এমনতো কথা ছিল না
‘‘সবুরে মেওয়া ফলে‘‘ এ উক্তির সঠিক ও যথার্থ বাসত্মবতাকে আকড়িয়ে ধরে শিক্ষায় দীক্ষা লাভে সহনশীল ও ধৈর্য্যের ইস্পাত কঠিন পরীক্ষায় কাদের নামক এক যুবকের জীবন আজ দুর্বিসহ, বিপন্ন যন্ত্রণায় কাতর। সত্যিই কি ‘‘সুবচন নির্বাসনে‘‘ এ আত্ম-জিজ্ঞাসা কাদের ও কাদেরের জীবন কাহিনী ?
অবিশ্বাস্য হলে ও প্রকৃত সত্য যা এখানে , তা হুবহু উদ্ধৃত হচেছ। হয়ত প্রশ্ন জাগরিত হওয়া স্বাভাবিক , একটা প্রবাদ ও আছে,‘‘এক হাতে তালি বাজে না‘‘। কিন্তু এক্ষেত্রে চিরন্তনী যা প্রকাশে তাতে এক পেশে হলে ও যা সত্য তা চিরদিন , চিরকাল সত্য। প্রশ্ন থাকবে , কাদের কি ধুয়া তুলশী পাতা?হ্যাঁ, সত্য যা অকপটে স্বীকারোক্তিতে অবশ্যই মর্যাদা, সম্মান বৃদ্ধিতে সহায়ক। এ প্রেক্ষাপটে কাদেরের জীবনালেখ্য সমালোচিত হোক যুগ থেকে যুগান্তরে, অনাদিকাল, অনন্ত সময় ব্যাপি। কেন এমন হল -এ আত্ম-জিজ্ঞাসা সমাজ, জাতি, গোত্র তথা স্রষ্টার বরাবরে?
পরিবার-পরিজন সুন্দর, সুচারু রুপে পরিচালনা ইবাদত তুল্য মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সহায় সম্ভল হারা এক পিতার ছয় সমত্মানের সংসার। এক মাত্র পুত্র সন্তান কাদের পূর্বে অঢেল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী পিতা স্বল্প সময়ে হলেন নি:স্ব একমাত্র ভিটেটুকু ব্যতীত। হোক ভাগ্য লিপির অথবা কর্ম বা ধরে রাখার অজ্ঞতায়। এ মুহুর্তে সম্পদ বলতে যা বুঝি তা কাদেরই। কাদেরের ভাবন, চিন্তা সর্বক্ষণ কি ভাবে পিতা মাতা তথা সংসারের ডালিতে এক মুঠো অন্ন ও একটু শিক্ষার আলো দান করে সুপাত্রে দান, সমর্পিত করবে বোনদের এবং পাশাপাশি নিজে ও যথা সম্ভব লেখাপড়া চালানোর মাধ্যমে স্বশিক্ষিত, সুশিক্ষিত হয়ে উটা সম্ভব এ প্রচেষ্টা সর্বক্ষণ। তাইত কাদের ক্লাস থ্রি থেকে পড়াশুনার পাশাপাশি কাজ করতে দ্বিধা বা সংকোচ বোধ করেনি। সে ভাল করে জানত, কাজ করলে মান-সম্মানের হানি হয় না যদি ও সে কাজ অক্লান্ত, অমানসিক হয়। কারন সৎ ও সুনীতির পথে থেকে যা আয় হয় তাই যথেষ্ট।
মানুষের আকাংখার সীমা পরিসীমা নেই। একটি চাহিদা পুরণ হলে ও সাময়িক, অপর চাহিদার তীব্রতা দেখা দেয় প্রতিদ্ধন্দিতায়। কিন্তু সব আকাংখার পরিসমাপ্তি ঘটে না কোন কালেই। থেকে যায় আশাহত বেদনায়। আকাংখা পুরণার্থে মানুষ চলছে দেশ থেকে দেশামত্মরে। স্বদেশ থেকে উন্নততর জীবন যাত্রার বাসনা হৃদয়ে পুষে বিদেশে অর্থ্যাৎ প্রবাসে। কিন্তু অতি সহজে কেহ পাড়ি জমায় না , নাম ধারণ করে না প্রবাসী। প্রবাসের যে মর্ম পীড়া তা এক মাত্র প্রবাসী বা ভুক্তভোগীরাই ‘‘কভু আশী বিষে …দংশেনি যারে‘‘এর তুল্য। তথাপি কাদের একদিন প্রবাসের পথে পা বাড়ায় জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন কল্পে।
