ইউজার লগইন

প্রেম ......... ঢাকা স্টাইল (১)

কঙ্কাদের বাড়িতে আজ দারুন হৈচৈ চলছে, ‘সীমা’ পালিয়েছে। এতোদিন ধরে চোখে চোখে রেখেও কোন লাভ হলো না কঙ্কার মায়ের। পাখি শেষ পর্যন্ত ফুড়ুত করে উড়েই গেলো। এখন কি করে তাই নিয়ে সবাই দিশেহারা। ‘সীমা’ কঙ্কার মায়ের বাপের বাড়ির দেশ থেকে আনা লোক। সীমার বাবা মা ভাই বোন যাকে বলে সীমাদের পরিবারের সবাই কোন না কোন ভাবে কঙ্কার মায়ের বাপের বাড়ির কারো না কারো কাছে আছে। অনেক দিনের সম্পর্ক তাদের সাথে তাই ব্যাপারটাকে অবহেলা করার জোও নেই কঙ্কাদের পরিবারের, এক গ্রামের লোক, হোক গরীব কিন্তু এক গ্রামেরতো। গ্রামে যদি কথা রটে কঙ্কাদের বাসায় থেকে সীমার সর্বনাশ হয়েছে তাহলে আর গ্রামে মুখ দেখানো যাবে না, সবাই ছি ছি করবে। গ্রামেতো আর শত্রুর অভাব নেই তাছাড়া ভবিষ্যতে আবার লোকের দরকার হলে কথাটা বারবার উঠবে। আজকাল গার্মেন্টস আর গ্রামীন ব্যাংক হয়েতো পোয়া বারো। হয় বাড়ি বসে বসে হাস মুরগী পালবে নয় ঢাকা এসে চাকুরী করবে কিন্তু ঝিগিরি আজকাল আর কেউ করতে চায় না। বিশ্বস্ত লোক পাওয়াতো আজকাল সোনার হরিণের মতো দুষ্প্রাপ্য ব্যাপার। কঙ্কার মা একবার তার বড় ভাইকে মোবাইলে ফোন দিচ্ছেতো আর একবার মেজ বোনকে। দিশেহারা অবস্থা উনার যাকে বলে। বাবা পেপার মুখে নিয়ে ভয়ঙ্কর মেজাজ করে বসে আছেন। নিজেদের এমনিতেই শত ঝামেলা তারমধ্যে এসব উটকো ঝামেলা কারই বা পছন্দ হয়। নিজের হাজার কাজ ছেড়ে এখন কঙ্কার বাবাকে উটকো গৃহ কর্মীর সমস্যা নিয়ে বাড়ি বসে মাথা ঘামাতে হচ্ছে। খোলামেলা কিছু আলোচনাও করতে পারছেন না, যা করছেন সব ফিসফিসিয়ে, মান সম্মানের ব্যাপার, বাড়িতে অন্য লোক আছে তারা না আবার পাঁচ কান করে ব্যাপারটা। পুলিশে খবর দেয়া উচিৎ হবে কিনা সেটা নিয়েও ভাবছেন, কথা বলছেন। পুলিশে খবর দিলে একদিকে যেমন বদনামের ভয় অন্যদিকে আবার খবর না দিলে আর ভয়ঙ্কর কিছু অঘটন ঘটে গেলে পুলিশতো তাদেরকেই ধরবে। সীমার মা-বাবাকে খবরটা দিবে কিনা সেটা নিয়েও কথা হচ্ছে। খবর পেলেই তারা হয়তো ছুটে এসে কান্না কাটি করে একটা সীন ক্রিয়েট করবে, তাদেরকেতো আর বোঝানো যাবে না যে এতে কঙ্কাদের বাড়ির কারো দোষ ছিল না বা হাত ছিল না, তাদের মেয়েই এজন্য দায়ী। তারা হয়তো তখন বলবেন যেখান থেকে পারো আমাদের মেয়ে এনে দাও। কঙ্কার মাও রাগে সমানে গরগর করে যাচ্ছেন, প্রেশার হাই হয়ে যাচ্ছে উনার, উফফ সীমাকে পেলে ..... ফাজিল মেয়ের প্রেম করার সাধ আহ্লাদ একেবারে ঘুচিয়ে দেয়া যেতো।

