ইউজার লগইন

শক্তের ভক্ত

নতুন নতুন চাকরীতে ঢোকার পর অনেক কিছুই জানা থাকে না। এতদিন বয়স্কদের কথা শুনে, শ্রদ্ধা দেখিয়ে চলে এসেছি। তাদের কাছে কোন কারণ ছাড়াই মাথা নিচু করে কথা বলা যেন শ্রদ্ধার অংশ। এগুলোর পিছনে বাবার বহুদিনের শাসন দায়ী ছিল। আর ছিল মানবিক একটা ইচ্ছে।

সেদিনও রিক্সা না পেয়ে বাসে চড়েছিলাম। উত্তরায় এসে লোক ভরে গেল। হ্যান্ডলে ঝুলছে মানুষ। একটা বুড়ো লোক উঠেছে। হতে পারে সংস্কার, উঠে দাঁড়িয়ে ডাকলাম
-চাচা, এই খানে বসেন

অফিস হায়ারআর্কিটা বুঝতে সময় নেয়। অফিসে পরিচিত হওয়ার সময়ই টের পেলাম আমার নিচে অনেকে আছে এবং ম্যানেজমেন্ট পড়ানোর উদ্দেশ্য এদের কে যে করে হোক চড়িয়ে খাওয়া। বয়সে আমি অনেকের চেয়ে ছোট। বয়স্কদের হুকুমদারী করা প্রথমদিকে বিব্রতকর ছিল। যেমন জয়েন করার পরদিন ফাইল নিয়ে আসে পঞ্চাশোর্ধ একজন লোক।
-স্যার, এই যে ৬ মাসের রিপোর্ট। একাউন্টসের মফিজ কিছু নিয়ে আসছে। চলেন কনফারেন্স রুমে গিয়ে বসি। লোকটা কাচুমাচু। মফিজও আমার চেয়ে ৫/৭ বছরের বড়। দুজনেই কথায় কথায় স্যার। স্যার মানে জনাব। কিন্তু বাস্তবে মণিব প্রভুর সম্পর্ক। আমাদের দেশে বিষয়টি বদল হতে বোধ হয় অনেক সময় লাগবে।

তাদের মুখে স্যার স্যার শুনে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছিলাম প্রথম দিন। কিন্তু অফিস মানে অফিস। ভাবছিলাম আমার কি বলা উচিত্ যাতে উনারা স্যার না বলেন ?

বিকেলে ফেরার সময় এরকম অধীনস্ত লোকজন আছে, ভেবে নিজেকে উৎফুল্ল লাগছিল। হয়তো মানুষ মাত্রই চায় সবাই তার অধীনে কাজ করুক।

অফিসের কিচেনের পাশে কোকের একটা ফাউন্টেন আছে। অফিসাররা নিজেরাই যখন তখন কোক ঢেলে খেয়ে নেয়। চা বা কফির জন্য অবশ্য বেল বাজাতে হয়। আমি বসি একটা আলাদা রূমে। ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনী হিসাবে আমার সঙ্গে সমবয়সী একটা ছেলে ঢুকেছে। নাম ফরিদ।ও চাপাভাঙা চেহারার। ব্যবহারেরও বেশ শক্ত। মাত্র এক সপ্তাহ আগে জয়েন করেই সে সিচুয়েশন বুঝে ফেলেছে। বেল বাজায়, আমার দিকে তাকিয়ে বাহাদুরী দেখাতে চায় এমন ভাবে বলে,
-আপনিও কি চা খাবেন শাহরিয়ার সাহেব?
-জ্বি খাওয়া যায়
পিয়ন আলম আসে। বয়স্ক লোক। মাথায় চুল নেই। পায়ে স্যান্ডেল।এত ভাল অফিসে এরকম জীর্ণ পোষাক? ছেড়া ঠিক নয় তবে বহু ধোয়ায় সাদা জামাটা ফ্যাকাশে। নীল ববলিন ওঠা প্যান্ট।
-আলম, দেরী ক্যান?
-জি স্যার..
-এক মিনিটের মধ্যে চা আনো ২ টা। দুধ কম একটাতে। অন্য কারো কথা শুনতে যাবা না।
আর ঠিক এক মিনিটের মধ্যে ধুমায়িত চা এসে হাজির হয়।