প্রবাসে প্রত্যেকটি স্বদেশী ভাই একে অন্যের সহোদর সম, বন্ধু ,আপন জন তুল্য। সুখ, দু:খের সঙ্গী, সাথী। কারন প্রবাসীর প্রবাসে থাকে না আপনজন। স্বগোত্রীয় বা স্বদেশী ভাই-ই হয় আপনজন। একে অপরকে ভাবে সে সাথে। কারন কর্মক্ষেত্রের পরিধি এ বিবর্তনশীলতা এনে দেয় সহজে। এক জেলার লোকের সাথে অপর জেলার লোক কাজ করে একত্রে। সুতরাং সহজেই গড়ে উঠে বন্ধুত্ব। জীবন ও জীবিকার তাগিদে প্রবাসে থাকা লোকটি রোগ যন্ত্রণায় বিছানায় শুয়ে কলম ধরার ক্ষমতাহীন বা অক্লামত্ম পরিশ্রম ও শরীরের লোনা জলকে সঙ্গী করে মা বাবা ,ভাই বোন,স্ত্রীকে সামত্মনা দেবার নিমিত্তে লিখে ,‘‘আমি ভাল আছি‘‘। স্বজনরা ব্যথা বা চিমত্মা মুক্ত হবার শংকায় ঐ পথ বেঁচে নেয়। কিন্তু স্বজনরা (সব নয়) উল্টো পথে পরিচালিত হয়ে মানসিক যন্ত্রণায় করেন বিদ্ধ। হয়তো ছোট ভাইটি অপচয় বা অপব্যয়ে গা ভাসিয়ে নষ্ট করে বহু পরিশ্রমে লব্ধ বা অর্জিত অর্থ বা মানসিক যন্ত্রণা ক্লিষ্ট বিভিন্ন পন্থা অবলম্বনে।
একই মালিকের কাজ করাতে একত্রে থাকতো কাদের ও জসিম। সাত বছর প্রবাস জীবন অতিবাহিত করে কাদের ছুটিতে এসে বিবাহের পিড়িতে বসে। কাদের একজন উচচ শিক্ষিত হয়ে ও স্বল্প শিক্ষিত রোজিনাকে চাওয়াহীন পাওয়া তথা অল্পে তুষ্ট নীতির ধারক রুপে জীবন তরী ভাসায় অত্যন্ত আনন্দপূর্ণ নির্মল পরিবেশে। কিন্তু রোজিনা প্রথম প্রহরেই কাদেরের হৃদয় রাজ্যে একটা ঝড়ের তান্ডব বইয়ে দেয়। বাসর রাতে রোজিনা অভিযোগের সুরে সুধায় , কেন ভিড়িও ক্যাসেট বিবাহের করা হল না ? কাদের বার বার বুঝাবার চেষ্টা করে ধীর স্থির লয়ে এতটুকু করার উপস্থিত সময়ে সামর্থহীনতার কথা। বুঝে ও না বুঝার মত ভান আর ক্ষোভের বহি:প্রকাশ রোজিনার। কাদের প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে স্বাভাবিকতায় ফিরে আসার মাধ্যমে জীবন নৌকা চালাবার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়। পুরোদমে মনোনিবেশ করে বাগানে ফল ও ফুল পূর্ণ সজীবতা আনয়নের। বছরান্তে একটা কন্যা সন্তানের আগমণ ধরণীকে চাঁদের জোছনায় আলোকিত করে অপূর্ব আবেশ মন্ডিত সিণগ্ধতা বিতরণে।
কাদের প্রবাসে চলে গেলে রোজিনা বাপের বাড়ী থাকার ইচছা প্রকাশ করে। পিতা মাতার একমাত্র সন্তান কাদের যুক্তির উত্তর চায় রোজিনার নিকট। কেহ যদি জিজ্ঞেস করে ,‘‘স্বামী গৃহে অশান্তি হেতু তুমি বাপের বাড়ী থাক ,কি জবাব দেবে এবং সত্যিই কি শশুর-শাশুরীর নিকট শান্তনা বা সুখের বদলে অসুখি? যদি এ জাতীয় কোন কিছু থাকে , তবে খুলে বলতে। প্রতি উত্তরে রোজিনা শশুর-শাশুরীর গুণগানে পঞ্চমুখ এবং না যাবার ইচছা ব্যক্ত করে কাদেরকে প্রবাসে পাঠিয়ে দেয়।
