আমরা বন্ধু স্মৃতিগাঁথা - ২

আজ বলবো সেদিনের সেই আড্ডা থেকে ফিরে আসার পরের অনুভুতির কথা। সেদিন আড্ডা থেকে ফিরে গ্রুপে একটি মেইল করেছিলাম। বোঝার সুবিধার্থে সেদিন যেই ইমেইলটি করেছিলাম তার অনুবাদ করার চেষ্টা করছি।
ইমেইলের বিষয়ঃ আজকের আড্ডা
তারিখঃ ৮ই এপ্রিল ২০০৬, শনিবার, সময়ঃ রাত ১০টা ১৮ মিনিট
ইমেইলের বিষয় বস্তুঃ
কেমন আছেন? আজকের আড্ডা এতটাই ভাল লেগেছে যে পরবর্তীতে কোন আড্ডা মিস দিতে চাইনা। অবশ্যই কোন কাজ না থাকলে মিস দিব না। আজ সবাইকে একটু অবজার্ব করলাম। (দুঃখিত অবজার্বের বাংলাটা এই মুহুর্তে মনে আসছেনা) তাই সবার সম্পর্কে কিছু বলবো। কারো চারিত্রিক বৈশিষ্টের সাথে না মিললে কেউ মনে কষ্ট নেবেন না।
প্রথমেই ভাষ্করদাঃ ভ্রাম্যমান যাদুকর।
জয় ভাইঃ পাউরুটির জ্যামের মত।
নজরুল ভাইঃ এমন মিষ্টি হাসির অধিকারী যা আমাদের আটকে রাখে।
টুটুল ভাইঃ আইস্ক্রিম।
রিয়াদ ভাইঃ এক কাপ কোল্ড কফি।
নাজিয়া আপুঃ নীরব তবুও অনেক কথা বলে।
ফয়সাল ভাইঃ যথারীতি তিনি একজন ছড়াকার।
ফেরদৌস ভাইঃ আমার মতে আমাদের জন্য অনেক উপদেশ নিয়ে এসেছিলেন।
আসাদ ভাইঃ ফটোগ্রাফার, নাহ, তিনি ফটো শুট্যার।
নাহিদ ভাইঃ ভালবাসা বিরোধী।
সুমন ভাইঃ সবসময়ই যার যুক্তি প্রয়োজন।
মৌসুম আপুঃ পেছনে একটি গল্প আছে।
জুয়েল ভাইঃ দি আর্ট অফ স্মাইল।
ফাহিম ভাইঃ হ্যালো, আপনাকে শুনতে পাচ্ছিনা।
এবং
রনিঃ মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।
এভাবেই ইমেইলে উপস্থিত জনতার বর্ণনা দেয়ার এক চেষ্টা ছিল সেই বয়সের আবেগের তাড়না থেকে।
তবে, আর যাই হোক, সেদিন খুব মনে হয়েছিল, এমন ভার্চুয়াল একটা গ্রুপ থেকে এত আপন করে নেয়ার মত মানুষ এখনো আছে এই পৃথিবীতে।
আস্তে আস্তে আরো জানতে লাগলাম আমরা বন্ধু গ্রুপের বন্ধুদের, প্রায় সময় অনেক অনেক কথা হতো অনেকের সাথে মেসেঞ্জারে, ধীরে ধীরে এদের মধ্য থেকে কিছু মামুষকে খুব কাছে থেকে দেখতে লাগলাম। বিভিন্ন সময় আড্ডা এবং ফোনে যোগাযোগ ছাড়াও সময় পেলেই যারা কাছে থাকতেন তাদের সাথে দেখা করা, রাস্তার পাশের চা এর দোকানে বসে চা-সিগারেট।
আমি যেহেতু মোহাম্মদপুর থাকতাম, তাই সবচেয়ে বেশী যোগাযোগ এবং দেখা হত টুটুল ভাইয়ের সাথে, সত্যি বলতে টুটুল ভাই এমন একজন মানুষ যার সাথে তখনকার সময়ে শেয়ার করতাম না এমন খুব কম কথায় হয়তো আছে। যেদিন ফ্রী থাকতাম টুটুল ভাইয়ের অফিস শেষে, আশা টাওয়ারের পেছনে মামীর দোকানের চা আর জিয়া চত্তরে যেয়ে রাত অবধি আড্ডা। এখনো জীবনের অনেক বড় সিদ্ধান্তের সময় টুটুল ভাইকেই মনে হয় নক করে জানাই এবং পরামর্শ নিয়ে থাকি। এই মানুষটার অনেক অবদান আছে, আমার জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। এখনো এই মানুষটাকে নক করলে ঠিক আগের মতই পাই, এটা আসলে অনেক বড় পাওয়া আমরা বন্ধু গ্রুপ থেকে।
