কাদের মোল্লার অশুভ ইঙ্গিত...
... মেজাজ তো বিগড়ে ছিলই, সকালে পত্রিকা হাতে নিয়ে সেটা আরও বিগড়ে গেলো। অজান্তেই বুকের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো একটা গালি- বেজন্মা! আর গালিটা দিয়েই
চমকে উঠলাম। না, গালি বেরিয়ে আসায় চমকে উঠিনি মোটেও। কারণ, আমি তথাকথিত সুশীল মানুষ নই। বরং তার বিপরীত। বন্ধু-বান্ধবদের সাথে গালিবহুল বাতচিত চালাতেই
আমি অভ্যস্ত এবং সাবলীল। কিন্তু সেইসব গালি আর এই গালির মধ্যে ফারাক বিস্তর। সেসব গালিতে থাকে এক ধরনের টান-মমতা-স্নেহ-অধিকার। আর এই গালিতে টের পেলাম ঘৃণা।
সে ঘৃণা এমনই প্রচন্ড, এতোই তীব্র ও অচেনা যে তার সাথে এর আগে আর কখনো দেখা হয়নি আমার। চমকে ওঠা সে কারণেই।
বন্ধুগণ, দুঃখিত, ‘বেজন্মা’ শব্দটি লেখার জন্য। আগেই বলেছি- আমি ঠিক সুশীল মানুষ নই, তবে তা কেবল বন্ধুদের একান্ত আড্ডায়। গালি ছাড়া বাঙালির আড্ডা জমেছে কবে!
কিন্তু লেখার বেলায় আমি একেবারেই সুফি টাইপের। লেখায় আমি গালি-গালাজ এবং অশ্লীল শব্দ ব্যবহারের ঘোর বিরোধী। নিজে তো লিখি না-ই, পড়তেও ভিষণ অপছন্দ করি।
কিন্তু এখানে বাধ্য হয়েই লিখতে হলো। তা নাহলে তখনকার মানসিক অবস্থা সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেয়া হয় না।
... যাইহোক, যা বলছিলাম, পত্রিকা হাতে নিয়েই মেজাজটা আরও বিগড়ে গেলো। ‘সমকাল’-এর ১ম পাতায় সেকেন্ড লিড হিসাবে ৩ কলাম জুড়ে ব্যানার হেডিংয়ে ছাপা হয়েছে ‘কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন’। ডাবল কলামে ছাপা হয়েছে কাদের মোল্লার ছবি। ছবি দেখে বোঝা যায় কাদের মোল্লা কারও উদ্দেশ্যে কিছু একটা বলছে। হা হয়ে আছে মুখ, দেখা যাচ্ছে নীচের পাটির দাঁতের সারি, বেরিয়ে আছে জিভ। ডান হাতের তর্জনী ও মধ্যমা তুলে ‘ভি’ আকৃতি করে দেখাচ্ছে ‘ভিক্টরি সাইন’।
মানুষের অনেক দুর্বলতার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে তার চেহারা। চেহারা একজন মানুষের সম্পর্কে অনেক তথ্যই প্রকাশ করে দেয়। চেহারাতে স্পষ্টই ছাপ পড়ে মানুষের জীবনযাপন,
স্বভাব-চরিত্রের। কাদের মোল্লার চেহারাও এর ব্যতিক্রম নয়। যাদের বাসায়, হাতের কাছে ‘সমকাল’ পত্রিকাটি আছে, তারা কষ্ট করে আরেকবার পত্রিকাটিতে চোখ রাখুন। যা হয়তোবা দেখেননি আগে অথবা দেখলেও সেভাবে লক্ষ্য করেননি এবার তা নজরে পড়বে। দেখবেন- বেরিয়ে পড়েছে কাদের মোল্লার পিরানহা-তীক্ষ্মদাঁত, লোল ঝরা লকলকে জিভ, চোখ-মুখ জুড়ে মাখানো শেয়াল ও হায়নায় ধূর্ততা আর হিংস্রতা। ছবিতেই টের পাবেন- এ লোক সবই করতে পারে- ধর্ষণ করতে পারে, বুকের ভেতর থেকে ছিড়ে আনতে পারে হৃদপিন্ড, কেটে নিতে পারে মাথা। ছবিতেই টের পাবেন- পান চিবুতে চিবুতে যেনবা জল বিয়োগের মতোন অতি সাধারণ কিছু করছে এমনই অবলীলায় এই লোক করতে পারে এসব কাজ। বিশ্বাস করুন বন্ধুগণ, ঠিক এই কথাগুলোই টের পাবেন ছবিটায় আরেকবার চোখ রাখলে। শিউরে উঠবেন আতঙ্কে। আর এই আমার মতোই তীব্র ঘৃণা ও আক্রোশে আপনারও বুক থেকে উঠে আসবে- ‘বেজন্মা’।
প্রথম অনুভূতিটা একটু স্থির হলে ছবিটার দিকে তাকিয়ে মনে হলো- ব্যাটা কতো বড় উজবুক, কতো বড় ছাগলের ছাগল! যাবজ্জীবন সাজা হলো তারপরও ‘ভিক্টরি সাইন’ দেখায়!
