ইউজার লগইন

একাত্তরের এদিনে বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করা হয়

আজ ২ মার্চ। একাত্তরের উত্তাল মার্চের দ্বিতীয় দিন। এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় লাখ লাখ ছাত্র-জনতার সামনে বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করা হয়।

১৯৭১-এর এই দিনে সারা বাংলাদেশ ছিল আন্দোলনমুখর। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ঢাকায় স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালিত হয়। রাজধানী মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। দলমত, পথ ও পেশা ভুলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সমগ্র ঢাকা এক ও অভিন্ন হয়ে গণতন্ত্র ও স্বাধিকারের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে। সকাল থেকেই রাজধানীর সব দোকানপাট, ব্যবসায় কেন্দ্র, যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। সরকারি-বেসরকারি স্বায়ত্তশাসিত কোন প্রতিষ্ঠানেই কর্মচারীরা কাজে যোগ দেননি। ট্রেন ও বিমান সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। হাজার হাজার মানুষ লাঠি ও রড হাতে রাজপথে নেমে আসেন।সকাল থেকেই দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ ঢাকায় সর্বাত্মক হরতালে অংশ নিয়ে চূড়ান্ত অচলাবস্থা সৃষ্টি করে। ঢাকার রাজপথ জনসমুদ্র হয়ে ওঠে। সভা-সমাবেশে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দেওয়া হয়, স্বাধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস নেই।

আগেরদিন ১ মার্চ ইয়াহিয়া খান অনির্দিস্টকালের জন্য পরিষদ অধিবেষন স্থগিত ঘোষণা করেন । প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার ১ মার্চের ঘোষণার ফলে পুর্ব পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় । বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারী পার্টির সাথে আলোচনা করে গান্ধীজীর কায়দায় অর্থাৎ অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলনের মাধ্যমে স্বায়ত্বশাসন আদায়ে বদ্ধপরিকর হলেন । তিন ৬ দিনব্যাপী এক কর্মসুচি ঘোষণা করলেন । বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরদিন ২ মার্চ ঢাকায় হরতাল আহ্বান করেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য , ইয়াহিয়া খানের ঘোষণার পরপরই ছাত্রলীগ সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকী , সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ, ডাকসু ভিপি আ স ম আবদুর রব ও জি এস আবদুল কুদ্দুসের মাখনের সমন্নয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয় এবং ফলে ১১ দফাভিত্তিক সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পরিষদের কার্যত বিলুপ্তি ঘটে । ছাত্রলীগের রেডিক্যাল অংশ ( যারা ১৯৬৪ সালে জাস্টিস ইব্রাহিম সূচিত এবং সিরাজুল আলম খান প্রমুখের নেতৃত্বাধীন নিউক্লিয়াসের সাথে জড়িত ছিলেন ) শেখ মুজিবের গান্ধীবাদী কর্মসূচিতে সন্তষ্ট হল না। তারা সিদ্ধান্ত নিল ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসমাবেশ অনুষ্ঠানের এবং রব-সিরাজ -ইনু প্রমুখ কর্তৃক পরিকল্পিত ও শিবনারায়ণ দাস কর্তৃক অংকিত গাঢ সবুজের মাঝে উজ্জল সূর্যের প্রতিক লাল রংয়ের মাঝে বাংলাদেশের মানচিত্র খঁচিত পতাকা উত্তোলনের ।

সিদ্ধান্ত মোতাবেক , চারদিক থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের মিছিল এসে জমায়েত হয় ঢাবি কলাভবন চত্বরে । নতুন স্লোগান তৈরি হল-জাগো জাগো বাঙালী জাগো , বীর বাঙালী অস্ত্র ধর , বাংলাদেশ স্বাধীন কর এবং তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা । নদীর ঢেউয়ের মতই আন্দোলিত হচ্ছিল কলাভবন চত্বরের কালো মাথাগুলো । হঠাৎ করে একটু চঞ্চল হয়ে উঠে সমবেত সবাই । হ্যা , ধীরে ধীরে বাশের মাথায় স্বাধীনতা পতাকা উত্তোলন করলেন ডাকসু ভিপি আ স ম আবদুর রব । চারদিক মুখরিত হল ‘জয় বাংলা ’ স্লোগান। রচনা হয়ে গেল ইতিহাসের আরেক অধ্যায় ।

