ছোট চাচা (পর্ব-২য়) নামটা এখনও ঠিক করতে পারিনি।
আব্বার ঘুম ভেংগেছে কিছুক্ষন আগে। চাচার চিৎকার শুনে হুড়মুড়িয়ে উঠে দরজা খুলে গেঁটের মুখে চাচাকে অজ্ঞান পড়ে থাকতে দেখে আব্বাও তত জোরে ভাইয়াকে ডাক দিলেন। এক চিৎকারে বাড়ির সকলে জেগে উঠলেন। চাচাকে ধরাধরি করে উঠানের চৌকিতে শুইয়ে চোখ মুখে পানির ঝাপ্টা দিতে লাগলেন। ইতিমধ্যে পাশের বাড়ীর সবাই এসে উপস্থিত হলেন। বড় চাচাও এসে হাজির হলেন। উনিও আলেম মানুষ। ছোট চাচার সাড়া শরীর কাঁদা পানিতে মাখামাখি, তাতে বড় চাচার মনে কেমন জানি সন্দেহ হল। বড় চাচা ছোট চাচার কানের কাছে মুখ নিয়ে আস্তে করে ডাকলেন শামছুল উঠ কি হয়েছে তোর। আর মা, বড় আপা দাদি বিরামহীন মাথায় পানি ঢেলে যেতে লাগলেন। এটাই যেন গ্রামাঞ্চলের চিকিৎসা। জর, হউক বা কেউ অজ্ঞান হউক মাথায় আচ্ছা করে পানি ঢাল নয়তো স্যালাইন দাও। যাক চাচার জ্ঞান ফিরতে তেমন সময় লাগলো না। বড় চাচা ও বাড়ীর সবার বার বার জেড়ার মুখেও ছোট চাচা একটি কথা বললেন না। বড় চাচা কিছু দোয়া দুরুদ পড়ে একটি তাবিজ গলায় পড়িয়ে দিয়ে উনাকে গোসল করানোর জন্য বড় ভাইয়াকে হুকুম দিয়ে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলেন।
গোসল করানোর পর চাচা নিজেই খাবার চাইলেন। চাচার নাস্তা খাওয়া শেষ না হতেই বড় চাচা এসে হাজির। ছোট চাচার পাশে বসে আদর করে বললেন বল তো ভাই তোর কি হয়েছে?
পিছন থেকে পরিচিত কণ্ঠস্বর, শামছুল কোথায় যাচ্ছিস। ছোট চাচা ধীরে ধীরে এই পরিচিত কণ্ঠস্বরটির রহস্য বলতে আরম্ভ করলেন।
আগেই বলেছি কোরআনে হাফেজ হবার পর চাচাকে কোরানের অর্থ তাফসির ও হাদিস বিশারদ বানানোর জন্য মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়। চাচাকে নিয়ে আব্বা ১০মাইল কাচা মাটির রাস্তায় বাইসাইকেল চালিয়ে নাম করা একটি কওমি মাদ্রাসায় যান। মাদ্রাসার অনতি দুরেই আমার চাচাত ভাইয়ের শশুর বাড়ি। দুপুরে আত্নীয়ের বাড়ীতে খাওয়া শেষ করে তায়ই সাব সহ আব্বা চাচাকে নিয়ে মাদ্রাসায় গেলেন। তায়ই সাব মাদ্রাসার ডোনার ও কমিটি সদস্য হবার সুবাদে সোজাসুজি মোহতারিমের কক্ষে চলে গেলেন। সালাম বিনিময়ের পর তায়ই সাব পরিচয় করিয়ে দেবার সাথে সাথে মোহতারিম চাচাকে হঠাৎ প্রস্ন করলেন।
বাবা তুমি সুরা আল বুরুজের শেষ আয়াত দুটি বলতে পারবে!
ইনশাল্লাহ পারব।
এমন সময় অতি সুদর্শন একটি ছেলে ছালাম দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে এক কোনায় দাঁড়িয়ে রইলেন। হুজুর তাকে কারো সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে আবশ্যক মনে করলেন না।
চাচা আয়াত দুটি অতি সুন্দর ভাবে আবৃতি করলেন।
মোহতারিম চাচাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি আয়াত দুটির অর্থ বলতে পারবে?
