ইউজার লগইন

রাজনৈতিক স্বপ্ন

তড়িঘড়ি করেই
ঘুমটা ভাঙলো শিহাবের। অনেক মজার
একটা সপ্ন দেখতেছিল সে।
একটা মেয়ে তার দিকে কেমন নিশ্চুপ
চোখে তাকিয়ে ছিল।
মেয়েটাকে মনের ছোট্ট
কুঠিরে নিমিষেই স্থান দিয়ে দেয়
সে! চেয়েছিল ওর সাথে কথা বলবে।
যেই ওর কাছে যাবে ঠিক তখনই
মোবাইলের ভাইব্রেশন ঠের
পেলো সে। কয়েক হাজার বার আভিশাপ
দিয়ে ঘুম ঘুম চোখে দেখে মোবাইলের
স্ক্রিনে তার বন্ধু ঈশানের নাম।
- হ্যালো।
- দোস্ত। তু
ই কই? ঘুমাইতাছস নাকি?
- নারে। আমি ধানক্ষেতে তিমি মাছ
ধরতেছি।
- আরে, ফাইজলামি করিস না তো।
ভালো কইরা কথা বল।
- আরে দোস্ত। আমি ঘুমাইতেছিলাম।
ভালো একটা সপ্ন দেখতেছিলাম।
মেয়েটার কাছাকাছি যাইতেছিলাম
খালি আর তুই বদ আমার সপ্নটার মধ্যে বাম
হাত ঢুকাইয়া দিলি। বল, কি হইছে?
- দোস্ত। ৯ টা কাজে।
জলদি ক্যাম্পাসে আয়। ১১টার সময়
ক্যাম্পাসে আজকে ধরীত্রির অষ্টম আশ্চর্য
দেখবি। মিসাইছ না কিন্তু।
- কি সব আজাইড়া বকতাছস তুই ই জানস।
আচ্ছা, আসুমনে। রাখ এখন।
বিছানা থেকে কোনমতে ওঠে প্রকৃতির
সাথে সাক্ষাত করে ডাইনিং এ আসে।
বাবার হাতে পত্রিকার প্রথম
পাতা দেখে সে চমকাইয়া উঠে।
দৈনিক “দ্বিতীয় আলোর”
শিরোনামে লেখা “হাসিনা -
খালেদার মিলবন্ধন!”
- বাবা, শিরোনামে কি লেখা এইটা?
“হাসিনা - খালেদার মিলবন্ধন!”
মানে কি এই এইগুলার?
- তুই জানিস না কিচ্ছু? তুই জানবি ই
বা কি করে? সারাদিন হয় ফোনে গুটগুট
করিস নাহলে ঘুমাস। দিন দুইনিয়ার খবর
তো কিছু রাখিস না।
বাংলাদেশে এখন আর প্রতিযোগীতার
রাজনীতি নাই। সরকারী দল আর
বিরোধী দল এখন একে অপরকে সাহায্য
করবে বলে ঠিক করেছে!
আজকে দুপুরে এইটারই একটা অনুষ্ঠান হবে।
- সত্যি বলতেছ নাকি? গর্বে আমার
বুকটা তো ভরে যাচ্ছে! (শার্ট এখন
ঢিলা করে বানাতে হবে না হলে
ছিড়ে যেতে পারে।)
বাবার মুখ থেকে সুন্দর কথা শুনে শিহাব
গোসল করে নাস্তা করতে বসল।
টিভি খুলে চ্যানেল চেঞ্জ
করতে লাগলো।
“বিটিভি”চ্যানেলটা আসতেই সে একটু
দাড়ালো। খবর শুরু হচ্ছে! একটু হাসার
জন্য সে খবর দেখতে লাগলো। খবর শুরু
হতেই সে চমকে গেল এবং আবিষ্কার
করলো যে “বিটিভি” এখন আর
চিরচিরায়ত খবর প্রকাশ করছে না।
তারা এখন সরকারের খবরের
আগে ভালো খবর গুলাকে প্রাধান্য
দিচ্ছে। সে নষ্টালজিক হয়ে পড়লো। যখন
কিবরিয়া মারা গেছিল, যখন ডঃ ইউনুস
নোবেল পেয়েছিল তখনো “বিটিভি”
তার বৈশিষ্টে একটুও
কালিমা পড়তে দেয় নি। আপন মহিমায়
উজ্জ্বল হয়ে ছিল! অথছ আজ,
বিটিভি চেঞ্জ!“আল্লাহ, এতো সুখ আমি কই
রাখি? একটা বস্তা পাঠাও, আমি সুখ সঞ্ছয়
করুম”।
সব কাজ শেষ করে শিহাব ক্যাম্পাসের
দিকে রওয়ানা দিল সে।
গিয়ে ঈশানকে ফোন
দিয়ে দেখা করলো।
- ওই, বল তো কি হইছে? কিসের অষ্টম
আশ্চর্য দেখাবি আজকে আমাকে?
- তুই গেস কর তো কি হইতে পারে?
- লিরা আমাকে প্রপোজ করবে নাকি?
- দূরে গিয়া মর, যাহ। পিরিতের
দুনিয়া থেইকা বাস্তব দুনিয়ায় আয়।
আমাদের দেশের সোনার
সন্তানেরা আর মারামারি করব
