়ে? শুধু শিক্ষা বাধ্যতামূলক আর অবৈতনিক করাই হয়তো সমস্যার সমাধান নয়। প্রয়োজন অর্থনৈতিক অবকাঠামো পরিবর্তনের যা এই সমস্ত নিয়ম পালন করার পরিবেশ তৈরী করবে। ১৯৫৪ সালের ১৪ই ডিসেম্বর জেনারেল এ্যাসেম্বলী নির্ধারণ করেছিলেন প্রতি বছর বিশ্বে একটি দিন ‘আন্তর্জাতিক শিশু দিবস‘ হিসেবে উদযাপন করা হবে। সেদিন শিশুদের সাথে বিশেষ ধরনের খেলাধূলা, বিভিন্ন রকমের ব্যাপার, নতুন নতুন ধারণা নিয়ে কথা বলা হবে। যে সমস্ত খেলা ও বিনোদন শিশুরা সবচেয়ে বেশী উপভোগ করে তার বন্দোবস্তও করা হবে। বড়দের সাথে শিশুদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপন করার চেষ্টা করা হবে। শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য নানারকম মঙ্গলকর ও আনন্দদায়ক প্রকল্পের ব্যবস্থা করা হবে। বিভিন্ন সময় শিশুদেরকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন রকম পদক্ষেপ ও আইন প্রনয়ন করা হয়েছে, এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ২০শে নভেম্বর ১৯৫৯ সালের ‘শিশুর অধিকার আইন‘ যা ১৯৮৯ সালে আরো পরিশোধিত ও পরিবর্ধিত ও বস্তুনিষ্ঠ আকারে আসে। কিন্তু আজো তা পৃথিবীর সব শিশুর জন্য আসেনি। আইন পারেনি সব শিশুর অধিকার আর মুখের হাসি রক্ষা করতে। ২৩শে এপ্রিল ২০০৭ আন্তর্জাতিক শিশু দিবসে বিশ্বর সব শিশুদেরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই, সাথে এই আশাও রাখি শিশু দিবসের আনন্দ সব শিশুরা সমানভাবে উপভোগ করার সুযোগ পাবে। এই আনন্দ শুধু উচ্চবিত্ত আর মধ্যবিত্তের ব্র্যাকেট কিংবা এন।জি।ও দের বিশেষ কার্যক্রম আর টেলিভিশনের তাৎক্ষনিক প্রদর্শনীতেই বন্দী হয়ে থাকবে না। অযত্নে জন্মানো কুড়িকেও ফুল হয়ে ফোটার সুযোগ করে দিবে।

তানবীরা তালুকদার
১২।০৫।০৬

এই লেখাটি ২০০৬ সালের, কোথাও কখনো প্রকাশ হয়নি। আজ সন্ধ্যায় জিটকে ছোটবোন বললো কাল ইউনিভার্সেল চিলড্রেন্স ডে উপলক্ষ্যে সে গুলশান এক নম্বর সিগন্যালে ফুল বিক্রি করতে যাবে। এক হাজার বাচ্চাকে গুলশান ওয়ান্ডার ল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হবে। একদিনের জন্যে হলেও বাচ্চারা আনন্দ পাক, সবার জন্য শুভকামনা রইলো। অনেক খোঁজাখুজি করে হারিয়ে যাওয়া ভাবনাটা সবার সাথে ভাগ করলাম।

পোস্টটি ১১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মীর's picture


দু্ইটা পর্বই অসাধারণ লাগলো। ঈদের শুভেচ্ছা আপু।

তানবীরা's picture


ঈদের শুভেচ্ছা মীরের জন্যও। কি করা হলো ঈদে এবার?