ইট কাঠ পাথরে ঘেরা কঠিন শহর এই ঢাকা। এখানে কঠিন যান্ত্রিক জীবনের যাঁতাকলে পিষে মানুষের বেঁচে থাকাই দায়। তার মধ্যে আবার প্রেম?!?! সেতো ধরতে গেলে অনেকটাই দূরের ব্যাপার, বড় লোকদের ফ্যাশন যাকে বলা চলে। ভোর সকালে সূর্য মামা উঁকি দেয়া না দেয়ার সন্ধিক্ষণ থেকে জেগে উঠে এই শহর ফেরীওয়ালাদের হাঁক ডাকে আর সেই নিশুতি রাত অব্দি জেগেই থাকে। একেবারে ঘুমায় না কখনই। রাত গভীরে হয়ত শহরের কোলাহল কমে কিন্তু দু একটি নিশিকন্যার আনাগোনা, কোন কাজে বাইরে আটকে পড়া লোকজনের গাড়ির হর্ন লেগেই থাকে। বড় নিষ্ঠুর শহর এই ঢাকা। এখানে কেউ কারো নয়। ছদ্মবেশী খুনী, প্রতারক আর ভেজালে ভরা। এই শহরে মানুষকে বিশ্বাস করা অনেক কঠিন, মানুষকে ঠকিয়ে খাওয়ার জন্য মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে মুখোশ পরে, নিষ্ঠুরতা আর প্রলোভনের ফাঁদ চর্তুদিকে। যন্ত্রদানব কোন দিকে না তাকিয়ে যেমন এক নিমিষে একজনকে পিষে ফেলে পেছনে না তাকিয়ে চলে যায় তেমনি মৌ - লোভী নারী দেহ পিয়াসী দানবেরও অভাব নেই এই শহরে। সুযোগ মতো কতো নিষ্পাপ নিরীহ মেয়েকে প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে, সর্বনাশ করে কেটে পড়ে। তবে এই শহরের লোক সবাই বেশ চালাক, কেউ ঠকতে চায় না, কোন কিছু কিনতে গেলে প্রথমে সেটা যাচাই করে নেয়, ভেজাল নয়তো আবার!?! দোকানদাররা আম থেকে শুরু মাছের কানকো সব রঙ দিয়ে মনোরম করে রাখে যাতে উপরটা পরিপাটি থাকে। নিয়তির পরিহাসে ভেজাল লোকে খাবারে খোঁজে, কাপড়ে খোঁজে, ঔষধে খোঁজে, আসল ভেজাল যে জায়গায় সেখানেতো কেউ হাত দেয় না। ভেজালতো বাসা বেঁধে আছে মানুষের অন্তরে, অন্যকে ঠকিয়ে খাওয়ার আকাঙ্খায়, লক্ষ্যে। এ সমস্ত জানা সত্বেও কিছু মানুষ তবু প্রেমে পড়ে, কোন দুর্বল মুহূর্তে কাউকে বিশ্বাস করে ফেলে। কতো অদ্ভুত পরিবেশে একজনের সাথে একজনের দেখা হয়ে যায়, কোন একক্ষণে ভালোও লেগে যায়, মনের লেনা দেনা হয়ে যায় হয়তো নিজেরই অজান্তে। তারপর এক এক জনের তৈরী হয় এক এক কাহিনী। কারোটা সুখের আবার কারোটা কষ্টের। শহরের বাড়িগুলো, রাস্তাগুলো জড়িয়ে আছে এমন অনেক নাম জানা কাহিনীর সাত পাঁকে। কিন্তু মায়াবতী ঢাকার রাস্তা সবার গোপনীয়তা রক্ষা করে চলে, তাই পথ চলা পথিকেরা কখনই ঘটে যাওয়া সেইসব কাহিনীর খোঁজ পায় না। আর তাছাড়া দ্রুত পায়ে হেটে যাওয়া ব্যস্ত পথিকদের অতো সময়ই বা কোথায় দু দন্ড দাড়িয়ে অজানা অচেনা লোকের কাহিনী শোনার?

মধ্যবিত্ত ঢাকার ফ্ল্যাট বাড়িগুলো আজকাল বড্ড একটার উপর একটা গা ঘেষে দাড়িয়ে আছে। জানালায় দাঁড়িয়ে আকাশ দেখাতো আজকাল রীতিমতো ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। যে যতোটা পাড়ছে পাশের বাড়ির গাঁ ঘেষে নিজের বাড়িটি তৈরী করছে। সবুজের ছোয়া বলতে গেলে আজকাল শুধু বারান্দার টব আর ছাদের বাগানেই আছে। বাড়ির সামনের এক ফালি বাগানের স্থান আজ গাড়ির গ্যারেজে কিংবা কনফেকশনারীতে রূপান্তর হয়ে গেছে। এক বাড়ির জানালা দিয়ে অন্য বাড়ির শোবার ঘর পর্যন্ত দেখা যায়, প্রাইভেসী ব্যাপারটা মহা দুর্লভের কাছাকাছি চলে গেছে প্রায়। কোন বাড়িতে কোন বেলা কি রান্না হচ্ছে, কোথায় স্বামী - স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হচ্ছে সব পাড়া শুদ্ধ লোক জানতে পারে, নিজস্ব বলে আর কিছু নেই। আলো বাতাস চলাচলের সমস্যা, ছোট বাচ্চারা যারা বেড়ে উঠছে তাদের জন্য এ ধরনের পরিবেশ কতো অস্বাস্থ্যকর সেই ভাবনা কারো মাথায় খেলে বলে তো মনে হয় না। এসব নিয়ে কঙ্কাদের পাশের বাড়ির সাথে রাগারাগি হয়েছে কঙ্কার বাবা - মায়ের আর ভাইয়ের। কঙ্কাদের বাড়ির একদম ধরতে গেলে গা ঘেষেই তারা তাদের বাড়ি তুলছেন যাতে কঙ্কাদের বাড়ির সবার ভীষন আপত্তি। প্রাইভেসী, আলো বাতাস সব নিয়েই তাদের সাথে কথা হয়েছে কিন্তু তারা নাচার। কোন কিছু নিয়ে জোরও করা যায় না, পাড়ার সব মাস্তান বাহিনী তাদের হাতে, আজকাল যারা বাড়ি তৈরী করেন প্রথমেই সেই পাড়ার মাস্তানদের হাত করে নেন। কার মনে কি আছে, কখন কিসের থেকে কি হয়, কে জানে এসব ভেবে আপাতত চুপ কঙ্কার বাবা - মা। ছেলে - মেয়ের জীবন, ভবিষ্যতের থেকেতো বাড়ি ঘর বড় নয় তাদের কাছে। তাই মুখে কিছু না বললেও পাশের বাড়ির প্রতি কঙ্কাদের এখন নন কোপারেশন মুভমেন্ট চলছে সব ব্যাপারে। এ সমস্ত ঘটনার মধ্যে দিয়েই পাশের বাড়ির একতলার ছাদ ঢালাই দেয়া হলো। ছাদে মিস্ত্রীরা আসা যাওয়া করতে লাগল এবং কঙ্কাদের বাড়ির ভেতর উঁকি ঝুকি দিতে লাগলো। কাহাতক আর এই গরমের মধ্যে প্রাইভেসীর জন্য সারা বাড়ির দরজা জানালা লাগিয়ে বসে থাকা যায়। এরমধ্যে লোড শেডিংতো আছেই। পর্দা টানলেও বাতাসের নাড়া চাড়ায় এবং লোকজনের হাটাচলায় সবসময়তো এক জায়গায় থাকেও না।

