বিদ্যুত না থাকিবার ফজিলত সমূহঃ
আজিকা মাত্র ভাদ্দর মাস শুরু হইলেও বিগত বেশ কিছুদিন যাবত দেশে যে ভাদ্দইরা গরম শুরু হইয়াছে তাতে রাস্তার কুত্তার পাগলামী কোন পর্যায়ে পৌছাইয়াছে তাহা না জানিলেও অত্র বাংগালদেশের আম অধিবাসী গণের অবস্থা যে ভাদ্দইরা পাগলা কুত্তার থেকেও কম কিছু না তাহা বোধকরি সকলেই অনুধাবন করিতে পারিতেছেন।ইহার ওপর এই বাংগালদেশের আম অধিবাসী গণের পোড়া কপালে বোঝার ওপর শাকের আঁটির ন্যায় সিন্দবাদের ভূত স্বরূপ লোডশেডিংয়ের নামে যে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার নৃত্য চাপিয়াছে তাহাতে ইহাদের অবস্থা কতকটা করুণ ও নিশংস্র করিয়াছে তাহার প্রমাণ সকলেই নিশ্চই সংবাদপত্রের পাতায় বিভিন্ন রূপে পাইয়াছেন।আম জনতা আজ পাগলপ্রায় হইয়া যেরূপে বিদ্যুত অফিসে হামলাইয়া পড়িতেছে তাতে সরকারের শীতাতপ কক্ষের অতি আরামের ঘুম ভাঙ্গিবে কিনা তা না জানিলেও জনগণ যে ঘুমাইতে পাড়িতেছেনা তাহার বুঝা যাইতেছে। এমতাবস্থায় আমি আপনাদের নিকট "বিদ্যুত না থাকিবার ফজিলত সমূহ" নিয়া হাজির হওয়াতে যাহাদের চান্দি গরম হইয়াছে এবং আমার ওপরে ক্ষুধার্ত ব্যাঘ্রের ন্যায় হামলে পরিবার অপেক্ষায় রহিয়াছেন তাহাদের বলিতেছি,থামেন, থামেন...!!! অজথা এই গরমে নিজেদের শক্তি নষ্ট না করিয়া ঠান্ডা মাথায় বসেন,আর একটু ভাবিয়া দেখেন আপনাদের এই লম্ফ-জম্ফে কাহার কী উপকার হইবে,নিজের শক্তি ক্ষয় ব্যাতীত!!! তাহার থেকে আসেন জ্ঞানী লোকদের পরামর্শ মোতাবেক সকল খারাপ দিকের মাঝের ভাল দিকটা ভাবিয়া একে একে বাহির করিয়া নিজেদের চান্দিটা ঠান্ডা করি...
১.যেহেতু আজিকা রোজার মাসের ১ম রোজা পার হইয়াছে,তাহাই প্রথমেই এই রমজান মাসে বিদ্যুত না থাকিবার ফজিলত সমূহ আলোচনা করা যাক...
এই পবিত্র রমজান মাসে বিদ্যুত না থাকিলে এই তাবৎ বাংগালদেশের মহিলারা ঘরে বসিয়া আজাইরা হিন্দি সিরিয়াল দেখিতে পারিবেনা। ইহার পর দেশের পুংটা ও সবথেকে আজাইরা ডিজুস পুলাপাইন প্রায় পর্ণ হিন্দি-ইংলিশ মুভি , মিউজিক ভিডিও,এমটিভি ইত্যাদি দেখা হইতে বঞ্চিত হইবে।ইহা ছাড়াও দেশের বাঙ্গাল টিভি চ্যানেল গুলার ভাই-বেরাদার নির্মিত হুদাই প্যাচাইন্যা বস্তাপচা সিরিয়াল আর গ্যে হাবিব , ন্যাকা বালাম ও ইহাদের ন্যায় ভ্যাঁ ভ্যাঁ গায়ককুলের চিল্লাচিল্লি হইতেও দূরে থাকা যাইবে। ইহাতে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির কতকটা উপকার হইবে তাহা গবেষণার বিষয় হইলেও দেশের সামগ্রিক পাপের বোঝা কমিবে। এই সময়ে আমরা বরং দোয়া, ইবাদতে মগ্ন থাকিয়া উপরওয়ালাকে সন্তুষ্ট করিতে পারিলে চোর-বাটপার রাজনীতিবিদ মুক্ত দেশ পাইলেও পাইতে পারি....
