ইউজার লগইন

মণিকা রশিদ'এর ব্লগ

জল পাতা ঝিকিমিকি

জল ও জ্যোৎস্নার সাথে অন্ধকার হাতে নিয়ে বসে আছি। ।
হাতের তালুতে অন্ধকারের গাছপালা ভালো করে জেগে ওঠার আগেই প্রতিবার কেমন অস্বস্তিকর সকালের আলো ফোটে।।। আজ ঠিক করেছি এই অরণ্যের মধ্যে আমি পথিকের মতন হাঁটবো। কোনো অস্বস্তির মধ্যে যাবোনা। অনেক হয়েছে। এখন নিজের চাওয়া-পাওয়া, স্বপ্ন-প্রাপ্তির কাছে জবাবদিহিটা জরুরী।

ইদানীং প্রায়ই এমন প্রতিবিম্বের একেকীত্ব ভালো লাগে। জলের মধ্যে যে্মন রাত্রির ছায়া গাঢ হয়, নিজের সাথে নিজের কথা বলাটাও তেমনি গভীর ভাবে সাম্প্রতিক সময়ের জীবনযাপনের ধরণটার অসাড়তা সামনে এনে ফেলে রাখে। একদম অবাঞ্ছিতের মতন সেই অনুভূতি পায়ের কাছে এসে বসে থাকে। আমি তাকে এড়াতে পারিনা এখন। ইদানিং নিজের কথা ভাবতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে একা, অন্ধকারে এই সময়গুলি পেতে। আঁধার আমার ভালোলাগে।

অমা

পর্বত, তুমি যেভাবে দেখেছ আকাশ
চোখের গোলক থেকে নদী ছুঁয়ে গেছে শুধু তারে
তাহারে পারিনি ছুঁতে তোমারেও না
নৈবেদ্য অপেক্ষায় আজও প্রসাদের সুরে
দূরে দূরে সরে যায় জীবনের
বেদমন্ত্র সব।
ভোলগার প্রাচীন তটে আশ্রিত প্রজাপতি
আবারও ঠিকানা খোঁজে বিনা প্রার্থনায়
শিখিনি ঋষির কাছে, তোমার কাছেও তাই হয়নি যাওয়া
তোমার কাছে আর হবে না যাওয়া,
ও আকাশ,
বর্ষের ঝড়-জল সয়ে যাওয়া গাছ

প্রেম

দশদিক এলোমেলো, একযুগ বয়স কমেছে
আজ সন্ধ্যায়!
রাতজাগা ধূলার ইন্ধনে নড়ে শ্যামলা পাহাড়
কার সাধ্য বিবর্তন থামায়!
সময়ের কাছে দিই দীর্ঘ স্বীকারোক্তি
আমরা তো একসাথে গিন্নিবান্নি পাতানো সংসার
একটিমাত্র সন্ধ্যায়;
ধোঁয়ার কলঙ্ক থেকে মুক্ত করি
হলুদ অশথ পাতা
চার হাত এক করে ধরে ফেলি
আকাশের খসে যাওয়া তারা
চোখের পাপড়ি পেলে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে তাকে
মনে মনে বলি-
থালা যদি ভরবে জোছনায়,

পরিক্রমা

চেনা বিন্দু স্বীকার্য নয়, অচেনায় মুগ্ধ পরিক্রমা-
বিগত দিনের গান শেখালো কি?
অসময়ে প্রকৃত স্থি্র
মাটির গন্ধে মুখ;
চেনা হেমন্তে্র ধানে বিগত বৈশাখ
স্মৃতি থেকে কোন কিছু
ঝেড়ে ফেলা যায় কি আসলে?
স্মৃতিতে লাঙল চলে,
বাতাসের স্পর্শ পেতে উঠে আসে
হাড়হীন প্রচ্ছন্ন প্রবাস
একা লাগে?
কার বলো একা লাগে না!

ছায়াবাতি

ঘন জারুলের বনে মুগ্ধ কুয়াশায়

প্রস্তরিত মায়া এসে নিতান্ত অবুঝ জালে

ছায়াদের গতিবিধি বেঁধে দিয়ে যায়।

শিকারী পাখিও আজ যাপিত রাতের তীরে

অলৌকিক আলেয়ার বিভ্রান্তি উৎসুক।

আলো কি চোখের ভুল, দেখেছো আলো?

হিমানী উদাস মাঘে নির্বিরোধী তানপুরা

সুরে বাঁধে আলোহীন সন্ধ্যার বন।

যাবে বুঝি পতিত পাতার দেশে, সেই সুখে

দেখা

এমনিতেই পৌঁছেছিল দেরীতে। ইমিগ্রেশানের কাজ করতে করতে অনেক দেরী হয়ে গেল। সোমা বিমানে ঢুকলো একেবারে সবার শেষে। হাত ব্যাগ তার দুটো, দুটোই সম্ভবতো তার নিজের ওজনের চেয়ে বেশী ভারি। ব্যগ দুটো টানতে এই প্রথম কাউকে সাথে পাওয়া গেল না; পেল্লায় সাইজের ব্যগ টানতে মাথা ওল্টাউল্টি করছে।