এ সমস্ত প্রতিকুলতার মধ্যে দিয়েই কঙ্কাদের বাসায় থাকা কিশোরী মেয়ে ‘সীমা’ প্রেমে পড়ল পাশের বাসায় কাজ করতে আসা তরুণ এক রাজমিস্ত্রীর। সীমাকে রাখা হয়েছে ঘর-বাড়ি ঝাট-পাট দিয়ে পরিস্কার রাখা সহ বিভিন্ন ধরনের ফুট ফরমাশ খাটার জন্য। সীমা চৌদ্দ / পনর বছরের বেশ বাড়ন্ত গড়নের ছিমছাম দেখতে কিশোরী। গায়ের রং শ্যামলা হলেও মুখটা বেশ মিষ্টি দেখতে। কাজল দেয়া টানা টানা চোখের, বাড়তি মেদহীন ছিপছিপে দেহের, মেঘকেশী সীমাকে দেখলে এক নজরেই অনেকে পছন্দ করে ফেলবেন। তাছাড়া সারাক্ষণ টিভির সিরিয়াল দেখে আর বাড়ির আপাদের দেখে দেখে সাজগোজে বেশ পটুও সে। প্রায়ই এসে আপাদের কাছ থেকে চেয়ে চেয়ে পুরনো নেলপলিশ, টিপ, লিপিষ্টিক, ক্লিপ, ব্যান্ড নিয়ে যায় আর সাজেও ঠিক তেমনি করে যেমন করে বাড়ির মেয়েরা সাজে বা টিভিতে দেখে। হঠাৎ কেউ দেখলে গৃহ কর্মী বলে চিনবে না, ভ্যাবাচেকা খেয়ে যাবে। টিপিক্যাল গৃহকর্মীর মতো যেনো না দেখায় সেজন্যও সীমারও চেষ্টার কোন অন্ত নেই। তবে কঙ্কাদের এসমস্ত দেখার এতো সময় কোথায়? কঙ্কা ভাইয়া ইউনিভার্সিটি নিয়ে ব্যস্ত, বাবা অফিস নিয়ে, মায়েরতো সংসারে ব্যস্ততার সীমা নেই। ‘সীমা শত্রু বাড়ির রাজমিস্ত্রীর প্রেমে মজেছে’ এই সংবাদটি যথাসময়ে পরিবেশন করল রান্না করার বুয়া, যিনি ‘সীমা’ র চেয়ে বয়সে বড়, স্বামী পরিত্যাক্তা এবং আপাতদৃষ্টিতে ‘সীমা’র চেয়ে সুরত এবং ফিটফাটে একটু পিছনেও। আর সংবাদটি কনফার্ম করলেন বাসায় কাপড় কাচতে আসা ছুটা বুয়া যিনি আশে পাশের অনেক বাসায় কাজ করেন বলে পাড়ার সমস্ত খবরে আপডেট থাকেন। তার সাথে কঙ্কাদের দারোয়ানও সেটা রিকনফার্ম করল, সেও নাকি ‘সীমা’কে পাশের বাসার রাজমিস্ত্রীর সাথে কথা বলতে দেখেছে। শুরু হলো প্রেমের পথের হাজারো বাঁধা। শুধু যারা বাঁধা দেয় তারা জানে না এমনি প্রেম যতো ভ্যাদভ্যাদাই চলুক বাঁধা পাওয়া মাত্র তাতে জোয়ার এসে যায়। আমার মনে হয় শতকরা পঞ্চাশ ভাগ প্রেম মুরুব্বীদের আর সমাজের বাধা না পেলে এমনিতেই ভেঙ্গে যেতো। বাঁধা দিয়ে তারা তাতে গতির সঞ্চার করেন। শিল্পী সিনেমার কথাই ধরা যাক, উত্তম - সুচিত্রা জানতেনই না যে তারা বড় হয়েছেন, যতোদিন না সুচিত্রার মাতৃদেবী সেটি তাকে মনে করিয়ে দিলেন। মনে করিয়ে দেয়ার ফল হলো এই যে উত্তম - সুচিত্রা লুকিয়ে লুকিয়ে বাইরে দেখা করে প্রেম বাঁধালেন এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরন করলেন। বাস্তব বাঙ্গালী সমাজেরও এই চিত্র। আজকালের সিনেমা সব ফালতু আর আগের দিনের সিনেমা দেখে শেখার অনেক কিছু আছে বলে মুরুব্বীরা বাচ্চাদের উপর গলা ফাটালেও নিজেরা কিন্তু কিছুই শেখেন না। শিল্পী, সাগরিকা। দ্বীপ জ্বেলে যাই তাদের হয়তো প্রত্যেকেরই পঞ্চাশবার করে দেখা আছে।