২.বিদ্যুত না থাকিবার কারণে দেশের অর্থনীতির ভংগুর দশা হইলেও তাহা কিন্তু অন্যরূপে অর্থনীতির উন্নয়নের নতুনদ্বারের উন্মোচন করিয়াছে।বিদ্যুতের অভাবে দেশের বড় বড় শিল্প কারখানার উৎপাদন নিম্নমুখী হইলেও হাতপাখা,হারিকেন,মোমবাত্তি,কুপী ইত্যাদি পণ্যের ব্যাপক চাহিদার সৃষ্টি হইয়াছে যাহা দেশের কুটির শিল্পকে নতুন প্রাণ সঞ্চার করিয়াছে ও দেশের অর্থনীতিকে বর্তমানে গরু মারিয়া জুতা দানের ন্যায় মৃত্যুর হাত থেকে কিছুটা হইলেও রক্ষা করিতেছে...
৩.এই বাংগালদেশের অধিবাসীগণ অতিশয় অলস ও ব্যায়াম বিমূখ হইলেও বিদ্যুতের অভাবে প্রচণ্ড গরম হইতে বাঁচিবার নিমিত্তে নিয়মিত হাতপাখা ব্যবহার করিতে বাধ্য হইতেছে।ইহাতে তাহাদের বাঙ্গাল ছিঃনেমার নায়ক গণের ন্যায় ভুঁড়ির মাপ না কমিলেও হাতের মাংশপেশী গুলা মজবুত হইতেছে যাহা কিছুটা হইলেও এই অলস জাতীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে উন্নয়নের পথে ধাবিত করিতেছে....
৪.ইট পাথর আর সোডিয়াম বাত্তির শহরে রাত্রিবেলাতে চান্দের আলো না বুঝা গেলেও বিদ্যুতের অভাবের কারণে সামনের দিনগুলাতে চান্দের আলোর বন্যার সম্ভাবনা দেখা দিয়াছে।ইহাতে উক্ত সময়ে চান্দের আলোর প্রভাবে অনেক নতুন নতুন কবি ও ভবঘুরের আগমন ঘটিবে,যাহাদের চর্চিত কাব্য ভবিষ্যতে দেশের জন্য দ্বিতীয় বারের ন্যায় নোবেল প্রাইজ আনিয়া দেশের ভাবমূর্তীকে সূর্যের আলোর থেকিয়াও উজ্জ্বল করিতে পারে....
৫.দেশের বিরোধী দলের নেতা নেত্রীরা সকল সময় সরকারি দলের কুচক্র ও দেশকে বিক্রি করিবার পরিকল্পনা থেকে আম জনতাকে সর্বদা সজাগ থাকিতে বলে।ইহাতে দেশের আম জনতার কতজন রাত্রের ঘুম হারাম করিয়া জাগিয়া থাকে তাহার কোন পরিসংখ্যান না থাকিলেও বর্তমানে গরমের মাঝে বিদ্যুতের অভাবে দেশের আপমর জনগনের ঘুম হারাম হইয়া যাওয়াতে তাহারা সর্বদা জাগিয়া থাকাতে বাধ্য হইবার কারণে দেশ বর্তমানে কুচক্র ও বিদেশি আক্রমন হইতে মুক্ত রহিয়াছে; কারণ এমতাবস্থায় কিছু ঘটিলে দেশের সকল জনগন এক সাথে তাহাদের বিরুদ্ধে ঝাপিয়া পরিতে পারিবে যাহা আমাদের জয়কে নিশ্চিত করিবে....
