সুখী মানুষের দেশে
সুখ বায়বীয় একটি বিষয়, আপেক্ষিক ব্যাপার! সে তর্কে না গিয়েও বলা যায়, বাংলাদেশ হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষের দেশ! আন্তর্জাতিকভাবে পরিচালিত বিভিন্ন জরিপেও এটা একাধিকবার প্রমাণিত হয়েছে! দেখা যাক, কীভাবে বাংলাদেশ সুখী মানুষের দেশ_
ষ এ দেশের রাজনীতিকরা প্রতিনিয়ত গণমানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ান। এ দেশে যতটা মানুষ তার চেয়ে অনেক বেশি ভোটার! এ 'ভোটাররা সব দেখে, বোঝে। বুঝে-শুনেই আবার ভোট দেয়। নতুন করে নিপীড়নকারীরা ক্ষমতায় আসে, আবারও পুরনো নিয়মে নিষ্পেষিত হতে শুরু করে মানুষ। অতীতের কথা মনে রাখি না বলেই আমরা সুখী!
ষ অন্যের দুর্ভোগ দেখে অনায়াসে আমরা হাসতে পারি। কেউ হয়তো কলার খোসায় আছাড় খেয়ে পড়ল, সেটা দেখে সাহায্যে না এগিয়ে আমরা হাসি। আবার কারও গায়ে হয়তো কাউয়া পক্ষী ইয়ে করে দিয়েছে_সেটা মুছে দেওয়ার চিন্তা না করেও হাসি। আমরা সুখী হবো না তো, কে হবে!
ষ সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুক এখন জানিয়ে দেয় কার সঙ্গে কার প্রেমের সম্পর্ক, কার সঙ্গে কার বিয়ে হয়েছে বা হবে। কারও সম্পর্ক ভেঙে গেলেও খুব আনন্দের সঙ্গে সেই স্ট্যাটাসে আমরা 'লাইক' দিই! যেন সম্পর্ক ভাঙাটা খুবই সুখের!
ষ সব মানুষেরই এক বা একাধিক প্রতিপক্ষ আছে। প্রতিপক্ষের কেউ বেকায়দায় পড়লে আমাদের আনন্দের সীমা থাকে না। কারও বাবা-মা বা নিকটাত্মীয় মারা গেলেও আমরা সুখবোধ করি। মাঝে মধ্যে আফসোস হয়_শত্রুর বাবা-মা মাত্র একজন করে কেন, কমসে কম দু'জন করে থাকলে সে আবার দুঃখ পাওয়ার 'সুযোগ' পেত!
ষ 'সুখ তুমি কী বড় জানতে ইচ্ছে করে', 'তুমি সুখে থাকলে আমি সুখে থাকব' জাতীয় গান গেয়ে আমরা সুখের স্বরূপ উন্মোচন করে ছাড়ি। সুতরাং সুখের স্বরূপ উন্মোচিত করে আমরা সহজেই সুখী হই!
ষ নিউটনের সূত্র বলে_প্রতিটি জিনিসেরই সমান এবং বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। সে হিসেবে আমাদের দুঃখ বেশি, তার মানে সুখও বেশি!
ষ প্রতি পাঁচ বছর পরপর 'জনপ্রতিনিধিরা আসেন আবার সেবা করার সুযোগ চাইতে! তাদের ভোট দিলে আবার তারা ক্ষমতায় যাবেন_ ক্ষমতায় গিয়ে জনগণকে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিয়ে দেবেন_এমন প্রতিশ্রুতি ভোটাররা বিশ্বাস করে সুখী মনে ভোট দেয়। অতীতের তেতো স্মৃতি মোটেও মনে রাখে না, মনে রাখলে তাতে নিজের কষ্ট বাড়বে_নেতার চরিত্র তো পাল্টাবে না!
ষ কারও ঘরে আগুন লাগলে সহজেই আমরা সিগারেটে আগুন জ্বলাতে পারি! কে সমস্যায় পতিত হলো সে চিন্তা মোটেও আসে না। বরং সিগারেট ধরাতে পারলাম_ এ সুখে সিগারেটের স্বাদ আরও বেড়ে যায়!
ষ 'সহজে সুখী হওয়ার পদ্ধতি' লিখে দেউলিয়া হয়েছেন এমন লেখক বাংলাদেশে কম পাওয়া যাবে না! আবার তিনি এ কাজ করেছেন বলেই প্রেসঅলা কিছু টাকার মুখ দেখছেন, বাইন্ডিংঅলাও বাইন্ডিং করার সুযোগ পেয়েছেন। সুতরাং সমীকরণের সাহায্যে বলা যায়, একজনের দুঃখ সমান অনেকজনের সুখ! অনেককে সুখী করতে একজনের দুঃখ মানাই যায়!
ষ ডেসটিনি, যুবক, পেইড টু ক্লিক, ইউনিপে টু ইউর মতো প্রতারক প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের মানুষের কোটি কোটি টাকা মেরে দেয়। পুরো কাজটা সংঘটিত হয় সরকার এবং প্রশাসনের নাকের ডগায়। তাদের কোনো বিকার নেই। তারা নাক ডেকে ঘুমান। একমাত্র সুখী মানুষই পারে যে কোনো পরিস্থিতিতে নাক ডেকে ঘুমাতে!
ষ দুঃখের কথা কারও সঙ্গে শেয়ার করতে পারলে নাকি দুঃখ কমে যায়! ফেসবুক, বল্গগের মতো সামাজিক সাইটগুলোতে এখন দেশের জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ ব্যস্ত সময় কাটায়। নিজেদের হতাশা, অপ্রাপ্তি, বঞ্চনার কথা শেয়ার করে অন্যদের সঙ্গে। শেয়ার করতে পারাটাই প্রমাণ করে, মানুষ দিন দিন সুখী হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে!
ষ এফএম রেডিওগুলো এখন ভাষার সর্বনাশে যুগান্তকারী অবদান রাখছে। তারা পাল্টে দিতে চাচ্ছে ভাষার গতিপথ। তা দেখে, বুঝেও ভাষাতাত্তি্বক পণ্ডিতদের কাছ থেকে বড় কোনো বাধা আসে না। দায় সারাতে কেউ কেউ পত্রিকায় ক'লাইন লেখেন বা সুধী সমাবেশে কিছু বলেন। দিকভ্রান্ত তরুণ প্রজন্মের একটা অংশও এই বিকৃত ভাষা ব্যবহার করতে পেরে সুখবোধ করে!





বড়ই একপেশে, হতাশাবাদী, জোরপূর্বক চরম সিদ্ধান্ত আরোপিত পোস্ট
হা হা হা। আসলে আগে যেমন বুঝতে পারিনি, এখনো বুঝতে পারছি না। @ লীনা আপা
আরাফাত শান্ত, কুহেলিকা @
কিন্তু সব ষ দিয়ে শুরু কেন ? সমকালে মনে হয় দেখেছি এই লেখা ।
বুলেটগুলো অনলাইন সংস্করণে 'ষ' হয়ে যায়। @ সাঈদ
মন্তব্য করুন