ইউজার লগইন

একটি মরা গরুর তাজা কাহিনি -রম্য রচনা

একটা সময় ছিল, যখন গৃহস্থ বা কৃষকের গরু মারা গেলে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হতো। এখন আর সেটা হয় না। তারা অনেক সচেতন হয়েছে। মরা গরু মাটি চাপা দেয়।
সেই সময় ভাসিয়ে দেওয়া মরা গরু ফুলে উঠত। আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়াত। গরু ভাসতে ভাসতে চলে যেত ভাটির দিকে। নদী ব্যবহার করা মানুষের অসুবিধা হলেও সুবিধা হতো ঋষিদের।
আমাদের পাশের গ্রামে ছিল ঋষিপল্লি। এখনো আছে। তারা ঢাকঢোল বাজিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। তবে এখন অনেকের পেশা বদল হয়েছে।

নিম্নবিত্ত সেই ঋষিদের মধ্যে দেখেছি মরা গরু নিয়ে চরম উৎসাহ। কৃষকের গরু মরলেও লাভ হতো ঋষিদের। মরা গরু থেকে চামড়া ছাড়িয়ে নিয়ে সেটা অন্যত্র বিক্রি করত।
মরা গরুর চামড়ার মালিক হওয়ার একটা প্রক্রিয়া ছিল। সেটা বলি।
হয়তো দেখা গেল ইছামতী নদী দিয়ে কোনো মরা গরু ভেসে যাচ্ছে। সেই খবর যেই তাদের কানে পৌঁছাত, অমনি বাড়ির পুরুষ ঋষিরা ছুটত নদীর দিকে। এমন ছুটে যাওয়া দেখেছি অনেকবার। আমাদের বাড়ির সামনের মেঠো পথ দিয়ে তাদের প্রাণপণ ছুটে যাওয়া।
হয়তো কয়েক বাড়ির পুরুষ সদস্যরা ছুটে যেত সেদিকে। নদীর তীরে পৌঁছে তারা ঢিল ছুড়তে থাকত মরা গরুর দিকে। যার হাতের ঢিল গিয়ে লাগত গরুর শরীরে, সে-ই গরুর চামড়ার মালিক হয়ে যেত। তারপর সেটা তীরে এনে চামড়া ছাড়ানোর উৎসব হতো। যাদের ঢিল গরুর গায়ে লাগেনি তারাও কেউ কেউ বলার চেষ্টা করত, আমার ঢিলটা আসলে গরুটার লেজে লেগেছে। কেউ আবার বলত, আমারটা লেগেছে গরুর পায়ে। ভাগ বসানোর ধান্দা আর কি! তবে প্রকৃত মালিকের দয়া হলে তাদের যৎসামান্য কিছু দেওয়াও হতো।
চামড়া ছাড়ানোর পর সেই গরুর ওপর এসে বসত শকুনের পাল। শুরু হতো তাদের মাংস খাওয়ার মহোৎসব। এখন এত গরু মরে না। অসুস্থ হলেই তাকে স্থানীয় পশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বা মরলে নদীতে তা দেখতে পাওয়া যায় না।
গরু না মরলেও দেশ মরে। ঠিক গরুর মতোই। এখন মরছে।
এখনো স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে ইরাকের কথা। ইরাকও মরা গরুর মতো ফুলে উঠেছিল। ইরাকের গায়ে প্রথম ঢিল ছুড়েছিল বুশ, আমেরিকা। ইরাক হয়েছিল তার। ভাগ অবশ্য অন্যরাও পেয়েছিল।
এখন যে যার মতো ঢিল ছুড়ছে মুসলিম দেশ গুলোর উপর। ওবামা বলছে, আমি কি আর একা খাব নাকি। তোদের কি ভাগ দেব না!
মনে পড়ছে ছোটবেলার কথা একটি মরা গরু ভেসে যাচ্ছে ইছামতী নদী দিয়ে।
আমার ব্লগে আমন্ত্রণ রইল

পোস্টটি ৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

আহমাদ আলী's picture


একদম খাঁটি কথা। এখন যেমন মরা গরু চোখে পড়ে না, তেমনি ঋষিরাও ভাগ বসায় না। তবে মরা গরু না থাকলেও আছে একটি ঘুনে ধরা দেশ, মরা গরুর মতো করে শকুনরূপী এক শ্রেণীর নেতারা এদেশটাকে চেটেপুটে খাচ্ছে।...তাই নয় কি?

মৃন্ময় মিজান's picture


বেশ ভাল বলেছেন।

পার্থ's picture


এইটা আর কোথাও পড়ছি বলে মনে হচ্ছে।

তানবীরা's picture


বেশ ভাল বলেছেন।

অনিমেষ রহমান's picture


হুম !!

নিকোলাস's picture


আমরা যেন না মরি।
মানুষবিহীন দেশ তো আর হয় না।
আমরা জাগ্রত থাকলে দেশ মরবে না............

ঘাসফুল's picture


...একমত।

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


ভাল লিখেছেন।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.