চাঁদপুরে একদিন
১৯৭৬ সালের কথা। মেজো ভাইয়ের বিয়ের সুবাদে অন্যদের সাথে চাঁদপুর যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল আমার। তখন চাঁদপুর যাওয়ার সহজ বাহন ছিল ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চ বা স্টিমার। ছোটবেলায় নৌকা-লঞ্চে ওঠার অভিজ্ঞতা অনেক, কিন্তু স্টিমারে প্রথম উঠেছিলাম চাঁদপুর যাওয়ার সময়। তখন এ রুটে ‘পাক ওয়াটার’ ও ‘বেঙ্গল ওয়াটার’ নামে দুটি স্টিমার সার্ভিস চালু ছিল। গিয়েছিলাম পাক ওয়াটারে এবং এসেছিলাম বেঙ্গল ওয়াটারে। পৃথক দুটি স্টিমার ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও ছিল ভিন্ন ধরনের। এ স্টিমার দুটি এখনো চালু আছে কি না জানা নেই। স্টিমারে ভ্রমণ লঞ্চের চেয়েও নিরাপদ মনে হয়েছিল। খুব মজা পেয়েছিলাম।
সদরঘাট থেকে যাত্রা করে তিন নদীর মোহনায় (বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, পদ্মা) এসে পানির রঙের ভিন্নতা লক্ষ করলাম। তিন দিকে তিনটি নদীর বাঁক চলে গিয়েছে; অথচ একটি অন্যটির সাথে মিশে একাকার হয়ে যায়নি। সহজেই পার্থক্য বোঝা যায়। কোনো নদীর পানি কালো বর্ণ, কোনোটি ঘোলাটে আবার কোনোটি সবুজাভ। সৃষ্টিকর্তার কী অপার মহিমা। স্টিমারটি মোহনায় আসার পর বড় ধরনের একটি ঝাঁকুনি খেলো। তারপর দুলতে দুলতে গিয়ে পৌঁছলো চাঁদপুর পুরান বাজার নৌ-টার্মিনালে। আমরা এখানে নেমে একটি নৌকায় নদী পার হয়ে নামলাম ফরিদগঞ্জ। সেখান থেকে রিকশায় গেলাম রূপসা বাজার। বাজারের কাছেই মেজো ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ি। যাওয়ার পথে আরো লক্ষ করলাম এখানকার নারীরা ছাতায় মুখ লুকিয়ে চলাফেরা করে। শুধু রোদ-বৃষ্টি নয়, অপরিচিত পুরুষের কাছে নিজের চেহারা লুকিয়ে রাখার একটি কৌশল এ ছাতা বুঝতে বাকি রইলো না। এক কথায় বলা যায়, পর্দা হিসেবে বোরকার বিকল্প এ ছাতা।
সে সময় রাজধানীর বাসিন্দাদের গ্রামাঞ্চলের মানুষ বিশেষ সম্মানের চোখে দেখতো। তাই তাদের আপ্যায়নের বিষয়টিও ছিল মানরক্ষার। আমাদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের মেন্যু ছিল- সাদা পোলাও, সাদা ভাত, মুরগির রোস্ট, গরুর রেজালা, সর্ষে ইলিশ এবং ফিরনি। মজার ব্যাপার হলো, এর সবই রান্না করা হয়েছিল নারকেল দিয়ে। ঝাল তরকারিতেও পেয়েছিলাম মিষ্টি ছোঁয়া। আমার কাছে এসব ছিল এক নতুন অভিজ্ঞতা। পরের দিন বেড়ালাম মমতাজ ব্যাপারীর (মমতাজ পাটোয়ারী) বাড়িতে। মমতাজ ব্যাপারীর রূপসা বাজারের কাছে কাঁচা চামড়ার একটি আড়ত ছিল। ব্যবসার সূত্র ধরে মেজো ভাইয়ের এখানে আসা এবং শেষে বাবার পছন্দে এ এলাকায় আত্মীয়তা হয়। এ বাড়িতেও খাবারের মেন্যু ছিল প্রায় অভিন্ন। দুদিনের আতিথ্যে নারকেল মার্কা খাবারই ছিল প্রধান। মজা পেয়েছিলাম নারকেলের চিড়া খেয়ে। চা-বিস্কিট ছিল প্রতি ঘণ্টায়। পরে জেনেছি ওই এলাকার মানুষ প্রচণ্ড চাপায়ী। বিয়ের পর চাপায়ী নতুন বউ ঢাকায় এনে চা পাতা, গুঁড়োদুধ, চিনি, বিস্কিট আর চানাচুরে মেজো ভাইকে কম খেসারত দিতে হয়নি।





চাঁদপুর ভ্রমণের মজাই আলাদা। বেঙ্গল ওয়াটার এখন আর নেই।
যে কোনো ভ্রমণই মজার, তাই না।
পোস্টটা বেশ হাস্যরসাত্মক হয়েছে

মীর এভাবে গড়াগড়ি করে হাসছে কেন?
