ইউজার লগইন

জীবন থেকে নেয়া (মরে গেলেও)

কথায় কথায় মরে গেলেও এটা আমি করবো না, খাবো না, এভাবে কথা বলা আমার স্বভাব। এভাবে কথা ছোটরা বলে বড়’রা না। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আমি বুড়ি হয়ে যাচ্ছি কিন্তু বড় আর হচ্ছি না। সবাই এটা নিয়ে অনেক বকে বকে এখন ক্ষ্যান্ত দিয়েছেন। তোর মানসিক বয়স কোথাও আটকে আছে, তোর মানসিক ডেভেলাপমেন্ট হচ্ছে না, বলতে বলতে সবাই ক্লান্ত। আমিও মেনে নিয়েছি একরকম যে বড় হওয়া হয়তো আর হবে না এ জীবনে। সবচেয়ে বেশি বলেছেন এক ভদ্রলোক। যার সাথে ঝগড়া করতে করতে এতো বছর পার হয়ে গেছে টের পাইনি। তারপরও এখনো কিছু না হতেই ঘাড় বেঁকিয়ে ঐটাই বলি, মরে গেলেও তোমার সাথে থাকবো না। তিনি আজকাল বলেন, মরারতো আর দেরী নাই, এতোদিন যখন থাকলা কষ্ট করে, বাকি কয়টা দিনও থাকো। এতোদিন যে যেভাবেই বলেছে, সেগুলো শুনতে একরকম লাগতো। কিন্তু এজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন মানুষটা, “তোমার জন্য মরতে পারি, ও সুন্দরী তুমি গলার মালা” যখন বলেন সেটা, তখন অন্যরকম লাগে।

স্কুলে টিফিন না খাওয়ার একটা বড় প্রবনতা মেয়ের মধ্যে আছে। একদিন রাগ করে কিছু দেখিয়ে বললাম, ভেবেছিলাম তোকে এটা দিব, কিন্তু এখন আর দিব না। আমার জানের জান বলে ওঠলো, মরে গেলেও দিবে না? আমি চমকে তাকালাম। আমার মুদ্রা দোষের বীজ কি চারা হয়ে গজিয়েছে দেখার জন্যে। স্বভাবসুলভ মোষ গলায় বললাম, না মরে গেলেও দিব না। তিনিও আজকাল আর বাচ্চা নেই। তলে তলে বহুত পাকতেছে। কোনটা মাকে বলতে হয় আর বলতে হয় না সে ট্রেনিং তিনি স্কুলের বন্ধুদের থেকে ভালোই পান। কিছু জিজ্ঞেস করলে জবাব না দিয়ে মোচরান। স্কুলে কে কার সাথে প্রেম করছে জিজ্ঞেস করলেই লজ্জা লজ্জা হাসি দিয়ে মাথা নাড়তে থাকেন, আমি জানি না, সত্যি জানি না। এরমানে হলো জানি কিন্তু তোমায় বলবো না। কার্টুন ফ্লিমে ছেলে মেয়েকে চুমু দিলে ওনি লজ্জা পেয়ে টিভির চ্যানেল বদলে দেন। তো সেই তিনি কি আর সেখানে থামবেন। তিনি বললেন, কিন্তু তুমি মরে গেলে আমি নিয়ে নিব। আমি অবাক তার উত্তরে, আমি মরে গেলে সে আমার জিনিসপত্র নিয়া টানবে? তাই বলে কি আমিই কি থামবো? আমিও বললাম, পারবি না, মরার আগে ওটা আমি কাউকে দিয়ে যাবো। তিনি বললেন, জানিতো কাকে দিয়ে যাবে। আমি বিস্ময় গোপন করার বৃথা চেষ্ট করে বললাম, কাকে? কাকে আবার ছোটমাকে।