2 march 71 potaka uttolon.jpg
বিকেলে জনসভা হয় বায়তুল মোকাররম ও পল্টন ময়দানে। সন্ধ্যার পর আকস্মিকভাবে পুরো নগরীতে কারফিউ জারির ঘোষণা দেওয়া হয়। রাত ৯টা থেকে পরদিন ৩ মার্চ সকাল ৭টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করে সামরিক কর্তৃপক্ষ। অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত এই কারফিউ বহাল থাকবে বলেও জানানো হয়। বেতারে কারফিউ জারির এ ঘোষণা প্রচারের পরপর বিভিন্ন এলাকায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনতা রাস্তায় নেমে ব্যারিকেড রচনা করে। গভীর রাত পর্যন্ত কারফিউ ভঙ্গ করে মিছিল বের করে তারা। 'জয়বাংলা', 'জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগানে রাতের ঢাকার নিস্তবদ্ধতা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। স্লোগানের পাশাপাশি গুলিবর্ষণের আওয়াজ শোনা যায়। রাতেই বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে সেনারা। এতে অন্তত শতাধিক ব্যক্তি হতাহত হন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীর হাসপাতালগুলোয় বুলেটবিদ্ধ লোকের ভিড় জমতে থাকে।

এই রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক বিবৃতিতে ঢাকায় নিরস্ত্র জনতার ওপর গুলিবর্ষণের কঠোর নিন্দা করে বলেন, 'বাংলাদেশে আগুন জ্বালাবেন না। যদি জ্বালান, সে দাবানল হতে আপনারাও রেহাই পাবেন না।' বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ পর্যন্ত আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের জনগণের স্বাধিকার অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি ৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল পালনের আহ্বান জানান। ৩ মার্চ 'জাতীয় শোক দিবস' পালনের ডাক দেন।

এদিকে করাচিতে এক সংবাদ সম্মেলনে পিপলস পার্টির প্রধান জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত রাখায় নিশ্চিতভাবে কিছুই ক্ষতি হয়নি। পরিষদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়নি। দেশের দুটি প্রধান দল শাসনতান্ত্রিক ব্যাপারে কিছুটা সমঝোতায় পৌঁছা মাত্রই জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে পারে।এছাড়া সন্ধ্যায় করাচিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি আলোচনার জন্য পিপলস পার্টি বাদে বাকি রাজনৈতিক দলগুলোর এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভুট্টোর ভূমিকার সমালোচনা করা হয়। আগামী ৫ দিনের মধ্যে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানানো হয়।

পোস্টটি ১২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নুরুজ্জামান মানিক's picture


কৈফিয়তঃ এই পোষ্টের তথ্যাবলী (টেক্সট) পুর্বে আমার বই ও অন্যান্য ব্লগে প্রকাশিত । আমার লেখাটি ফ্যাক্টভিত্তিক (ফ্যান্টাসি নয় ) । ইতিহাসের তথ্যকে নানাভাবে পাঠ করা যেতে পারে কিন্তু তাতে ফ্যাক্ট বদলায় না কারণ ইতিহাসে ঘটে যাওয়া ফ্যাক্ট অপরিবর্তনীয় সত্য । এতদসত্ত্বেও যদি নীতিমালার দোহাই দিয়ে কেউ যদি আপত্তি করে এবং সে বিবেচনায় এটি সরিয়ে দেয়া হয় সেক্ষেত্রে আমার কিছু বলার নেই ।

ষষ্ঠ পাণ্ডব's picture


"বিপ্লবীদের বেশি দিন বাঁচা ঠিক নয়। বেশি বাঁচলেই তারা প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে উঠে।" - হুমায়ুন আজাদ