কঙ্কাদের বাড়ির পশ্চিম দিকে লম্বা টানা বারান্দা বাড়ির এ মাথা থেকে ও মাথা। সারা বারান্দায় ফুলের টব দিয়ে সাজানো, প্রায়ই কঙ্কা বারান্দায় হেটে হেটে পড়া মুখস্থ করে। বারান্দায় ঝোলানো দোলনাতে বসে চা খায়, রকিং চেয়ারে দুলে দুলে গল্পের বই পড়ে। জোছনা রাতে গরমের সময় ঠান্ডা মোজাইকের মেঝেতে বসে ভাইবোন সব একসাথে আড্ডা দেয়, আন্তাখসরী খেলে। লোডশেডিংয়ের রাতেতো এই বারান্দায়ই কঙ্কাদের সব ভাই বোনদের আশ্রয়স্থল বলা চলে। কঙ্কার ছোট বোনেরা মোজাইকের ঘরে পা ফেলে ফেলে এক্কা দোক্কা খেলে লাফিয়ে লাফিয়ে। এতো দিন পাশে বাড়ি ছিল না বিধায় কোন ধরনের সমস্যাই ছিল না, খোলা বারান্দায়ই ছিল সব ভাইবোনদের প্রাণ কেন্দ্র। কিন্তু এখন পশ্চিম দিক কুপোকাত করে বাড়ি উঠছে, আশ্রয় খোয়া যাওয়ায় সবাই মনক্ষুন্ন। এরমধ্যে প্রেমের প্রোগ্রেস হিসেবে দেখা গেল রাজমিস্ত্রী ছেলে লুঙ্গি ছেড়ে জীনস ধরেছে, স্পঞ্জের স্যান্ডেলের বদলে সে এখন চামড়ার স্যান্ডেল পরছে, হাতে ঘড়িতো আছেই আবার যখন কন্ট্রাক্টর না থাকে তখন চোখে রোদ চশমাও শোভা পায়। ছেলে নায়ক রাজ রাজ্জাকের মতো ফিটফাট হয়ে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতে লাগল আর সীমাও দুই টাকা প্যাকেটের মিনিপ্যাক সানসিল্ক শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে এলোকেশী ববিতার ভাবভঙ্গী করে ঘুরতে লাগল। এতোদিন সীমার চুল লম্বা করার তাগাদা ছিল কিন্তু এখন সে কাচি নিয়ে কঙ্কার আর তার মায়ের পিছন পিছন হাটতে লাগল চুল কেটে দেয়ার জন্য। বাহারী ঢং এ ওড়না পরতে লাগল, পায়ে নুপূর। পরিবর্তন এতো প্রকট যে সবারই চোখে পড়ছিল। ওই ছেলের বেশীর ভাগ কাজই পড়তে লাগল তার বাড়ির পূর্ব পাশে আর সীমার কঙ্কাদের বাড়ির পশ্চিম পাশে। সারা বাড়ি ঝাট দিতে মুছতে সীমার যতক্ষন সময় লাগে পশ্চিমের বারান্দা মুছতে সীমার ঠিক ততক্ষন কিংবা তারচেয়ে বেশি সময় লাগতে লাগল। এতোদিন ফুলের টবে চৌদ্দবার বলে বলে পানি দেয়াতে হতো এখন ঘুম থেকে উঠেই সীমা, সারা বাড়িতে কেউ উঠার আগেই পানির বালতি নিয়ে পশ্চিমের বারান্দায় দৌড় দেয়। আগে বলে বলে কঙ্কার মা যে টবের যত্ন করাতে পারতো না, সীমা সারাক্ষন এখন ন্যাকড়া নিয়ে সেই টবগুলোর আগা পাশতলা মুছতে লাগল, টবের গাছের গোড়া খুচিয়ে দিতে লাগল। পাশের বাড়ির কাজের ধূলো বালিতে পশ্চিমের বারান্দার টব নষ্ট হওয়ার বদলে আরো চকচক করতে লাগল। বরং বাড়ির অন্য যে দিকগুলোতে ধূলো থাকার কথা নয়, ঝাড় পোছের অভাবে সেদিকে ধূলো জমতে লাগল। ডাকলে সীমাকে খুঁজে পাওয়া ভার আজকাল, হয় সে পশ্চিমের বারান্দায় নয় সে তার ঘরে সাজ গোজ করছে। চুল খুলে চুল বাঁধছে কিংবা টিপ খুলে অন্য টিপ লাগাচ্ছে। কিন্তু রান্নার বুয়া সারাক্ষন শ্যেন দৃষ্টি রাখতে লাগল সীমার উপর। সীমা কতোক্ষণ পশ্চিমের বারান্দায় থাকে তার রিপোর্ট বিবি সাহেবকে সার্বক্ষনিক দিতে থাকে সে। ক্রিকেটের আপডেটের মতো বুয়ার আপডেট চলতে থাকতো। অসহ্য হয়ে কঙ্কার মা প্রস্তাব করলেন বারান্দায় মোটা চিকের ব্যবস্থা করা হোক যাতে কেউ কারো মুখ দেখতে না পায়। কতো আর কাউকে পাহারা দিয়ে রাখা যায়। সবাই মন খারাপ করে তাতে সায় দিলেও খ্যাক খ্যাক করে উঠল কঙ্কার ভাই। যখন পাশের বাড়ির ওদের দোতলার কাজ সম্পন্ন হবে তখন না চাইলেও তাদের বারান্দার কর্ম শেষ, সুতরাং যে কদিন খোলা মেলা হাওয়া উপভোগ করা যায় সেটাই ভালো। আর সীমার প্রেম সংক্রান্ত কারণে কিছুতেই বারান্দায় চিক আসবে না। ভাইয়ের কথা থাকতেই হবে কারণ ঐপাশে বাড়ি ওঠায় সবচেয়ে ভুক্তভোগী সে। ভাইয়ের ঘরের জানালা এবং দরজা দুটিরই সংযোগস্থল এই বারান্দা। তাই চিক পর্ব আপাততঃ বাদ গেলো।