৬.বিদ্যুতের অভাবে দেশের কল-কারখানা ও ঘর বাড়ির ফ্রিজ-এসি অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকিবার কারনে দেশে বর্তমানে গ্রীন হাউস গ্যাসের নিঃসরন কমিয়া গিয়াছে যাহা পৃথিবীর তাপমাত্রা কমাইয়া দেশকে ভবিষ্যতে সিডর-আইলা,বন্যা-খরা,লবণাক্ততা সহ সকল প্রকার প্রাকৃতিক বিপর্যয় হইতে কিছুটা হইলেও রক্ষা করিতেছে...
৭.বিদ্যুতের অভাবে অতীব গরমের মাঝে দেশের অধিকাংশ বেয়াদ্দব পুলাপাইন,যাহারা আগে পড়াশুনা রাখিয়া ইন্টারনেটে ফেইসবুক,চ্যাটিং ইত্যাদি আকাম করিয়া বেড়াইত, তাহারা মোমবাত্তি,হারিকেন অথবা কুপী বাত্তিতে পড়াশুনা করিতে বাধ্য হইতেছে এবং বুঝিতে পারিতেছে তাহাদের বাপ-দাদারা কিভাবে কষ্ট করিয়া অতীতে পড়াশুনা করিয়াছে,যাহা তাহাদের কিছুটা হইলেও আদবে আনিতে সাহায্য করিতেছে। ইহা ছাড়াও এই ঘটনায় বর্তমানে দেশে অসংখ্য বিদ্যাসাগরের জন্মের সুযোগ করিয়া দিয়াছে...
৮.বিদ্যুতের অভাবে এই গরমের মাঝে কেহই ঘুমাইতে না পারিবার কারণে দেশে বর্তমানে চুরি-ডাকাতির হার উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়া গিয়াছে,যাহা বর্তমানে দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতিকে কতটা উন্নতি করিয়াছে তা না জানিলেও দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রিকে কিছুটা হইলেও সফল করিয়াছে.....
৯.সন্ধ্যার পর ও রাত্রিতে বিদ্যুত না থাকিবার কারণে বর্তমানে দেশের আম জনতা অন্ধকারের মাঝেও চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজ-কর্ম করিতে বাধ্য হইতেছে,যাহা তাহাদের চোক্ষের অন্ধকারে দেখিবার পাওয়ার বাড়াইয়া দিতাছে,যাহা দেশের সামগ্রিক চক্ষু স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী...
১০.ধৈর্যশীল জাতি হিসাবে আমাদের পরিচিতি না থাকিলেও বিদ্যুতের অভাবের মাঝেও আমরা দাঁতে দাঁত লাগাইয়া বসিয়া থাকা প্রাকটিস করিতে পারি,যাহা আমাদের ভবিষ্যতে জাপানীদের মত ধৈর্যশীল জাতি হইতে সাহায্য করিবে ,এমনকি ইহা আমাদের অস্ট্রেলিয়ার ন্যায় টেস্ট ক্রিকেট খেলিতেও শিখাইবে,যাহাতে আদতে আমাদেরই উপকার হইবে...
এত্তগুলা উপকারী দিক থাকিবার পরও কি আপনারা "বিদ্যুত না থাকিবার ফজিলত সমূহ" নিয়া সন্দিহান হইতে পারেন!!!!অতএব আম জনতা, বিদ্যুতের অভাবে অজথা হাঙ্গামা না করিয়া দাঁতে দাঁত লাগাইয়া সব সহ্য করিয়া জান, জিৎ আপনার হইবেই.........





জ্বী, প্তথম আলো তে আনিসুল হক সাহেব একদা লিখেছিলান এইরুপ ।
তাই নাকি ভাই!!! গুরুরা লেখছে!!! তাইলে তো আমার লেখা উচিত হইলো না...যাইহোক লেইখ্যা যখন ফালাইছি আর কী করার...তা সেই লেখার কোন লিংক কি দিতে পারবেন? একটু পইড়া কলিজা ঠান্ডা করতাম...
