ইউজার লগইন

কাছের মানুষ

রাসেলের “বাবার পোশাক” লেখাটা পড়ে মনটা খুব বিষন্ন হলো। অনেকদিন এমন মন ভিজিয়ে দেয়া ব্লগ পড়িনি। লেখাটা মাথায় ঘুরছিলো থেকে থেকে। হঠাৎ ইচ্ছে করলো আমার বাবাকে নিয়ে কিছু লিখতে। না, আমার বাবা আমার দূরের কোন মানুষ নন। খুব কাছের মানুষ, বন্ধু। মায়ের হাত থেকে বহুবার বাঁচিয়েছেন বাবা আমায়, বহু আবদার পূরন করেছেন, এখনো করেন হাসিমুখে। বাবার সাথে সারাবেলা খেলেছি এমনকি খেলতে খেলতে রেগে গিয়ে মারামারিও করেছি কখনো কখনো। ক্যারাম, ব্যাডমিন্টন, তাস খেলা সবকিছুর হাতেখড়ি বাবার কাছে। বানিজ্যমেলা, বইমেলার পরিচয় বাবার কাছ থেকে। সত্যজিত – মৃনাল সেন জেনেছি বাবার কাছ থেকে। কিন্তু আজকাল কেমন যেনো একটা নাম না জানা দূরত্ব তৈরী হচ্ছে। ফোনে কেমন আছেন, কি করছেন জিজ্ঞেস করে, এটা কেনো হলো না, সেটা কেনো হয় না, দু / একটা ঝাড়ি মারার পর আর কথা খুঁজে পাই না। যে জায়গায় মায়ের সাথে, বোনদের সাথে ঘন্টায়ও কথা ফুরায় না, সে জায়গায় পাঁচ মিনিটে বাবার সাথে কথা শেষ। অথচ ইচ্ছে করে বাবার সাথে ঘন্টা ধরে আলাপ করি। সেই আগের মতো। বাবা অনেক রাতে বাড়ি ফিরতেন। মা রাগ করে শুয়ে পড়তেন গেট তালা দিয়ে। আমি বসার ঘরে লাইট জ্বালিয়ে বসে গল্পের বই পড়তাম, এটার মানে ছিল বাবাকে জানানো, আমি আছি।

বাবা এসে আওয়াজ দিলেই আমি দারোয়ানকে ডেকে গেট খুলাতাম। তরকারী গরম করে বুয়া খাবার দিলে আমি বাবার পাশে বসতাম। বাবা খেতে খেতে তার প্লেট থেকে ভালো মাংসের টুকরো, মাছের টুকরো আমার মুখে তুলে দিতেন। আমি গল্পের বইয়ে ডুবে ডুবে সেসব খেতাম আর আগডুম বাগডুম ফালতু গল্প করে যেতাম। এখন অনেক কষ্ট হয়, একবেলা বাবা বাসায় খেতেন, তারও সব আমি খেয়ে নিতাম কাছে বসে। কিন্তু ঘটনা হলো এখনো তাই করি। এখনো বাড়ি গেলে বাবা তার প্লেট থেকে খাবার আমার আর আমার মেয়ের মুখে তুলে দেন, আমরা খেয়ে নেই। আমার মেয়েতো বাবা খেতে বসা মাত্র তার পবিত্র দায়িত্ব মনে করে বাবার পাশে যেয়ে দাড়াবেন আর বাটিতে আঙ্গুল দিয়ে বাবাকে দেখাবেন, এটা নাও, ওটা নাও, মাখো, লেবু দাও তারপর ওনার মুখে তুলে দাও। বাবা পরমানন্দ নিয়ে নাতনীকে খাওয়ান। বাবা হলেন আমার সারা জীবনের হিরো। সেলফমেইড ম্যান। বাবা – চাচাদের ছোট রেখে আমার দাদা মারা গেলেন। সংসারে সবার ছোট হয়েও বাবাই নিজ স্বার্থ ত্যাগ দিয়ে সংসারের দায়িত্ব নিলেন। নিজে ধূপ হয়ে পুড়ে গিয়ে আমাদের সবাইকে গন্ধ বিলালেন। এখনো তার নিজের জন্যে কি চাই জিজ্ঞেস করলে জানেন না, জানবেনই বা কোথা থেকে? আমাদের চাহিদা পূরন করতেই যে তিনি অভ্যস্ত। নিজের দিকে যে তাকাতে হয় তাই শিখেননি। কপর্দকশূন্য অবস্থা থেকে আজকের এই অবস্থায় এসেছেন, সাথে সবাইকে টেনে নিয়ে এসেছেন শুধুমাত্র পরিশ্রম করে। কাহানী একদম ফিলমি হ্যায়। তবে হ্যা, এগুলো সব আমি শুনেছি, দেখিনি কিছুই। আমার জন্মের আগেই বাবা তার ভাইদের নিয়ে এ পৃথিবীতে মাথা গোঁজার ঠাই করে নিতে পেরেছিলেন। তার জীবনের আঁচর তার ছেলেমেয়ের ওপর পড়তে দেননি।

