ইউজার লগইন

হাসপাতালে কতিপয় চিকিৎসকদের দূর্ব্যবহারের প্রতিকার কী? আসুন অন্তত একজন করে কুলাঙ্গার চিকিৎসককে চিহ্নিত করি

‘এই এগুলোকে ভাগাও, এগুলোকে এক্ষুনি ভাগাও’
উদ্ধত ভঙ্গিতে ডাক্তার এসে আমার সমনে আমার প্রতি আঙুল নির্দেশ করে ওয়ার্ড বয়কে কথা গুলো বলে। আমি বিষ্ফোরিত চোখে চেয়ে থাকলাম। যেন মনে হলো কেউ একজন কুকুর-বেড়াল তাড়াচ্ছে। সম্বিত ফিরে পেতে কয়েক মুহুর্ত সময় লাগলো আমার।
বললাম, ‘ডাক্তার! এটা কোন ধরনের ব্যবহার হলো? আমরা কি কুকুর-বেড়াল নাকি?’
তিনি কথার উত্তর করলেন না। গটগট করে হেঁটে গেলেন। তাঁর হাঁটবার ভঙ্গিতে ভাবখানা এমন যেন মনে মনে ভাবছে সে মানুষের চেয়ে উচ্চস্তরের কোন অভিজাত প্রাণী সে। সাথে সুন্দরী ইন্টার্নি নিয়ে হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে চারপাশের রোগীদের যেন পোকামাকড়ের মতো দেখছে।
এটা যে একটি পাবলিক মেডিকেল হাসপাতাল সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললাম, ‘আপনি তো রোগীদের সাথে এমন ব্যবহার করতে পারেন না।’
তিনি ঘুুরে এসে আবার বলতে থাকেন, ‘ এগুলোকে ভাগা। কোথায় দাড়োয়ান? এগুলোকে এক্ষুনি ভাগা।’
জিজ্ঞেস করলাম, ‘ডাক্তার আপনার নাম কি?’
তিনি উত্তর দিলেন না।
আবারও তাঁর নাম জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি আমাকে নিজের নাম না বলে বললেন, ‘ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নিকট শুনে নেবেন।’
আমার স্ত্রীও তাঁকে কয়েক বার তাঁর নাম জিজ্ঞেস করেছেন, কিন্তু তিনি তাঁর কুলাঙ্গার নামটা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
ওয়ার্ড বয় তাঁর নাম বলল না। ডিউটিরত নার্সকে জিজ্ঞাসা করায় তিনি বললেন, ‘ডাক্তার নতুন এসেছে, আমি নাম জানি না।’ বুঝলাম তাঁরা কেউ তাঁর নাম জানাবে না।

ঘটনাটি ঘটেছে আজ সকাল সাড়ে ন’টা; চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৪ নং ওয়ার্ডে, তিনি ঐ ওয়ার্ডের ডাক্তার। এক মিনিটও হয়নি আমার হাতে ‘ছাড়পত্রে’র কাগজটি দেয়া হয়েছিল। আমি প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম বেড ত্যাগ করার। আমার স্ত্রীকে ওয়ার্ডের বাইরে বেড় করে দেয়া হয়েছে। আমি চোখে ঝাপসা দেখি, তাই ঠিক ঠিক সবকিছু গুছিয়ে নিতে পারছিলাম না। এসময়েই ঐ কুলাঙ্গার সেখানে অবতীর্ণ হলেন নিজেকে অবতার ভাবতে ভাবতে।

এই ঘটনার শিকার আজ আমি হলেও, প্রতিনিয়ত ঘটছে এই ঘটনা। অবাক লাগে বাংলাদেশের পাবলিক মেডিকেল কলেজের একজন চিকিৎসক, যে কিনা সেই পাবলিক মেডিকেল কলেজ থেকে ডাক্তার হয়েছে, তার অহংকারের সীমা তাঁর অবস্থানের চেয়ে শতগুণ বেশি। সে যে লেখাপড়া করে ডাক্তার হয়েছে তাতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হযেছে তা তার পরিবার পুরো বহন করেনি। করেছি আমরা। এদেশের মেথর-মুচি, ডোম থেকে শুরু করে কৃষক-শ্রমিক-মজুরেরা সকলেই সেই ব্যয়ভার বহন করেছি। সেই অর্থে ডাক্তার হয়ে, সে আমাদেরই বুকে পা তুলে দিচ্ছে। এদেশে সাধারণ জনতার করের অর্থে যে ব্যক্তি পাবলিক মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করে ডাক্তার হয়, তার ব্যবহার সাধারণ জনগণের প্রতি কেমন হওয়া উচিত?

