ইউজার লগইন

সুদূরের পিয়াসী'এর ব্লগ

নতুন মুখ

অভিশপ্ত রাতের আঁধার ঘুচেছে নিরালায় ।
তুমি এখনো ঘুমিয়ে আছো ?
দেখ , বুকের রক্তে ফুটে উঠেছে নতুন ভোরের সূর্য ।
শোনো , পাখির কন্ঠে বেজে ওঠে দুঃসাহসী গান ।
এত জ্বালা সয়ে যে আশা হৃদয়ে করেছ লালন -
কোনো কালে কি তা হবেনা পূরণ ?
বিভোর রয়েছ দিন বদলের স্বপ্নে ,
অথচ আজো তুমি নিষ্ক্রিয় ! তুমি সুপ্ত !

থেকোনা থেকোনা , ঘুমিয়ে আর থেকোনা ।
জেগে ওঠো আজ চার দেয়ালের বাধন ভেঙে ।
এইতো সময় , কখনো কি আর আসবে ফিরে ?
সময়ের ডাকে দাও নির্ভীক সাড়া ,
খুলে দাও যত বহুরূপীদের মুখোশ ।
নতুন মুখের সৃষ্টির ভার তোমারই ওপর ন্যস্ত ।

জলাঞ্জলি

আমি ফেলে এসেছি সুদূর অতীতের স্বপ্নভঙ্গ রাতগুলো ।
যখন ক্লান্তির মলিন বুকে নিদ্রাতুর অলস করেছিলো ভর ,
থেকে থেকে মাদকতার তীব্র ঝাপটায় নুয়ে পড়ছিল একাগ্র সচেতন চোখের পাতা ।
জীবন সমস্যার দুঃসাধ্য সমাধান কখনোই হয়না সারা ।
অতিবাস্তবেও উদ্ভ্লান্ত স্বপ্নের হাত ধরে সজ্ঞানে বিপথে চালনা ।
গন্তব্য পিছু টানে বারে বারে , টের পাই , সাড়া দেয়ার সাহস থাকেনা ।

তবু আমি মুক্তির আকাশপথে মেঘ হয়ে উড়েছি ক্ষণকাল
আকাশের সীমানা ছাড়িয়ে যেতে চেয়েছি , পারিনি , মুহূর্তের আঘাতে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়েছি উদ্বাহু ধরণীর বুকে । সেখানে কোমল পলিতে একেবারে মিশে যেতে পারিনি , নদীতেও পাইনি কোনো ঠাঁই ,
শুধু বন্যার সাথে মিলে ভেসে গেছি কোন লোকালয়ে , বহুদূর বয়ে নিয়ে গেছি মাটির নিবিড় কিছু আবর্জনা ।
তবু সে বন্যার তোড়ে হয়তো ধ্বসে গেছে কারো কারো স্বপ্নের চার দেয়াল । তারাও আমার সাথে ভেসে যেতে চেয়েছিল বহুদূর ।
কিন্তু কি লাভ তাতে !

বন্ধু

বোবা এই বুকে দুখের আগুন জ্বলে ।
যার প্রাণ কাঁদে সেই আগুন নিভাতে ,
দগ্ধ হয় নিজে - বন্ধু বুঝি তারে বলে !
নিঃসঙ্গ স্বপ্নভঙ্গ অন্ধকার রাতে
হাত ধরে সে আলোর পথে নিয়ে চলে ,
সুপ্তি ভেঙে জয়গান শোনায় প্রভাতে ।
তার লাগি রাজি ডুবতে অথই জলে ,
ভয়হীন , অকাতর মরণ আঘাতে ।

হে বন্ধু , জেনো তুমি কখনো একা নও ,
তোমাতে আমাতে কোনো রবেনা বিরহ ;
যত দূরে যাও তবু এ হৃদয়ে রও ,
প্রাণের অটুট বিশ্বাসে নেই সন্দেহ ।
ভুলনা আমায় , যদি চিরসাথী হও
প্রাণে ঠাঁই দিয়ো মোরে নাশ হলে দেহ ।

আমি বলছি না আমি লিখছি : প্রখম খণ্ড ।

মনে করি , আমি কিছু একটা লিখছি । কি লিখছি তা ঠিক এই মুহূর্তেই বলতে পারছিনা । তাই বলে আপনারা কি একটা চরম উদ্বেগে ধিক্কার দেন - ' রাখো এসব ন্যাকামো ' , কি একটু ধৈর্য ধরে পড়ে বলবেন - ' কি একটা ভাঁড়ামো না ছাই হলো ', তাতে আমি কিছুমাত্র বিচলিত হতে যাবোনা । কারণ , সে কোন মজাদার সাহিত্যকর্মই হোক (অসম্ভব) , আর বস্তাপঁচা পান্ডুলিপিই হোক , আমি লিখছি । যাক, আমি কোন কিছুই বলছিনা । কারন আমি লিখছি । কি লিখছি তা ঠিক এ মুহূর্তেই বলতে পারছিনা (ভবিষ্যত বলতে পারলে তো জ্যোতিষী হতাম )।