হাসি গোপন করে বললাম, কিভাবে জানলে? তিনি আমার নির্বুদ্ধিতায় অবাক। কিভাবে আবার? আমার পর তুমি ছোটমাকে বেশি ভালোবাসো, তবে অসুবিধা নাই। ছোটমা মরার সময় আমি ছোটমার কাছে থেকে নিয়ে নিবো। মোট কথা নিয়েই ছাড়বেন। তবে আমার মেয়ের চিন্তাধারা মহৎ। তিনি সিরিয়ালি আমাকে বললেন, এরপর আমি মরার সময় তাহিয়াকে দিয়ে দিব আর তাহিয়া মরার সময় পারিসাকে। আমার পঞ্চাশ ইউরো দামের ঘড়ি যেটা স্টক ক্লিয়ারেন্স সেলে পঁচিশ ইউরোতে কিনেছি, এর বংশ পরম্পরার রোলিং দেখে আমি মুগ্ধ। আজকাল শরীর জানান দিচ্ছে, মানসিক বয়স না পাকলেও কলকব্জায় জং ধরছে। কোন কিছু নিয়ে খুব মন খারাপ হলে বুকে একটা চাপ অনুভব করি। অনেক সময় সে চাপ শ্বাসকষ্টে রুপ নেয়। একদিন দুপুরবেলা তেমন শ্বাসকষ্ট শুরু হলো। মেয়ে খুব ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করলো, তুমি কি এখন মরে যাচ্ছো, মা? বললাম বুঝতে পারছি না। সে কেঁদে ওঠলো, মা প্লীজ তুমি এখন মরো না, বাসায় কেউ নেই, আমার একা ভয় লাগবে। আমি হাসলাম বললাম ঠিক আছে, তুমি বলো কখন মরলে তোমার সুবিধা হবে।

তিনি আমাকে বিকেলে জানালেন, এখন আমি মরতে পারি। আমি মরলে তিনি গায়ত্রীর বাড়ি চলে যাবেন। আমি অবাক বল্লাম, সেখানে কেন? তিনি জ্ঞান জ্ঞান বানী দিলেন, বন্দনা আন্টি ওনাকে আর গায়ত্রীকে একসাথে স্কুলে নিয়ে যাবেন, ওদের দুটো কার সীট আছে, অসুবিধা হবে না। রুটি ভাত খেতে দিবেন কোন সমস্যা নাই। আমি একটু না নাড়িয়ে থাকতে পারলাম না। বললাম, আমি আর বন্দনা আন্টিতো একই বয়েসী, আমরা যদি একসাথে মরে যাই? তাহলেও সমস্যা নাই, আমি আর গায়ত্রী একসাথে থাকবো। একসাথে হেঁটে হেঁটে স্কুলে যাবো। আমি হাসি চেপে বললাম খাবে কি, রান্না করবে কে? ওনি বললেন রাঁধতে হবে না, পিজা খাবো। পিজা কে কিনে দিবে, পয়সা? তিনিও অবলীলায় উত্তর দিচ্ছেন পয়সা পাপা দিবে। আমি দেখলাম দুনিয়াতে কারো ছাড়া কারো চলবে না এচিন্তা কতো ঠুনকো। যার জন্যে জীবনের এমন কিছু নাই ত্যাগ করতে পারি না, সে আমাকে ছেড়ে তার জীবন কতো ইজি রাখা যায় সে পরিকল্পনা এক ঘন্টায় করে ফেলেছে। এভরি থিং ইজ এ্যারেঞ্জড শুধু আমার মরার অপেক্ষা। তো বাবার কাছে থাকবে না কেনো, জানতে চাইলাম। দেখলাম বাবার কাছেও যে থাকা যায় এ অপশনটা ওনার মাথায় আসে নাই। বাবা ওনার কোন কাজে হাত না দিতে দিতে যে ওনার জীবনে অপ্রয়োজনীয় একটা টাকা দেয়ার মেশিন হয়ে গেছেন, সেটা বাবা বোধহয় নিজেও জানেন না। তবে আমার কন্যা ভদ্র। বললো তুমি এখন মরো না মা, তাহলে তোমাকে আমি খুউউউউব মিস করবো, মাঝে মাঝে আমার কান্না পাবে তোমার জন্যে। বুড়ি হয়ে তারপর মরো, যখন তোমার হেয়ার গ্রে হবে।

এই হাফ বিদেশিনী যখন আমাকে মাঝে মাঝে বলেন, এখন তুমি আমার মুখে মুখে কথা বলছো মা, কিযে ভালো লাগে শুনতে সে শাসন। জীবন যদি পারমিট করে মা, তাহলে তোর সুবিধামতোই মরবো, কথা দিলাম তোকে। আমার মা তার মাকে ছেড়ে এক শহর থেকে অন্য শহরে এসেছেন। আমি আমার মাকে ছেড়ে অন্য মহাদেশে থাকি, তুই তোর মাকে ছেড়ে কোন গ্রহে থাকবি কে জানে।

একটা গান কদিন থেকে প্রচন্ড পাগলের মতো মাথায় বাজছে।

যে জানার সে জানে

তানবীরা
০৩.০৩.১১

পোস্টটি ১৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নরাধম's picture


আপনার দেশ থেকে এইমাত্র ফেরৎ আসলাম!