না বলে সিদ্বান্ত নিছে।
তারা নিজেদের ভূল বুঝতে পারছে।
তারা এখন আসল রাজনীতি করব। যে ছাত্র
রাজনীতর ফলে আমরা নিজের
ভাষা পাইছি সেই রাজনীতি করব।
- দোস্ত, তুই কি শুনাইলি আমারে? তুই
মাইয়া হইলে নিশ্চিত কিছু একটা করতাম
তোরে।
পোলা দেইখা বাঁইচা গেলি।
- আরে, ফাইজলামি ছাড়। আরো আছে,
যেসব ছাত্র নেতাদের ক্যাম্পাস জীবন
শেষ তারা সবাই হল ছাইড়া দিছে।
বিশ্বাস করবি না হলের সিট
অনেকগুলা খালি হইয়া গেছে। এখন আর
কারো কষ্ট হইবো না।
- আল্লাহকে অনেক অনেক ধন্যবাদ
যে তিনি আমারে এই দিন দেখার জন্য
বাঁচাইয়া রাখছেন।
তোরে আজকে নান্না’র
বিরিয়ানী খিলামু।
সকাল ১১ টা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।
হাজারে হাজারে মানুষ কিলবিল
করতেছে। সামনে বিশাল একটা স্টেজ।
এইখানে প্রায় জন পঞ্চাশেক মানুষ
দাঁড়ানো। সবাই কান
ধরে দাড়াইয়া আছে। তাদের
চোখেমুখে ক্ষমা পাবার আকুলতা।
তাদের পক্ষ থেকে একজন
সামনে আসলো কানে ধরেই।
মাইক্রোফোনের সামনে গিয়ে বলল
“আজ আপনাদের কাছে আমরা হাজির
হয়েছি ক্ষমা পাবার একটু আশা নিয়ে।
আমরা জানি আমরা কত খারাপ কাজ
করেছি। স্বাধীনতার সম্মানটুকু
আমরা রাখিনি। আমাদের যে হাত
দিয়ে স্বাধীনতা এসেছিল সেই হাত
দিয়েই আমরা সেটাকে ধ্বংস করেছি।
আমরা ভবিষ্যতের জয়গান
গাইতে এসে দেশকে দেশের মানুষকে শুধু
কষ্টই দিয়েছি। আমরা দেশকে বঞ্ছিত
করেছি অনেক মেধাবী ছেলের কোমল
হাতের ছোয়া থেকে।
আমরা জানি আমরা ক্ষমা পাওয়ার
অযোগ্য। আমরা পশুরও অধম। তারপরেও
আমরা এই পবিত্র জায়গায়
দাঁড়িয়ে ওয়াদা করছি আজ
থেকে আমরা হত্যার ছাত্র
রাজনীতি বাদ দিলাম। আমরা এখন আর
অন্যায় না, অন্যায়ের বিরুদ্বে প্রতিবাদ
করবো। দেশকে সাফল্যের সর্বোচ্চ
শিখরে পৌঁছে দিব। আপনাদের
কাছে এই আমাদের সবার ওয়াদা।
আপনারা দয়া করে আমাদের
ক্ষমা করে দেন। আমরা আপনাদেরই
সন্তান। নিজের সন্তানদের
ক্ষমা করে দেন।”
এই কথা বলে সবাই হাটু
গেড়ে বসে রইলো। আর চারপাশ
থেকে মানুষের মুহুর্মুহু ভালোবাসার
উক্তি। ওর কাছে মনে হলো সময় যেন
থমকে আছে। নিজের কানকে যেন
বিশ্বাস করাতে পারছে না। মানুষ
এতো বদলাতে পারে? উপরের
দিকে থাকিয়ে থমকে দাঁড়িয়ে রইলো।
তার চোখের প্রতিটি কোনে আল্লাহর
প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পাচ্ছে। টলমল চোখ
নিয়ে সে এই জায়গা থেকে বিদায়
নিল।তার মনে এখন অনেক আশা “দেশ এখন
নিশ্চয়ই বদলাবে।
বিশ্বকে দেখাবো আমাদের
একতা কতটুকু।”
দুপুর ২ টা। সারা দেশের মানুষের চোখ
টিভির পর্দায়। আজ হাসিনা –
খালেদা মুখোমুখি হবেন। তারা দুইজন
যখন মঞ্চের দুই পাশ থেকে আসলেন তুমুল
করতালিতে ভরে যেতে লাগলো
প্রতিটা ঘর। ক্যামেরার
দিকে না থাকিয়েই তারা একে অপরের
কাছাকাছি আসলেন। একজন
আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে কান্না জুড়ে
দিলেন। পুরো কান্না জুড়েই একজনের
কাছে অন্যজনের ক্ষমা প্রার্থনা। প্রায়
মিনিট দশেক পর তারা স্বাভাবিক
