এ ,পি , ডি আফজাল মামু (প্রথম পর্ব)
কয়েকদিন থেকে আমার কি যে হয়েছে ঠিক বুঝতে পারছি না। কিছু না লেখতে পারার কষ্টটা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। অথচ আমার নতুন বাসার পরিবেশটা লেখালেখির জন্য চমৎকার। উত্তরার সাত নম্বর সেক্টরে ৬ তলা বিল্ডিংয়ের চারপাশে খোলা। আমি থাকি ষষ্ঠ তলায়,আশ পাশে দুতলার উপর কোন বাসা নেই। তাই তিনটি বারান্দায় বসলে আবারিত সমীরণে সর্বদা অবগাহন করি। শুধু বারান্দা কেন, জানালা বা বারান্দার দরজা খুলে দিলে পুড়ো বাসায় হাওয়ার লুকোচুরী খেলা আমাকেও তাতিয়ে তোলে লুকোচুড়ি খেলতে। লুকোচুড়ি না খেললেও ইফতারের পর একপাশে ছেলে শুলে আরেক পাশে মেয়ে এসে শুবে, আর ওদের চুলে আংগুল চালিয়ে বিলি কাটলে ওরা নাকি এমন মজা পায় যা নাকি ওরা বলতে পারে না, তবে অনেক মজা পায় এটা বলে। ফাক তালে গিন্নি এসে ছেলে বা মেয়ের পাশে গুটিসুটি মেরে শুবে। মাঝে মাঝে ওই যে বললাম খোলা জানালা দরজার অবারিত সমীরণ নিদ্রাদেবীকে ডেকে নিয়ে এসে আমাদের অনিচ্ছায় নিদ্রাপুড়ীতে নিয়ে চলে যায়। ঘুম ভাঙ্গে যখন তখন রাত সাড়ে এগার কি বার। তখন কার আর খাবার ইচ্ছা হয়। তবে তারাবির নামাজ মিস হবার আফসোস হয়। শুধু এশা র নামাজ পড়ি। আর আল্লাহ্র কাছে মাফ চাই। আল্লাহ আমি তো তোমার কোন হুকুমই সঠিক ভাবে পালন করতে পারি না। তুমি তার জন্য আমাদেরকে পাকড়াও করো না। তোমার বিন্দু মাত্র পাকড়াও অতিক্রম করার সাধ্য নেই। কিন্তু তুমি তো দয়াময়। সেই ভরসায় তো বেঁচে থাকি। নয়তো অনেক আগেই পাগল হয়ে যেতাম। তবুও তুমি এত সুখ দেবার জন্য তোমার কাছে জানাই অসীম পরিতৃপ্তি।
গতকাল একই ঘটনা ঘটল ঘুম থেকে উঠে দেখি আফজাল মামুর SMS। মামুর টেলিফোন নম্বর বদল হয়েছে। তাই জানিয়ে SMS করেছে। মামু তুমি যে এসময় সবাইকে নম্বর দিয়ে বেড়াচ্ছ সবাই যদি তোমার কাছে একটা করেও ট্রেনের টিকিট চায় তখন তো তোমাকে ঢাকা ছাইড়া পালান ছাড়া গত্যন্তর থাকবো না। কিন্তু মামু তুমি তো নম্বর সবাইকে দিয়েই ফেলেছ। এখন আর কি করার আছে। তবে মামু তুমি আগে যেমনতে ছিলা আজও তেমনই আছ। এইডাই অনেক ভাল লাগে। আর তাই তোমার কোন সমস্যা হইব না।
টোকাই ভাই, আপনার যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় মামা চাচা, আব্বা ছিল, আমারও আব্বা ছাড়া মামু, চাচা, খালু, বড় ভাই ছোট ভাই আছে। আজ শুধু মামু কাহিনীই বলি।
আফজাল মামু আমার BIT বা RUET এর বন্ধু। আমরা চার বছর পাসাপাশি রুমে থেকেছি। আর ও ছিল আমার সিরিজের ফুটবল খেলার সাথী। তাই কবে কি ভাবে মামা ভাগ্নের সম্পর্ক হল মনে করতে পারছি না। তবে এক সময় আফজাল ও সাইফুল পাকাপাকি মামা ভাগ্নের সম্পর্ক হয়ে গেল। আর এটা কিন্তু ভাইস- ভারসা। অর্থাত তারা যখন আমার মামু আমি তাদের ভাগ্নে। আর আমি যখন মামু তখন তারা আমার ভাগ্নে।