জিনিসটা একদম ভাললাগেনি। অফিসের কারো সঙ্গে এমন তুমি তুমি বলা, আর গলার টোন অভদ্র করে অযথা যে ব্যবহার। তাতে বুঝে নিয়েছিলাম ফরিদের ফ্যামিলিতে শিষ্টাচার শেখায় নি।

বৃদ্ধ পিয়নের চেহারায় একটা মায়া হয়। এই বয়সে পিয়নের কাজ করছে! মফস্বলের এক চাচা ছিল অবিকল তার মতো দেখতে। সরল। মনে পড়ে প্রথম দেখার দিন দরজা খুলে অবাক হয়েছিলাম। এই ঢাকা শহরে লুঙ্গী পাঞ্জাবী পরে বেড়াতে এসেছেন। বাবা অনেক বার বলেছে, কলিম ভাইজান আপনার কি একটা প্যান্ট ও নাই, ঢাকা শহরে লুঙ্গী পরে কেউ আসে? আব্বা গুলিস্তান থেকে একটা প্যান্ট কিনে দেয়। যার রঙ ছিল নীল। লোকটা অবশ্য পরের বারও একই কাজ করে। কে জানে নতুন প্যান্ট পাওয়ার জন্য ইচ্ছে করে এমন করেছিল কিনা।

পরদিন পিয়ন আলমকে ডাকলাম। সেদিন ফরিদ গেছে ঢাকার বাইরে। বললাম,
-বসেন
-না স্যার, বসবো না। বলেন। আমারে
আপনার কে কে আছে? কোথায় থাকেন?
আলমের চোখ ছলছল করে। কেউ বোধ হয় এসব জিজ্ঞেস করে না।
-বড় সংসার স্যার, থাকি উয়ারীতে। দুই মেয়ের বিবাহ দিয়েছি। একজন কুরিয়ার সার্ভিসের কোম্পানীতে বড়জন লৌহজং এ। নাতি আছে দুইটা।
-ভাল। যেটা বলছি, আমাকে আর স্যার বলবেন না।
-কী যে বলেন স্যার। এইটা অফিসের নিয়ম
-নিয়ম কানুন পরে। আপনার কাজ আপনি করবেন। পথে স্যালুট দেয়ার দরকার নাই। একান্ত দরকার হলে আমাকে ভাই বলে ডাকলেই হবে।
-ঠিক আছে শাহরিয়ার ভাইজান। আল্লায় আপনার অনেক উপরে তুলবো
-ওকে, এবার যান।

এভাবে অফিসের সমস্ত বয়সে বড়দের আমি মানা করে দেই যাতে স্যার না বলে। সবাই ভাইই ডাকছে। একাউন্টসে জুনিয়র লোকগুলো উঠে দাঁড়াতো - এখন দাঁড়ায় না। কাজটা কি ভাল হলো? একটা সমস্যাও হয়।

ফরিদ অফিসে ঢোকা মাত্র সবাই উঠে দাঁড়ায়, স্যালুট করে। সে নিজে কিন্তু অফিস আসে দেরীতে। এসে খুব গম্ভীর ভাবে রিসেপশনিষ্টকে বলে, মিস মুন্নি, আপনি কালকে দেরী করে এসেছেন। এরকম দেরী করলে কী করে অফিস চলে। রিসেপশনিষ্ট চুপ করে থাকে। তারপর মার্কেটিং এর রুহুল কে বলে, আপনার সঙ্গে কথা আছে, কাজের অবস্থা তো খুব খারাপ। ফরিদ আমাকে শেখাতে চেয়ে বলেছিল সব ফাঁকিবাজ। রিসেপশনিস্টটা লাইন বিজি রেখে কার সঙ্গে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলে। ঝাড়ি দেয়াতে ঠিক হয়েছে।

ভাই ডাকায় সবাই আন্তরিক হলো, নরম ব্যবহারে খুশী । কিন্তু কথা শোনে না। কোন মেসেজ থাকলে মুন্নি জানায় না, পাত্তা না দিয়ে ফ্যাক ফ্যাক হাসে। জুনিয়রদের কিউবিকলে খোশ গল্প চললে আমার ভয়ে কেউ থামায় না। আমি যেন পেয়ার কা দোস্ত।