জীবন মরণ

ফুরালোনা সাধ যত , ফুরালো সময় ;
যাতনে শান্তির খোঁজে ছলনার সুরে
ফেলে আসা পথে সুখ রয়ে গেল দূরে ।
সমুখে যে মহাকালে হারাবার ভয় ;
জীবন মানে কি এ সহজ পরাজয় !
এজীবন রণ - মানবের হিততরে
জিনতে তারে দৃঢ় আশা রবে অন্তরে -
অপরে অর্পণ করে প্রীতি ও প্রণয় ।

বিধির চরণে দিয়ে আপনাকে সঁপে
সংশয় কাটে তাঁরে করলে স্মরণ ;
অনন্ত সুখের পথ ব্যাথা অভিশাপে
গড়ে সদা নরভক্তি করেন গ্রহণ ।
তাঁরি ডাকে একদিন লয়ে পূণ্যপাপে
যেতে হবে চিরতরে বরিতে মরণ ।

চিরায়ত ঘুম

এখনো অনেক রাত বাঁকি ,
চারিদিকে নিঝ্ঝুম নিরবতা ।
এরই মধ্যে স্বপ্নরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছে অনেকেই ।
এদের কারো চোখে সোনালী স্বপ্ন ,
কারো কাছে তা আবার ধূসর বর্ণ ।
কারো কারো চোখে আবার রঙের বালাই নেই -
আছে আঁধার , কেবলই আঁধার ।

কারো কারো ঘুমহীন চোখ রক্তাক্ত লাল
সোনা বা রূপার কাঠি ছোঁয়ায়না কেউ তাদের পায় ।
ওরা নিঃশব্দে পাশ ফিরে বারবার ,
ঘুমোতে চেষ্টা করে - পারেনা ।

কেউ কেউ জেগে থাকে সারা রাত অভুক্ত পেটে
খোলা আকাশের নিচে জ্বলজ্বলে তারা গুনে গুনে ।
ওদের চোখে কোন ঘুম নেই , নেই কোনো স্বপ্নও ;
শুধু আছে দুমুঠো ভাতের স্বপ্নমাখা নীরব চাহনি ।
ওদের বুকফাটা আর্তনাদে
নিশাচর কুকুরগুলো বারবার ডেকে ওঠে ।
তবু ওপর তলার ঘুমন্ত বাবুবিবিদের কানে
সে আওয়াজ কখনো পৌঁছায়না , কখনো পৌঁছাতে পারে না ।

হয়ত এ রাত কেটে যাবে ,
ভোরের আলোতে মৃয়মান তারাগুলোও মিলিয়ে যাবে অচিরেই ;

শেষ ডাক

জীবনবোধের তিক্ত পাঁচন
গিলতে না চায় মন গহ্বর
সময় তোড়ে পাষাণ ভেঙে
গড়তে না চায় দেহ ভাস্বর ।

কী লাভ তাতে পূর্ণিমা রাতে
চাঁদখানি যদি দেখায় ভীষণ ,
অমাবস্যায় যদিনা ঘুচায়
আঁধার - নেইকো তার প্রয়োজন !

কেবলই জেনেছি ফুলে মৌমাছি
সানন্দে করে মধু লুন্ঠণ ,
ছিলোনা স্মরণে গোপনে কেমনে
যুগে যুগে ঘটে পরাগায়ন ।

সুঘ্রাণ বাতাসে যদি ভেসে আসে
খুঁজিনাই সে যে কোন বনফুল ,
নানান কর্মে ব্যস্ততা মাঝে
করে সে যদিও হৃদয় আকুল ।

রাতদুপুরে স্বর্গীয় সুরে
শ্যামের বাঁশিতে ডেকেছে আমায় ,
আমি ঘুম ঘোরে অলসতা ভরে
স্বপ্নে দেখি সে ফিরে চলে যায় ।

ঘুম ভাঙে যবে বনে কলরবে
শত ফুল কাঁদে আমায় ডেকে ,
সেথা যেতে গিয়ে পিছু উঁকি দিয়ে
ভুলি বাগানের দুটো ফুল দেখে ।

এমনি কত কী ডাকে দিবানিশি
কারে সাড়া দিই ভেবে পাইনাক ,
যাতে নেই সুধা তাতে পাই ক্ষুধা
মিছে অমৃত আমি চাইনাক !