এবার ফ্যামিলি গেট টুগেদারে প্রথম আফজাল মামু সহধর্মিনীসহ অংশ গ্রহন করেন। মামুকে মামু আর মামুর বউ মামি না হয়ে ভাবি কেমনে হয় মামির মাথায় আর ঢুকে না। মামিকে ব্যাপারটা পরিষ্কার করা হল। হোস্টেলে থাকার সময় বন্ধুরা কেউ মামু কেউ চাচাসহ কত জন কত রকম টাইটেলে ভুষিত হয়েছেন তা আপনি হিসাবে মিলাতে গেলে আপনার এত সুন্দর চুল পড়তে আরম্ভ করবে। তাই ওসব বাদ, আমরা মামু ভাগ্নে আপনি ভাবি ভাবিই। আমাদের অতীত কম ঘাটলেই ভাবি বলেন, বউ বলেন অনেক অনেক ভাল থাকবেন। সাধুর মোড় বা তালাই মারীর কাহিনী সাধুর মোড় বা তালাই মারিতেই সীমাবব্ধ থাক।
তয় মামু আমার রেলের বড় ইঞ্জিনিয়ার (APD) তবু মামু এখনও মামুই আছে। তেমন কোন অহংকার কখনও নজরে পড়ে নাই। যদিও ষাট লাখ টাকার গাড়ীতে চড়ার অহংকার অনেকের মাঝেই অনুভব করি। আবার কোটি টাকার গাড়ীতে চড়েও অনেক বন্ধু তেমনি আছে। হুমায়ুন স্যার ১২ রক্মের মানুষ নামে যে নাটক্টি লিখেছিলেন তার সংখ্যা আরও অনেক বেশী। তবে স্যারের নজরে হয়ত বার রকম মানুষই পড়েছিল।
মামু যেহেতু রেলের ইঞ্জিনিয়ার আর আমার বাড়ী দিনাজপুর হিলিতে, যেতে হলে ট্রেনই উত্তম, তাই ট্রেনেই সব সময় যাতায়াত করি। বিমান বন্দর ষ্টেশনে উঠি বাড়ীর কাছে ট্রেন থেকে নামি। আর আমাদের বাংলাদেশের ট্রেনের সামান্য যে আধুনিকতার ছোয়াটা লেগেছে তাতে ভ্রমণটা মোটামুটি আরামদায়কই বলা যায়।
সাড়া বছরেই যেহেতু আমাকে টিকিট কাটতে হয় তাই ঈদের সময় তেমন সমস্যা হয় না। বাড়ী যাওয়া ছাড়া আমি ঢাকার বাইরে কোন প্রজেক্ট ভিজিটে গেলে ট্রেনের সুবিধা থাকলে গাড়িতে না গিয়ে ট্রেনেই যাই।
তবে দুই ঈদের চেহেরাটা অভাবিত, অকল্পনীয়। আপনার টিকিট কাটা থাকলেও ট্রেনে উঠা রিতিমত ভিয়েতনাম যুদ্ধে অংশ গ্রহন করার সামিল। যে ট্রেনে আপনি যাবেন সে ট্রেনে গাজীপুর থেকেই লোকে ভর্তি হয়ে আসে। আপনি যদি কেভিন পেয়ে যান তবে হয়ত এত সমস্যায় পড়তে হয় না। তা না হলে ভোগান্তির আর শেষ নাই। আর নিজের গাড়ী নিয়ে যাবেন ঈদের সময় ছোট গাড়িতে যাওয়াটা একটু বেশিই রিস্কি লাগে। এতকিছুর পরও দুই ঈদে বাড়ী যেতেই হত। কারন মা ছিলেন। এবার মা নেই তাই ঈদের আগে না গিয়ে ঈদের পরে যাব চিন্তা করছি। আর তাই যদি হয় তবে এটাই হবে আমার ছোট্ট পরিবার সহ প্রথম ঢাকায় ঈদ করা। (চলবে)





কেভিন নয় কূপ বা বার্থ ঈদের সময় সব জায়গা এক। গাজীপুর থেকে ভর্তি হয়ে আসে। তাই ট্রেনে উঠা টাই যুদ্ধ। সে বার্থ হোক বা কূপ। আপনার মামুর নামটা দিয়ে দিলেন ফোন নাম্বারটা আর ধামটা দেন ভাই। টিকিট চাই। আরও ঈদ আছে সামনে।
কেভিন নয় কূপ বা বার্থ ঈদের সময় সব জায়গা এক। ওয়াও আপনার সাথে শতভাগ একমত। আমই লিখিনি কারন কেভিন বাবুরা ম্নে ক্ষট পাবেন তাই। ধন্যবাদ
কেবিন না হয়ে কেভিন হলো কিভাবে!!!
দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত শিক্ষার শেষ নেই।আজ যখন নতুন নতুন প্রযুক্তিগত কাজে নিয়োজিত হচ্ছি মনে হচ্ছে কিছুই জানি না। আর আমরা বন্ধু তো শিক্ষার প্লাট ফর্ম। ধন্যবাদ আপু।
মন্তব্য করুন