তানবীরা's picture


টা আমার দেশ না, কোনদিন ছিল না, কোনদিন হবেও না। আমি প্রবাসিনী = বনবাসিনী

আমি আপনার থেকে একটা ম্যাসেজ আশা করেছিলাম দাদা। অবশ্য নতুন চাকরীর চাপে আমার রুটিন উলটাপালটা, আমি ভুলেও গেছিলাম। তারপরও আপনি একটা খবর নিলে ভালো লাগতো

নরাধম's picture


স্যরি! হয়েছে কি আমি ভুলে কনভার্টার নিয়ে যাইনি, আর তাই ল্যাপটপের এমেরিকান চার্জার দিয়ে তো ওখানে কাজ চলেনা, তাই ল্যাপটপ ইউজ করতে পারিনি, নেট তো দুরেই থাক। চার্জ যা ছিল তা প্লেনে রবীন্দ্রসংগীত শুনতে শুনতেই শেষ। ফোন করার অপশনও ছিলনা কোন। তাই আসলে আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি দিদি, যদিও আপনার সাথে কোনভাবে যোগাযোগ করার কথা অনেকবার মনে হয়েছে। নেটে বসতে পারলে হয়ত ফেইসবুকে মেসেজ দিয়ে আপনার নাম্বার নিতে পারতাম। আমি আসলেই লজ্জিত।

নতুন চাকরী শুরু করেছেন? গ্রেট!

তানবীরা's picture


আবার আসার কোন সম্ভাবনা আছে কি?

গ্রেট চাকরী না হলেও খারাপ না মন্দার বাজারে। Party

নরাধম's picture


চাকরি পছন্দ হলেই হল, গ্রেট না হলেও চলপে! Smile

নেদারল্যান্ডসে শীঘ্রই যাওয়ার চান্স নেই, হয়ত মাসছয়েক পরে আবার যাব। জার্মানিতে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে আগামী ২ মাসের মধ্যে! ভাল থাকুন দিদি।

তানবীরা's picture


জার্মানী কোন সিটিতে আসবেন। এন্ডহোফেন জার্মান বর্ডারে। হয়তো দেখা হয়ে যেতে পারে এবার Big smile

নরাধম's picture


বার্লিনে আর মিউনিকে আমাদের কোম্পানির ফ্যাসিলিটিজ আছে, এখনো কোনটাতে যাব ঠিক হয়ি। তবে দেখা হবে কোন না কোন সময়! পৃথিবী তো গোল.। Smile

রাসেল আশরাফ's picture


জ্বরের ঘোরে এটা পড়ে হাসতে হাসতে কাশতে কাশতে মারা যাচ্ছি।

জ্যোতি's picture


নাম যে বদলাইলেন, আকিকা দিছেন? এখন তো ঘি দিয়ে খিচুড়ী রানলেন আমাদের ভাগও দিলেন না। Sad

১০

তানবীরা's picture


সব্বোনাশ, বলেন কি? এখন শরীর ক্যামন ?

১১

তানভীর আযাদ's picture


হুমম

১২

তানবীরা's picture


Cool

১৩

লীনা দিলরুবা's picture


মেয়ের আর মায়ের এই টুকরো গদ্য পড়ে ভালো লাগলো।

আমি আমার মাকে ছেড়ে অন্য মহাদেশে থাকি, তুই তোর মাকে ছেড়ে কোন গ্রহে থাকবি কে জানে।