আ স ম আবদুর রবদের বেশি দিন বাঁচা ঠিক নয়। বেশি বাঁচলেই তারা মুক্তি সংগ্রামী, প্রগতিশীল থেকে সামরিক শাসকের গৃহপালিত ..... ও প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে।

গোল্ডফিশ মেমোরির জনগণকে প্রতিদিনই তার ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়া দরকার। ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে যত জনই লিখবেন তাতে ফ্যাক্ট পাল্টাবেনা, যদি না কেউ "মেহেরজান" নির্মাণ করতে বসেন।

নুরুজ্জামান মানিক's picture


হ । আ স ম আবদুর রব যেমন স্বৈরাচারের গৃহপালিত নেতা হয়েছেন তেমনি তার গুরু সিরাজুল আলম খানও স্বাধীন দেশে নানা ভানুমতির খেল দেখিয়েছেন এবং সাম্রাজ্যবাদের সওদাগরি করেছেন কিন্তু তাতে তাদের মুক্তিযুদ্ধের পটভুমিকার রোল এবং তার গুরুত্বকে অস্বীকার করা যায় না । আমি মনে করি , ইতিহাসের কোন ব্যক্তি বা ঘটনার বিচার করতে হয় ওই সময়কালে / পটভুমিতে ব্যক্তি বা ঘটনার ভূমিকা কি ছিল তা’ দিয়ে । অতীত বা ভবিষ্যতের কোন ঘটনায় ব্যক্তির ভূমিকা দ্বারা বায়াসড না হয়ে । একজন ব্যক্তি আজীবন প্রগতিশীল /প্রতিক্রিয়াশীল থাকতে পারেন আবার নাও পারেন । যে বঙ্গবন্ধু ছিলেন পাকিস্তান আন্দোলনের তরুন তুর্কি (গুরু সওরাওর্য়াদির মত ) তিনি আবার পরে হয়েছেন স্বাধীনতার অবিসংবাদিত নেতা, বাংলাদেশের স্থপতি । ইতিহাসে এমন উদাহরন ভুরি ভুরি । আপন ভাইদের হত্যা , পিতা-বোনকে কারাগারে নিক্ষেপ করে ক্ষমতায় আসা আওরঙ্গজেবই হয়ে যান বাদশা আলমগীর (জিন্দাপীর) ।

নাজমুল হুদা's picture


ঠিকই বলেছেন। সেই গণতন্ত্রের মানসপুত্র আবার একদলীয় বাকশাল কায়েম করেন। রক্ষীবাহিনী দিয়ে দেশপ্রেমিকদের শায়েস্তা করেন। 'কোথায় আজ সিরাজ সিকদার' বলে হুঙ্কার দিয়ে তৃপ্ত হন। 'এক নেতা এক দেশ', 'বিশ্বে এলো নতুন বাদ, মুজিববাদ, মুজিববাদ' -শ্লোগানে আত্মতুষ্টিতে দেশকে ব্যক্তিগত সম্পদ বলে মনে করতে শুরু করেন। যে যেভাবেই লিখুক না কেন, ইতিহাস নিজস্ব গতিতেই তার প্রকৃত স্থান করে নেবে।

হাসান রায়হান's picture


পতাকা উত্তোলনের ঘটনাটা আরো ডিটেইলস লিখতে পারতেন। পরদিন নাকি স্বাধীনতার ইশতেহার পরার কথা ছিল।

নুরুজ্জামান মানিক's picture


পরদিন নাকি স্বাধীনতার ইশতেহার পরার কথা ছিল

হ । আগামীকাল সেটা লিখব ।

লীনা দিলরুবা's picture


মুক্তিযুদ্ধের ঘটণাবলী, ইতিহাস আর প্রেক্ষাপট আমাদের বারবার পড়তে হবে। বিস্মৃতিপরায়ণ জাতি তো, খালি ভুলে যাই। পোস্টে প্লাস মানিক ভাই।

