ইউজার লগইন

অকিঞ্চনের বৃথা আস্ফালন'এর ব্লগ

পুন্দানি খাইতে চাই

হগ্‌গলে কেবল পুন্দায়
আমারে বর্নমালায় পুন্দায় কেলেন্ডারে পুন্দায়
নাম নিয়া পুন্দায় আর কাম নিয়া পুন্দায়
হগ্‌গলে কেবলা পুন্দায়।
মাস্টরের পুন্দানি সইতে না পারি কোচিঙে যাই
যথারীতি পুন্দানি খাই
পুন্দানি খাইতে খাইতে পুন লাল হই যায়
তবু হালার পুন্দানির শেষ নাই।

পাশ করার পর মিষ্টি খাইতে গেলে সেখানেও পুন্দানি
স্কুল কলেজ ভার্সিটি কোনখানেই পুন্দানি না খাইলে হয় না
এত পুন্দানি খাই তাও পুন সামলাইতে পারি না ভাই।
নদীতে পুন্দানি খাই, লঞ্চে পুন্দানি খাই
পুন্দানি খাই এয়ারপোর্টে
শত্রু সম্পত্তির পুন্দানি খাই লাল কোর্টে
এরপরে ধরেন পুন্দানি খাই পেপারে টিভিতে
হল থেকে হলে পুন্দানি দেয় দল-বেদলে
বছর বছর পুন্দানি দেয় বাজেটে
লাল লাল পুন্দানি খাই পাঁচ বছর অন্তরে
সব হিসাব দিতে গেলে শেষ হবে না ভাইরে।

কে, কোন দিকে, কারে, কন সময়
মারি দেয় পুন তার নাই নাই জানাজানি,
দিনে রাইতে হাটে বাইতে সমানে চলে পুন্দানি।
পুন্দানির এখন আর এক নতুন ভার্শন আমদানি-
একদিকে চলে পুন্দানি
আরেকদিকে চলে মানবতার কবচানি।
এত পুন্দানিতেও যার পুন ভাঙেনি
তার জন্য শেষ ব্রহ্মাস্ত্র-মানবতার গুলি।

জীবন মানে জী বাঙলা

download (1).jpg
জীবন মানে জী বাঙলা
লেগে থাকে হরদম উৎসবের হলকা
জোড়াতালি দেয়া ধামাকা।
তার ঈশ্বরদের ইশারায় যখন তখন
পালটে যায় খেলা, উলটে যায় মামলা।

download.jpg
জীবন মানে জী বাঙলা
নৃত্যকৌতুকগানে জমে গেল আয়না।
এখানে হিরোরাই ঘুরে দাঁড়ায়
শুভ শক্তির দেখি বিজয়।
হবে না! পাবলিক ডিমান্ডই যে আসল কথা।

জীবন মানে জী বাঙলা
শাড়ি গহনার রোশনাই রমণীর গায়
আর কূটনীতির নোংরা খেলা খেলে যায়।
এসব ভদ্র গেরস্থরা এড়িয়ে চলে
তবু দেখতে থাকে কোন এক জাদু বলে।

জীবন মানে একঘেঁয়ে জীবনে অনর্থক ঘটনার সাঁজ
ধুম্র প্যাঁচের মত যেখানে শুরু
অনেক পথ ঘুরে আবার সেখানেই আসা,
জীবন মানে খল ধরা পড়েও ধরা না যাওয়া
যেন আমেরিকার লাদেন ভুত জিঁয়ে রাখা।

জীবন মানে জী বাঙলা
জীবন থেকে বহু দূরে, জীবনের মৃদু আঁচ লয়ে
বুর্জোয়া শিল্পপতির আরতি
এছাড়া আর দেখবেই বা কী!
আটপৌড়ে ছিন্ন কাব্য?

তার আর উপায় ছিল না

আজ পিছনে তাকালে কেন কুয়াশা নামে চোখে
আজ আমার সানগ্লাসের কাঁচ ঝাপসা হয়ে আসে।
কোথায় সেই চির দামিনী, চঞ্চলা, চপলা
বিপুলা উৎসাহী, উদ্যমী, কর্ম-প্রাণ ভোমরা
কোথায় সেই অত্যাচারিনী, অবিচারিনী, আমার ত্রাতা?
তার মলিন চেহারায় যেন রাজ্যের যত ক্লান্তি ছাপা!

পিছনে তাকিয়ে কেন বুকে কাঁপন এত
অথচ আজো সে আবেগে ব্যথিত
মুখে যদিও থাকেনা উত্তর চোখেতে জল সদা উত্থিত
হাওয়া দিলেই ভাসে বাড়িঘর বাঁধভাঙা বানে।

তার বানী কেন আজ এত বাজে কানে!
যে এককালে ঘুমাত গভীর স্বপনে দিবায়
আজ নির্ঘুম নিঃঝুম রজনী কাটায়।
দুগ্ধবতী গাভী তিলে তিলে সব দিয়ে
শেষে এই বললি 'চলে যা পালিয়ে'!
এছাড়া তার আর কিবা উপায় ছিল।
এক দেশে সংখ্যালঘু সারা পৃথিবীতেও তাই
তবু নিজ ভুমে অবমাননা সহ্য করা দায়।