ফটোকপি মেশিন নষ্ট বলে বেল চেপে টেবিলে বসে ছিলাম নিচের দোকান থেকে ফটোকপি করিয়ে আনার অপেক্ষায়। সেদিন কিছু অফিসের জিনিসপত্র ফুরিয়ে গিয়েছিল। দুই বাড়ি পরে অফিসে এক্সটেনশন। সেখানে প্রকিউরমেন্ট ডিপার্টমেন্টে কিছু আনতে আলমকে ডাকি
-আলম
-জ্বী
-আপনাকে এই নিযে তিনবার বললাম স্টেপলার আর রাফ প্যাড নিয়ে আসতে। সামনে তিনটা ফাইল জমে। ফোন আসছে বড় সাহেবের কাছ থেকে। কিন্তু কোন খবর নেই। সে বললো,
-ভাইজান, আনতেসি।
-জলদি করেন
-কিন্তু ভাইজান, আমার তো হাত বন্ধ। মফিজ সাবের ভাইয়ের ছেলের জন্মদিনের কার্ড কিনতে যাবো।
-তার আগে দিয়ে যাবেন
-আইচ্ছা দিব
তারপর আর খবর নেই। আমাকে জানিয়েও বাইরে যায় নি। মফিজ সাহেব সম্ভবত: বকশীষ দিয়েছে। যা হোক সব ফেলে নিজেকেই গিয়ে স্টেপলার আনতে হলো।

ফরিদের সাথে থেকে বুঝলাম, এরা তাকে খুব মানে। কখনো এসে জিজ্ঞেস করে কি করতে হবে। ফরিদ যেমন শুরুই করে গলা উঁচিয়ে, আলম, আ-ল---ম, সমস্যা কি? এত দেরী ক্যান?

বয়সের কারনে আলমের শরীর খারাপ থাকে। বয়স্ক লোকটার জন্য মাঝে মাঝে খারাপ লাগে। সে সেদিন এসে বললো যে
-শাহরিয়ার ভাই, আপনার কাছে কী ৫০০ টাকা ধার হবে?
-কেন?
-অষুধ পত্র কিনতে হবে। বয়স হয়েছে, বুকে ব্যথা। বড় সাহেব কিছু দিয়েছে।
আমি চুপচাপ তাকে টাকাটা দেই। ফরিদদের দুর্ব্যবহার মাঝে মাঝে এত বেশী হয় যে খারাপই লাগে।

তার দুই দিন পর, একাউন্টসের একজন এসে বললো, শাহরিয়ার ভাই, আপনি কি আলম কে টাকা দিয়েছেন?
-হম্ম, কেন?
-ও কিন্তু টাকা নেয়ার স্বভাব আছে। একজন ছিল চলে গেছে। তার কাছে সাতহাজার টাকা ধার নিয়েছিল। মেয়ের নামে, নিজের নামে, স্ত্রীর নামে। শরীর খারাপের অজুহাতে টাকা চাইলে দিবেন না। ও কিন্তু ফেরত দেবে না।
-আচ্ছা

বৃষ্টির দিন। সেদিন কাজের প্রচণ্ড চাপ। সকাল থেকে বিদেশী ক্লায়েন্টদের সামলে রীতিমত ক্লান্ত। কোন কোন দিন বাইরে খেয়ে আসলেও। বাইরে থেকে খাবার আনানো অলিখিত রীতির মতো। আলম দেখলাম এরই মধ্যে ফরিদের কথা মতো জন্য ঘরোয়ার খিচুড়ি কিনে এসেছে। অফিসের খুব কাছেই চাইনিজ। ভাবলাম এখান থেকে লাঞ্চপ্যাক আনাই। বৃষ্টি - তাই কিছু বখশীষ দিয়ে দেব। কিন্তু আমার কথা আলমের পছন্দ হয় নি। সে মিন মিন করে বললো, ভাইজান, রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। চাইনিজটার সামনে অনেক কাদা।

