মা জয়িতা, হারিকেনটা নিয়ে আয় তো।
সালাম সাহেবের বয়স অনেক হল। এখন পুরাপুরি বৃদ্ব কালে আছেন। স্ত্রী তামান্নাও বুড়ি হয়ে গেছেন। একমাত্র ছেলেটাকে অনেক পড়া শুনা শিখিয়েছেন, বিরাট বড় চাকুরী করে আমেরিকায়। মাইক্রোহিট নামের একটা ওয়ার্ল্ড রিকগনাইসড কোম্পানীর অপারেশন ডাইরেক্টর। সারা বছর নানা দেশে ঘুরে বেড়ায়। ছেলেটা নিজের ইচ্ছায় ম্যচাচুসেটস এর এক বনেদী পরিবারে বিবাহ করেছে। বিদেশী ছেলের বউটা অনেক ভাল। বিবাহের পর অনেকবার এসে গেছে।
সালাম সাহেবের সাথে তার ছেলেবউয়ের একটা জায়গায় বিরাট মিল - ক্সীটিনা ও তার শশুরের মত বাংলার গ্রাম ভালবাসে। বিদেশী মেয়েটাকে দেখে সালাম সাহেব বার বার অবাক হয়। এত টেক শহরে থেকেও এত মাটির কাছাকাছি। কি করে এমন হয়! সালাম সাহেব তামান্নাকে নিয়ে কত চেষ্টা করলেন - গ্রামের কাছাকাছি যেতে। না, তামান্না ম্যাডামের নাকি গ্রাম ভাল লাগে না। গ্রামের পরিবেশ নাকি বাস করার মত নয়। চাঁদনী রাতে গ্রামে নাকি জ্বীন ঘুরে বেড়ায়, সুন্দরী মেয়েমানুষ পেলে নাকি ভর করে। তামান্না ছেলের কাছে আমেরিকাতেই থাকতে উৎসাহী। সবই কোপাল। বাড়ির গরু, উঠানের লম্বা ঘাস খায় না!
কিছুদিন আগে ছেলেটা এসে দিন সাতেক থেকে যায়, এমন বহুবার বছরে একবার এসে বৃদ্ব বাবা মাকে দেখে যায়। ছেলেটা অনেক চেষ্টা করেছে - তাদের আমেরিকাতে নিয়ে যেতে। সালাম সাহেব কিছুতেই রাজী নয়। এ মাটি, এ প্রিয় দেশ ছেড়ে কোথায় যাবেন। ছেলেটা এবার যাবার সময় তার মাকে নিয়ে গেছে। আমেরিকায় ভাল চিকিৎসা করাবে, পাশাপাশি ক্সীটিনা নাকি বলে দিয়েছে - বাংলা মা দেখবে।
সালাম সাহেব একা। সালাম সাহেব একাই দেশে থাকবেন। দেশে বললে ভুল হবে, একদম গ্রামের বাড়িতে! যৌবনে সালাম সাহেব গ্রামের বাড়ীতে একটা বিরাট দালান বানিয়েছিলেন। সালাম সাহেবের মা ফিরোজা বেগম বিশেষ করে বলেছিলেন - সালাম গ্রামে একটা ঘর বানা। সেই কথা সালাম সাহেবের কানে বাজত। বেশ মনোযোগ দিয়ে সালাম সাহেব মায়ের কথা রেখেছিলেন। সানবাঁধা ঘাটের পুকুর কেটেছিলেন ঘরের পাশেই। মায়ের সাথে বসে কত রাত্রে কথা বলে কাটিয়েছেন এই পুকুর পাড়ে।
সালাম সাহেবরা তিন ভাই। অন্য দুই ভাই গ্রামের বাড়ীতে তেমন আসত না। একজন ঢাকা, অন্যজন চট্রগামে সেটেল্ড, আর গ্রামে ফিরবে বলে মনে হয় না। আজকাল ঈদ চানেও আর গ্রামে যায় না। বড় ভাইয়ের এক মেয়ে - নাম জয়িতা। এ চমৎকার নামটা সালাম সাহেবই রেখেছিলেন। আমাদের বিজয় দিবসের দিন ওর জন্ম হয়েছিল বলে জয়িতা।
সালাম সাহেব, জয়িতাকে খুব স্নেহ করেন। তার মেয়ে ছিল না বলে জয়িতাকে মেয়ের মত জানেন। আদর করে ডাকেন ‘মাদার জয়িতা’, মাঝে মাঝে দার বাদ দিয়ে বলেন ‘মা জয়িতা’ । জয়িতাও চাচুর জন্য জান প্রান। এবার গ্রামে যাবার আগে ভাবলেন, জয়িতাকে ফোন করা যাক। ও যদি যদি যেতে চায়, মন্দ হবে না। চাচা ভাতিজী মিলে গ্রামে এবার একটা কাজ করবেন - বয়স্ক শিক্ষা প্রকল্প।
সালাম সাহেবদের গ্রামের অনেকই বড় লোক। প্রায় বাড়ীতেই পাকা বাড়ী। যুব বয়সী তেমন কারো দেখা পাওয়া মুশকিল। অনেক বয়স্ক ব্যক্তি দেখা যায়, যাদের ছোট বেলায় দেখেছেন। সালাম সাহেব ভেবে পান না, কি করে এই গ্রাম এত পরিবর্তন হয়েছে। প্রায় পরিবারেরই অনেক লোক বিদেশ থাকে। তাদের উপার্জিত টাকায় এই গ্রাম এত উন্নতিতে গেছে।
(আগামী পর্বে শেষ হবে)





