ইউজার লগইন

ওরা তো মানুষ নয়

তখন আমি অনেক ছোট। মা বলতো তখন কেবল হাত মুঠো করতে শিখেছি; আর তাই আশপাশে যা দেখি পাঞ্জা ছড়িয়ে এগিয়ে যাই তার দিকে হামাগুড়িতে। পাশ দিয়ে হয়তো ছুটে যাচ্ছে একটা আরশোলা। আমি থাবা দিয়ে তুলে নিয়ে গপ করে গিলে ফেলেছি। আমার গ্রাম্য বধু মা দৌড়ে এসে আমাকে তুলে ধরে দেখেন গলার ভেতর থেকে আরশোলার বেরিয়ে থাকা পা দুটো তখনো নড়ছে। এই না দেখে তিনি গলা খুলে কাঁদতে বসতেন। দাদু তখন আঙিনায় রোদ পোহাতে পোহাতে খবরের কাগজ পড়ছিলেন। শীত নেই গ্রীষ্ম নেই আমার অবসরে যাওয়া দাদুর এই এক অভ্যেস দাঁড়িয়ে গিয়েছিল তখন। মা বলতেন, দাদু রোদ আর খবরের কাগজ দুটোই গিলতেন হা করে। আমার রোদ আর খবরভূক দাদু তার অবুঝ ছেলে বৌয়ের এমন কান্না দেখে দুটোই ফেলে রেখে দাওয়ায় এসে দেখেন তার নাতি আরশোলা চিবোচ্ছে আর ছেলে বৌ প্রায় মূর্চ্ছা গিয়েছে। হেচকি তুলে তুলে কাঁদতেন আমার মা। দাদু আমার হাসতে হাসতেই কোলে তুলে নিতেন আমাকে, তারপর গলায় আঙুল দিয়ে আমাকে কাঁদিয়ে, বমি করিয়ে, বের করতেন সেই পোকা। দাদু নাকি আমাকে দেখতে পারেন না, তিনি আমাকে কষ্ট দিতে ভালবাসেন এমনহাজারো সব অনুযোগ শুরু হতো তখন মায়ের। শ্বশুরের সাথে ছিল তার অন্তরের যোগ। মা বলতেন, আমার বাবা দুটো শিশুকে তার হাতে ছেড়ে দিয়ে, শহরে গিয়েছিলেন কাজ করতে। বাবা তার মাকে হারিয়ে ছিলেন কৈশোরে। দাদু আর কখনো বিয়ে করার ফুরসতটাই পায়নি। ছেলে মানুষ করোরে, নিজের গুচ্ছের ভাইবোনদের দেখোরে, বাবা মাকে শান্তি দাওরে করতে করতেই তার সময় কেটে গেলো। সবার সবকিছু গুছিয়ে দিয়ে সে একসময় ছেলেকে নিয়ে আলাদাও হয়ে গিয়েছিল।
আমার বাবাও একজন। বাবা বলতে তিনি অজ্ঞান!

ক'দিন আগে খবরের কাগজ পড়তে গিয়ে আমার বড্ড মনে পড়ছিলো নিজের ছেলেবেলার কথা। প্রথম পাতায় দুটো বাচ্চাকে পিটিয়ে ভুত তাড়ানোর খবরটাকে কাগজওয়ালারা কালো রঙের ব্যাকগ্রাউন্ড দিয়ে ছাপিয়েছে। কী ভয়ঙ্কর ছবি! আমার মা যদি এ ছবি দেখার জন্য আজো বেঁচে থাকতেন, তাহলে নিশ্চিত সেদিনটা তার কেটে যেত আমাকে জড়িয়ে ধরে। মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত মা আমাকে আগলে রেখেছেন সবসময়। ঘরে কোন শব্দ হলে চেচিয়ে উঠতেন তিনি,"কি হলোরে শুভ!"

আমার মা সেই তখনি বুঝতে পেরেছিলেন, সমাজের মানুষগুলি ধীরে ধীরে পশুতে পরিণত হচ্ছে। কারুকে বিশ্বেস করতে নেই এখানে। পশুরা এখন ছদ্মবেশে বিভিন্ন নামে ঘোরাফেরা করে আমাদের চারপাশেই। কারো নাম আমজাদ, কারো নাম আসলাম, কারো সুব্রত, কারো নাম ইলিয়াস। নামগুলি শুনলে বুঝতেই পারা যায় না এরা মানুষ নয়।

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


এই মানসিক রোগী ভণ্ডের কথা বাদ দ্যান, আশেপাশের কৌতূহলী মানুষগুলারে দেখেন! কে কতো বড় উজবুক সেই প্রতিযোগিতা চলতাছে এই দেশে।

সূত্রঃপ্রথম আলো

তানবীরা's picture


ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর।

রুমন's picture


ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর।

সাঈদ's picture


আসলেই , আশে পাশের মানুষ গুলো আর মানুষ নাই, খুব কষ্ট হয় দেখলে।

মুকুল's picture


ঠিকই

নীড় সন্ধানী's picture


চেনা পশুগুলোকে ভয় পেতে হয় না, ভয় যত অচেনা পিচাশগুলোকে।

টুটুল's picture


আমরা ইউজড টু হয়ে যাচ্ছি প্রতিদিন

নজরুল ইসলাম's picture


এভাবেই আমরা বেচেঁ থাকছি

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.