অথচ যখন ডাকছে মরণ

সময়ের কাঁটা

সময়ের কাঁটা চলেছে অবিরত
সকলের অগোচরে
নিঃশেষ হয় ধীরে ধীরে
জীবনের আয়োজন যত ।

দুঃখসুখের অদ্ভুত সুরে সুরে
হারায় এ প্রাণ দূর তেপান্তরে
হারানো দিনের আকুল আর্তনাদে
সাড়া দিয়ে তাই সবাই মর্মাহত ।

যায় দিন যায় কত স্মৃতি পিছু ফেলে
নতুন আশার সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বেলে
নবীনকে বরে , যায় পুরাতনে ভুলে
বড় নিষ্ঠুর স্বার্থপরের মত ।

বাঁচার তাগিদে ব্যস্ত যে যার কাজে ,
আকাঙ্ক্ষার আকাশে মেঘের মাঝে
ফুরোলো জীবন তাই শঙ্কিত চিত্ত -
(তবু) সময়ের কাঁটা চলেছে অবিরত ।

বোতাম আঁটানো বুকপকেটে

আপদের বেড়াজাল ছিন্ন ভিন্ন ,
ওরা এগোয় আরেক ধাপ ।
বিষাদের নিলীমায় আকাশে ভেসে বেড়ায়
দু'একটা হতবাক রোদপোড়া গাংচিল ।
আধারও ভেসে বেড়ায় ,
পিছু পিছু তেড়ে আসে
বারে বারে হিংস্র ছায়ার মতন।
দিকবিদিক কত ছড়ানো হতাশাগুলো
ঠাঁই পায় চিরতরে
বোতাম আঁটানো এই বুক পকেটে ।

সত্য মিথ্যা

একটা সময় । যখন সবকিছু শূণ্যের দিকে ধাবমান । আসলে কিছু ছিলোওনা , না ছিলো কোন আলোও । শুধু একটা ঘর পড়ে ছিলো নির্জনতার আবেশে নীরব । ঘরটাতে সত্যিই ছিলোনা আলো , না ছিলো আঁধারও। ঘরটা ছিলো বেবাগী, আরেক ঘরের ছত্রছায়ায় । সে ঘরটা ছিল অন্য আরেক ঘরের গর্ভে । হঠাত্‍ ঘরগুলোয় ক্রমান্বয়ে আন্দোলন । ভিতর বাহির সর্বত্র তোলপাড় । দেয়ালে দেয়াল তোলা তুমুল ঝড়ের মেঘ । মেঘে মেঘে গর্জন । তবু সে গর্জনে ভীত হবার মত কেউই ছিলনা কোন ঘরে । তাই কোন ঘরেই ছিলনা কোন আয়না , কিংবা আয়নায় কাঁপা কাঁপা অস্ফুট কারো হাসিমুখ । কেউ ছিলোনা যে গভীর নিরীক্ষণের পর বলবে , আসলে আয়নাও মিথ্যে বলে । সুতরাং এরপর এক স্বয়ম্ভু মিথ্যের স্বপ্রজনন । তার অব্যাহত বংশ বিস্তার । জনুতে জনুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ মিথ্যেরই বীজ । যদিবা তা সত্যেরও হতে পারতো আর তাহলে কোন এক কালেতো সেই প্রচ্ছন্ন সত্যটাও দেখা দিতো ! কিন্তু সেটাতো দৈবের ব্যর্থতা । আসলে ব্যর্থ কারা ?

রাত্রি বাড়ে

রাত্রি বাড়ে চাঁদের হাসি বিলিয়ে তারায় তারায়
ঝিঝির ডাকে অবিরত সুরের মূর্ছনায়
ঘুম পাড়ানী মায়ের কোলে মৃদু মভতায়
ছোট্ট শিশু আচ্ছন্ন গভীর সুপ্ততায় ।
একে একে মুহূর্ত আর প্রহর যে ফুরোয়
স্তব্ধ চতুর্দিক , কেবল আমি জেগে রই ।
নির্বিঘ্নে ক্লান্তিতে কভু দুচোখ নুয়ে পড়ে ,
সকলের অলক্ষে কোন গহীন বনের পরে
রাত জাগা পাখি হঠাত্‍ কখন ডানা ঝাপটায় ,
রক্তবর্ণ চক্ষু ডলি , ঘুম কেটে যায় ।
রাত্রি বাড়ে , ফেলে আসা করুণ দিনের শেষে
আঁধারে অদৃশ্য কোন ভয়ংকর আবেশে
হারিয়ে বুঝি গেলাম কখন নিজের অজান্তে
অতৃপ্তির বাঁধন ভেঙে সময়ের ধুধু প্রান্তে ।