জসিম এবার লক্ষ্য করে কাদেরের প্রতি , বাড়ী থেকে স্ত্রীর পত্র গেলে সুদীর্ঘ দিন যে প্রাণ চাঞ্চল্য ছিল তা যেন উধাও। একটু ভাবুক প্রকৃতির। তথাপি প্রবাসের কর্মময় জীবনে এত গুরুত্ব প্রদানের সময় নেই বা গুরুত্ব প্রদানের প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি। দিন চলে রাত আসে স্বাভাবিক ভাবে। হঠাত একদিন লক্ষ্য করে জসিম , একটি পত্র পেয়ে অত্যন্ত চিন্তিত ও বিমর্ষ। কাদের কোনদিন পারিবারিক বা গোপনীয়তা প্রকাশ করতে অভ্যস্থ নয়। আজ ও তার ব্যতিক্রম হচেছ না। কিন্তু বিষন্নতা ও বিমর্ষ ভাবের কমতি নেই। অন্যনুপায় হয়ে জোর করে কাদেরের পত্রটি পাঠের অধিকার আদায় করে নেয়। পত্রের মর্মার্থে জসিম হতবাক,হতভম্ব।
নাইওর থেকে এসেছি ২ সপ্তাহ। টয়লেট দুরে, টিউবওয়েল এর পানিতে আয়রন, মাছের আকাল হেতু আমি আবার বাপের বাড়ী নাইওর যেতে চাই। আমার বাবা ও মা আসবেন আমাকে নিতে ১৫ দিনের ভিতর। তোমার পরামর্শ চাই। পরামর্শ মেনে চলবো,অন্যতা হবে না। এ পত্রটি কাদেরের স্ত্রী ডাকযোগে পাঠিয়েছেন। আমরা জানি বাসত্মবতার নিরিখে ডাক বিভাগের কার্য প্রণালী বা সেবার গুনগত মান। কোন কোন পত্র তিন বা পাঁচ দিনে প্রাপ্তি। আবার কোন পত্র মাসাধিক কাল পর প্রাপ্তি যোগ ঘটে। কাদের পত্রটি যবে হাতে পায় ,পাঠন্তে মেয়াদোত্তীর্ণ। উত্তর দেয়া না দেয়া সমান। ইত্য বসরে সপ্তাহ খানেকের ব্যবধানে দ্বিতীয় পত্র স্ত্রীর লিখিত হাতে হাতে (মানুষের মাধ্যমে) প্রেরিত। ঐ পত্রের ভাষা, ‘‘আমি গহীন নির্ণয় থেকে বহু আশাবাদি হয়ে তোমার কাছে পত্র লিখলাম, ডাকযোগে ও একটি পত্র পাঠালাম। পাঠানোর পর থেকে প্রতিটি দিন হিসেব করে কাটালাম। এ পর্যন্ত কোন উত্তর ভাগ্যে জুটে নাই বিধায় উত্তরের আশা ছেড়ে দিয়েছি। আল্লাহ যাই রেখেছেন নসীবে। আমি বাপের বাড়ী হতে এ পত্র রচনা করছি। ডেলিভারীর দুই সপ্তাহ বাকী দোয়া চাই। ডাকযোগে প্রেরিত পত্রটি ফেরত পাঠানোর আবেদন জানিয়েছেন কাদেরের স্ত্রী।
কাদের জসিমকে তার কষ্টের কথা জানাতে গিয়ে প্রশ্ন করে কয়টি। জসিম সদুত্তোর খুজে পায়নি ঘটনার আকস্মিতায়। কাদেরের জিজ্ঞাসা ছিল, স্ত্রী চাইল পরামর্শসহ অনুমতি এবং প্রদেয় পরামর্শ পালনের দৃঢ়তা। কিন্তু জসিম হ্যাঁ বা না বলার পূর্বেই বাপের বাড়ী যাওয়াতে অনুমতির প্রয়োজন ছিল কি, অনুমতি পালনের যে দৃঢ়তা তা রক্ষিত হল কি ভাবে ? তাহলে অনুমতি চাওয়াটা রসিকতা নয় কি ?