বাংলা প্রবাদ আছে, ‘দুধ কলা দিয়ে কাল সাপ পুষে, সেই সাপই আজ দংশন করে’। আজ আমাদের অভাগা দেশের মানুষের দুভাগ্য এখানেই যে আমরা দুধ কলা দিয়ে এইসব কাল সাপ পুষছি।
সারারাত ঘুমাইনি, হাসপাতালে দিন কিংবা রাত কাটানো কোন সুখের বিষয় নয়। ছাড়পত্র পাওয়ার সাথে সাথে বাসায় ফেরার যে তারা ছিল তাতে ঐ কুলাঙ্গারের নামটা জেনে আসবার ধর্য্য ছিল না। কিন্তু এই মুহুর্তেও মনে হচ্ছে তাকে গিয়ে বলি যে, ‘তোর বাপ-মা তোকে ভালবেসে জন্ম দেয় নাই, দিছে জৈবিক তাড়নায়; তা নাহলে মানুষের প্রতি সামান্য পরিমাণ শ্রদ্ধাবোধ তোর থাকতো।’

আমাদের উচিত এইসব কুলাঙ্গার ডাক্তারদের নাম প্রকাশ করে তাদের চরিত্র সকলের কাছে তুলে ধরা। আমি হয়তো দু-এক দিনের মধ্যেই সেই ডাক্তারের নাম-পরিচয় জেনে ফেলবো। কিন্তু আমি জানি যে এদেশের বেশির ভাগ মানুষ এমন হয়রানি ও অবমাননাকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। আসলে আমাদের কী করা উচিত?

আজ বিএমএ নির্বাচন হয়েছে। বাংলাদেশের এই সংগঠনটির কাছে আসলেই কি আমরা কিছু আশা করতে পারি? সেটার গুড়েও বালি।

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

আরাফাত শান্ত's picture


মুক্তি নাই উপায় নাই বন্দী বা জিম্মি এদের কাছেই!

মডারেটর's picture


গ. "আমরা বন্ধু" তে শুধু নতুন লেখাই প্রকাশিত হবে। পুরনো লেখা রিপোস্ট করা যাবে না। অন্য কোনো কম্যুনিটি ব্লগে প্রকাশিত লেখা এবিতে প্রকাশ নিষিদ্ধ। এবিতে প্রকাশিত কোন লেখা ২৪ ঘন্টার মধ্যে অন্য কোনো কমিউনিটি ব্লগে প্রকাশ করা যাবে না। ব্যক্তিগত ব্লগ এবং পত্রিকা এই নিয়মের আওতার বাইরে।

উক্ত কারনে পোস্টটি প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে লেখকের মূল পাতায় রাখা হইল!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

সেতু আশরাফুল হক's picture

নিজের সম্পর্কে

ইচ্ছাটাই প্রবল, লেখালেখি দুর্বল। বাংলা বানান ভুল করি আর গলাবাজি করি। এ কারণে চাইলে গালাগাল দিতে পারেন। মানবধর্মের প্রতি বিশ্বাস থাকলেও সেটা রাজাকারদের জন্য নয়। গল্প লেখার চেষ্টা করছি, মাঝে মাঝে কবিতাও লিখি। ভুল বানানে দুটি বই বেড়িয়েছে; যদিও এজন্য আমি দায়ী নই, প্রকাশক প্রুফ দেখার টাকা নিয়েও কাউকেই প্রুফ দেখায়নি। গল্পের বইয়ের নাম, ‘তাহারা এবং হাজার সরীসৃপ’ এবং কবিতার বইটির নাম, ‘ভূমিদাসের বিভ্রম’।