চিক পর্ব বাদ যাওয়াতে অবশ্য কঙ্কারাও মনে মনে খুব খুশী হলো। একটু শ্বাস নেয়ার অবকাশ তবুও রইল এ বাড়িতে আপাতত। ভাইয়া বলাতে যেভাবে এটি এক কথায় স্থির হলো কঙ্কাদের শত কথায়ও তা স্থির হতো না। এই ব্যস্ত পুরুষ শাসিত ঢাকাতে যাবে তো কোথায় যাবে কঙ্কারা? পার্ক, লেকের ধার, সিনেমা হল, রাস্তার মোড় কোথাও তরুনীদের কোন স্থান নেই। বাইরের আড্ডা, আলো - বাতাস সব পুরুষদের এক চেটিয়া দখলে। ভার্সিটি থেকে বাড়ি ফিরতে দেরী হলে অজানা সব বিপদ কল্পনা করে মা যেভাবে বারান্দা আর ঘর করেন, মনে যতো ইচ্ছেই থাকুক আর বন্ধুদের আড্ডা যত ভালোই লাগুক, মায়ের সেই চিন্তিত মুখটি মনে হলে কঙ্কা অস্থির পায়ে বাড়ি চলে আসে। বাইরে যাবেই বা কোন চুলোয়, এ সমাজে কি মেয়েদের বাইরে যাওয়ার কোন স্থান বা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আছে? একবার ইয়ার ফাইন্যাল শেষে সব বন্ধু এবং বান্ধবীরা মিলে ঠিক করলো পরীক্ষার মানসিক চাপ যেহেতু শেষ আজ সারাদিন ওরা টিএসসি তে এলোমেলো ঘুরে, মজা করে সেলিব্রেট করবে। বাংলা একাডেমীর সামনের জায়াগাটাতে একজন বন্দুকয়ালা তখন বেলুন আর বন্দুক নিয়ে প্রায়ই বসে থাকতেন। হাঁটতে হাঁটতে ওরা সেখান দিয়ে যেতে গিয়েই হুজুগে সবাই মিলে লাগল তার কাছে নিশানা পরীক্ষা করতে। যখন কঙ্কা তার টিপ পরীক্ষা করছিলো হঠাৎ মেয়েলী প্রখর ঘ্রাণ শক্তির কারণে পাশের দিকে তাকিয়ে দেখল একজন মধ্য বয়স্ক লোক কঙ্কাদের দিকে কিংবা ঠিক সেই মুহুর্তে কঙ্কার দিকেই চোখে তীব্র এক ঘৃনা নিয়ে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ কঙ্কার হাত কেঁপে গেলো। কি ছিল সেই দৃষ্টিতে? কঙ্কা খুব বখাটে মেয়ে যে হঠাৎ আনন্দের কারণে বন্ধুদের সাথে নিশানা পরীক্ষা করছে, সেই বন্ধুদের মধ্যে কয়েকজন সমবয়সী ছেলেও আছে? এই ধরনের তরুন সমাজের কারণে দেশ রসাতলে যাচ্ছে? জানে না কঙ্কা কিন্তু অনুভব করতে পারে সেই রকমই একটা কিছু যেনো ছিল তার চোখে। ক্রিকেট জয়, নোবেল জয়, আনন্দ মিছিল সব কিছুতে পুরুষদের অধিকার। তবে মেয়েরা একেবারে বাদ না, জানালা, বারান্দা কিংবা ছাদ থেকে উঁকি দিয়ে দেখতেতো পাচ্ছেই। এই কি কম স্বাধীনতা? সৌদি হলেতো এই আনন্দ থেকেও বঞ্চিত হতে হতো। নিজের বাড়িতেই বা কিসের স্বাধীনতা? আনন্দে জোরে চিৎকার দেয়া যায় না, পাশের বাড়ি থেকে শুনবে, লক্ষী, ভালো মেয়েরা জোরে কথা বলে, হাটে না, চিৎকারতো দূর কি বাত।