ফরিদ খেয়াল করেছে বিষয়টা। আলম চলে যেতেই সে আমাকে উদ্দেশ্য করে বললো, শাহরিয়ার সাহেব, ভদ্র লোকের ভাত নাই। মনে রাখবেন, টাইট না দিলে এই দেশে অফিসের লোকজন মাথায় চলে। শক্তের ভক্ত নরমের যম - এ কথাটা শোনেন নি? নরম ভাবে বললে জিন্দেগীতে কাজ করাতে পারবেন না। আর "ভাইজান" ডাকতে দিয়েছেন কেন? বিদেশ পেয়েছেন?
-তা কি করবো?
-শক্ত করে কথা বলবেন। হাসবেন না। দেখেন কি হয়।

এত তত্ত্ব কথা মাথায় ঢোকে না। পেটে খিদে জ্বলছে। আলম তখন ব্যস্ত না, অফিসে বসেই ছিল। ফরিদের ভয়ে ধানমন্ডী থেকে সুদুর মতিঝিলের ঘরোয়ার খাবার কিনে আনতে পারে, কিন্তু ভদ্র করে বলায় আমার কথা সে গায়েও মাখে নি।

এটা ভেবে মাথাটা চড়ে যায়, আলম কে রাগত:স্বরে ডাকি। সে কি অফিসে নেই? না পিছনে গল্প করছে? রিসেপশনের মেয়েটাকে ভদ্রভাবে বলি ডাকতে। সে বলে, আচ্ছা, আমি দেখছি ভাইয়া। বলতে বলতে ফোনটা খটাস করে রেখে দেয়। যেন আমার মুখের ওপর ফোন রাখলেই বা কি! আর স্থির থাকতে পারিনি। গলা সপ্তমে নিয়ে মুন্নীকে বললাম
-মুন্নী, হোয়াটস গোয়িন অন? শোনেন, ১ মিনিট টাইম দিলাম। উঠে গিয়ে বের করেন। অফিসে এসে ফোন বিজি রেখে কী করেন? হ্যা? এটা কি বাপের বাড়ি পেয়েছেন?
-মুন্নী অবাক হয় আমার পরিবর্তিত গলার টোনে। কাঁপে। ঢোক গিলে বলে ঠিক আছে। দেখি।

আলম কি টের পেয়েছে? সে জলদি ছুটে আসে। আমি ইচ্ছে করে এক্সট্রা ঝাড়ি দেই। ঐ আলম তোমার এতোক্ষণ লাগে কেন? হ্যা? লাই দিলে মাথায় উঠে বসে থাকো? এক্ষন যাও। কাদা না মাটি, বৃষ্টি না তোমার মাথা বুঝিনা। তোমারে সাইজ করার সিস্টেম আমার জানা আছে।

ঠিক ১০ মিনিটের মধ্যে টেবিলে খাবার চলে আসে। গরম ধোঁয়া উড়ছে। বৃষ্টিতে ভিজে আসার জন্য ধন্যবাদও দেই না। যেন ও ভৃত্য - ওর কাজই বৃষ্টিতে ভিজে আনুগত্য প্রদর্শন।

ফরিদ তীর্যক হেসে বললো, এতদিনে এদেশের অফিস-আদালতে চলা শিখতে পেরেছেন।
-------------------------------------------------------------------------
চরিত্রাবলী কাল্পনিক - কারো সঙ্গে মিল নিতান্ত কাকতালীয়।

পোস্টটি ৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

তানবীরা's picture


কি জানি ভাই জানি না। আমাদের দেশে আমরাই মুন্নী আমরাই আলম। নিজেদের চা কফি খাবার সব নিজেরাই আনি। নিজেদের স্টেপলারে নিজেরাই পিন ভরি। ফটোকপি থেকে ফ্যাক্স সব নিজেরাই করি। যেহেতু এক মেইলে একশ জনকে সিসি করা যায়, নিজের এজেন্ডা, মিটিং সব মেইলের থ্রুতে এরেঞ্জ করা যায় পশ্চিমে সেক্রেটারীর পদ প্রায় বিলুপ্ত। বাংলাদেশের এসব রাজকীয় এরেঞ্জমেন্ট দেখতে শুনতেও ভালো লাগে।