জি, না।
না, পারারই কথা। তুমি তো শুধু হেফজ করেছ। অর্থ এখন আমরা তোমাকে শিখাব।
তবে এ আয়াত দুটির অর্থ আমি তোমাকে বলছি।
৮৫:২১ বালহুয়া কোরানিম মাজিদ
অর্থঃ বরং এটা মহান কোরাআন
৮৫:২২ ফি লওহে মাহফুজ
অর্থঃ লওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ।
এখন বুজতে পারছ তো কেন আমি তোমাকে এ আয়াত দুটি জিজ্ঞেস করেছি। মহান এ কোরআন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন লওহে মাহফুজে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। আর লওহে মাহফুজ হল সংরক্ষিত একটি শ্লেট যার মধ্যে এটা লিপিবদ্ধ। তুমি সন্মানিত এ কোরআনকে তোমার অন্তরে ধারন করেছ (অবশ্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের রহমতে)। কাজেই তুমি আল্লাহ তায়ালার কাছে কতটুকু সন্মানিত একটু ভেবে দেখ! আর আল্লাহ প্রদত্ত এ সন্মান ও হক ধরে রাখার দায়িত্বও কিন্তু এখন তোমার।
মাস খানেক বাদে নতুন সেশনে চাচাকে ভর্তি করা হল। বিশাল বড় মাদ্রাসা, অনেক ছাত্র শিক্ষক, চাচাকে ভাল লাগল, তাই এক মাস পর মাদ্রাসায় ফিরে আসার মনোবাসনা নিয়ে দুই ভাই ফিরে চললেন বাড়ির উদ্দেশ্যে।
এক মাস পর চাচা তার গাট্টি বোচকা নিয়ে বাবার সাথে মাদ্রাসায় এসে হাজির হলেন। মাদ্রাসার মোহতারিম খাতির পূর্বক চাচাকে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে বললেন এটাই তোমার থাকার জায়গা। তোমার সাথে আর একজন থাকবেন বলে একজন হুজুরকে হুকুম করলেন হারুনকে ডেকে আন।
হারুন আসলো , চাচা দেখলেন প্রথমদিন যে ছেলেটি মোহতারিমের রুমে এসেছিল সেই ছেলেটিই । তা হলে তারই নাম হারুন। ছালাম বিনিময় হল কিন্তু তেমন কথা হল না।
ইতিমধ্যে দুপুরের খাবার সময় হয়ে এল। আব্বাকে খেতে বললেও আব্বা না খেয়ে তায়ই বাড়ী চলে এলেন। এই প্রথম চাচা ও আব্বা দু-জনেই একে অন্যের জন্য কেমন জানি মনের মধ্যে একটা ব্যথা ভরা টান অনুভব করলেন।
চাচাকে দুপুরের খাবার পর আরও কয়েকজন শিক্ষকের সাথে পরিচয় করান হল। প্রতিবারের পরিচয়ে তায়ই সাবের নাম উচ্চারন চাচার বিরক্তি লাগলেও কিছুটা গর্বও বোধ হচ্ছিল যে এত দুরেও আমাদের একজন প্রভাবশালী আত্নীয় আছেন। খাবার সময় একটা বড় হল রুমে পাটির উপর দস্তর খানায় অনেক ছেলে খাবার খেলেও চাচা তার রুম মেটকে দেখতে পেলেন না। চাচা উনার কক্ষে গিয়ে মাটিতে বিছানো তোষকের বিছানায় বিশ্রামের নিমিত্তে শুয়ে ক্লান্ত শরীরে ঘুমিয়ে পড়লেন। মাঝখানে একবার ঘুম ভাঙল,কিন্তু কই চাচার রুম মেট কোথায়? কাউকে জিজ্ঞেস করবে এমন পরিচিতও তো কেঊ নাই। আসরের নামাজের সময় পাশের রুমের জয়নাল নামে একজন চাচকে ডেকে উঠালেন। নামাজ পড়া শেষে চাচা জয়নালকে তাঁর রুমমেট হারুনের কথা জিজ্ঞেস করলেন। জানিনা বলে ছোট্ট একটা উত্তর দিলেন।