বাবা অনেক ডানপিঠে ছিলেন ছোটবেলা থেকেই। সেজন্যে নাকি অনেক মার খেতেন। এটা শুনলে বাবার টীচারদের ওপর, দাদা – চাচাদের ওপর রাগ লাগে, কেনো আমার বাবাকে তারা মেরেছেন? তবে তার এই ডানপিঠেপনা বহুদিন চালু ছিল। একবার ঈদের সময় বাবার জাহাজের শিডিউল ছিল। পুলিশ অন্যকারো কাছ থেকে পয়সা খেয়ে শিডিউল পরিবর্তন করে দিয়েছিলো। বাবা তাতে খুব রেগে গেলেন। তিনি কাগজ দেখালেন, তার শিডিউল, টিকেট বিক্রি হয়েছে তার জাহাজই যাবে। এই নিয়ে রাগারাগির এক মূহুর্তে তিনি পুলিশ অফিসারকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে জাহাজের ডেক থেকে পানিতে ফেলে দেন। ফেলে দিয়ে ঘাট থেকে যাত্রীসহ জাহাজ ছাড়িয়ে নিয়ে তিনি চলে যান। পরে তার খেয়াল হয় পুলিশ নিশ্চয় এতোক্ষণে সব জায়গায় খবর দিয়ে দিয়েছে, তাকে হয়তো অন্যঘাটে ধরতে পারে। তিনি জাহাজে তার কর্মচারী সবাইকে করণীয় বুঝিয়ে দিয়ে মাঝ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে অন্যদিকে চলে যান। একবার সুন্দরবন থেকে রয়েল বেংগল টাইগারের ছোট একটা বাচ্চা নিয়ে এসেছিলেন পুষবেন বলে। স্বাধীনতার পর পর যখন সবে তিনি খেটেখুটে তার ব্যবসাকে আলোর মুখ দেখাচ্ছেন, ডাকাতের জ্বালায় নাকি তখন রাতের দিকে জাহাজ চালানো দায় হয়ে পড়ে। তিনি নিজে ছোট আর একটা লঞ্চ রেডি করেছিলেন, জাহাজের পাশে পাশে যেতেন ডাকাত ধরবেন বলে। এগুলোর কিছুই আমার স্মৃতিতে নেই। এ গল্পগুলো আমাদের পরিচিত মহলে বাবাকে নিয়ে এতোবার আলোচিত হত যে শুনে শুনেই আমি জানি, মনে হয় আমি যেন দেখেছি সব।

