ইউজার লগইন

স্বদেশ হাসনাইন'এর ব্লগ

এক পয়সার কাঠি

m

ঘুট ঘুটে অন্ধকারে মৃত্যুকে ডাকছে সবাই
ঠিক সে সময় কে যেন
এক পয়সার
একটি কাঠি জ্বেলে দিল,
মরে আর যেতে পারেনি মুমুর্ষু বৃদ্ধটি

আধপোড়া মোমবাতি খুঁজে পেয়ে
প্রসব কান্নার ঘরে
বাতি হাতে হেটে গিয়েছিল সে,
লাঠিতে ভর করে
কন্যার কপালে সস্নেহে হাত রাখতেই
একটি পবিত্র শিশু কেঁদে উঠলো
কাঁপা কাঁপা আলোয়


তখন যুদ্ধ চলছে একাত্তরে,
ব্ল্যাক আউট চলছে
শিশুদের জন্য বাসযোগ্য কাঁথা নেই
মায়েদের সম্ভ্রম রক্ষা করার জন্য
কোন চাদর নেই,
জলপাই ট্যাঙ্কের সামনে
মাথা পেতে আছে কমবেশী সবাই
ঠিক তখনই একটি হাত
হানাদারদের দিকে ছুঁড়ে দেয় হাতে বানানো বোমা
মেশিনগান পালিয়েছিল সেই শব্দ-ভয়ে
শিশুটিরও আর মরে যাওয়া হয়নি


আজ আবারও অন্ধকার চারদিক
শিশুটি বড় হয়েছে, তবুও অন্ধকার
এতগুলো হাত আছে

শক্তের ভক্ত

নতুন নতুন চাকরীতে ঢোকার পর অনেক কিছুই জানা থাকে না। এতদিন বয়স্কদের কথা শুনে, শ্রদ্ধা দেখিয়ে চলে এসেছি। তাদের কাছে কোন কারণ ছাড়াই মাথা নিচু করে কথা বলা যেন শ্রদ্ধার অংশ। এগুলোর পিছনে বাবার বহুদিনের শাসন দায়ী ছিল। আর ছিল মানবিক একটা ইচ্ছে।

সেদিনও রিক্সা না পেয়ে বাসে চড়েছিলাম। উত্তরায় এসে লোক ভরে গেল। হ্যান্ডলে ঝুলছে মানুষ। একটা বুড়ো লোক উঠেছে। হতে পারে সংস্কার, উঠে দাঁড়িয়ে ডাকলাম
-চাচা, এই খানে বসেন

অফিস হায়ারআর্কিটা বুঝতে সময় নেয়। অফিসে পরিচিত হওয়ার সময়ই টের পেলাম আমার নিচে অনেকে আছে এবং ম্যানেজমেন্ট পড়ানোর উদ্দেশ্য এদের কে যে করে হোক চড়িয়ে খাওয়া। বয়সে আমি অনেকের চেয়ে ছোট। বয়স্কদের হুকুমদারী করা প্রথমদিকে বিব্রতকর ছিল। যেমন জয়েন করার পরদিন ফাইল নিয়ে আসে পঞ্চাশোর্ধ একজন লোক।

পরিচয়

কখনো মানুষ, কখনো পুরুষ,
কখনো প্রশ্ন, কখনো চরম অমানুষ।
দোষে গুণে মানুষ,

বিস্ময় কালো নক্ষত্রের রাতে
শিয়রে কমলা হাতে,
কখনো শিশুর পিতা, কখনো রক্ত বিক্রেতা,
হাঁটুমুড়ে প্রার্থনায়, বর্ষনে ছাতা মাথায়
জোকার, জমিদার অথবা নামহীন মামুলী মানুষ

চর্বিত মানুষ, ভালবাসার রঙে গর্বিত মানুষ,
অন্ধকার ইতিহাসে
ক্রীতদাস, খুন, যুদ্ধের কলঙ্ক মুছে ভবিষ্যত দেখার মানুষ

কোন এক ভোরের অন্ধকারে
দেশের পলিতে মায়ের দেহের সঙ্গে মিশে যাবার
শেষ ইচ্ছার মানুষ

বিদ্যালয় সখা

বিদ্যালয় সখা, সেরা সময়ের সহচর

ষান্মাসিকে বা ফুটবলের ম্যাচে অন্যদের প্রতিদ্বন্দ্বী করে
সামান্য এগিয়ে গেলেও অসামান্য সুখ
আঙুলে আঙুলে ভাব বা মুহুর্তে কাটাকাটি

একদিন আন্ত:স্কুলে এই কালো পীচে
দলবদ্ধভাবে বিজয় মুকুট নিতে শিকারী হয়েছি
যেন বিদ্যালয় সারাজীবনের, তার স্বার্থে লড়ে যাওয়া
স্কুল কি আর আমাদের মনে রাখে?

শুনেছি সবাই ভাল আছে, সাফল্যে নেতা, পতনে কেউ কবি
যোগভাগ নিয়ে আমারও চলে যায়, কম বেশী
অর্থ কড়ি ঘরে, ব্যস্ততা নিয়েছি চিনে
বাস্তব খেলায় খেলা মুছে গেছে কবে, মাঠ গেছে দখলে

হতে পারে ভাব বা রোমন্থন
নৌকার মতো স্মৃতির গুনটানা কিংবা
যে নামই তাকে ডাকি
কৈশোরের রোদেলা দিনগুলো আমাদের
শ্রেষ্ঠ সময়, চাইলেই তাদের ভোলা যায় না

সবাই কোথায়? বাইরে, দেশে ব্যবসায়, কাজে, কেরানীত্বে
অথচ কী জ্বলজ্বলে স্মৃতি, যেন আগে ভাগে স্কুলে পৌছে
সতীর্থদের জন্য অপেক্ষা করছি

---------------

ছোটগল্প: সোনার গাঁ

a

দু পাশে সারি সারি ইটের ভাটা । আরব্য উপন্যাসের গরুড় পাখীর মতো চিমনির গলা বেয়ে কুন্ডলী পাকিয়ে ধুয়া উড়ছে। প্রতিদিনকার মতো কাচের বাক্সে বন্দী হয়ে সামনে এগিয়ে যাই এই পথে । ভোরের সুর্যটা ক্রমেই পানি পানি বিস্বাদ লাগে।