ঝড়ের পর ধুলি মুক্ত নির্মল আকাশ চাই না
এমনি ঈদের পর এখন পর্যন্ত সকল শ্রমিক কাজে যোগদান করেনি। বিশেষ করে কোরবানির ঈদের পর আমাদের দেশে শ্রমিকরা কম পক্ষে ১০-১৫ দিন দেরি করে কাজে আসে। বিশেষ করে নির্মাণ শ্রমিকরা। আমার এক বস এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, আমাদের দেশের শ্রমিকরা প্রথমে কোরবানি গোস্ত খায়, তারপর হাড় খায়, তারপর পায়ের খোড়া খায়, সর্বশেষ পকেটের টাকা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজে আসে না। আজ আমি হাড়ে হাড়ে তা টের পাচ্ছি।
এ নিয়ে গত অক্টোবর১৯, ২০১৩ থেকেই আমার ক্লাইন্ড চাইনিজ কোম্পানি CMC কে প্রতিদিনই জবাব দেহি করতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত জনবল না আসায় আমি নিজেও হতাশ। অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করেও সাব- কন্ট্রাক্টররা শ্রমিকদের আনতে পারছে না। তারপরও যে জনবল এসেছে তাতে কাজ মোটামুটি চালিয়ে নিতে পারব। আজ নির্ধারিত দৈনিক মিটিং এর পর এবং ৭২ ঘণ্টা হরতাল ঘোষনায় CMC এর প্রজেক্ট ম্যানেজার মিঃ অয়াং এবং কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ার মিঃ চেং চরম হতাশা ব্যক্ত করে বলল, মিঃ হোসাইন কি হবে আমাদের প্রজেক্টের। আমি তাকে আশ্বস্থ করলাম, আমার কাছে যে মালামাল মজুদ আছে তা দিয়ে হরতাল যদি শুধু তিন দিন হয় আমার প্রজেক্টের তেমন ক্ষতি হবে না। আমার না হয় কোনরকমে চলে যাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি যা হবার তা তো দীর্ঘদিন থেকে হয়েই আসছে, তবে আজকের চিত্র দেখে,এ হরতাল যে কত ভয়াবহ ও নৃশংস হবে তা চিন্তা করলেই মনটা বিষাদে ভরে উঠে।
এর পর যদি হরতাল আরও দির্ঘায়িত হয় তবে সেটা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তলাবিহীন ঝুড়ির যেমন হারানোর কিছু থাকে না তেমনি নেংটারও পকেট মারের কোন ভয় থাকে না। কিন্তু আমার/আমাদের দেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়িও না এবং নেংটাও না। তাই আমার/ আমাদের দেশের একটা দিন হরতাল বিশাল ক্ষতির ভাগীদার হতে হয়। তাই আপনারা যারা দেশটা পরিচালনা করেন, দয়া করে হরতালের বিকল্প চিন্তা করুন প্লিজ।
আমার এ লেখা পড়ে হয়ত অনেকে হাসবে কারন আমার মত সাধারন একজন মানুষের দেশের এত কিছু নিয়ে ভাববার প্রয়োজন আছে কি? এ সব নিয়ে ভাবার জন্য দেশে অনেক বড় বড় মানুষ আছেন। তারাই এ সব নিয়ে ভাববে। তবে আমার প্রজেক্টের ৬০-৭০জন স্টাফ সবাই যখন হুমড়ি খেয়ে টিভি পর্দায় চোখ রাখে, সবার অব্যক্ত ব্যকুলতা কি হবে কি হবে, তখন আমার ক্ষুদ্র মস্তিস্ক ও দূর্বল মনে ঝড় না উঠলেও কিছুটা তরঙ্গের ডেউ তো লাগেই। তা ছাড়া আমি তো আর একা না, আমার ভাই বোন, আত্নীয় স্বজনদের মাঝে সব দলের লোকই তো আছে। যে কারও কিছু হলে কষ্ট ও ক্ষতির কিছু না কিছুর অংশীদার তো হবই। আর যদি খুব বেশি করে বলতে হয় তবে আমার স্ত্রীর ঢাকা শহরে অফিস করা, মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ে, ছেলের স্কুলে যাওয়া কোনটা বাদ দিব।
ঝড় আসার পূর্বে হাওয়া বয়, তাতে প্রথমে কিছু পাতা উড়ে, তারপর হালকা বৃষ্টি, তারপর ঝড় হয়।ঝড়ের মাত্রা অনুযায়ী ক্ষয় ক্ষতি হয়। ঝড় থেমে গেলে অবনি কেমন জানি শান্ত সুবোধ বালকের মত হয়ে যায়। ধুলি মুক্ত নির্মল আকাশ অনেক ভাল লাগে। কিন্তু ঝড়ের পর ধুলি মুক্ত নির্মল আকাশ আমরা চাই না। বড় জোর ঝড়ের পূর্বাভাশের আগে যে হাওয়া বয় সে পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাক। সেটাই কামনা করি। সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হউক।
আনন্দলোকে মঙলালোকে
বিরাজে যে সত্য সুন্দরের রেশ।
বিহারী সকল অমানিশার কালো মেঘ
অবনী পরেও ঘটুক সত্য ও সুন্দরের আবেশ
অক্টোবর,২৫,২০১৩ খ্রীঃ





দেশ নিয়ে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন।
অস্থিরতার দিন, চলছেই।
সাথে কি পরিমাণ ক্ষতি তা কল্পনারও বাইরে।
মন্তব্য করুন