পুরুষেরা কথা দিয়ে কথা রাখেন না এই অভিজ্ঞতাও বাবাই আমাকে প্রথম দিয়েছেন। তিনি জীবনেও কথা রাখার উদ্দেশ্যে কথা দিতেন না। মায়ের সাথে তার নিত্য ঝগড়া ছিল এই নিয়ে। পরে আমার সাথেও একই দাঁড়ায়। মাকে নিয়ে কোথাও যাওয়ার কথা দিয়ে তিনি পগার পাড় থাকতেন। পরে আমার সাথেও তাই। শিশু পার্ক কিংবা ঈদের কাপড় কিনতে নিয়ে যাবেন। এই আসছি এইতো, বারোটার মধ্যে ফিরছি। দুপুর বারোটা থেকে তিনটে তারপর ইফতারের সময় পার হয়ে যেতো। কোন খবর নেই। আমি কেঁদেকেটে না খেয়ে ঘুম। তিনি বাড়ি এসে ঘুম থেকে তুলে তেল মেখে মেখে আমাকে খাওয়াতেন। একটার বদলে আমার কান্নার হেঁচকির তোড় অনুযায়ী দশটা জামার প্রমিস করতেন। সংসার আর সন্তানদের সময় দিতে না পারাটা তিনি পয়সা দিয়ে অনেক সময় পূরন করে দেয়ার চেষ্টা করতেন। ছোট ছোট অনেক অনেক দোষ থাকা সত্বেও আমার বাবা আমার পৃথিবীতে থাকা মানুষদের মধ্যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। যার পৃথিবী আমাদেরকে কেন্দ্র করে শুরু হয়, আমাদের মধ্যেই শেষ হয়। আমরা ছাড়া তার আর কোন জীবন কোনদিন ছিল কি না কিংবা আছে কি না জানতেই পারিনি।

জীবনে এতো জায়গায় ঘুরতে গেছি, বন্ধুদের সাথে গেছি, স্বামীর সাথে গেছি কিন্তু বাবার সাথে বেড়িয়ে যে আনন্দ সেটা কখনো অন্যকারো সাথে পাইনি। যে নিশ্চিন্ততা, নির্ভরতা বাবা দেন তা পৃথিবীর আর কেউ দিতে পারেনি। নিজেকেও নিজে দিতে পারিনি। কি খেতে ইচ্ছে করে, শুধু মুখ দিয়ে বের করার দেরী, সীজন থাকুক আর না থাকুক, ঢাকা, কুমিল্লা, খুলনা যেখান থেকেই হোক, বাবা ঠিক কোথাও না কোথাও থেকে ম্যানেজ করে নিয়ে আসবেন। বাবার সাথে দাদুর বাড়ি বেড়াতে যাওয়া কিংবা কাপ্তাই লেক, চিটাগাং, কক্সবাজার বেড়াতে যাওয়ার যা আনন্দ তা চাঁদের দেশে বেড়াতে যেয়েও পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ। নৌকায় চড়ে জ্যোস্না রাতে নদীতে এলোমেলো ঘোরা। নিশ্চুপ গ্রাম, এখানে ওখানে কোন ঘরে টিমটিম হারিকেনের আলো জ্বলছে আর চারধার শুনশান। থেকে থেকে কোথাও থেকে নাম না কিছু ডেকে উঠতো। কি একটা শান্তি চারধারে মাখানো, পাশে বাবা বসে মানে ভয়ের কিছু নেই। মনে হতো জীবন এখানেই শেষ হয়ে যায় না কেন। বাবার হাত ধরে ভুবনেশ্বর পাহাড়ে চড়ে যে আনন্দ পেয়েছি সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ের সৌন্দর্য তার কাছে অনেক ম্লান।

