তানিয়া বখশ'এর ব্লগ
সমুত্থান
ঝরাপাতার ঋতু শেষ হয়ে এলো
নতুন বৈশাখে তান্ডব চাই ।
ভুলে গিয়ে জরাগ্রস্থ জীবনের কথা
(যেখানে মাথা নুয়ে কেঁপেছিলাম
বেতসলতার মত - অনাবশ্যক আবেগে )
আবার লন্ডভন্ড করে দিতে চাই দশদিক !
ঈশাণ কোনে মেঘ দেখে আজও
উচ্ছসিত হয়ে উঠি প্রদীপ্ত সুখে ।
তবে কি পূর্ব পুরুষের সংগ্রামরত রক্ত প্রবাহ
বয়ে চলেছি যুগের পর যুগ ?
তবে কি এখনও প্রজ্বলিত বিপ্লবের বহ্নিশিখা ?!
শোণিত আকাশ বজ্রের হুংকারে
জানান দেবে সেই মন্ত্র ?
যেখানে মৃত্যু মানে দৃপ্ত বেঁচে থাকা !
তবে এসো আলিঙ্গন করি সেই তেজস্বী অগ্নিকে
পুড়িয়ে ফেলে রাজকীয় আলস্য
হয়ে উঠি একবিংশের নতুন মৌমাছি ।
আমরা হেঁটেছিলাম বাতাসের বিপরীতে
আমরা হেঁটেছিলাম গন্তব্যহীন
আমাদের পায়ের নীচে সবুজ জমিন ।
আমরা রাখিনি হাত পরস্পরায়
তবু আমরাই ছুঁয়ে দেখি যুগলভাবে---
স্বপ্নহীন জীবন যেখানে থেমে আছে অনেককাল;
কবেকার স্মৃতিতে ।
আমরা কথা বলি,কোন কথাই হয় না তবু
চেয়ে দেখি স্বচ্ছ দিঘীর টলমলে জলে
গলে পড়ে সূর্যের সোনালী রশ্মি ।
তবু আমরা কিছুই দেখি না !
শুধু নীলসবুজ পাখিটা উড়ে গেলে 'পর
দীর্ঘশ্বাস ফেলি আর
চোখের কোণে জমে ওঠা শিশির বিন্দু ছুঁয়ে
দাঁড়িয়ে থাকি তেপান্তরের মাঠে
কি
ছু
ক্ষ
ণ
তারপর ফিরে আসি
"যে জীবন শালিকের,দোয়েলের " তাকে ফেলে
যে যার গন্তব্যে ।
হয়ে উঠি আবার নাগরিক ভারবাহী !
শুভ জন্মদিন বাবা
প্রিয় আব্বা,
স্বপন-পারের ডাক শুনেছি
আজ একটা রাজ্য পেলাম।একান্তই আমার নিজস্ব।এখানে আমিই সম্রাজ্ঞী।আমি আমার ইচ্ছে মত,ইচ্ছে ঘুড়ি ওড়াবো আকাশে।স্বপ্নরেণু কুড়িতে কুড়িয়ে গেঁথে ফেলবো শব্দমালা। আহা কি আনন্দ !
নৈঃশব্দরা আজ ভাষা এনে দিল অনেকদিন পর।আমার নিঃসঙ্গ বেদনার গান, অনিশ্চিত অধ্যায় সব জমা করে রাখবো রাজ্যের কোষাগারে।আমি জেনেছি জীবন পোড়াতে জানে যেমন,দিতেও পারে তার চেয়ে ঢের।কে আর বলে কাঙাল আমায় !আমি পেয়েছি স্বপ্নলোকের চাবি।
আজি ওই আকাশ-'পরে সুধায় ভরে আষাঢ়-মেঘের ফাঁক
হৃদয়-মাঝে মধুর বাজে কী উৎসবের শাঁখ।।
একি হাসির বাঁশির তান,একি চোখের জলের গান--
পাই নে দিশে কে জানি সে দিল আমায় ডাক।
পুনশ্চঃ কৃতজ্ঞচিত্তে জানাচ্ছি যে লেখাটির শিরোনাম ও ব্যবহৃত গানটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতবিতান থেকে নেয়া।