Sad

১৪

তানবীরা's picture


Puzzled Puzzled Puzzled

১৫

মীর's picture


সুন্দর একটা লেখা হয়েছে। বিশেষ করে শেষের অনিশ্চয়তাটুকু ছুঁয়ে গেল ভীষণ।

১৬

তানবীরা's picture


কোথায় ছুঁলো শুনি ইট্টু Tongue

১৭

সাহাদাত উদরাজী's picture


কথায় কথায় মরে গেলেও এটা আমি করবো না, খাবো না, এভাবে কথা বলা আমার স্বভাব। এভাবে কথা ছোটরা বলে বড়’রা না। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আমি বুড়ি হয়ে যাচ্ছি কিন্তু বড় আর হচ্ছি না। সবাই এটা নিয়ে অনেক বকে বকে এখন ক্ষ্যান্ত দিয়েছেন। তোর মানসিক বয়স কোথাও আটকে আছে, তোর মানসিক ডেভেলাপ হচ্ছে না, বলতে বলতে সবাই ক্লান্ত। আমিও মেনে নিয়েছি একরকম যে বড় হওয়া হয়তো আর হবে না এ জীবনে। সবচেয়ে বেশি বলেছেন এক ভদ্রলোক। যার সাথে ঝগড়া করতে করতে এতো বছর পার হয়ে গেছে টের পাইনি। তারপরও এখনো কিছু না হতেই ঘাড় বেঁকিয়ে ঐটাই বলি, মরে গেলেও তোমার সাথে থাকবো না।

Laughing out loud

১৮

তানবীরা's picture


কি কি কমন পড়াতে হাসলেন ব্রাদার উদরাজী, ইট্টু বয়ান করেন শুনি

১৯

লিজা's picture


মেয়ে তো একটা চিজ !! ( খাওয়া অর্থে না, খারাপ অর্থেও না Tongue )
আমার মেয়ে হলে এই ব্লগ থেকে তাকে দূরে রাখব ভাবতেছি Wink । ভবিষ্যতে বাচ্চারা আরো ডেঞ্জারাস হবে । ওরা হয়তো একটা ডেথ মেশিনই বানাই ফেলবে । যারে যখন ইচ্ছা, ব্যাস, খতম হুক্কা হুক্কা

লেখা পড়ে ব্যাপক মজা পেলাম । আপনার মেয়ের ছবি দেখেছি এফবিতে । দুষ্টু টাইপ কিউট চেহারা । মাশাল্লাহ, অনেক আদর ওর জন্য । দিয়ে দিয়েন Big Hug

২০

মীর's picture


আমার মেয়ে হলে এই ব্লগ থেকে তাকে দূরে রাখব ভাবতেছি।

খুক খুক, গলায় খালি কাশি আসে। Big smile Big smile

২১

লিজা's picture


ডাইল খান, কাশি সাইরা যাবে Crazy

২২

মীর's picture


আমি আর আপনে ৫০-৫০। আসেনTongue out

২৩

লিজা's picture


৫০-৫০ কি? পাত্তি না বোতল ?
আমি রাজি না । আপ্নে একলাই খান । আমার খুক খুক কাশি হয়না Big smile

হাহাপেফা হুক্কা

২৪

লিজা's picture


হাসতে হাসতে পেট ফাটার ইমো কে দিল? আমি কিন্তু দেই নাই । এইটা কার কাজ Crazy

২৫

তানবীরা's picture


মা - খালারা সবাই চিজ। মাইয়া আর সালাদ হইবো কোথা থেকে? Love

২৬

জ্যোতি's picture


মা মেয়ের মিষ্টি কথাবার্তা।কি যে ভালো লাগলো পাকনুটার কথা বার্তা পড়ে! মেঘের জন্য এক ব্যাগ আদর। অনেক বড় হোক মামনিটা।

২৭

তানবীরা's picture


ধন্যবাদ আপ্নেরে। কিন্তু আপনি কি কীবোর্ড চর্চা আবার কমেন্ট লেখায় সীমাবদ্ধ করে ফেললেন নাকি?

২৮

শওকত মাসুম's picture


দারুণ একটা লেখা। আমার ছেলেও কঠিন এক চিজ। আজকালকার বাচ্চা অনেক বেশি বোঝে, জানে।

২৯

তানবীরা's picture


ইয়ে মাসুম ভাই, লাইক ফাদার লাইক সান কেস নাকি Wink Wink Wink

৩০

রানা's picture


ফাটাফাটি একটা গান শুনলাম । ধন্যবাদ ।

৩১

তানবীরা's picture


হুমম, গানটা আমারো খুব ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ আপনাকে