নুরুজ্জামান মানিক's picture


ধন্যবাদ ।

অরিত্র's picture


সাধারণ পোস্ট মানিক ভাই। আপনার ইতিহাসকে সামনে নিয়ে আসার, মানুষের কাছে পৌছানের এই ইচ্ছা, আগ্রহ, সংকল্প, চেষ্টা আমাকে উজ্জিবিত করে।

স্যালুট স্যার

১০

নুরুজ্জামান মানিক's picture


ধন্যবাদ। তবে স্যার নয় মানিক ভাই (বা বন্ধু )হিসেবেই থাকতে চাই

১১

লীনা দিলরুবা's picture


বাবার ডায়েরি ১৯৭১, সামুতে এই ডায়েরিটি পুরো তুলে দিয়েছিলাম, মার্চ মাস ১৯৭১ এখানে তুলে দিলাম।

[su]১ মার্চ ১৯৭১[/su]

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া বেতার ভাষন দেন দুপুর ১টা-৩০ মি:। তিনি জাতীয় পরিষদ অধিবেশন অনিদৃষ্ট কালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। পূর্বপাক গভর্ণর ভাইস এডমিরাল আহছানকে সরাইয়া খ অঞ্চলের সামরিক আইন প্রশাসক সাহেবজাদা ইয়াকুব খাঁকে অস্থায়ী গভর্ণর করা হয়।

[su]২ মার্চ ১৯৭১[/su]

জাতীয় পরিষদ অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে ঢাকা শহরে পূর্ণ হরতাল।

[su]৩ মার্চ১৯৭১[/su]

শেখ মুজিবের আহবানে সারাদেশে পূর্ণ হরতাল।

[su]৬ মার্চ ১৯৭১[/su]

প্রেসিডেন্ট ইয়াইয়া খান অদ্য এক বেতার ভাষনে ঘোষণা করেন আগামী ২৫শে মার্চ নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বসবে।

[su]৭ মার্চ, ১৯৭১[/su]

অদ্য রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষন দেন অপরাহ্ন ৩.২০মি:।

ইয়াকুব খানের স্থলে লে. জেনারেল টিক্কা খানকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর করা হয়। এবং লে. জেনারেল এ. এ. কে নিয়াজীকে সামরিক বাহিনীর প্রধাণ নিযুক্ত করা হয়।

[su]৯ মার্চ ১৯৭১[/su]

বিচারপতি বি. এ. সিদ্দিকী অদ্য ঘোষণা করেন যে তিনি গভর্ণর হিসাবে টিক্কা খানকে শপথ করাবেন না।

[su]১০ মার্চ ১৯৭১[/su]

অদ্য নারায়ণগঞ্জ জেলখানা থেকে ৪০ জন কয়েদী পালিয়ে যায়। পালানোর সময় সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়।

[su]১১ মার্চ ১৯৭১[/su]

অদ্য বরিশাল জেলখানা থেকে ৪০ জন কয়েদী পালিয়ে যায়। পালানোর সময় সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়।

গত ঘূর্ণিঝড়ে পান-বরজ ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে রিলিফের টাকা বিতরণ।

[su]১২ মার্চ ১৯৭১[/su]

The C.S.P & E.P.C.S organization of Dacca declared their sympathy with Non violent, Non co operation movement of Sk. Mujibur Rahman.

(ঢাকাস্থ সি.এস.পি (সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান) এবং ইপিসিএস (ইস্ট পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস) কর্মকর্তাদের সংঘঠন শেখ মুজিবুর রহমানের অহিংস, অসহযোগ আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করেন।)

[su]১৫ মার্চ ১৯৭১[/su]

President A. M. Yahya Khan arrived in Dacca from Karachi for talks with this day in the evening. .

