ইউজার লগইন

গোলাম আযমের রায়... এবং বাংলাদেশের গালে একটি চপোটাঘাত

রাষ্ট্র পক্ষের গাফিলতি:
"

বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীর বলেন, ‘রায় দিতে তিন মাস লেগেছে বলে অনেকে আমাদের সমালোচনা করেছেন। সমালোচনা করতেই পারেন, কিন্তু আমাদের কিছু সমষ্টিগত সমস্যা আছে। আমাদের ট্রাইব্যুনালে এক সেট স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্র ছাড়া আর কোনো আইনের বই নেই, সেটাও দুই ট্রাইব্যুনাল শেয়ার করে পড়তে হয়। গত ৪০ বছরে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শত শত বই লেখা হয়েছে, কিন্তু সেগুলো রাষ্ট্রপক্ষ আমাদের দেয়নি, আমরাও পাইনি। বিভিন্ন জায়গা থেকে রেফারেন্স সংগ্রহ করে আমরা রায় সমৃদ্ধিশালী করার চেষ্টা করেছি। তার পরও আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। এ জন্য রায় দিতে বিলম্ব হয়েছে।

"

এ দায় কার? এটা তো সরাসরি সরকারের ব্যর্থতার কথা। তারা সঠিক ভাবে ট্রাইবুনাল এবং এর সাথে সম্পৃক্ত সকল বিষয়াদি সঠিক ভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থতার বয়ান শুনলাম।

২. বিচার কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে যে বিষয়গুলো

রায়ে বলা হয়, মামলার ঘটনা, আইনগত অবস্থান এবং অপরাধের গভীরতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় ট্রাইব্যুনাল সর্বসম্মতভাবে মনে করেন, গোলাম আযম সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার যোগ্য। একই সঙ্গে এটাও বিবেচনা করতে হবে, তাঁর বয়স ৯১ বছর। গত বছরের ১১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল তাঁকে কারাগারে পাঠান। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ বিএসএমএমইউ হাসপাতালের কারাকক্ষে পাঠিয়ে দেন। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে সেদিন থেকে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন। এসব বিষয় বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল সর্বসম্মতভাবে মনে করেন, গোলাম আযমকে কিছুটা প্রশমিত শাস্তি দেওয়া হলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

রায়ের ৩৯১ নম্বর অনুচ্ছেদে The International Criminal Tribunal for the former Yugoslavia (ICTY) এর Blaskic case এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হলো।
In Blaskic case, the Tribunal observed that if the elements of military commanders or civil superiors are fulfilled, the superiors are liable to be awarded heavier sentences even than that of the actual perpetrators. In the context of trial relating to international crimes, we are of the opinion that the plea of old age or belated prosecution does not diminish the guilt of the accused.

অর্থাৎ ব্লাসকিক মামলায় ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ হলো- যদি মিলিটারি কমান্ডার কিংবা সিভিল সুপিরিয়র হওয়ার উপাদানগুলো পূর্ণ হয় তাহলে সেই উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে প্রকৃত অপরাধীর তুলনায় গুরুতর শাস্তি প্রদান করতে হবে।

এরপরেই ট্রাইব্যুনালের মতামত – আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারের প্রেক্ষিতে বার্ধক্যের অজুহাত (plea of old age) কিংবা বিলম্বিত বিচার অভিযুক্তের অপরাধ কমায় না।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে পরের অনুচ্ছেদগুলোতেই আদালত স্ববিরোধিতার প্রকাশ ঘটিয়েছে। ৩৯২ অনুচ্ছেদে ট্রাইব্যুনাল বলেছে-
Having considered the attending facts, legal position and the gravity and magnitude of the offences committed by the accused, we unanimously hold that he deserves the highest punishment i.e. capital punishment as provided under section 20(2) of the ICT Act of 1973. But in the same breath, we cannot overlook the mitigating circumstances which have come up before us for its due consideration.

অর্থাৎ প্রাপ্ত তথ্য, আইনী অবস্থা এবং অভিযুক্তের কৃত অপরাধের গুরুত্ব ও মাত্রা বিবেচনা করে বিচারকরা সর্বসম্মতিক্রমে একমত হয়েছেন যে, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনের ২০(২) ধারা অনুযায়ী গোলাম আযমের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হওয়া উচিত।

সাজার বিবরণ:
চূড়ান্ত আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আসামি গোলাম আযমকে প্রথম (ষড়যন্ত্র) ও দ্বিতীয় (পরিকল্পনা) অভিযোগে ১০ বছর করে ২০ বছর কারাদণ্ড, তৃতীয় (উসকানি) অভিযোগে ২০ বছর কারাদণ্ড, চতুর্থ (সহযোগিতা) অভিযোগে ২০ বছর কারাদণ্ড এবং পঞ্চম (সিরু মিয়া হত্যাকাণ্ড) অভিযোগে ৩০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হলো। কারাদণ্ডের প্রতিটি শাস্তি ধারাবাহিকভাবে একটির পর একটি বা মৃত্যু পর্যন্ত চলবে।

মাত্র কয়েক দিন আগেই আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তগ্রহণে ভুমিকা রাখা কয়েকজন নেতা আমেরিকান এমবাসেডরের বাসায় মিটিং করে। এটা কি তারই বহি:প্রকাশ? মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন... কে দিবে তার উত্তর?