৩২

সামিয়া 's picture


Big Hug Big Hug Big Hug Big Hug

" জীবন যদি পারমিট করে মা, তাহলে তোর সুবিধামতোই মরবো, কথা দিলাম তোকে।"
তাই যেন হয়।
হাসতে হাসতে পেট ব্যাথা হয়ে গেলো। চোখ ও ভিজে গেলো।
আমার ময়নার জন্য অনেক অনেক আদর।

৩৩

তানবীরা's picture


ময়নার ছোটমা কেমন আছে? ক্রিকেটের শোক কাটিয়ে কোমা থেকে ফেরত আসছো? Love Love Love

৩৪

সামিয়া 's picture


ময়নার ছোটমা ভাল আছি।
অনেকদিন পর আসলাম। Smile

৩৫

তানবীরা's picture


এটা আমার দেশ না, কোনদিন ছিল না, কোনদিন হবেও না। আমি প্রবাসিনী = বনবাসিনী

আমি আপনার থেকে একটা ম্যাসেজ আশা করেছিলাম দাদা। অবশ্য নতুন চাকরীর চাপে আমার রুটিন উলটাপালটা, আমি ভুলেও গেছিলাম। তারপরও আপনি একটা খবর নিলে ভালো লাগতো Puzzled

৩৬

টুটুল's picture


মা প্লীজ তুমি এখন মরো না, বাসায় কেউ নেই, আমার একা ভয় লাগবে।

সেইরম Smile

চাক্রি কিরম চলে?

৩৭

তানবীরা's picture


আপনাদের দোয়াগো ভাইজান Cool

৩৮

মানুষ's picture


ভাগ্যিস আমার কোন পোলাপান নাই। মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে ...

৩৯

তানবীরা's picture


পোলাপাইন থাকলে আরো মরতে চাইবা না মানু, আরো কষ্ট। বড়ো মায়া এই পুলাপাইন

৪০

জেবীন's picture


ভাবী রাগ করে ভাইরে বলছেন,   আমি দেশে চলে যাবো, থাকো তুমি তোমার বিচ্ছুপোলাপান নিয়া,  ভাইয়া যেই বলে এদের কে দেখে রাখবে আমি তো হসপিটালেই থাকবো বেশিরভাগ সময়...   ভাবী বলছে, ঠিক আছে পত্রিকায় এ্যাড দিয়া তোমার বিয়া দিয়া, তবেই আমি যামুগা।
এতটুকু শুনে উনার বড়ো মেয়ের উত্তর, "ওহ নো, মা, তুমি এখানের মেয়ের সাথে পাপা'র বিয়ে দিও না, দেশে গিয়ে দেও, নইলে স্কুলে বাইরে সবখানে ইংরেজী বলে বলে বাড়িতে এসে বললে আমি তো ক'দিনেই বাংলা বলা ভুলে যাবো, পরে দেশে গেলে সবাই হাসবে!!...  Laughing out loud

আজকালকার এইগুলা পুরাই ধান্দাবাজ, আমাদের চেয়েও আপগ্রেড ভার্সন  Stare

৪১

তানবীরা's picture


আমারেও এইটা কইছে জেবীন। কয় তুমিই আমার মা থাকো, তুমি ডাচ আর বাংলা দুইটাই জানো .........

আমার মাথা ঘুরে মাইয়ার কথা শুনলে

৪২

সাঈদ's picture


মা কা বেটি সিপাই কা ঘোড়া

৪৩

তানবীরা's picture


জায়েদা নেহী মিলেগি বাস থোড়া থোড়া Party

৪৪

নাজ's picture


যার জন্যে জীবনের এমন কিছু নাই ত্যাগ করতে পারি না, সে আমাকে ছেড়ে তার জীবন কতো ইজি রাখা যায় সে পরিকল্পনা এক ঘন্টায় করে ফেলেছে।

মা মরে গেলে কি হারাবে, সেটা যদি বুঝতো তাহলে কি আর এই পরিকল্পনা করতো? Sad

জীবন যদি পারমিট করে মা, তাহলে তোর সুবিধামতোই মরবো, কথা দিলাম তোকে।

সে-ও কি সম্ভব? হলে তো ভালোই হত Sad

লেখাটার প্রতিটা অনুভূতি ভীষন ছুয়ে গেলো....