ডেলিভারীর দুই সপ্তাহ্ বাকী এবং সপ্তাহ নাইওর থেকে এসেছি উল্লেখ থাকায় স্পষ্ট একটি ধারণা পেয়ে যাই আমরা এ স্বল্প দিনের ব্যবধানে সেখান থেকে আসার উদ্দেশ্য এবং আবার ও যাবার প্রস্ত্ততি এতে নিহিত রহস্য জসিমের মাথায় ঢ়ুকছে না। তখন স্বামী গৃহে না এসে বাপের বাড়ী থাকলে অসুবিধা ছিল না যেহেতু অনুমতি রক্ষিত হল না। জসিম যদি না সুচক সম্মতি প্রদান করত, ধরে নিতাম অবিচার তুল্য। সে দুর্ভাগ্য আর সৌভাগ্য যাই হোক। হ্যাঁ সুচক হলেত সোনায় সোহাগা। না সুচক হলে বলা হত নির্যাতন। একি যন্ত্রণা। কাদেরের প্রতি এ কোন নৈতিকতার মানসিক চাপ প্রয়োগ? ডেলিভারীর সময় বাপের বাড়ী যাবার এ কোন মানসিকতা? প্রবাদসম কথা আছে প্রচলিত, ‘‘স্বামী গৃহ নারীর প্রকৃত,বাসত্মব ও নিরাপদ স্থায়ী আবাসন‘‘। কাদের জসিমকে জানায় তার অভিমত , একটা ধারণাবোধ ও এসেছিল সঠিক কি না তা পুরোপুরি বুঝতে অক্ষম। বৃদ্ধ পিতা মাতার সংসারে রোজিনার থাকার বাসনা নেই স্বামী বিহীন। ভাল কথা, এ যদি হয় আর্তি, তবে স্বামী কেন প্রবাসী? রোজিনার এক ভাইকে প্রবাসে নিয়ে প্রতিষ্টিত করতে কাদেরের অবদান কোন অংশেই কম নয় যা চির সত্য অম্লান ভাস্করে উদ্ভাসিত। তথাপি কাদের ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারে প্রবাসের পথে পা বাড়ায়নি। সরকারী চাকুরীর বয়স অনায়াসে হারায়নি। ভবিষ্যত উজ্জল এবং অনাগতদের মুখে ভাত , পরনে কাপড় যোগাড়ের প্রত্যয়ে এ অভিযাত্রা। সুতরাং স্ত্রী এর বাহিরে নন। সর্বোপরি রোজিনা ইন্ধন যোগাত প্রবাসে যাবার, ভাইকে নেবার। সুতরাং পিতা মাতাকে পৃথক করার মন মানসিকতাই উর্ধেব। এ যদি হয় হৃদয়ের আর্তি। তবে বৃদ্ধ পিতা মাতাকে পৃথক করলে তাঁদের আত্মা কতটুকু তৃপ্ত হবে? তাদের ঠাই হবে কোথায়? মানুষ সমত্মানকে লালন পালন করে অসময়ে সহায়তা, সহমর্মিতার আশায়। এ ক্ষেত্রে অবিচার হবে অবশ্যই । কারন হাদিসে আছে, ‘‘মা বাবার পায়ের নীচে সন্তানের বেহেস্ত। তার প্রতিফলন ও যৌক্তিকতার,সত্যতার প্রতি ও দৃষ্টি ভঙ্গি নিবন্ধিত রাখা অপরিহার্য। নতুবা তিন সদস্যের পরিবারে দেখি না জ্বালা, যন্ত্রণা, বেদনা দেবার উপলক্ষ্য।
হ্যাঁ না বলার পূর্বেই ‘‘নসিবে যাই রেখেছেন আল্লাহ‘‘ বলার যুক্তি খুজে পাই না এ ধরণীর বৈচিত্রময় জীবন যাপনে। উক্তির যুক্তি রোমমত্মনে কাদের মানসিক বিপর্যন্ত। অশ্রু সহজে দৃষ্টি গোচর হয় না। যদি না থাকে সেখানে অত্যধিক আঘাত। জসিম লক্ষ্য করে কাদেরের দৃষ্টি কোণে অশ্রু টলটলায়মান। জসিমের মতামত প্রদানের বা যুক্তি উদ্ধৃত করার প্রয়াস চালায় কাদের বার বার। কিন্তু জসিম নিরবতা পালন করে বিজ্ঞ জনের মতামতের প্রত্যাশায়। সুতরাং আমি মনে প্রাণে কাদেরের উত্তর সুরীদের বা এ জাতীয় অন্যান্যদের জীবন হোক সুস্থ,সুন্দর, নির্মল ও নিখাদ ভালবাসার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এ ঐকান্তিক কামনা নিরন্তর স্রষ্টার নিকট অবিচল আজ্ঞাপূর্ণ মানসিকতায়।






কিছুই বুঝি নাই
আমি ও ।
মন্তব্য করুন