অনেক চড়াই উতরাই পার হয়ে বাবা আজ অনেকটা পথ এসেছেন। বাবা বোধহয় খানিকটা ক্লান্তও। দুপুরে বাড়ি ফিরেন প্রায়ই, ঢাকা কোলকাতা চ্যানেলের যতো ম্যাটিনি শো আছে সব দেখে ফেলেন, দুপুরে ঘুমাবেন না বলে। আমি পাশে বসি যেয়ে, জিজ্ঞেস করি, আব্বু কি সিনেমা দেখছেন? ঠোঁট উলটে হাসেন। কি দেখছেন নিজেও জানেন না। এক সময় সিনেমা পাগল বাবা এখন টিভির সামনে বসে থাকেন শুধু। হয়তো টিভিতে চোখ রেখে নিজে কোথাও হারিয়ে যান। বসে বসে হয়তো জীবনের হিসাব মিলান। একজন মানুষের সমাজে অনেক পরিচয় থাকে, অনেক মূল্যায়ন থাকে। একজন মানুষ কারো ভাই, কারো ছেলে, কারো বন্ধু, কারো স্বামী। সব ক্ষেত্রে তার সফলতা ব্যর্থতা মূল্যায়ন করা হয় আলাদাভাবে। কিন্তু আমি জানি বাবা হিসেবে আমার বাবা অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তার কোন তুলনা হয় না। বাবা শুধু বাবা হয়।

তানবীরা
২৫.০৬.২০১১

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

লীনা দিলরুবা's picture


তোমার বাবা তো পুরো ড্যাশিং মানুষ Smile
পুরো লেখাটায় একরকম অনুভূতি... শেষের প্যারাটায় মাত করে দিয়েছো।

তানবীরা's picture


আপনার মন্তব্যও আমাকে মাত করে দিয়েছে আপুমনি Laughing out loud

জ্যোতি's picture


জীবনে এতো জায়গায় ঘুরতে গেছি, বন্ধুদের সাথে গেছি, স্বামীর সাথে গেছি কিন্তু বাবার সাথে বেড়িয়ে যে আনন্দ সেটা কখনো অন্যকারো সাথে পাইনি। যে নিশ্চিন্ততা, নির্ভরতা বাবা দেন তা পৃথিবীর আর কেউ দিতে পারেনি।

সত্যি।
দারুণ একটা লেখা। বাবাকে নিয়ে চমৎকার অনুভূতি। আংকেলের মেয়েরা তো দেখি বাবার মতো সুপার হিরো টাইপ না Big smile

তানবীরা's picture


না, বাবা মায়েরমতো মানবিকগুনসম্পন্ন তার মেয়েরা হতে পারেনি তবে ছেলে তা কভার করে দিয়ে বাবা মায়ের নাম রেখেছে Big smile

রশীদা আফরোজ's picture


লেখাটা পড়তে পড়তে শেষে এসে বিষন্নতাবোধে আক্রান্ত হয়ে পড়েছি। তোমার বাবার জন্য শ্রদ্ধা। ভালোবাসা।

তানবীরা's picture


Big smile Big smile Big smile

ফিরোজ শাহরিয়ার's picture


'কিন্তু বাবার সাথে বেড়িয়ে যে আনন্দ সেটা কথনো অন্যকারো সাথে পাইনি।'

পাওয়াও যায়না আপু। জন্ম জন্মান্তরের বাধনের সাথে সব বাধনগুলোই যেন ফিকে হয়ে যায়। তাইতো বিখ্যাত গানটি
' সিনেমা যখন চোখে জ্বালা ধরায়
গরম কফির মজা জুড়িয়ে যায়
কবিতার বইগুলো ছুড়ে ফেলি
মনে হয় বাবা যেন বলছে আমাই...
এই ডাকটির মত কি আর কোন ডাক হয়?

তানবীরা's picture


এ গানটা আমারো খুব প্রিয় Smile

সামছা আকিদা জাহান's picture


বাবা কে নিয়ে একটি সম্পূর্ন লেখা, আমাকে মাতিয়ে দিলেন, কাঁদিয়ে দিলেন, ভাসিয়ে নিয়ে গেলেন কোন সুদূরে।

বাবাকে ৩বছর আগে স্বপ্নে দেখেছিলাম একটি বাগানে ইজি চেয়ারে শুয়ে শুয়ে বই পড়ছে। আমি বাবার প্রিয় তিলের খাজা হাতে নিয়ে তার দিকে যাচ্ছি। তার কাছে পৌছে দেখি তিনি নেই। আমি ডাকছি বাবা , বাবা --- মন আমাকে ডেকে জড়িয়ে ধরে বললো --কি স্বপ্ন দেখছিলে?। এমন জীবন্ত স্বপ্ন আমি আর দেখিনি।