কেন?
কেন?
কেন?
লাস্টের লাইনটা পড়ে মেজো ভাইয়ের দুক্ষে চৌক্ষে পানি আয়া পড়লো।
ছিঃ মীর! অন্যের বেদনায় হাসতে হয় না, লোকে Bad Boy বলবে!
বুঝলাম= হাসি+রস+আত্মা
পোস্ট= এক মুখ হাসি+এক ফোটা রস+এক খণ্ড আত্মা
জবাবটি দিলাম মীর ভাইকে, গেলো কি না আফরোজ আপার বক্সে...এর সমাধান কে দেবে?
+রস+আত্মা
আলি ভাই, আপনি লেখালেখিতে বড়ই কৃপণ, দুম করে শেষ করে দেন। এরপর থেকে ব্যাপারটা খেয়াল করবেন।
চিংড়ির মালাইকারি বা আরো ২/৪টা আইটেম ছাড়া নারকেলের তরকারীর কথা ভাবতেই পারতাম না।
আমার শাশুড়ি নারকেলের তরকারী রানতেন। বরের মুখে শুনে কিছু কিছু আইটেম আমি এখন মাঝে মাঝে বাসায় করি। ভিন্ন স্বাদ পাই।
চাপায়ী ভাবী নিশ্চয়ই আপনাদেরকেও অল্পদিনের মধ্যেই চাপায়ী করে দিয়েছেন!
বাস্তব বিষয়ে রঙ মেশানো যায় না বলে এ কৃপণতা। ঠিক ধরেছেন, চায়ের এ অভ্যাস এখন আমার পরিবারেও।
ভ্রমন কাহিনী ভালো লেগেছে।
কাহিনী ভালো লাগার জন্য
পর্দা হিসেবে বোরকার বিকল্প এ ছাতা। এই জিনিস দেখিনি শুনিওনি। ভ্রমন কাহিনী ভাল লাগলো। চাঁদপ্র কখনও যাওয়া হয়নি।
পর্দা হিসাবে ছাতার ব্যবহার এখনো কোনো কোনো গ্রামে দেখা যায়। একটা সময় এটা খুব বেশি প্রচলিত ছিল, এখন অনেক কমেছে।
সামছা আপা, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের বাসিন্দাদের কাছ থেকে '৭৬-এর এ ঘটনাটির সত্যাসত্য জেনে নেয়ার অনুরোধ করছি। কাহিনীটি ভালো লাগার জন্য ধন্যবাদ।
খাওয়া দাওয়ার গলপ শুনতে যারপর নাই আননদ লাগে
খাওয়া-দাওয়ার গল্প শুনতেই কি শুধু আনন্দ, নাকি খেতেও। তাহলে হুট করে একদিন চলে আসতে পারেন, গিন্নির হাতের বিভিন্ন আইটেমের মজার মজার রান্না খেতে।
ওয়াও আমাদের বাড়ির পাশ দিয়েই গেছেন..তবে অনেকদিন আগে..এখন অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে..
আপনাদের বাড়ির অবস্থান কোথায়? যদিও আমার চেনার কথা নয়। পরিবর্তন তো হবেই।
দুপুরে খাওয়ার পর পোস্ট পড়ে কষ্ট কম হলো।
কেন কেন কেন?
মন্তব্য করুন