এবার আসি, রনির কথায়, বাংলাদেশ ছেড়ে আসার পরেও রনির সাথে মনে হয় আমার খুব কম দিন ই গেছে কথা হয়নি। এই ছেলেটা আমার ছোট ভাই নাকি বন্ধু মাঝে মাঝে ভুলে যাই। তবে এত অল্প বয়সে এত বেশি বুদ্ধিজ্ঞান সম্পন্ন ছেলে আমি কমই দেখেছি। একদিন অনেক বড় হবে এই ছেলেটা শুধুমাত্র তার সততা এবং সরলতার জন্য।
আসি নজরুল ভাইয়ের কথায়। আমি জানিনা এই ব্লগের কয়টা মানুষ এই চমৎকার লোকটিকে কাছ থেকে দেখেছেন, তবে আমার সুযোগ হয়েছিল বেশ কয়েকবার। পার্থিব কোন লোভ লালসা ছাড়া কোন মানুষের উদাহরণ দিতে হলে আমার দেখা মানুষগুলোর মধ্যে এই ভদ্রলোককেই স্মরণ করি। বইয়ের পোকা এই ভদ্রলোকের বাসায় ছিলাম এক রাত (পুতুল সেদিন বাবার বাড়ি ছিল)। সেরাতে কখন ঘুমিয়েছি ঠিক মনে নেই তবে সেদিন নজরুল ভাইয়ের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলে আমি এতটাই মুগ্ধ হয়েছি যে, আমার জীবনের ইচ্ছে আছে সময় এবং সুযোগ হলে আর একবার এমন রাতে বসতে চাই শুধুমাত্র এই লোকের বিভিন্ন বিষয়ে কথা শোনার জন্য।
কলি আপু, হয়তো ব্লগের অনেকে না জেনে থাকলেই গ্রুপের কেউ নেই এই নামের সাথে অপরিচিত। এত ভাল একজন মানুষ হতে পারে সামনে থেকে না দেখলে উপলব্ধি করা কঠিন। আপু এখন কাতার থাকেন স্বপরিবার এবং আল্লাহর রহমতে এক পুত্র সন্তানের জননী।
চলবে...।।।





ভালোই লাগতাছে পড়তে।
চলুক ......
ধন্যবাদ, কেমন আছেন বিমা ভাই?
আরো ছবি থাকলে দিয়েন ... চেনা মুখগুলার প্রাচীন আবস্থা দেখতে ভালোই লাগে
হ, দিমু
sritikatha porte darun lagche.choluk...aro chobi dien
জ্বী, আমার কাছে খুব বেশি ছবি নেই, যা ছিল তাও পুরোনো ল্যাপ্টপটা নষ্ট হওয়ার দরূন হারিয়ে গেছে, তাও চেষ্টা করবো।
এই সিরিজ টা দেখায় দিতেছে এখনকার কত অনিয়মিত মুখ একসময় কত নিয়মিত মুখ ছিল..!
লেখা ভাল্লাগতেছে..
আরেকটু ঘন ঘন লেখা যায়না?
হ, যারা হারিয়ে গেছে তাদের বের করে আনতে হবে।
সিরিজটা ভালো লাগতেছে, আরেকটু নিয়মিত দেন। আর ছবি দিয়েন আরো। সব্বাইকে পিচ্চিপিচ্চি দেখতে মজাই লাগছে।
ধন্যবাদ।
স্মৃতির জাবর কাটতে আসলেই ভাল লাগে। ভালো লেগেছে লেখা।
সবার সাথে সুর মিলিয়ে বলি পরের পর্বটা একটু তাড়াতাড়ি দিয়েন।
চেষ্টা করবো একটু দ্রুত দিতে।
আমি তো কাউকেই চিনতেছি না। ভাস্করদা'র সঙ্গের মেয়েটি কে? অতীব চেনা চেনা লাগিতেছে?
মিশু ভাই, পরের পর্ব তাড়াতাড়ি।
ভাষ্করদা এর সাথের মেয়েটি মৌসুম আপু। চেষ্টা করবো।
ও আমি তো ভাবছিলাম ঐটা 'নাম নাই'। স্যরি
দারুন ...চলুক....
ধন্যবাদ
আহারে.. ছয়টা বছর চলে গেল?
~
পুরা লিষটে পুতুলের কথা নেই অথচ ছবিতে তাকে দেখা যাচছে
মন্তব্য করুন