ভালো থাকবেন।

স্বদেশ হাসনাইন's picture


দারুণ বলেছেন। তবে অর্থের ফেনায় ভেসে বিশ্বজুড়ে বৈষম্য যে ভাবে বাড়ছে তাতে শাহরিয়ার কিংবা আলমের তফাত্ এখন খুব বেশী কিছু না। পশ্চিমা দেশে চা বানানোর কাজটি থেকে আলমেরা সরে এসেছে বলে গর্ববোধ করতে পারে আর জামা জুতোয় যথেষ্ট উন্নত দাবী করার সুযোগও আছে। সভ্যতায় কয়েকশত বছর পিছিয়ে বাংলাদেশের ব্যবস্থাকে সামন্ততান্ত্রিক বলে দাবী করার মতো সুযোগও আছে। কিন্তু ওয়ালমার্ট বা জেসিপেনির সুরম্য বিপনীবিতানে কনভেয়ার বেল্টের সামনে দাঁড়ানো ফায়ারিং স্কোয়াডের বন্দীর মতো নতজানু আলম মুন্নির দৃশ্য দেখেছিলাম - শুধু বোতলটাই বদলেছে মনে হয়েছে।

বাস্তব এইটি যে এই সামন্ততান্ত্রিক পরিবেশ থেকে দ্রুত বদলে যাওয়া কঠিন। বস্তির টোকাই রাস্তায় দেখে যেমন উপর তলার শিশুটা বলে - হোয়াই ডোন্ট ইউ ক্লিন টিথ - ইটস সিম্পল যাস্ট বাই ব্রাশ এন্ড পেস্ট। ঠিক তেমনি প্রযুক্তিতে ইন্টারনেট বা কলের লাঙ্গল চাইলেই সম্ভব না। আর হলেও উল্টো বেকারত্ব বাড়াবে কিনা চিন্তার বিষয় ।

ব্যক্তিগত অভিমত, বড় পরিবর্তনের আগে, আলমদের কাজের মর্যাদা দেয়া এবং তাদের ভালমন্দের খোঁজ নেয়া হলে সামান্য হলেও পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু এই মানবিক ইচ্ছেগুলো অনেক সময়ই সুযোগ হয়ে যায়। আর শক্তের ভক্ত নরমের যম এই পুরনো প্রবাদটি সত্য হয়।

নুশেরা's picture


বাস্তবচিত্র নিঃসন্দেহে।
গদ্য ভালো লাগলো। নিয়মিত চাই।

তানবীরার মন্তব্যে মনে হলো, আলম মুন্নীদের পদগুলো বিলুপ্ত হলে এই দেশের হাল কী হবে!

স্বদেশ হাসনাইন's picture


অনেক ধন্যবাদ নুশেরা।

তানবীরা's picture


নুশেরা, পানির স্রোত কখনো কি থেমে থাকে? সে যেদিকে ঢাল পাবে সেদিকে গড়াবেই। আলম - মুন্নীর পদগুলো বিলুপ্ত হলে নতুন পদের সৃষ্টি হবে এবং নতুন কাজে মানুষ অভ্যস্ত হবে।

ইউরোপ থেকে প্রোডাকশন, গার্মেন্টস, এসেম্বল সব এখন এশিয়াতে চলে গেছে। এশিয়াতে নতুন জব মার্কেট সৃষ্টি হয়েছে ইউরোপ কি বসে গেছে? ইউরোপের দর্জিরা এখন অন্য কাজ করছে, এসেম্বেলররাও তাই।

আমি এটাই বিশ্বাস করি। পরিবর্তনের সাথে না পা ফেলতে পারলে যেমন পিছিয়ে আছি তেমন পেছানোই থাকবো।

রশীদা আফরোজ's picture


আমার কর্মজীবনের সাথে অনেকখানি মিলে যায়।

টুটুল's picture


এখন চাইলেই শাহরিয়ার সাহেবের মত হওয়া যায় না। তাহলে কাজ শেষ করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। অফিস গুলো কাজ করে একটা টীমওয়ার্কের মধ্যে। টীমওয়ার্কের মাঝে কেউ যদি ঠিকঠাক মত কাজ না করে তাহলে টোটাল টিমের পারফর্মেন্স খারাপ হয়ে যায়। আর কাজ খারাপ মানে আমার বস আমারে তেজ্য চাকরি করবে Smile ... ১৯-২০ হওয়ার সুযোগ নেই এই কম্পিটিশনের যুগে।

প্রথম কর্মজীবনে শাহরিয়ার সাহেবের মত কত্ত কি করছি... কত লোক যে টাকা মাইরা দিছে... এখন ফরিদ সাহেবের মত হইতে বাধ্য হইছি। এখন সব সোজা...