১০

তানবীরা's picture


বাবা নেই সেদিন কেমন হবে আমি জানি না। ভাবতেও পারি না। সমবেদনা আপনার জন্যে আপুমনি

১১

মেসবাহ য়াযাদ's picture


অভিভুত হলাম বাবাকে নিয়ে লেখাটা পড়ে। আপনার বাবা ভাগ্য দেখে ক্ষাণিক হিংসিতও হলাম। ইউ আর দ্য লাকি গাই ক্যাপ্টেন Big smile

১২

তানবীরা's picture


ইয়েস আই এ্যাম Laughing out loud । হিংসা যত্ন করে রেখে দিলাম Party

১৩

শামীম রুনা's picture


বাবা কাছে থাকার সময় তাঁকে তেমন ভাবে বুঝতে পারি নাই। আজ যখন বাবা চলে গেলেন বহু দূরে তখন বুঝতে পারলাম, তিনি আমাদের জন্য ছিলেন এক বিশাল ছাতা। যে ছাতা দিয়ে তিনি আমাদের রোদ-বৃষ্টি-ঝড় সব কিছু থেকে রক্ষা করতেন নিরবে।
বাবার মেয়ে বাবার আদুরী হয়ে থাকো সারা জীবন।

১৪

তানবীরা's picture


আমি হল্যান্ডে এসে টের পেয়েছি বাবার ছাতা না থাকা মানে কি জীবনে। এরচেয়ে বড় কষ্ট বোধহয় আর নেই।

১৫

উচ্ছল's picture


বাবা শুধু বাবা হয়।

দারুন বলেছেন। খুব ভাল লাগলো।

১৬

তানবীরা's picture


Laughing out loud

১৭

দিশা স্যান্ডফোর্ড's picture


খুব ভাল লাগলো বাবা আর আপনার কথা জানতে। আপনি খুব ভাগ্যবতী। ক'জন আপনার মতন বাবা পান। ভাল থাকবেন দুজনেই।

১৮

তানবীরা's picture


আপনিও ভালো থাকবেন। ব্লগে নিয়মিত আসবেন

১৯

রাসেল আশরাফ's picture


চুপচাপ পড়ে গেলাম।

২০

তানবীরা's picture


কেনো শব্দ করে পড়লে রুমমেট গলা টিপে দিবে? Stare

২১

আরিশ ময়ূখ রিশাদ's picture


তার কোন তুলনা হয় না। বাবা শুধু বাবা হয়।

২২

তানবীরা's picture


রিশাদ কেমন আছেন? নতুন লেখা কোথায়?

২৩

একজন মায়াবতী's picture


আমি আর আম্মু যখন ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প করি আব্বু তখন আম্মুর সাথে রাগ করে। বলে, মেয়েটাকে তুমি লেখাপড়া করতে দিলা না!! এই বলে একদিন আব্বু আম্মুকে আমার কাছ থেকে সরিয়ে দিয়ে আমাকে বলল, এত কি কথা বলিস সারাদিন তোর মার সাথে আমার সাথে তো বলিস না। আমি হেসে বললাম, চলেন আপনার সাথেও বলি। দু'চারটা কথা বলার পর কেউই আর কিছু খুঁজে পাচ্ছিলাম না। জিজ্ঞাসা করলাম কফি খাবেন? কফি দেই? আব্বুও বলল দিবি? দে।

২৪

তানবীরা's picture


Puzzled Puzzled Puzzled

২৫

শওকত মাসুম's picture


বয়স হচ্ছে, আর বাবা হিসেবে নিজেকে নিয়ে শঙ্কিত আছি। আমিও এরকম নি:সঙ্গ হয়ে পড়বো।

২৬

তানবীরা's picture


আমরা সবাই নিঃসংগ হবো, শঙ্কিত হয়ে কম্পিত হওয়ার দরকার নেই Tongue

২৭

মাহবুব সুমন's picture


Sad

২৮

তানবীরা's picture


কি হলো?