এ এক রহস্যময় রাত

নিস্তব্ধ প্রকৃতি , মধ্যরাত্রি সন্নিকটে
অশুভ শক্তি কোন আশেপাশে ওঁত পেতে আছে ।
কানে ভেসে আসে এক অদ্ভুত প্রাণীর হুংকার
চাঁদের আবছা আলো মেঘলা এক আকাশের নিচে ।
হঠাত্‍ই স্পষ্ট হয়ে ওঠে কার ভয়ঙ্কর রূপ
যা ক্রমশ হৃতপিন্ডকে রুদ্ধ করে ।
আমি আপ্রাণ চেষ্টা চালাই চিত্‍কারিবার
কিন্তু আতঙ্ক ততক্ষণে বাকশক্তি গ্রাস করে ।
এক ভয়ার্ত মূর্তি জমাট বাধতে থাকে ,
যার নিষ্পলক চোখ - এ কী রহস্যময় রাত !
হিংস্র জন্তু শত আসে এগিয়ে , আর কেউ নেই হায় !
যে বাঁচাবে আমায় - ওদেরকে করে ভূমিস্মাত্‍ ।
শুনি সরাত্‍ রুধলো দ্বার , জন্তুগুলোর ভীড়ে
পাইনা এমন কোন পথ পালাই যাতে ।
মন বুঝি এ যে এক দুঃসাহসী রাত
যুদ্ধে নেমেছি তাই প্রাণপণে পিশাচের সাথে ।
আমি অবিরাম লড়ে চলি বজ্রমুষ্ঠ হাতে
তবু অনড় দেহ ক্রমশ হিম হয়ে যেন শিহরায় ।
অনিবার্য মৃত্যুর হাতছানি আর ধাপ মাত্র দুরে
নখরে পিশাচ যত আঁকড়ে ধরে নিথর আমায় ।

ট্রাজেডির একমুঠো রিলিফ

ট্রাজেডির একমুঠো রিলিফ 01:32am, Wed 16 11 2011
আমি একা আর কেউ নয় , আর তুমি আসবে ? বলবে কিছু ? যাও সেদিন ভুলে ।
মনে রেখো এ এক নতুন নিশিকাব্য , যেখানে তোমাকে ফেরাবার নেই কোন মাত্রা ; অক্ষরবৃত্তেও তুমি বড় অনাবশ্যক ।
যাও ফিরে এক্ষণি তুমি ।
তোমাকে ডেকেছে আজ ট্রাজেডির একমুঠো রিলিফ . . . . . .

সোনার বাংলা

দেশটা যেন মগের মুলুক ,
যেমন করে চলছে চলুক !

ছিনিয়ে নিয়ে ভুখার আহার
গরবে যারা টাকার পাহাড় ,
আইন তাদের বাবার দাদার !
রুখবে এমন কে আছে আর ?

সেই আশাতেই রইল বসে
ঘাতক দালাল সাধুর বেশে ,
দেশকে হাতের মুঠোয় চেপে
রাত-দুপুরে উঠলো ফেঁপে ।

হঠাত্‍ যখন তুফান এলো
আবহাওয়া পাল্টে গেলো ,
করত যারা খবরদারি
ভাঙলো হাটে তাদের হাঁড়ি !

রুই কাতলার হাজতবাসে
কেউবা আবার মুচকি হাসে ;
কেউবা শোকে মর্মাহত ,
কেউবা নীরব গুণীর মত !

এমনি করেই দিন কেটে যায়
সোনার বাংলা পাবার আশায় ।

তুই এবং আমি

নদী এবং আমি
চাইছি আর একটিমাত্র চাওয়া ,
আশ্বিনে মনের কোনে সুপ্ত চরে জাগবি তুইই ।
কাশবনে ফুলে ফুলে খেলবে হাওয়া!

শিশির এবং আমি
ঘাসে ঘাসে জ্বলে উঠে মিশে যাব আলোর মিছিলে,
আঁধারের স্বপ্নগামী -
আমরা রাতদুপুরে ফোঁটা ফোঁটা দুজনে মিলে ,
ডুব দেব অমৃতরসের অতলে।

চাইছি আর একটিমাত্র চাওয়া ,
ছিন্ন হৃদয়-পালে খেলুক হাওয়া ।
আকাশ এবং আমি ভাসব ঝড়ের মেঘে
বৃষ্টি হয়ে ছুঁয়ে যাব তোকে ,
হঠাত্‍ তুই উঠবি জেগে সপ্নাকুল চোখে অলখে ।