চুপচাপ পড়ে গেলাম
চুপচাপ পড়ে গেলাম
চালায়া যান।পড়তেছি।গুড জব।
চুপচাপ পড়ে গেলাম
চুপচাপ পড়ে গেলাম
উদ্রাজী ভায়া হিট কাউন্টার এটা কী কই পাইছেন! আমাদেরতো এইটা নাই
আমি ভাতিজি হইলে আপনি ভায়া বলেন কেমনে? চাচা কইবেন। নাকি আমি আপনেরে ফুপি ডাকমু?
হ কাকা এইটা কই পাইছেন??এইটার কাম কি?কয়দিন আগে আপনার পাতাতে এক ট্যাবলেটের(Tab. soma 350 mg) বিজ্ঞাপন দেখেছিলাম।এখন দেখি এইটা নাই।
ভুল হয়া গেছে। কাক্কু ডাকলাম, তুই আমারে আগে যা ডাকতি তা-ই ডাক।
লীনাফুপ্পি ডাকতে জুইত লাগতেছে না। আপনারাই ঠিক করেন আমি কি সবাইরে চাচা, ফুপু ডাকবো কিনা। যেমন-রায়হান আংকেল, মাসুম আংকেল......
মন্দ হবে না, তাদেরকে আংকল টাংকল ডাক আমি আগের মতই থাকি।
হাহামগে
পাঠ করিলাম।
সবার মতো চুপচাপ পড়ে গেলাম। দেখি সামনের পর্বে কি আসে।
সবার মতো চুপচাপ পড়ে গেলাম। দেখি সামনের পর্বে কি আসে।
চুপচাপ পড়ে গেলাম
সবার মতো চুপচাপ পড়ে গেলাম। দেখি সামনের পর্বে কি আসে।
আর সালাম সাহেবের ছেলের বৌয়ের নামের উচ্চারণ কি?আমারে যদি একটু চুপে চুপে বলতেন।
রাসেলের লগে আমারেও...!
আম্মো চুপ্চাপ পড়তে চাইছিলুম কিন্তু বিদেশি বৌ এর নাম উচ্চারণ নিয়া রাসেলের মত আমারো প্রশ্ন জাগছে।
চাচ্চু ডাকতে বলে লীনান্টি।এসবের সমাধান করেন নাইলে পিকনিক গিয়া বিপদে পড়মু।
লীনান্টি
আমার কি দুষ?আপনারা ঠিক করেন প্লিজ, কি ডাকমু আমি? নাইলে পিকনিকে গিয়া প্যাঁচ লাগায় দিমু তো।
চুপচাপ পড়ে গেলাম
কী জানি একটা প্রবাদ শুনছিলাম-

চালন কয় সুঁইরে, তোমার পাছায় ছিদ্র...
বিষয় কি?

পুরাটা পইড়া কমেন্ট দিমু...।
তার পার কি হলো ...................কবে জানতে পারব ভাই
অনেক সুন্দর হয়ছে ........
এইমাত্র পড়লাম । এত দেরীতে পড়লাম আমি? ও, আজ সারাদিনই তো বাইরে ছিলাম । শুরুটা ভাল্ হয়েছে, এখন হারিকেন আনবার বিষয়টা কেমনে আসে, তা দেখে /পড়ে করা হবে আসল মন্তব্য ।
পেচ্ছাপেচ্ছি চলুক নিরবধি ।
রাত তো অনেক হলো । জয়িতা এখনও হারিকেন নিয়ে কেন আসে না ?
কাকা@হারিকেনের পরের পর্ব কবে দিবেন??আর মাসুম ভাইরে নিয়া যে মেগাধারাবাহিক লিখতেছেন সেটার কি খবর??
বছরে শুরু কাকা, আমি অফিসের কাজে চরম ব্যস্ত। মন্টাও ভাল যাচ্ছে না। কোথায় যেন গেঁথে যাচ্ছি।
সবারই মন খারাপ ব্যাপার কি??শৈত্য প্রবাহের সাথে এই মন খারাপেরও কিছু চলে নাকি??
উদরাজী ভাইয়ের গল্প সব সময়ই ভাল লাগে, কিন্তু নিজ জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারনে প্রায় সময় পড়ে পড়ে ফিরে যাই, কমেন্ট আর করা হয় না। অনুভুতি প্রকাশের অক্ষমতায় ছটফট করি। এ এক বিষম ব্যাপার।
মন্তব্য করুন