মা, মাতৃত্ব এবং আমাদের যত অপূর্ণতা
পৃথিবীর সব মাতৃত্বই বুঝি এক। সমান।
গত পরশু রাতে মতিঝিল থেকে ফিরছি, পল্টন হয়ে। পল্টন মোড়েই এক অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়লো।
একজন মা রাস্তা পার হচ্ছে, সাথে শিশু। মায়ের শরীরের সাথে শিশুটির শরীর দড়ি দিয়ে বাঁধা। বাচ্চাটির বয়স বোধহয় ২/৩ বছর হবে। হাঁটতে পারে। মহিলাটি ভিক্ষুক তথা ছিন্নমূল শ্রেণির, দেখলেই বোঝা যায়। বাচ্চাটি পুরো দিগম্বর।
গতকাল বিকালে আবার সেই মা এবং শিশুকে দেখলাম। পল্টনেই। দৈনিক সকালের খবর অফিস পেরোনোর সামান্য দূরত্ব পর। গতকাল দেখা সেই মা ঘুমিয়ে আছে রাস্তায়। বাচ্চার গায়ে লম্বা একটি দড়ি বাঁধা। বাচ্চাটি এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছে। কখনো বা ট্রাফিকের মতো আচরণ করছে। ২১ ফেব্রুয়ারি, সরকারি ছুটির দিন বলেই রাস্তাটি ফাঁকা। এই ফাঁকা রাস্তা সুযোগ করে দিয়েছে একজন ছিন্নমূল নারীকে একটু ঘুমিয়ে নেয়ার। আর তার বাচ্চা পেয়েছে খেলার সুযোগ।
মা এবং সন্তানের বন্ধন হিসেবে মাঝখানের দড়িটি এখনো চোখের সামনে ভাসছে।
নিশ্চিন্ত মা, তার সন্তানটি হারাবে না। সেই মায়ের মুখটা ভাসছে সামনে। বাচ্চাটিরও।
নতুন করে একটি ক্যামেরার প্রয়োজন বোধ করলাম। এ ছবি তো শুধু ছবি হতো না। এ এক মহান ইতিহাস।
অনেক বছর ধরেই আমি ক্যামেরা কিনছি! এখনো কেনা হলো না। ক্যামেরা থাকলে অবিস্মরণীয় দৃশ্যটি বন্দি করে রাখতে পারতাম।
প্রতিদিন কত দৃশ্যই তো দেখি। অনেক দৃশ্যই মনে দাগ কাটে। ক্যামেরা থাকলে আমি হয়তো এদ্দিনে ফেসবুকের স্যাড বাট ট্রু (কঠিন বাস্তব)-এর মতো একটা গ্রুপ খুলতাম। এসব ছবিই ঠাঁই পেতো সেখানে।
কিন্তু হয় না, হলো না। আমাদের অনেক কিছুই ঝুলে থাকে। রাস্তায় শুয়ে থাকা মা-টির অনিশ্চিত ভাগ্যের মতন...।





লেখাটা পড়ে আর এই ছবিটা দেখে
এই মুভিটার কথা মনে পড়ে গেল।
ভাল লিখেছেন
ধন্যবাদ, অকিঞ্চনের বৃথা আস..., তানবীরা।
ক্যামেরা কেনার আগে এসব সুন্দর, টুকরো স্মৃতিগুলো লেখার মাধ্যমেই তুলে রাখুন এই ব্লগের পাতায়...।
লেখাটা খুব সুন্দর হয়েছে।
লীনা দিলরুবা @ অনেক ধন্যবাদ!
মন্তব্য করুন