হলেন। মঞ্চের সামনের
দিকে এসে তারা যা বললেন
তাতে পুরো দেশ নতুন করে বাঁচার সপ্ন
দেখলো।
“প্রথমেই আপনাদেরকে বলতে চাই
দেশকে ধংসের পথে ঠেলে দেওয়ার জন্য
আমরা অনুতপ্ত। আমাদের প্রতিযোগীতার
রাজনীতির কারনে আমাদের
দেশকে নিয়ে আজ সবাই যা ইচ্ছা তাই
করে। আজ থেকে আমাদের দেশ
সামনে ছড়া পিছনের দিকে যাবে না।
আজ থেকে সব খারাপ রাজনীতির অবশান
হলো। আজ থেকে বাংলাদেশের সব
রাজনৈতিক দল নিজের জন্য না দেশের
জন্য কাজ করবে। আমরা যেই
সরকারে থাকি না কেন দেশের
সাফল্যের জন্য
সরকারকে সহায়তা করবো। সরকারের
ভালো কাজে বাহবা দিব, আর ভুল কাজ
শুধরিয়ে ভালো কাজে পরিণত করবো।
আপনাদের নিকট এ ওয়াদা করে গেলাম
আমরা। আজ থেকে বাংলাদেশ নতুন
উদ্যমে তার যাত্রা শুরু করবে। আজ
থেকে বাংলাদেশে কোন সড়ক
দুর্ঘটনা হবে না, কোন খারাপ যান
চলবে না, অশিক্ষিত ড্রাইভার
থাকবে না, দেশে দ্রব্যমুল্যের
উর্দ্বগতি থাকবে না। মারামারি,
হানাহানি, চিনতাই নামক
অভিশাপের নাম অবসান হলো। দেশের
প্রতিটা স্থানে নিরাপদে থাকবে।
আপনারা প্লীজ আমাদের অতীতের জন্য
আমাদেরকে ক্ষমা করুন”।
মুগ্ধের মতো সব শুনে গেল শিহাব। তার
বাবা তাকে জড়িয়ে ধরলেন। অজান্তেই
কেঁদে ফেললো তারা। হয়তো তা সুখের
কান্না। সব
দুঃখকে পিছনে ঠেলে সামনে যাওয়ার
কান্না।
বিকাল ৪টা। এলাকার রাস্তায়
হাটাহাটি করছে শিহাব।
মোড়ে দাঁড়াতেই থমকে গেল সে।
একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে অবাক
চোখে তাকিয়ে আছে কারন
সে মেয়েটাকে সপ্নে দেখেছিল। ঠিক
সপ্নে দেখার মতোই
সে মেয়েটাকে মনের ছোট্ট
কুঠিরে নিমিষেই স্থান দিয়ে দেয়।
দুরুদুরু বুকে তার সাথে কথা বলার জন্য
পা বাড়ায়। মেয়েটার
সামনে গিয়ে দাড়ালো সে
- হাই।
- হাই।
- একটা কথা বলবো?
- জ্বি বলুন।
- আমি আসলে বলতে চাচ্ছিলাম
যে আ...আ...আ... মাম্মিঈঈঈঈঈঈঈঈ
ধরফর করে উঠে বসলো শিহাব।
নিজেকে আবিষ্কার করলো মাঠিতে।
সামনে দাঁড়িয়ে তার অগ্নিমূর্তি ধারন
করা বাবা। তার
মানে বাবা তাকে লাত্থি মেরে
নিচে ফেলে দিয়েছিল। তার
মানে সে এতোক্ষন যা দেখেছে সপ্ন
দেখেছে?
সে নিজে নিজে বলে উঠলো “ওহ, ফিশ”
বাবাকে স্যরি বলে মাঠি থেকে উঠে
ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ালো।
যাওয়ার পথে একটা কথাই
ভাবলো “আল্লাহ, প্লিজ
সপ্নটাকে সত্যি করে দেন”।

পোস্টটি ১২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

রুদ্র আসিফ's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি খুব অগোছালো একজন মানুষ
জাগতিক নিয়ম নীতির বাইরে আমার অবস্থান ।
বাউন্ডুলে স্বভাবটাই আমার মাঝে বিদ্যমান..
একা চলতে ভালবাসি..
রাতে একা একা রাস্তায় হাটি.
মাঝে মাঝে হারিয়ে যাই আপন খেয়ালে ।
পড়তে ভালবাসি, লিখতেও চেস্টা করি কিন্তু শেষ পর্যন্ত লেখাটা
অসমাপ্ত ই থেকে যায় ।
একটু ফুরসত পেলেই নিজের সাথে নিজে
কথা বলি →

আপাতত এতটুকুই লিখলাম



♥happy bloging......