(অদ্য সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের জন্যে ঢাকায় পৌঁছান)

[su]১৬ মার্চ ১৯৭১[/su]

শেখ মুজিবের সাথে জাতীয় পরিষদ অধিবেশন ডাকা ও ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়াদি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ঢাকা আসেন। সন্ধ্যায় ঢাকার প্রেসিডেন্ট ভবনে আলোচনা আরম্ভ হয়।

[su]২০ মার্চ ১৯৭১[/su]

পিপলস পার্টি প্রধাণ জুলফিকার আলী ভুট্টো অদ্য তার দলীয় নেতাদের নিয়ে মুজিব-ইয়াহিয়া আলোচনায় অংশ গ্রহনের জন্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ঢাকায় আসেন। ভুট্টো ও দৌলতানা জানায় যে, তাদের সাথে প্রেসিডেন্টের আলোচনা আশাব্যঞ্জক। ২০শে মার্চ আলোচনা বৈঠক থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের শেখ মুজিব জানান যে প্রেসিডেন্টের সাথে তার আলোচনার অগ্রগতি হয়েছে।

[su]২২ মার্চ ১৯৭১ [/su]

Mujib-Aahya-bhutto tripartite meeting held on today at the president house, Dacca.

(মুজিব-ইয়াহিয়া-ভুট্টো'র ত্রিপক্ষিয় বৈঠক অদ্য ঢাকাস্থ প্রেসিডেন্ট ভবনে অনুষ্ঠিত হয়)

১২

নুরুজ্জামান মানিক's picture


গুরুত্বপুর্ণ এ দলিল এবিতেও তুলে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ

১৩

জ্যোতি's picture


মানিক ভাইকে ধন্যবাদ ইতহাসকে তুলে ধরার জন্য। আপনার পোষ্ট থেকে অজানা অনেক কিছুই জানতে পারি আমরা।

১৪

নুরুজ্জামান মানিক's picture


ধন্যবাদ

১৫

লীনা দিলরুবা's picture


মার্চ ২৪ ১৯৭১

Brigadier Mojumder (Bengali) of the commander of Chittgong recalled to Dacca this day at 1.30 P.M. Brigadier Ansary posted at chittagong as commander.
As Civil clash took place between army and labors in the chittagong port when army men were un-loading some goods & arms from ship SWAT.
All the political leaders of West Pakistan left Dacca for Karachi to day. Failure of talks, Sk. Mujib told presume that they have reached a settlement with president Yahya.

(চট্টগ্রামের কমান্ডার বাঙালী বিগ্রেডিয়ার মজুমদারকে অদ্য দুপুর ১.৩০ মি. এ ঢাকায় ডেকে পাঠানো হয় । তার স্থলে বিগ্রেডিয়ার আনসারিকে চট্টগ্রামের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়।
পাকিস্তানি সৈন্য বাহিনী চট্রগ্রাম বন্দরে সোয়াত জাহাজ থেকে মাল ও অস্র খালাশ করার সময় বন্দরের শ্রমিকদের সাথে তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়।
অদ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিম পাকিস্তানের সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঢাকা ছেড়ে করাচির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। শেখ মুজিবুর রহমান ধারণা দেন যে তারা প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সাথে সমঝোতায় পৌঁছেছেন।)

মার্চ ২৫ ১৯৭১

The opening session of National Assembly was fixed for today by the president A. M. Yahya Khan. But it could not be held.
Military advisors General Hamid, Tikka, Mittha Khan met the President at Dacca Cantonment.

(প্রেসিডেন্ট এ. এম ইয়াহিয়া অদ্য জাতীয় অধিবেশনের ঘোষণা দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা অনুষ্ঠিত হয়নি।
সামরিক বিশেষজ্ঞ জেনারেল হামিদ, টিক্কা এবং মিত্যা খান ঢাকা ক্যান্টনম্যান্টে প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করেন।)

২৬.১৩.১৯৭১

অদ্য ভোর বেলায় পাক সৈন্যরা আগরতলা মামলার ২নং আসামী বীর বাঙালী জনাব লে. কমান্ডার মোয়াজ্জম হোসেনকে তার ঢাকার বাড়ীতে হত্যা করে।

Marshal Law administrator General Tikka Khan delivered radio speech at 10 a.m.
President General Yahya Khan spoke to the nation at 8 p.m in the night.
1. Banned Awami league as a political party.
2. Suspended N. A. session