সব প্রতিকুল পরিস্থিতির মধ্যেও সীমা আর মিস্ত্রী প্রেমের দুর্বার বন্যায় ভাসতে লাগল। দুজনের ছবির আদান প্রদান হতে লাগল। বিভিন্ন পার্বনে যখন কঙ্কাদের বাড়িতে ছবি তোলা হয়, তখন সীমাও সাজগোজ দিয়ে এসে দাড়িয়ে লজ্জা লজ্জা মুখ করে গলা নামিয়ে বলে, আপা, আমারে একটা ছবি তুলে দিবেন, বাড়িতে লইয়া যামু। তখন কঙ্কারা সীমাকে ছবি তুলে দিতো, ওদেরওতো একটা সাধ আলহাদ আছে। সে ছবি প্রিন্ট হয়ে আসলে ওদেরগুলো ওদেরকে দিয়ে দেয়া হতো। বাড়িতে নিয়ে মা-ভাই-বোনদেরকে দেখাবে, গল্প করবে। সেসব ছবিতো ছিলোই সীমার কাছে, সীমা বারান্দার গ্রীলের ফাঁক দিয়ে ছবি ছুঁড়ে দিলো পাশের বাসার উদ্দেশ্য কিন্তু বিধি বাম। ছবি পড়ল কঙ্কাদের বাসার সীমানার মধ্যেই। আর পড়বিতো পড় একেবারে দারোয়ানের ঘাড়ে যাকে বলে। দারোয়ান সেই ছবি নিয়ে উপরে এসে কঙ্কার মাকে ছবির ইতিহাস বলে গেলো সাথে দারোয়ান আবার এই খবরও দিয়ে গেলো যে মিস্ত্রীর সাথে কথা বলে সে জেনেছে যে সীমা নাকি ওই মিস্ত্রীকে নিজেকে এই বাড়ির মেয়ে বলে পরিচয় দিয়েছে। কঙ্কার মাতো এই কথা শুনে রেগে কাই। এতোবড় সাহস। মা কড়া করে দারোয়ানকে বলে দিলেন মিস্ত্রীকে যেনো সীমার আসল পরিচয় জানিয়ে দেয়া হয় এবং সীমাকে কোন কারণে নীচে দেখলে যেনো সাথে সাথে মাকে এসে খবর দেয়া হয়, সীমার নীচে নামা নিষেধ। দারোয়ান এতে বেশ খুশী হলো, মাঝে মধ্যে সবার চোখ বাঁচিয়ে নীচে বা ছাদে সে সীমার সাথে ফষ্টিনষ্টি করত, সে জায়গায় ভাগ বসাবে অন্য কেউ একি সহ্য করা যায়? রান্নার বুয়া আবার সেই আগুনে ঘি ঢাললেন এই বলে যে বাড়িতে কেউ না থাকলে সীমা কর্ডলেস ফোন নিয়ে বারান্দায় হাটাহাটি করে। মিউজিক সিষ্টেমে গান বাজায়। আর যায় কোথায় কঙ্কার মা সীমাকে এই মারেতো সেই মারে। মনিবের কাছে ঝার খেয়ে সীমার সব রাগ যেয়ে পড়ল রান্নার বুয়ার উপরে। বুয়াকে বলল সীমা, তুইতো কালো পেত্নী, বুড়ি তোর সাথেতো কেউ প্রেম করে না, সেই হিংসায় তুই আমার সাথে এমন করিস। রান্নার বুয়াও ছেড়ে দেয়ার পাত্রী না, তিনি বললেন, আমিতো তোর মতো বেহায়া নির্লজ্জ মেয়ে না যে ঘুরে ঘুরে ব্যাটাদের সাথে প্রেম করে বেড়াবো। আমার নিজের আর বংশের একটা ইজ্জত আছে না। আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, পর্দা করি, তোর মতো বেহায়াতো না যে চুল ছেড়ে ছেড়ে বারান্দায় যাই। সীমা তেড়ে গেলো আবার, হ হ ইজ্জত আমার জানা আছে, জামাইতো লাথথি দিয়েছে, এখন এই চেহারা আর শরীর নিয়ে অন্য কাউকে পাস না সেটা বল। তোর মাথায় চুল আছে যে ছাড়বি, ঘুরবি? দ্যাখাতো একটাকে দ্যাখা যে তোকে পছন্দ করেছে কিন্তু তুই করিস নাই। এবার সীমা আসল জায়গায় ঘা বসিয়ে দিয়েছে। গ্রাম্য বেশবাস করে সারাক্ষন মাথায় ঘোমটা দিয়ে থাকা ভাঙ্গা চেহারার বুয়ার দিকে শহরের রাজমিস্ত্রীরা কেউ যে আকর্ষিত হয়নি সেটাতো ঠিকই। রান্নার বুয়া বিবি সাহেবকে ডেকে কান্নাকাটি, তার মতো ইজ্জতদার মহিলাকে সীমার মতো চূড়ান্ত ফাজিল মেয়ে এমন সব কথা বলে অপমান করা, কিছুতেই সে আর এই বাড়িতে থাকবে না, এখনই যেনো পাওনা দেনা মিটিয়ে তাকে বিদায় দেয়া হয়, রান্নার জন্য অন্য লোক দেখা হোক। রান্নার বুয়া জানতো কোথায় হাত দিতে হবে। কঙ্কার মা প্রেশারের রুগী, তিনি আগুনে যেতে পারেন না আর কঙ্কারা সব ভাইবোন পড়ছে। এ সময়ে এই বাসায় তিনি অসম্ভব একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, তাকে ছাড়া এ বাসার গতি নেই। একটা সব জানা রেডী লোক পাওয়াতো আর সহজ কথা নয় আজকালকার বাজারে। সন্ধ্যাবেলা একথা শুনে কঙ্কার মায়ের মাথায়তো আকাশ ভেঙ্গে পড়লো, তিনি সীমাকে ডেকে বুয়ার কাছে মাফ চাইতে বললেন কিন্তু জেদী সীমা মাথা গোঁজ করে দাড়িয়ে রইলো, মাফ চাইলো না। আর কঙ্কার মা নিজেকে সামলাতে পারলেন না, দিলেন ধরে দু চার ঘা সীমার পিঠে বসিয়ে। কঙ্কার ভাই এসে তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি সামলালো, মা কে নিয়ে গেলো। মা এমনিতেই প্রেশারের রুগী, উত্তেজনা তার শরীরের জন্য মোটেই ভালো না। সীমাও গেলো কাঁদতে কাঁদতে নিজের ঘরে আর বুয়া গেলো বীর দর্পে বিজয়ী মুখ নিয়ে রান্না ঘরে।

