ইউজার লগইন

নর-নারী (২য় অংশ)

দানব পুরান

ওকে আমি বেঁধে রেখেছি একটা অন্ধকার হীম ঘরের মধ্যে। বাঁধা থাকতে থাকতে ওর হাতে শিকলের দাগ কেটে বসে গেছে চীরস্থায়ি ভাবে। তবু প্রতিদিন একবার ওকে আমার ভোগ করা চাই। এটি আমার আনন্দ লিপ্সার একটি অংশ। জানি, অন্ধকারে ওর ওই নিস্পাপ সুন্দর মুখটার অবস্থা দেখে যে কেউ চমকে উঠবেন। কেউ কেউ আমাকে গালিও দিতে পারেন। অসভ্য, পিশাচ, রাক্ষস কিংবা যা কিছু। তবে আমার সবচেয়ে নিজেকে ভাবতে ভালো লাগে দানব। আমি যখন প্রতি রাত্রিতে দানবীয় উল্লাসে ওর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ি, চীর আদি পৌরুষিক কামের নেশায় কামড়ে আঁচড়ে ক্ষতবিক্ষত করে দেই ওর সুন্দর মাখন নরম শরীরটা, তখন আমার অপার্থিব আনন্দ হয়। আমার দাঁতের আঘাতে যখন ওর শরীর বেয়ে রক্ত ঝরে আমি মাঝে মাঝে তা চেটে দেখি। গরম রক্তের কি যে অদ্ভুত বুনো গন্ধ! যে না চেখে দেখেছে সে বুঝতেই পারবে না। তাই ওর প্রতিটি উত্তেজক অংগে আমি আমার দাঁতের দাগ রেখে দিয়েছি। এটা চিহ্ন যে এই সম্পত্তি আমার, শুধুই আমার। প্রতি বুনো রাতে আমি তাই কে বারবার বুঝিয়ে দেই আমাদের লোক দেখানো সভ্যতার বাইরে জগৎ কতটা ভয়ানক পৌরুষিক। ও ব্যাথা, ঘৃণা, লজ্জা, বেদনা, রাগে আমার উপর থু থু ছিটায়। আবার শরীরের উষ্ণতা ভোগে বাঘিনির মত কামড় দেয় আমার বাহুতে। হয়তো ভাবে আমি এতে দুর্বল হবো। কিন্তু না, ও জানে না পৌরুষ কেবল পৌরুষের কাছেই শক্তির বিবেচনায় মাথা নত করে। দুর্বল নারীর কাছে নয়। ওকে ভোগের সময় আমি বারবার কে আঘাতে আঘাতে রক্তাক্ত করে তুলি। প্রচণ্ড যন্ত্রণায় ওর কাঁতরানোর ধ্বনি, কখনো বা শীৎকার আমার কানে মধু বর্ষণ করে। মনে হয় যেন বুনো সিংহের সামনে মৃত্যুর জন্য মন্ত্রমুগ্ধ ও যেন কোনো হরীনি। আমি সিংহের মত ঝাঁপিয়ে পড়ে ওর ঘারের নরম মাংসে ক্ষুধার কামড় বসাবো। ও আমার একান্ত নিজস্ব সম্পদ। জানি, সমাজের অন্য সভ্য পুরুষেরা এটাকে নির্মমতা, কাপুরুষচিত আর অসভ্যতাই বলবেন। কিন্তু আমি ওদের মত ভান সর্বস্ব নই। কাম আমার আদীম অধিকার। তার জন্য আমার আরেকটি বিপরীত লিঙ্গ দরকার। যা চেয়ে পাওয়া যায় না তা শক্তি দিয়ে পুরুষের আদায় করে নিতে হয়। এটাই সত্যি এবং প্রকৃত সভ্যতা। সৃষ্টির আদি থেকে চোখ রাখুন, সব প্রাণীকুলেই পুরুষ নারীকে শক্তি দিয়েই বস করে। পুরুষ ময়ুর পুচ্ছ নাচায় নারীকে আকর্ষণে। তবু কি ভালোবাসার ময়ুরীটি ধরা দেয়? সে বশবর্তী হয় শক্তির কাছে। যে পুরুষ ময়ুরটি সবচেয়ে বলশালী সে শক্তি দিয়েই জয় করে নেয় তাকে। আমি তাই অন্য সভ্য পুরুষদের মত নই। আমি শক্তির ক্ষমতায় নারীকে ছিন্নভিন্ন করতেই ভালোবাসি। বলুক একটি পুরুষ বুকে হাত দিয়ে কখনো কখনো মনের চোরকুঠুরিতে হলেও নারী দেহের প্রতি লোভ তাদের জন্মায় না! অবশ্যই জন্মায়, আলবৎ। নয়তো সে পুরুষ নয়। কিন্তু সে নারীটিকে কি পাওয়া যায়? অঅমাদের তথা কথিত সভ্য পুরুষেরা সেই কামনা অবদমিত রাখেন। যা তাদের কাছে সভ্য, তা আমার কাছে নয়। যা কামনা করি তা ছিনিয়ে নিতেই আমি ভালোবাসি। এর জন্য আমি যুদ্ধে প্রস্তুত। শুধু বুদ্ধির বেলাতেই আমি মানুষ নয়তো অন্য সব ক্ষেত্রে আমি আসলে পশু। এবং স্বীকার করুন আর নাই করুন অন্য সবাইও তাই। সেই প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ তথা পুরুষের কাছে নারী ভোগের সামগ্রী ছাড়াও ছিলো ব্যাবসার জমজমাট উপকরণ। শক্তিশালী আর ধনী পুরুষদের হেরেমখানা তাই ভরে উঠেছিলো জীবন্ত ভোগ্য খেলনায়। এই খেলনা হাসে-কাঁদে, আঘাত করে, আবার উল্টো কামের বশবর্তী হয়। শক্তিশালী ধনীরা ওই সব নারীদের যৌনাঙ্গে লোহা গরম করে ছ্যাঁকা দিয়ে দিতেন। এটি একটি আজন্ম চিহ্ন, পুরুষের শক্তির সিলমোহর। পুরুষ দাশের চেয়ে নারী দাশের দামও ছিলো তাই আকাশচুম্বি।

চলবে..

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

তানবীরা's picture


পড়লাম, শুধু এই লেখার উদেদশ্য বুঝছি না

সুমন মজুমদার's picture


কোনো একটা উদ্দেশ্যতো আছেই। ধরে নিন অসুস্থ মনের ভাবনা। শুধু জানতে চাই, অন্যদের মধ্যে অস্বস্তিটা ছড়ায় কিনা

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

সুমন মজুমদার's picture

নিজের সম্পর্কে

দুরবীন দূরের মানুষের কোনো ঠিকানা থাকানা থাকে না।
সে মানুষ কেবলই নিছক বিন্দু
খোলা আকাশের নিচে কখনো বা ধুলোর কণা
উড়ে উড়ে যায়, অচেনা গন্তব্যের পাখায় পাখায়।