সেনা প্রশাসক জেনারেল টিক্কা খান সকাল দশটায় বেতার ভাষণ দেন।
রাত ৮ টায় প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।

সেখানে ঘোষণা করা হয়-

১. রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামিলীগ নিষিদ্ধ।
২. জাতীয় অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

মার্চ ২৭, ১৯৭১

সকাল ১০টায় আমার সিতাকুন্ড বাসায় দরজা বন্ধ করে বসে ছিলাম। রাস্তায় গাছ কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রাখা । সিএন্ডবি রাস্তা দিয়ে ফেনী থেকে হঠাৎ ১০/১৫টি পাক ফৌজ গাড়ি ভর্তি হয়ে চট্টগ্রামের দিকে চলে যায়। পথে কুমিরায় তাদের সাথে ইপিআরদের খন্ড যুদ্ধ হয়েছে বলে খবর পেলাম। সকাল ১০টায় আমার রেডিওতে স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে জিয়াউর রহমানের ঘোষণা শুনতে পাই।

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট লে. আবদুর রৌফ ঢাকা বিমান বাহিনীতে চলে এসে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন। পাক আর্মিও একপ্লাটুন সৈন্য ক্যাপ্টেন ফারুকীর অধীনে ১৬জন বাঙালীকে ধরে সি.ও অফিসে আটক করে রেখেছিল। অদ্য লে. আবদুর রৌফ ফেনী থানার ৩০৩ টি রাইফেল নিয়ে আনসার, পুলিশ সহ ক্যাপ্টেন ফারুকীকে গ্রেফ্তার করেন। এবং পাক সৈন্যদের খতম করে ১৬ জনকে মুক্ত করেন।

মার্চ ২৮, ১৯৭১

সিতাকুন্ডের পশু ডাক্তার আ. হান্নান চৌধুরি এবং সমবায় অফিসার শহিদ সাহেব সহ সিতাকুন্ড থেকে রেল রাস্তা ধরে ফেনী অভিমুখে যাত্রা করি। বাড়বকুন্ড ও কুমিল্লা থেকে বহু বাঙালী শ্রমিকের আহত দেহ সিতাকুন্ড হাসপাতালে আসতে দেখি। বিহারীরা তাদের ওপর হামলা করেছিল। রবিবার সন্ধ্যায় বামনসুন্দর হান্নান সাহেবের বাড়ীতে যাত্রা বিরতি।

মার্চ ৩০, ১৯৭১

বামনসুন্দর হান্নান সাহেবের বাড়ী থেকে আমার কাজের ছেলে কাদির সহ ফেনী নদী পার হয়ে হাঁটাপথে ফেনী যাত্রা করি। সকাল ৮টায় যাত্রা করিয়া মিয়াজানঘাট পার হইয়া সোনাগাজী থানার বিভিন্ন গ্রাম পাড়ি দিয়া অপরাহ্ন ২টায় ফেনী শহরে আসিয়া পৌঁছি। এখানে গত কিছুদিন যাবৎ আওয়ামিলীগ দলীয় নেতারা ফেনী মহকুমার স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখছিল। এমপি খাজা আহমদ সাহেব খুব দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন।

মার্চ ৩১, ১৯৭১

Reached Haripur from Feni in the morning..

সকাল বেলায় ফেনী থেকে হরিপুর এসে পৌঁছাই।

১৬

নজরুল ইসলাম's picture


লীনা আপা, এই ডায়রি সামু থেকে কপি করে এখানে আলাদা ব্লগে তুলে রাখেন। ব্যাপারটা নীতিমালা পরিপন্থী হইলে মডুদের অনুরোধ করতেছি পথ বাতলাইতে

১৭

মীর's picture


মাসব্যাপী চাই মানিক ভাই। আর লীনা আপু ডায়েরিটা এখানেও তুলে দিন না, অসুবিধা কি?