মীর's picture


মূল কাজ ছিলো জীবহত্যা। পশু কেটে-কুটে রান্না করে খাওয়ার আয়োজন। খারাপ লাগে নি। এসব সামাজিকতার মধ্য দিয়ে ফ্যামিলি বন্ডগুলোয় যেন সার্ভিসিং এর হাওয়া লাগে।

আর রাতে ছিলো বয়েজ পার্টি। সেটার ব্যপারে কিছু বলা যাবে না। Big smile

আপ্নে কিরাম আছেন?

তানবীরা's picture


বয়েজ পার্টি কি রকম হয় জানতে মঞ্চায় Tongue

আমি মনে হয় ভালোই আছি। যেসব ক্রাইটিরিয়া মেইনটেইন করলে "ভালো থাকা মনে হয়" তার সব ফুলফিল করছি আপাতত ঃ)

মীর's picture


গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কীপ দ্য ফিল-আপিং।

জানতে মুঞ্চাইলে আপ্নারে একদিন দাওয়াত দিমুনে। নিজে নিজেই জাইনা নিয়েন Tongue

তানবীরা's picture


দাওয়াতের অপেক্ষায় (গালে হাত ইমো)

আশফাকুর র's picture


ভাল লাগল তানবিরাপু। ঈদের শুভেচ্ছা রইল।

তানবীরা's picture


ঈদের শুভেচ্ছা আপনার জন্যও। কি করা হলো ঈদে এবার?

ঈশান মাহমুদ's picture


এই নিস্পাপ শিশুগুলি জীবন কি তা জানার আগেই যে কঠিন সংগ্রাম আরম্ভ করেছে তাদের বিশ্রাম কিংবা মুক্তি কোথায় হবে এবং কবে হবে?

১০

তানবীরা's picture


কে জানে কবে হবে? Puzzled

১১

নাজমুল হুদা's picture


এদের সবাইকে চিনি। কারো জন্য কিছু করতে পারিনা। শুধু পারি হা-হুতাশ করতে ।তাতে ওদের কোনই লাভ হয়না।

১২

তানবীরা's picture


সেটাই নাজমুল ভাই

১৩

নাহীদ Hossain's picture


Sad ............... তবুও ঈদের শুভেচ্ছা।
আপনার লেখাগুলোতে একটা অন্যরকম টান থাকে।

১৪

তানবীরা's picture


ঈদের শুভেচ্ছা নাহীদকেও। প্রশংসার জন্য ধন্যবাদ

১৫

সাহাদাত উদরাজী's picture


আজ থেকে ২০ বছর আগেও কোন শিশুকে দেখলে বলা যেত না, সে বড় হয়ে কি হবে! আর আজকাল আমাদের সমাজ এমন হয়েছে! শিশু গুলো দেখে বলা যায়, কি কস্ট করে ওরা বড় হবে!

আমরা পারলাম না কিছুই।

১৬

তানবীরা's picture


আমরা পারলাম না কিছুই। Sad(

১৭

শওকত মাসুম's picture


তবুও ঈদের শুভেচ্ছা।

১৮

তানবীরা's picture


আপনাকেও মাসুম ভাই

১৯

জুলিয়ান সিদ্দিকী's picture


আপ্নের ক্যামেরাটা ভালো। একটা ফ্রেমে সূক্ষ্মতর অনেক কিছু এঁটে গেছে।

২০

তানবীরা's picture


তাই বুঝি ?

২১

জেবীন's picture


দুটা পর্বই পড়লাম, চেনাচেনা মুখ যেন সব।

ঈদের শুভেচ্ছা তাতাপু

২২

তানবীরা's picture


ঈদ শুভেচ্ছা জেবীন Big smile

২৩

স্বদেশ হাসনাইন's picture


ভাল লাগলো লেখাটা

এরকম লেখা আরও আসুক

ভাল থাকবেন

২৪

তানবীরা's picture


আপনি অনেকদিন পর। ধন্যবাদ আপনাকে, আপনিও ভালো থাকবেন

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

তানবীরা's picture

নিজের সম্পর্কে

It is not the cloth I’m wearing …………it is the style I’m carrying

http://ratjagapakhi.blogspot.com/