সন্ধ্যায় আরম্ভ হল চাচার নতুন শিক্ষাঙ্গনে নতুন শিক্ষার পাঠদান। প্রথম দিন পড়া শেষ করে এশার নামাজ বাদ খাওয়া শেষে সবাই আপন আপন কক্ষে ঘুমাতে গেলেন। চাচাও উনার কক্ষে গিয়ে শুয়ে পড়েছেন। নিদ্রাদেবী চোখের কোনে আশ্রয় নিতে যাবেন এমন সময় ঘরে ঢুকলেন হারুন। হারকিন ধরিয়ে এবার উনি পড়তে বসলেন। চাচা তো হতবাক,সবাই এখন ঘুমাতে যাবে আর উনি পড়তে বসছেন। চাচা জিজ্ঞেস করলেন তুমি ঘুমাবে না। আমার কালকের পড়া হয় নাই, তাই পড়তে হবে।
তুমি এতক্ষণ কোথায় ছিলে। বাইরে কাজ ছিল। জানি তোমার কষ্ট হবে। তাছাড়া আমার রাত জেগে পড়ার অভ্যাস। তোমাকেও পড়তে হবে, তবে এখন নয় যখন পড়ার চাপ বাড়বে। চাচারও রাত জাগার অভ্যাস আছে। কারন সময়ের হিসাব নিকাশ করে পড়ে তো আর কোরআনে হাফেজ হওয়া যায় না।
আসরের নামাজের পর ছেলেদের একটু আয়েস করার জন্য ছেড়ে দেয়া হয়। এরই মধ্যে কয়েকদিন পার হয়ে গেছে। চাচার সাথে রুমমেটের কিছু খাতিরও হয়ে গেছে। তবে বেশীর ভাগ সময় উনি কোথায় থাকেন তা আল্লাহ মাবুদই জানেন। চাচাও কিছু জিজ্ঞেস করেন না। তবে চাচার কোন সমস্যা বলার সাথে সাথেই জনাব হারুন সমাধান করে দেন।
একদিন আসরের নামাজের পর হারুন চাচাকে বলল, চল আজ ইন্ডিয়া যাব। এখানে বলে রাখি, যে মাদ্রাসার কথা বলছি, তা ইন্ডিয়া বর্ডার থেকে মাত্র কয়েশ মিটার দূরে। তাই বর্ডারের দুই পারেই কঠিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এপারে বি,ডি,আর ওপারে বি,এস,এফ। অযাচিত একটি পাখিও এদিক ওদিক যাবার যো নেই। চাচা রীতিমত অবাক হয়ে বললেন, বল কি বিডি আর না হয় বাদই দিলাম বি,এস এফ তো সোজা ইন্ডিয়ার লাল দালানে নিয়া যাবে। আরে ধেৎ, আমি আছি না। আমি তো ইন্ডিয়ান। তা ছাড়া তুমি বিসমিল্লাহ্র মানে জান না। জানি, তবে পূর্ণ একিনের সাথে বিসমিল্লাহ বলে যে কাজই করবা, আল্লাই তোমাকে সাহায্য করবে। কিন্তু কাজটা হতে হবে সৎ। আমরা পাশ পোর্ট ভিসা ছাড়া অন্য দেশে যাচ্ছি এটা কি সৎ কাজ। তা নয় তবে আমাদের তো কোন অসৎ উদ্দেশ্য নেই। মহান সৃষ্টি কর্তার সৃষ্ট অপার সুন্দর সৃষ্টি দেখতেই তো যাব।
এরই মাঝে উভয়ে একে অপরের বাড়ি ও আত্নীয় স্বজনের বিষয়ে কিছু কথা বার্তা হয়েছে। হারুনের বাড়ী ইন্ডিয়া, ছয় বোনের এক বোন আসামের নওগাঁয় তার বাড়ী। চাচা প্রশ্ন করেছিলেন। ইন্ডিয়াতে এত বড় দেওবন্দ মাদ্রাসা থাকতে তুমি বাংলাদেশে কেন এলে? দেওবন্দ মাদ্রাসা অনেক বড় ও নামকরা হলেও আমাকে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের এই মাদ্রাসা ভাল লেগেছে,তা ছাড়া আমার মাতৃভাষাও তো বাংলা। এরপর আর কোন প্রশ্ন থাকার কথা না, চাচাও কোন প্রশ্ন করলেন না।
চাচারও খানিকটা লোভ হল, তাই হারুনের সাথে বের হয়ে গেলেন। কিন্তু একি কাস্টমসের সদর রাস্তা দিয়ে দুজন চলে যাচ্ছে , বি,ডি,আর বা বি এস,এফ কেউ একটা প্রশ্নও করলেন না। চাচা জিজ্ঞস করলেন, কি ব্যাপার আমাদেরকে বি,ডি,আর , বা বি এস, এফ কেউ কিছু প্রশ্ন করল না কেন? আরে ওরা আমাদের দেখতে পেলে তো? তার মানে, মানে তোমাকে বলেছি না বিসমিল্লাহ বলে তুমি যা করবে তাই হবে? আমি বিসমিল্লাহ বলে একটা সুন্দর যায়গা দেখতে যাচ্ছি। আল্লাহ তায়ালা তাই সাহায্য করলেন। দেখতে দেখতে তারা দুজনে এক