২৯

সুমি হোসেন's picture


আব্বুর জন্য অনেক ভালবাসা, এই কিছুদিন আগেও পিচকাটা দাতের ডাকতারএর কাছে যাবার সময় আববুকে ছাড়া যাবেনা বলেছিল; কেন জানতে চাইলে উততর পেলাম আববুকে জড়িয়ে কাদলে ব্যথা কম লাগে 8)।
কত শত শত ঘটনা, আহা! লেখার জন্য ধইন্যা পাতা

৩০

একজন মায়াবতী's picture


দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাওয়া, মঞ্চনাটক দেখতে যাওয়া, হলে গিয়ে সিনেমা দেখা, কক্সবাজার থেকে যমুনা ব্রীজ........... মনে আছে যখন সিলেট গেলাম?? আব্বুর কত্ত পা ব্যাথা ছিল? তারপরও তো আমাদের সাথে চা বাগানে গেল। Puzzled

৩১

তানবীরা's picture


ইয়ে আব্বুকে লেখাটা দেখা, তাহলে খুশি হয়ে আমাকে ইনাম দিতে পারে Tongue

৩২

শাপলা's picture


বন্ধু, তোমার লেখাটা পড় অনেক আপ্লুত হলাম, এমন করে লিখেছ-খুব খুব নাড়া দিয়ে গেল। বাবা দিবস বলে নয়, বাবা নিয়ে এই ব্লগেই প্রথম লেখা শুরু করি, কিন্তু কোনভাবেই গুছিয়ে লিখতে পারিনি।
তোমার বাবা সাথে আমার বাবার অনেক অনেক মিল।

মনটা বড়ই উদাস হৈল.....।

৩৩

তানবীরা's picture


কে উদাসি বানাইছে? মরার কোকিলায়? কোকিলারে ঢিল মেরে উড়ায় দাও আর তুমি কাগজ কলম নিয়ে বসে পড়ো লিখতে Big smile

৩৪

শামান সাত্ত্বিক's picture


চমৎকার লিখেছেন। বাবাকে শ্রদ্ধা।

৩৫

তানবীরা's picture


Big smile Big smile Big smile

৩৬

জুলিয়ান সিদ্দিকী's picture


বাবা শুধু বাবা হয়।

কেবল এই কথাটার লাইগ্যা আ্পনারে স্যালুট! আর বাকি লেখার জন্য ধইন্যা! Angel

৩৭

তানবীরা's picture


Big smile Big smile Big smile

৩৮

আহমাদ আলী's picture


বাবাকে নিয়ে দারুণ পোস্টটি পড়ে আবেগতাড়িত হলাম। আমার বাবার কথা মনে পড়ে গেলো। যিনি ১৯৭৭ সালের ২২ নভেম্বর (ঈদুল আজহার দিন সকাল ৮টায়) পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তখন আমি ঢাকা বকশিবাজারস্থ নবকুমার ইনস্টিটিউশন স্কুলে ক্লাস সিক্সে পড়ি। বিস্তারিত পরে লিখার ইচ্ছা থাকলো। এখন আমিও ২ সন্তানের বাবা। আপনার বাবার স্বভাবের সাথে আমার কিছুটা মিল আছে বৈকি। যেমন- নিজে কম খেয়ে ছেলেদের মুখে তুলে দেয়া (এ স্বভাবে গিন্নি দেখলে অনেক সময় রেগে যায় ছেলেদের ওপর), তাদের শখ পূরণের চেষ্টা করা, ছেলেদের প্রয়োজনে উদারচিত্তে খরচ করা ইত্যাদি।
লেখাটি ভীষণ ভালো লেগেছে, ধন্যবাদ আপনাকে।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

তানবীরা's picture

নিজের সম্পর্কে

It is not the cloth I’m wearing …………it is the style I’m carrying

http://ratjagapakhi.blogspot.com/