দণ্ড ঘোষণা শেষ হলে এজলাসে উপস্থিত গোলাম আযমের ছেলে সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহহিল আমান আযমী কাঠগড়ার কাছে গিয়ে গোলাম আযমকে বলেন, ‘সব ঠিক আছে, ফাঁসি হয়নি।’ এ সময় আযমীকে উৎফুল্ল দেখা গেছে। আসামিপক্ষের উপস্থিত আইনজীবীদের চোখে-মুখে ছিল স্বস্তি। তাঁরাও আসামির কাঠগড়ায় বসা গোলাম আযমের দিকে এগিয়ে যান।

বিষয়টা আসলে কি নির্দেশ করে?

যদি জামাতের সকল নেতার ফাঁসি ঘোষনা করা হয় তবুও যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের আপরাধের কাছে কিছুই নয়। গোলাম আযম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের সর্বাধিনায়ক। তার নির্দেশেই সকল অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। সো, যারা সরাসরি হত্যা/ধর্ষন/লুণ্ঠনে জড়িত তাদের চাইতে কয়েকগুন বেশী সাজা তার প্রাপ্য। তাকে ১০বার ফাসিঁ দিলেও তার আপরাধের পূর্ণ বিচার সম্ভব নয়।

অথচ... ... ...

মুজাহিদের বিচারের রায় আগামী কাল। আর কত হাস্যষ্পদ করবেন নিজেদের? আয়নায় কি দেখেন নিজের মুখ? দয়া এই ধরনের মলম দেয়া বন্ধ করেন।

(তথ্যসূত্র কৃতজ্ঞতা: একরামুল হক শামীম এবং প্রথম আলো)

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


মুখ খারাপ করে ফেলার রায় দিসে একটা। কিছু বলার খুঁজে পাইতাছিনা আর। Confused

আরাফাত শান্ত's picture


আওয়ামীলীগ খুশি, জামাত খুশি, আইনমন্ত্রী খুশি, গো আজমের পোলা খুশি, সরকার খুশি খালি আমরাই বেজার মুখে মেজাজ খারাপ করে বসে আছি!

শওকত মাসুম's picture


সমঝোতা

মেসবাহ য়াযাদ's picture


সবাইরে খুশি করনের সোল এজেন্সি নিসে নাকি সরকার, যতসব আহম্মকের দল Crazy

সামছা আকিদা জাহান's picture


চপোটাঘাত যদি হজমের অতিরিক্ত হয় তবে তার ফল মারাত্তক।

হয় ধ্বংসের খেলায় মাতে নয় পাগল হয়ে যায়। বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে শুধু শিউরে শিউরে উঠছি। কেন ওদের জন্ম দিলাম। যদি দিলাম তবে কেন এদেশে রইলাম।

টোকাই's picture


এমন রায় হবে জানাই ছিল। স্বাধিনতার স্বপক্ষে বিপক্ষে বলে আসোলে কিছু নাই। সব ভুয়া, সব রাজনিতিবিদ রা মাদারচোদ। নিজের গদির জন্য নিজের মা বোন রেও বেইচা দিতে পারে এরা। এবার যদি দেশের মানুষের হুশ হয় Sad

এ টি এম কাদের's picture


একশ ভাগ সঠিক বলেছন, নিজে কোন মত দিলামনা তাই.!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

টুটুল's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি আছি, একদিন থাকবো না, মিশে যাবো, অপরিচিত হয়ে যাবো, জানবো না আমি ছিলাম।

অমরতা চাই না আমি, বেঁচে থাকতে চাই না একশো বছর; আমি প্রস্তুত, তবে আজ নয়। আরো কিছুকাল আমি নক্ষত্র দেখতে চাই, শিশির ছুতেঁ চাই, ঘাসের গন্ধ পেতে চাই, বর্ণমালা আর ধ্বনিপুঞ্জের সাথে জড়িয়ে থাকতে চাই, মগজে আলোড়ন বোধ করতে চাই। আরো কিছুদিন আমি হেসে যেতে চাই।

একদিন নামবে অন্ধকার-মহাজগতের থেকে বিপুল, মহাকালের থেকে অনন্ত; কিন্তু ঘুমিয়ে পড়ার আগে আমি আরো কিছু দুর যেতে চাই।

- হুমায়ুন আজাদ