০৭।০৬।০৭

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নাজমুল হুদা's picture


শুরুটা চমৎকার হয়েছে । চলুক দূর্বার গতিতে ।[ টাইপো দেখা দরকার ।]
বেশিদিন অপেক্ষা করতে ভাল লাগেনা ।

তানবীরা's picture


নাজমুল ভাই কাইন্ডলি প্লিইইজ টাইপো গুলো ধরে দেন, আমি ঠিক করে দিচ্ছি।

ধন্যবাদ

মীর's picture


চ্রম হইসে। খানিকটা হিংসাও হৈল। আমাগো বাসায় যেখানে একটাও বুয়া নাই, সেইখানে আলাদা আলাদা কামের লিগা কঙ্কাদের বাসায় দুইটা লোক।
মিস্ত্রীর সঙ্গে পালায় যাওয়ার মতো বিষয় না এনে অন্যরকম একটা ফিনিশিং দেয়ার জন্য তা'প্পুকে ধইন্যাপাতা। লেখাটা পড়ার সময় কেবলি মাথায় ঘুরছিলো, এখনই বোধহয় মেয়েটা পালাবে। এটা না আনার কারণেই সম্ভবত, লেখাটা এত ভালো লাগলো।
আপনে যে শেষতক কত উচুঁমাপের রাইটার হবেন, সেটা ধরতে পারছি না। Party

মীর's picture


মিস্ত্রীর সঙ্গে পালায় যাওয়ার মতো বিষয় না এনে অন্যরকম একটা ফিনিশিং দেয়ার জন্য তা'প্পুকে ধইন্যাপাতা। লেখাটা পড়ার সময় কেবলি মাথায় ঘুরছিলো, এখনই বোধহয় মেয়েটা পালাবে। এটা না আনার কারণেই সম্ভবত, লেখাটা এত ভালো লাগলো।

লিখতে চেয়েছিলাম,

মিস্ত্রীর সঙ্গে পালায় যাওয়ার মতো বিষয় শেষে না এনে অন্যরকম একটা ফিনিশিং দেয়ার জন্য তা'প্পুকে ধইন্যাপাতা। লেখাটা পড়ার সময় কেবলি মাথায় ঘুরছিলো, এখনই বোধহয় মেয়েটা পালাবে। এটা শেষে না আনার কারণেই সম্ভবত, লেখাটা এত ভালো লাগলো।

তানবীরা's picture


আপনার দোষ নেই, গল্প শেষ হয় নাই Tongue

আমি একটু এ্যবসেন্ট মাইন্ডেড ছিলাম। এটা এতো আগের, বর্নসফট থেকে অভ্রতে কনভার্ট করতে করতে টায়ার্ড হয়ে গিয়েছিলাম। পর্ব নাম্বার দিতে মনে নাই।

বহু আগের ছাই পাশ, তাও দিলাম, ভাবলাম আমরা আমরাইতো

ভাস্কর's picture


গল্পের বিষয়টা ভালো লাগলো...শেষ থেইকা শুরু করার স্টাইলটাও ভালো...

তানবীরা's picture


ধন্যবাদ জানানোর ভাষা হারিয়ে ফেলেছি

আরাফাত শান্ত's picture


ঢাকা স্টাইলের মতন আসলেই কোন স্টাইল আছে নাকি প্রেমের?
বিস্তারিত জানাবেন আশাকরি

ভালো লেগেছে Smile

তানবীরা's picture


গল্প পড়লেই বিস্তারিত জানবেন আশাকরি Wink

১০

রায়েহাত শুভ's picture


পেম ভালুবাসা খুব খ্রাপ....