বিশাল পুকুর পাড়ে এসে হাজির হল। অনেক পুরাতন পুকুর কিছু দুরে দুরে সান বাধানো ঘাঁট,পুকুরের অদুরে পুরাতন ও পরিত্যাক্ত এক বিশাল রাজ বা জমিদার বাড়ি। পুকুরের পাড়ে এ হেন গাছ নেই যার নাম চাচার জানা আছে। নাম না জানা গাছের সংখ্যাই বেশি। তবে সবই ফলের গাছ। হারুন চাচাকে বলল তোমার যেটা ইচ্ছা খাও। চাচা হতবাক বলে কি, কার না কার গাছ আমি ফল খাব। আরে খাও এটা আমার আত্নীয়ের পতিত বাগান বাড়ী। এখানে এক সময় কত লোকজন থাকত এখন কেউ থাকে না। এত দুরে তোমার আত্নীয়। আরে একই দেশ না। চাচা মন যা চাইল কিছু খেলেন। কিন্তু হারুন কে কিছু খেতে দেখলেন না। মাগরিবের নামাজের সময় সমাগত চাচা বললেন চল যাই। হারুন বলল এখন যেয়ে নামাজ ধরা যাবে না, চল পুরাতন একটা মসজিদ এখানে আছে। ওখানেই নামাজটা সেরে নেই। হারুন কে অনুসরন করে চাচা ভাংগা মসজিদে প্রবেশ করলেন। কিন্তু জনমানবহীন এ জায়গাতে জরাজীর্ন মসজিদে এত সুন্দর জায়নামাজ কোথা থেকে এল। চাচা প্রশ্ন করলে হারুন বলল তুমি জাননা বা শুননি। মসজিদ আল্লাহ ঘর। তার হেফাজত আল্লাহ করেন। আর তার বান্ধার জন্য তিনিও তাকে সুন্দর করে রাখেন। শুধু আমাদের ঈমানের কমতির জন্য আমরা তা নিতে পারি না।
নামাজ পড়া শেষে তারা ফিরে আসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। কেন জানি চাচার মনে হতে লাগল তাদের আশপাশে অনেক লোকজনের আনাগোনা, কিন্তু দেখা যাচ্ছে না। তারা এপারে তো ওপারে কেমন জানি কোলাহল আর পানিতে কেঊ নামলে বা সাঁতার কাটলে যেমন ঢেউ হয় আবছা অন্ধকারে তেমন ঢেউ দৃষ্টি গোচর হচ্ছিল। সান বাধানো এক ঘাটে দেখা গেল অত্যন্ত সুন্দর দুটি সাপ জলকেলি করছে। এট সুন্দর সাপ চাচা জিবনে কখনও দেখেনি তোঁ বটেই কল্পনাও করেনি। হারুনকে কিছু জিজ্ঞেস করবে কি করবে না ভাবতে ভাবতে দেখে ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি পাজামা ও সাদা শাড়ি পড়া এক বৃদ্ধ যুগল হেটে যাচ্ছে। চাচার সব কিছু কেমন জানি অস্বাভাবিক লাগচ্ছিল, তাই কোন প্রস্ন না করে হারুনকে তাড়া দিল চল ফিরে যাই। কয়েক মিনিটেই দুজনে মাদ্রাসায় ফিরলেন। এটাও চাচার কাছে আরও বিস্ময় ঠেকল। যতদুর রাস্তা মনে হল এত তাড়াতাড়ি আসা কিছুতেই সম্ভব নয়। এবারও বি,ডি, আর বা বি,এস, এফ কেউ প্রশ্ন তো করলই না। হারুনও কোথাও একবার দাঁড়ানোর প্রয়োজন বোধ করল না। অথচ এপারে অপারে কত লোক পারাপারের অপেক্ষায় লাইন ধরে দাড়িয়ে আছে।
মাদ্রাসায় আসলে মোহতারিম হারুন কোথায় গিয়েছিলে প্রশ্ন করলেন তবে উত্তর দেবার আগেই হারুনকে উনার ঘরে ডাকলেন, কিন্তু চাচাকে উনার কক্ষে যেতে বললেন। কিছুক্ষণ পর হারুন ঘরে এলে চাচা জিজ্ঞেস করলেন, কি জন্য হুজুর ডেকেছিল? তুমি নতুন তোমাকে নিয়ে এখানে সেখানে যেতে মানা করলেন। ও কিছু না। তোমাকে কিছু বলবে না।
রাতের পড়া ও খাবার পর চাচা শুয়ে শুয়ে ভাবছেন।
বি,ডি, আর বা বি,এস, এফ কে এভাবে ফাঁকি দেওয়া কি করে সম্ভব হল।
আশপাশে এমন কোন পুরাতন বাড়ী আছে কিনা? থাকলেও কোন লোকজন নেই কেন?