বড় হও

খুব ছেলেবেলায় আমি প্রতিধ্বনিকে ভয় পেতাম।
সিড়ি ভাঙ্গার কালে আড়াল হওয়া মায়ের ভরসায়
যখন 'মা' বলে চিৎকার দিয়ে উঠতাম
প্রতিধ্বনি শুনে আমি ভয় পেতাম।

এখন আমি বড় হয়ে গেছি
তুমি যে আজো প্রতিধ্বনি মত খড় কাদার
পুতুল দেখলেই ভয় পাও,
অস্ত্র হাতে আসো ভেঙে দিতে।
তার যত হাতই থাকুক,
হাতে যতই অস্ত্র থাকুক
খড়টুকু সে নাড়াতে পারে না।
প্রতিবাদটুকু সে করতে পারে না।

অথচ যতবার তুমি একটা করে মূর্তি ভাঙ
ততবার তোমার একটা করে ভাবমূর্তি ভাঙে।
কাকতাড়ুয়া
ক্ষেতের মাঝে কাকতাড়ুয়া দেখে
পিচ্চি বেলায় ভয়ে বোনকে জড়িয়ে ধরতাম।
দিদি বলত এটা যে তোকে ভয় দেখানোর জন্য না
পাখিকে ভয় দেখানোর তরে রাখা।
এখন আমি বড় হয়ে গেছি আমি বুঝি
মানুষ নেই অথচ মানুষের রেপ্লিকা তাড়িয়ে দিচ্ছে কাক!
দূর্গা
ছেলে বেলায় মণ্ডপে যখন যেতাম
দেখতাম মায়ের মতই সুন্দর করে সাঁজ
কোন এক বধু মাথায় সুন্দর তাজ
কত স্নেহ তার চোখে ঝরছে।

শেষ প্রশ্ন

রামুতে বৌদ্ধ বসতিতে আগুন
আমি এদেশেতেই মরতে চাই।
কেউ ডিভি নিয়ে যায়
কেউ মাইগ্রেশানে দাঁড়ায়
কেউ শিক্ষা নিয়ে চিরতরে যায়।
কেউ বিদেশিনী পানিপ্রার্থী
কেউ বিয়ে করে বাঙালি বিদেশী।
আমি তো তাদের মত নই!
আমার কোন এক বন্ধু বলেছে
'হবেনা কিচ্ছু আর এদেশে'
কোন এক ভাই ভারত ভাগার প্রাক্কালে বলেছে
'মর নরকে'।
আমি কি তাদের চোখে পথ দেখি?
ভাঙা পথের ধুলো মনে জড়িয়ে
বাড়ি ফিরতে পেরেই খুশি আমি।
আমি যে তাদের মত অস্তে যাওয়া গোধুলীর আলপনায় জীবনকে দেখিনি
দেখেছি ক্ষুদার্থ ভিখাড়ির ভাতের থালায় জীবনের আনন্দ।

আমি এদেশেতেই মরতে চাই।
মুনিরের মত গাড়ি দুর্ঘটনায়
অথবা মলম পার্টির মলমে
ছিনতাইকারির ছুড়িতে যদিও না হয়
ডেঙ্গু কিংবা ম্যালেরিয়ার একটা মশার কামড়ে
বার্ড ফ্লু কিংবা সোয়াইন ফ্লুর মাংস খেয়ে
বাজারে পেঁয়াজের দাম শুনে হার্টএটাকে
ক্যান্সারে অথবা রাস্তায় পড়ে থাকা ইলেক্ট্রিকের তারে
অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ে মারামারির কালে ক্রসফায়ারে,

বরষার খিচুড়ি

[এটা আমারবন্ধুতে আমার প্রথম পোষ্ট। আপনাদের সাথে পরিচিত হতে চাই। আমারবন্ধুতে আমার কয়েকজন পরিচিত ব্লগার রয়েছে। অনিমেষ রহমান, ডাইনোসর, শনিবারের চিঠি এদেরকে আমারব্লগে দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছি। আমার কাছে এই ব্লগের রুলগুলো একটু কঠিন মনে হয়েছে। বিশেষ করে একটা পোষ্ট একাধীক ব্লগে ২৪ ঘন্টার আগে প্রকাশ না করাটা। তবে এই ব্লগের এডিটরটা বেশ ভাল লাগল। যাই হোক, বর্ষা জেঁকে বসেছে তাই ঝুম বর্ষায় বন্ধুদের জন্য একটা বর্ষার খিচুড়ি দিলাম Smile আশা করি আপনাদের ভাল লাগবে।]
image_204_66898 s.jpg 

প্রকৃতি এক রাজকন্যা
গ্রাম তার প্রাসাদ,
দৌঁড় এক যমদুত
শহর তার আবাস।

আম এক মধুফল
জ্যৈষ্ঠে যার যৈবন,
গরম শুনলেই চরম
ঘর্ম যার ধর্ম।

বরষা এক রূপবতী
ঝিরি ঝিরি ধারা
মনটা এক অনাহারী
উদাস তিয়াসপারা।

ফুল এক মনোহারী
কদম্ব রানী বরষার,
কূল এক নাম ভারি
শুন্য অন্তঃসার।

পুকুর এক কালো
শীতল স্নিগ্ধ জলা,
একটু দিলে হাওয়া
টল মল চঞ্চলা।

রুই এক মাছ
স্বাদু পুকুরের আহার,
পুঁই যত শাক