১১

তানবীরা's picture


সত্যি কথা

১২

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


আমার মনে হয় মাঝে অফটপিকের বর্ণনা বেশি হয়ে যাচ্ছে।

আর সিরিয়াল দেখলেই ডর লাগে। নরমালি আমি সিরিয়াল পড়িও না। "কেউ কথা রাখেনি" মার্কা অবস্থা হলে যে পরিমাণ মেজাজ খারাপ হয়, তা সহজে দূর হয় না।

১৩

তানবীরা's picture


আমার মনে হয় মাঝে অফটপিকের বর্ণনা বেশি হয়ে যাচ্ছে।

১৪

তানবীরা's picture


আজ অনেক বছর পরে গল্পটা পড়ে আমারো তাই মনে হয়েছে তানিম। আর এটা এতো বড়ো লিখেছিলাম ছোটবেলায় যে এক পর্বে বেশি হয়ে যাবে তাই দুই পর্বে দিচ্ছি। ডোন্ট ওয়ারী

১৫

কিছু বলার নাই's picture


আমার এক বান্ধবীর বাসার সাথে এক্কেরে খাপেখাপে মিল! তবে এখনো মেয়েটা পালায় নাই,,, আমাদের বদ্ধমূল ধারনা ঐ বাসার কোন এক মিস্তিরির সাথে এই মাইয়ার প্রেম আছে, ভাবতে মজাই লাগে Smile

১৬

তানবীরা's picture


Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor

১৭

নীড় সন্ধানী's picture


চিন্তায় ফালাইলেন। উপমহাদেশীয় যে কোন সিনেমা আধাঘন্টা দেখার পর পরিণতি সম্পর্কে একটা ধারণা করা যায়। কিন্তু এই প্রথম পর্ব পড়ার পর পরিণতি আন্দাজ করার চেষ্টা করলাম, কিন্তু বাকীটা পুরা আন্ধার লাগতেছে। কি জানে কি আছে লেখকের মনে। Puzzled

১৮

তানবীরা's picture


Tongue Tongue Tongue

আপনার ধনু'র বাড়ি যাওয়া কতোদূর আগাইলো?

১৯

নুশেরা's picture


সখী বাঁচাইছো ঢাকা কথাডা দিয়া। নয়তো মেস্তরি দেইখা ডরানির কাম আছিল Wink

স্টাইলটা মনে হয় নব্বই দশকের (এখন সীমা-মিস্ত্রির প্রেমে মোবাইল ফোন মাস্ট)। ঝাড়ির নিত্যতা সূত্রের প্রয়োগটা এনজয় করলাম খুব।

তবে তোমারে মাইনাচ, এই গল্প দেখে আমার একটা পুরান গপ পাড়তে ইচ্ছা করতেছে অথচ কালকে ফ্রাইঞ্জল বাষায় বক্তিমার কিছু্ই রেডি করিনাই At Wits End

২০

তানবীরা's picture


না সই, এইটা পুরাই মিলিনিয়াম দশকের মাঝামাঝির Tongue

তোমার গল্প না শুনলে আমার পেটের খিচুড়ি হজম হবে না, তাড়াতাড়ি লিখো। তোমারে আমার প্লিইইজ লাগে

২১

শাওন৩৫০৪'s picture


বারেব্বাহ, গল্পের মাঝে মাঝে ঢাকা উইঠা আসাটা সেরাম হৈছেতো।

২২

তানবীরা's picture


আরে বিলাই নাকি???? পথ খুঁজে পাইছো

২৩

জ্যোতি's picture


মজা পাইলাম প্রেমকাহিনী পড়ে।তবে প্রেম ভালুবাসা নাফরমানী কাজ। Tongue

২৪

নাজমুল হুদা's picture


নাফরমানী কাজের কাহিনী পড়ে মজা পাওয়া ভালো লক্ষণ নয় ।

২৫

তানবীরা's picture


Cool Cool Cool

প্রেম ভালুবাসা নাফরমানী কাজ।

প্রেম ভালুবাসা নাফরমানী কাজ।

২৬

হাসান রায়হান's picture


সেইরকম প্রেম কাহিনী। ক্যাপ্টেন রক্স Smile

২৭

তানবীরা's picture


থ্যাঙ্কু মেজর Wink

২৮

রশীদা আফরোজ's picture


তাতাপু, রাজমিস্ত্রির ব্যাপারটা নিয়ে খটকা লাগছে, আমি এক মেয়েকে চিনতাম নিজেদের বাড়ির কাজ করছিল যে রাজমিস্ত্রি তার সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করে ফেললো। পরে অবশ্য মেয়ের বাপ কিলিয়ে প্রেমের ভুত নামিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ঘটনা হলো ঐ মিস্ত্রি ছিল বয়স্ক, মাঝারি উচ্চতার লেবেন্ডিস মার্কা আর মেয়েটা ছিল অতি আধুনিক নাকউঁচা টাইপ।
বড়ই আজিব এই রাজমিস্ত্রি ব্যাপারটা।

২৯

তানবীরা's picture


এ ধরনের ঘটনা ঢাকার প্রত্যেক পাড়ায় আছেরে রাশু। কেমন আছিস?

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

তানবীরা's picture

নিজের সম্পর্কে

It is not the cloth I’m wearing …………it is the style I’m carrying

http://ratjagapakhi.blogspot.com/