৪৫

তানবীরা's picture


নাজ, আমার মনে হয় না বুঝতে হারালেই ভালো, কষ্ট কম পাবে। যতো বুঝবে ততো বেশি কষ্ট

জীবন কখনো পারমিট করবে নারে নাজ। এই মায়া ছেড়ে কেউ যেতে চাইবে না। ভাবলেই কান্না পায় আমি থাকবো না আর সব ঠিক এভাবেই থাকবে

৪৬

শাওন৩৫০৪'s picture


শেষ প্যারাটায় আইসা দম বন্ধ হৈয়া গেলো টাইপ।
শুরু থেইকা মজার/ আনন্দের আর শেষে আইসা একটা মায়াকাড়া সমাপ্তি - এই স্টাইলটায় এই লেখাটা আসলে দারুন লাগলো বস।

৪৭

তানবীরা's picture


বস, তুমি কোথায় হারাইলা? এ পাড়ায় দেখি আসোই না। আমরা ক্যানো তোমার লেখা থেকে বঞ্চিত?

৪৮

জ্যোতি's picture


নয়া পুষ্ট কই ক্যাপ্টেন?দেন জলদি। আড্ডা দেই।

৪৯

তানবীরা's picture


উইক এন্ডে দিমু বস, তুমি পোষ্ট দিলেওতো আমরা আড্ডাইতে পারি

৫০

জ্যোতি's picture


ঠিকাছে, আপনের জন্য লুতুপুতু স্পেশাল আসপে।আমি এত আইলসা কেন ক্যাপ্টেন?একটা ফু দেন দেখি! কালই পুষ্ট নাজিল হপে। Big smile

৫১

তানবীরা's picture


এমন ফুঁ দিলাম উড়ে এ্যামেরিকা যেয়ে পড়বা তুমি এখন Cool

৫২

শর্মি's picture


পিচ্চি দেখি ব্যাপক পাকনা!

৫৩

নাজমুল হুদা's picture


আমি এতদিন ছিলাম কোথায় ? সবাই পড়েছে, মন্তব্য করেছে, আর খুঁজে খুঁজে ভুল বের করতে আসিনি এতদিনেও আমি ?
এখনকার ছেলেমেয়েদের বুদ্ধি অনেক বেশী । আমরা মানে প্রায় ফসিলরা তাদের ধারেকাছেও ঘেঁষতে পারবো বলে মনে হয়না । বর্তমানের বাবা-মায়েরা এবং হবুরাও মানসিকভাবে এদের সাথে তাল মেলাবার জন্য প্রস্তুতি নিলে জেনারেশন গ্যাপ কিছুটা কমতে পারে।
সমসাময়িক কাহিনী পড়ে একই সাথে হাসি-খুশি আর ব্যাথা বেদনায় আক্রান্ত হলাম ।
চাকরিজীবন কেমন চলছে ?

৫৪

রশীদা আফরোজ's picture


খুব মরার কথা ভাবতাম, মনে হতো মরে যাই, কিছু হলেই বলতাম, মরে যাবো। একদিন একজন বলল, মরে যাও, তোমার মরে যাওয়াই উচিত। কথাটা শোনার পর আর মরে যাবার কথা মনে হয়নি, ঘুরে দাড়িয়েছি। বেঁচে থাকার সুখগুলি ইকটু ইকটু করে কুড়োচ্ছি আর ঝুড়িতে ভরে নিচ্ছি।

৫৫

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


অসাধারণ লাগলো পড়তে।
প্রিয়তে রেখে দিলাম..

৫৬

একজন মায়াবতী's picture


লাভ ইউ ময়না বাচ্চা

৫৭

এ টি এম কাদের's picture


হৃদয় ছূঁয়ে গেল আপনার লেখা ! এমন ও হয় !

৫৮

তানবীরা's picture


Big smile

৫৯

রিফাত's picture


আপনার লেখা অনেক ভাল লাগে। Smile

৬০

তানবীরা's picture


আমি গলিত বিগলিত রিফাত Laughing out loud

৬১

সুমি হোসেন's picture


Love পাকনি বুড়ি!

৬২

সুমি হোসেন's picture


"অহনার অজানা যাত্রা" কি হইল? সে আর হাটে না? যাত্রা বন?! টিসু

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

তানবীরা's picture

নিজের সম্পর্কে

It is not the cloth I’m wearing …………it is the style I’m carrying

http://ratjagapakhi.blogspot.com/