মসজিদে নতুন জায়নামাজ কোথা থেকে এল? আশপাশে কোন লোকালয় নেই অথচ অশীতিপর দম্পতি কোথা থেকে এল বা কোথায় যাচ্ছে?
আমরা যে রাস্তায় এলাম গেলাম কোন লোকালয় কেন চোখে পড়ল না, ইত্যাদি হাজারও প্রস্ন চাচার মনে ঘোর পাক খেতে লাগল। আর হারুন প্রতিদিন সন্ধ্যা সময় কোথায় যায়? আসে রাত ১১টা বাদে। হুজুর ও কিছু বলেন না। ও হুজুরের কাছে পড়েই বা কখন। কিন্তু ও তো মনে হয় সবই জানে। তবে এখানে পড়তে আসল কেন?
দেখতে দেখতে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের সময় চলে আসল। এই মাহফিলে চাচা সুন্দর একটা গজল গেয়েছিল। চাচা দেখতে যেমন সুন্দর, কণ্ঠও তেমন সুন্দর। গজলটা হল,
তোমার নামে যদি,গান গাওয়া হয়
গান সুন্দর হয়।
তোমার সৃষ্টি পানে, যদি চাওয়া হয়
চোখ সুন্দর হ---য়।–ঐ
তোমার পরশ পেয়ে গাছের ও পাতা
জানি সবুজ হল
তোমার শ্নিগ্ধ মায়া শিশির পেয়ে
সে যে শুভ্র হল।
তোমার গন্ধ যদি, ফুলে দেয়া হয়
ফুল সুরভিত হ---য়। ঐ
আল্লাহু, আল্লাহু, আল্লাহু।।
এ গজলটা অতি দরদ ভরা কণ্ঠে, গাওয়া শেষ করার সাথে সাথে হারুন ও অন্য সহ পাঠিরা চাচাকে জড়িয়ে ধরে সে কি আদর!
এর পর থেকে হারুনের কেন জানি আচার ব্যবহারে অনেকটা পরিবর্তন হতে লাগল। আগের মত আর বেশি দেড়ি করে না। চাচার পড়ার খোজ খবর নেয়। কোথাও কোন সমস্যা আছে কি না। কোন অর্থ বুঝতে সমস্যা হলে তা অতি সুন্দর করে বুজিয়ে দিত। সবচেয়ে আশ্চর্য লাগত ইদানিং উনি প্রতিদিন কিছু না কিছু ফল ও মিষ্টি নিয়ে আসে। চাচাকে খেতে বললেও উনি নিজে কখনও চাচার সামনে খেতেন না। আমি পরে খাব বলে এড়িয়ে যেতেন। চাচা প্রায় প্রতিদিন ১১টার মধ্যে ঘুমাতে যেতেন। কিন্তু উনি অনেক দেরীতে বা কখন ঘুমাতেন তা শুধু উনিই জানতেন। একদিন চাচার ঘুম আসছিল না তাই চুপচাপ শুয়ে ছিলেন। চাচা আড় চোখে দেখেন, হারুন খাচ্ছে, বিশাল এক চিনামাটির প্লেটে, অথচ পুরা মাদ্রাসাতে একটাও চিনামাটির প্লেট নেই। আর প্লেটে কত রকমের খাবার। আর কেমন জানি একটা চামড়া জাতীয় কলসির মত একটা কিসে পানি খেল। খাওয়ার পর জানালা খুলে প্লেট ও পানির কলসিটি জানালার কাছে নিতেই কে জানি বাহির থেকে নিয়ে গেল। এ দৃশ্য দেখে চাচার রক্ত পানি হয়ে গেল। চলা বলা বা উঠার শক্তি প্রায় শেষ। চাচার শেষ রাতে কেমন জানি জ্বর জ্বর বোধ হতে লাগল। ভোরের দিকে ঘুমিয়ে গেলেও ফজরের আজানের পর হারুন চাচাকে ডাকলেও উঠছে না দেখে, গায়ে হাত দিল, একি গা যে জ্বরে পুরে যাচ্ছে। মাথায় পানি পানি ঢেলে, কিছুটা আরাম বোধ হলে দুজন নামাজ পড়তে গেল। (চলবে)
১৬/০৫/২০১৩ ইং
http://www.amrabondhu.com/ahasan-habib/6236 (প্রথম পর্ব)





ইনটারেষটিং
আপু আপনার কাছে আমার লেখা ইন্টারেষ্টিং লেগেছে। এটা আমার জন্য পরম পাওয়া।
দোয়া করবেন। ভাল থাকবেন। সাবধানে থাকবেন।
মন্তব্য করুন