জয়তু ইতিবাচকতা! ৭, ৮, ১০ মনে থাকবে।
ধন্যবাদ নুশেরা আপু...
হাহাহা...আসলেই তো কি দরকার বিদ্যুতের?
কিন্তু আপনার লেখাটি তো বিদ্যু ছাড়া পড়া যাইত না
"ইট পাথর আর সোডিয়াম বাত্তির শহরে রাত্রিবেলাতে চান্দের আলো না বুঝা গেলেও বিদ্যুতের অভাবের কারণে সামনের দিনগুলাতে চান্দের আলোর বন্যার সম্ভাবনা দেখা দিয়াছে।ইহাতে উক্ত সময়ে চান্দের আলোর প্রভাবে অনেক নতুন নতুন কবি ও ভবঘুরের আগমন ঘটিবে,যাহাদের চর্চিত কাব্য ভবিষ্যতে দেশের জন্য দ্বিতীয় বারের ন্যায় নোবেল প্রাইজ আনিয়া দেশের ভাবমূর্তীকে সূর্যের আলোর থেকিয়াও উজ্জ্বল করিতে পারে...."
সেই নোবেল বিজয়ীর নাম শুনার অপেক্ষায়

হাহাহাহাহা......আমিও সেই নাম শোনার অপেক্ষায়

লেখাটা আমার পছন্দ হয়েছে!! আরো সুন্দর সুন্দর লেখা আশা করি।

ধন্যবাদ আপনাকে। আসলে আমি লেখক নই,সময়ের প্রয়োজনে হয়তো হাবিজাবি কিছু লিখেছি। আর এই লেখা লেখির কাজ বড়ই কষ্টের ও ধৈর্যের। তাই ভবিষ্যতের কথা বলতে পারছি না। ভাল থাকবেন।
এই কথাটি মানিতে পারিলাম না। দেশ তো এখন চীনা-চার্জ লাইট, ফ্যান দিয়া ভরিয়া উঠিয়াছে।।
১,৪ এবং ৭ নং এ ঝাজা........
হাহাহা... আপনার কথা সত্য, কিন্তু এখন আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ হাত পাখা ,হারিকেন,কুপী এসবএর ওপরই নির্ভর করে আছে। শহরের আমরা হয়তো চায়নিজ জিনিসে অভ্যস্থ ....যাইহোক, এটা একটা রম্যরচনা,তাই মানা না মানার ব্যাপারই নাই। ভাল থাকবেন।
হাহাহাহাহা। স্বান্তনামূলক লেখাটা ভাল হইছে।
ধন্যবাদ মাসুম ভাই। কী আর করুম কন...গরমে জান যায় যায় অবস্থা। আর জানেনই তো অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা।বিদ্যুত যখন থাকেনা তখন এইসব ভাইব্যাই নিজেরে স্বান্তনা দিছি আর পরে লেইখ্যা ফালাইছি....হাহাহাহাহা
আপনারা "বিদ্যুত না থাকিবার ফজিলত সমূহ" নিয়া সন্দিহান হইতে পারেন!!
মানুষের ঈমানের জোর কমে গেছে আজকাল
রম্যরচনাটি রম্য হইয়াছে । আরও অনেক কিছুই তো আমাদের থাকে না । সেই সব না-থাকা বিষয়াদি লইয়া তানভীর যদি আরও গবেষণা করিতেন এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রকাশিত হইত তাহা হইলে দেশের ম্যাংগো পাবলিক উপকৃত হইত । তবে ইহার পরের গবেষণাপত্রটির বাক্যগুলি ক্ষুদ্রাকৃতির হইলে পড়িতে ও বুঝিতে সকলের জন্য সহজ হইবে ।
মন্তব্য করুন