১৮

লীনা দিলরুবা's picture


মীর, আপনার প্রস্তাব শিরোধার্য।

১৯

মীর's picture


ধইন্যা পাতা

২০

নুরুজ্জামান মানিক's picture


মাসব্যাপী চাই মানিক ভাই

ইচ্ছা আছে

২১

মীর's picture


২২

মাহবুব সুমন's picture


ফ্যাক্ট চাই ফ্যান্টাসী না, ইতিহাস সে যত তিক্তই হোক না কেনো সেই ইতিহাস জানতে চাই। সত্য ইতিহাস জানতে চাই। নির্মোহ ইতিহাস, ব্যক্তিপূজা বিবর্জিত সত্য ইতিহাস।

২৩

মাহবুব সুমন's picture


এখন যদি আমি প্রশ্ন করি, ছাত্রদের চাপ ছাড়া শেখ মুজিব কি ৭ই মার্চে স্বাধীনতা ঘোষনা করতেন কি , না পরে ঘোষনা আসতো ? তাহলে অনেকেই কিন্তু তেড়ে আসবে আমাকে, ছাগু বলে প্যান্টই ভিজিয়ে ফেলবে। অথচ প্রশ্নের মাধ্যমেই সত্য বের হয়ে আসে।

২৪

হাসান রায়হান's picture


তুমি ছাগু Cool

২৫

মাহবুব সুমন's picture


ও কাগু খিতা খইন ?

২৬

নুরুজ্জামান মানিক's picture


এ আলাপ সাত তারিখের জন্য তুলে রাখলাম ।

২৭

মামুন ম. আজিজ's picture


ইতিহাস বারবার সামনে নিয়ে আসতে হবে.....প্রজন্ম পর প্রজন্ম যেন জানতেই থাকে। জানতেই থাকে।

২৮

নুরুজ্জামান মানিক's picture


২৯

জেবীন's picture


কত কি জানি না, জানতে পারছি... ধন্যবাদ মানিকভাই

মাসব্যাপী পরপর এই তথ্যবহুল লেখা চাই ...

৩০

নুরুজ্জামান মানিক's picture


ধন্যবাদ

৩১

নজরুল ইসলাম's picture


http://www.amadershomoy.com/content/2009/12/03/news0645.htm
এইটা দেখেন Smile

৩২

নুরুজ্জামান মানিক's picture


এটা দেখেছি যেদিন ছাপা হয়েছে সেদিনই । সত্য -মিথ্যার মিশ্রন আছে ।

৩৩

সাঈদ's picture


মানিক ভাইয়ের কাছ থেকে এই দিন গুলি নিয়ে ধারাবাহিক পোষ্ট চাই ।

৩৪

নুরুজ্জামান মানিক's picture


ঠিকাছে

৩৫

নাজ's picture


অনেক অজানা তথ্য জানা হলো, আরও জানার অপেক্ষায় রইলাম।

৩৬

নুরুজ্জামান মানিক's picture


ধন্যবাদ

৩৭

তানবীরা's picture


ইতিহাস বারবার সামনে নিয়ে আসতে হবে.....প্রজন্ম পর প্রজন্ম যেন জানতেই থাকে। জানতেই থাকে।

৩৮

নুরুজ্জামান মানিক's picture


মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

নুরুজ্জামান মানিক's picture

নিজের সম্পর্কে

ঢাবি হতে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর । আগ্রহের বিষয় কবিতা-দর্শন-বিজ্ঞান । ১৯৯০'র দশকের শুরু থেকে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেনীর জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক ,পাক্ষিক ও মাসিক সাময়িকী সমুহে প্রবন্ধ-উপসম্পাদকীয় নিবন্ধ-প্রতিবেদন-ফিচার লিখছি । ব্লগিং করি-
http://www.amrabondhu.com/user/manik
http://www.sachalayatan.com/user/manik061624
http://mukto-mona.com/banga_blog/?author=23
http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik
http://nmanik.amarblog.com/
http://www.nagorikblog.com/blog/109
http://prothom-aloblog.com/users/base/nuruzzamanmanik
http://www.mukto-mona.com/Articles/n_manik/index.htm
http://www.satrong.org/Nuruzzaman%20Manik.htm