আনিকা's picture


আমার মনে হয় কপাল ভালো ছিলো, আমার অধীনস্থ কেউ কখনো ছিলোনা... আমি এযাবত যেই দুই অফিসে কাজ করেছি, দুইখানেই দুইজন পিয়ন ছিলেন, যারা বয়সে অবশ্যই আমার চেয়ে বড়ো, কিন্তু দুই অফিসেই স্যার/ম্যাডামের বদলে সবাইকে ভাই/আপা ডাকার চল ছিলো... আর এই দুই পিয়নের কেউই সৌভাগ্যক্রমে আমার নরম স্বরকে অবজ্ঞা করেন নাই কখনো...

বাতিঘর's picture


পড়ে ভালো লাগলো Smile

১০

মীর's picture


গদ্য ভাল লেগেছে। আমাদের অফিসে কম বয়েসী পিওন-বরকন্দাজ রাখা হয়েছে, যাতে তাদের ওপর হম্বি-তম্বিতে কারো কুন্ঠাবোধ না হয়। এদের সঙ্গে নানারকম এপ্রোচের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে যে জিনিসটা বুঝেছি সেটা হচ্ছে, আমাদের দেশে কাজের মূল্যায়ন খুব কম। ছোট হোক, বড় হোক, কাজ তো কাজই, তাই না? কিন্তু এটা মেনে নেয়ার মানসিকতা অধিকাংশেরই থাকে না । ফলাফল, যারা ছোট চাকুরে তারা সবসময়ই একটা কমপ্লেক্সে ভোগে। এখন কাজ করতে এসে যদি জব-স্যাটিসফ্যাকশন না থাকে তাহলে কারই বা ভালো লাগে? যে কারণে এই শ্রেণীর কর্মচারীদের মধ্যে আমি দেখেছি, ফাঁকি দেয়ার মানসিকতাটা ভয়াবহরকম বেশি। দোষ ঐ ব্যক্তির না, প্রচলিত সিস্টেমের। কিন্তু বলির পাঁঠা হয় নিম্নআয়ের এ মানুষগুলো। কারণ, টাইট না দিলে ওদেরকে দিয়ে কাজ আদায় করা খুব কঠিন। বাধ্য হয়ে এখন যাদের ইচ্ছে করে না, তারাও ওদেরকে টাইট দেন, এ গল্পের নায়কটির মতোই।

যাউক্গা, স্বদেশদা'র গল্প ও কবিতা দুই-ই দারুণ লেগেছে আমার কাছে। তার কাছ থেকে সবরকমের লেখা আরো চাই।

১১

নীড় _হারা_পাখি's picture


ভাল লাগল.।

১২

নাজমুল হুদা's picture


"চরিত্রাবলী কাল্পনিক - কারো সঙ্গে মিল নিতান্ত কাকতালীয়।" এই কাল্পনিক চরিত্রাবলীর সঙ্গে মিলের বিষয়টি নিতান্ত কাকতালীয় হলেও সংখ্যায় অগুনতি হবার সম্ভাবনা প্রায় শতকরা একশত ভাগ । কাক বা কোকিল যেমন তালীয়ই হোক না কেন এমন জীবন ঘনিষ্ট পোস্ট কাম্য । ধন্যবাদ স্বদেশ হাসনাইন ।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

স্বদেশ হাসনাইন's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি হাসনাইন । ছোট একটা ফার্মে কাজ করছি । সৌখিন লেখক । ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করি । পকেটে পয়সা থাকলে এদিক ঘুরে খরচ করে ফেলি । সুনীলের লেখার ভক্ত, শামসুর রাহমানের কবিতা পড়ি। বিদেশী লেখকের মধ্যে ড্যানিয়েল স্টীলের লেখা ভাল লাগে । সবচেয়ে ঘৃণা করি স্বাধীনতার বিরোধী শক্তিকে । একাত্তর আমার সবচেয়ে বড় অহংকার।