র্যাব কি নিজেরাই বিচার শুরু করে দিল? এ তো ভয়াবহ অবস্থা.....
শুরুতেই একটা গল্প তৈরি করি...
রাত প্রায় ১২টা... রহিম দ্রুত পা চালাচ্ছে... জায়গাটা ভাল না... প্রায়ই ছিনতাই হয়... কয়েকদিন আগেও রহিমের মোবাইলটা নিয়ে গেছে... বৈষয়িক কারণেই রহিম এখনো একটা মোবাইল কিনতে পারে নাই... ভুশ্ করে একটা কালো গাড়ি তাকে অতিক্রম করে চলে গেল.. রহীম নিশ্চিত হলো যে এখন আর কোন ভয় নেই... মানুষ ভাবে এক আর হয় আরেক... কালো গাড়িটা কিছুদুর গিয়েই আবার ফেরত এসে থামল রহীমের কাছে... ৪/৫ জন কালো পোষাক পড়া লোক আগ্নেয়াস্ত্র উচিয়ে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে গেল...
একটা রপ্তানীমুখি পোশাক কারখানায় রহিম লাইন সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিল। ওইদিন শিপমেন্টের কারণে প্রচণ্ড কাজ থাকায় রহিমের গার্মেন্টস থেকে ফিরতে প্রায় মাঝ রাত। গাজীপুর মেইনরোডের উপরেই গার্মেন্টস। প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে রহিম থাকে। প্রতিদিন হেঁটে হেঁটেই তারা যাতায়াত।
এর পর আর রহীমকে খুঁজে পাওয়া যায় নি...
... এমন ঘটনা আমরা হরহামেশাই পত্রিকার পাতায় দেখে অভ্যস্ত হয়ে পরছি... এখন আর এইসব আমাদের স্পর্শ করে না...
কিন্তু আজকে একটা নতুন ঘটনা পড়লাম...
কাউকে গ্রেফতার করার পর তাকে আদালত হাজির করতে হয়... বিচরকি কাজ আদালতের বিষয়... আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নয়... বিশেষ কিছু কাজে ভ্রাম্যমাণ আদালতের প্রয়োজন হয় হয়তো... সেটা নিয়েও অনেক প্রশ্ন আছে... কিন্তু কাউকে ধরে এনে অফিসে আদালত বসানো অধিকার সম্ভবত এখনো কাউকে দেয়া হয় নাই। তাহলে প্রতিটা থানায় এমন আদালত বসে সকল বিচার কার্য নিষ্পন্ন হত এবং আদালতের প্রয়োজনীয়তা অনেক কমে যেত। কিন্তু এই আদালতী ক্ষমতা র্যাব কোথায় পেল? আমার পক্ষে যে সব কিছু জানা সম্ভব নয় এটা জানি... কিন্তু প্রিন্ট মিডিয়া/টিভি মিডিয়ার বদৌলতে এখনে দেশের বেশীর ভাগ নাগরীকই অনেক তথ্য সম্পর্কে অবগত... কিন্তু এমন কিছু আমার স্মরণে আসছে না...
দেশের একজন নাগরিক হিসেবে বিষয়টা আমার জানার বাইরে...
সংবাদে জানা যায়
বিকালে র্যাব-১ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উপপরিচালক মো. আহসান কবীর জানান, মেয়েটি তার ভাইকে নিয়ে র্যাব কার্যালয়ে এসে অভিযোগ করলে র্যাবের একটি দল উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৫ নম্বর সড়কের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই ওই তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
http://bdnews24.com/bangla/details.php?cid=2&id=171817
গ্রেফতারর পর আসামীকে নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করাটাই নিয়ম বলে জানি। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কারই বিচরকি ক্ষমতা নেই। এখন যদি নিজেরাই আসামী ধরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বিচার সম্পন্ন করে তাহলে কোর্টকাছারির প্রয়োজনটা কিসের জন্য? সব কিছুই তো ঘটনার সময়ই শেষ করে দয়া যায় তাহলে...
আমার জানায় ভুল থাকতে পারে... এইটা যদি নিয়ম হয়ে থাকে আমি এই নিয়মটা আমার কাছে ঠিক গ্রহনযোগ্য মনে হলো না... আমি এই নিয়মের বিরোধীতা করছি...