... এখানে একটা কথা বলে রাখা জরুরী, দেশের কোটি কোটি অনুভূতিপ্রবন, আবেগপ্রবন মানুষের মতো এই রায় আমিও প্রত্যাখ্যান করেছি। আর এই প্রত্যাখ্যান করা বিষয়ে কারও কোনো কিছু বলার কিছইু থাকতে পারে না। কেননা, কেউ মানুক বা না মানুক, স্বাধীন গণতান্ত্রিক একটি দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসাবে এই পক্ষপাতদুষ্ট রায় প্রত্যাখ্যান করার সাংবিধানিক অধিকার পুরোপুরিই আমি সংরক্ষণ করি। তারচেয়েও বড় কথা আমার এই গোটা জীবনে এই একটিমাত্র জায়গায় আমার এই ‘অতি আবেগপ্রবনতা’-কে তুচ্ছ করার চিন্তাও আমি কখনো করিরি, করি না। কেননা এই আবেগের সাথে আমার শেকড় জড়িত। এই আবেগের গূঢ়মূল প্রোথিত আমার ব্যাখ্যার অতীত এক মনন-গভীরতায়। তাই এই আবেগ অস্বীকার করার দুঃসাহস দেখানোর কথা আমি আমার চরমতম দুঃস্বপ্নেও দেখাই না। কেননা তা দেখালে আমি নিজেকে মানুষ পদবাচ্য বলে দাবী করার যোগ্যতা হারাই। দেখালে আমি আমার মা ও বোনের ধর্ষক হয়ে উঠি। ভাই ও বাবার হত্যাকারী হয়ে উঠি।
... যা বলছিলাম, মনে হলো- কতো বড় উজবুক, কতো বড় ছাগলের ছাগল... কিন্তু চমকে উঠলাম। মাথার ভেতর বিদ্যুতের মতো চমকে উঠলো একটা কথা- ‘কাদের মোল্লারা না, উজবুক, ছাগলের বাচ্চা ছাগল আসলে আমরা। আমরা সাধারণ জনগণ।’ তা না হলে কাদের মোল্লার মতো নরপশুরা স্বাধীন এই দেশে এই দেশেরই স্বাধীনতার বিরোধীতা-ধর্ষণ-গণহত্যার
বিচারের বিরুদ্ধের কুকুর-শুকরের পাল পথে নামায় কী করে? প্রমানিত অপরাধের নিশ্চিত মৃত্যুদন্ডের শাস্তি রদ করে কী করে? কী করে গোটা একটা দেশের গণমানুষের প্রবল দাবিকে ব্যর্থ করে দেয়?
কাদের মোল্লা পত্রিকায় পোজ দিয়েছে ‘ভিক্টরি সাইন’ দেখিয়ে। কেন? উত্তর হতে পারে দুটো। এক, কোনো কিছু না বুঝেই ক্যামেরা দেখেই নলখাগড়ার মতো সটান হাত হাত তুলে দিয়েছে।
দুই, নিশ্চিত মৃত্যুদন্ডের শাস্তিকে রদ করার সাফল্যে। প্রথমটি হওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিতভাবেই শূণ্যের কোঠায়। কেননা কাদের মোল্লা ধর্ষক-গণহত্যাকারী-নরপিশাচের পাশাপাশি আর
আর যা-ই হোক না কেন, কিছুতেই বেকুব হতে পারে না। তাহলে থাকলো একটি মাত্র কারণ!
তাহলে কাদের মোল্লার ‘ভিক্টরি সাইন’-এর একটাই অর্থ- হুশিয়ার!
বন্ধুগণ, যদি তাই হয়ে থাকে তবে জেনে রাখুন- সংকট ঘনিয়ে আসছে। জেনে রাখুন, আসছে ভয়াবহ দুঃসময়। জেনে রাখুন, চরমবার্তা- কেয়ামত নজদিক!





মন্তব্য করুন