বিচার বহির্ভূত সকল হত্যাকাণ্ড বন্ধ এবং এর সুষ্ঠ বিচার (নিজেরাই আদালত বসিয়ে বিচর নয়) চাই





ভাগ্য ভালো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্রসফায়ার বা এনকাউন্টারের রায় দেয় নাই...দুই বছরের কারাদণ্ডেই থামছে।
র্যাব বিচার বহির্ভূত ভূমিকা বলতে খালি বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডরেই বোঝে। এইরকম তাৎক্ষণিক আদালত কোন আইনের ভিত্তিতে হইলো সেইটা বুঝলাম না। শাস্তির অবস্থা দেইখা মনে হইলো যৌন নিপীড়নমূলক অপরাধের শাস্তি দিছে...ঐ ধরনের অপরাধে বিশেষ আদালতের বিধান করা হইছে। কিন্তু অভিযোগ তো মারাত্মক...জোর কইরা বিবস্ত্র কইরা ভিডিও ধারণের মামলায় তো আরো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দরকার ছিলো...যেইটা বিচারিক আদালত ছাড়া সম্ভব না।
নারী নির্যাতন মামলা জামিন অযোগ্য... সো কোর্টে পাঠাইলে বিচার ঠিক হইত... এখন উল্টা গুরু পাপে লঘু দণ্ড হইল...
এখন কি আদালতের প্রয়োজন ফুরাইল? আইনগত প্রয়োজনে মানুষ এখন কোথায় যাবে? র্যাবের অফিসে? নাকি থানায়? বিষয়টা সুরাহা হওয়া প্রয়োজন
সরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে আমরা আর কিছু পাবনা দেওয়া ছারা। ওদের আমরা জান দেব, প্রান দেব, মান দেব,সম্মান দেব, সম্পদ দেব, সন্তান দেব, হাত দেব, পা দেব, স্বপ্ন দেব -- ওরা নেবে আর আমরা খোদার কাছে বিচার দিয়ে রাখব যদি খোদার কন দিন মর্জি হয় বিচার করবেন।
সাহারা খাতুন শুধু দেখছি দেখছি করেই যাবেন আর-------------
সাহারা আন্টির অবশ্য এর চাইতে বেশী কিছু বলার নাই.... তাকে নিয়োগ দেয়া হইছেই এই কারনে
র্যাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যোগ দেয়া নতুন ঘটনা হলেও এটা ঐ হারামজাদাদের অপরাধে নতুন মাত্রা যোগ করছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্দিস্ট কিছু ধারার আওতায় বিচার করার ক্ষমতা রাখে। এই রায় আদালতে টিকবে না।
যে রায় টিকবে না সেই রায় দেয়ার মানেই তো হইলো হাস্যকর বিচার
টুটুল ভাই ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা কি দিব্যি ভুলে গেছেন?
অপেক্ষায় থাকুন নেক্সট এপিসোডের জন্য।
এরম ডিজিটাল দরকার নাই
আমরাও দেখছি আর দেখছি
এর কোন সমাধান নেই
দেশে এখন কোন বিচার নাই।
সেটাই
লিঙ্কটা কাজ করছে না। যাহোক কিছু বলার নেই আর দেশ নিয়ে। এবার খুব আশায় বুক বেঁধেছিলাম ওয়ান ইলাভেনের শিক্ষা কিছু কাজে লাগবে ভেবে
কিন্তু যাহা লাউ তাহাই কঁদু
খাইল সব সদু মদু
মানুষের চরিত্রে ঘুণ ধরছে... কয়েক জেনারেশন পর যদি ঠিক হয়... এভাবে সম্ভব না...
আমরা আমজনতা কিছু চাইলেই তো আর সেটা হবে না। তাহারা যাহা চাইবেন তাহাই হবে।
এখন হইল গুপ্তহত্যার যুগ
এই পেটোয়া বাহিনী তো নিজেরা বিচার করছে শুরু থেকেই!
এখন আর বিচার টিচারে কোর্ট কাচারি হয়না। রাস্তা ঘাটেই হয়ে যায়। বুঝলেননা, এসব হল ডিজিটাল ফরমূলা
মন্তব্য করুন