উইকিলিক্স প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান আসাঞ্জকে সালাম জানাই।
উইকিলিক্স প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান আসাঞ্জ। গত কদিন ধরে তার খবরা খররের উপর নজর রাখছিলাম। নানা ধরনের নিউজ পড়ছিলাম। জুলিয়ান আসাঞ্জ’র নানা টাইপের ছবি দেখছিলাম। সারা দুনিয়া থেকে নানা মানুষ তার কাছে টাকা পাঠাছিল বলে তার অনেক ব্যাংক একাউন্টও বন্দ করা হয়েছে। গতকাল ইন্টারপোল অবশেষে সমঝোতার ভিত্তিতে (!) তাকে আদালতে নিল। ইংল্যান্ডের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ২০ হাজার পাউন্ডের বদলে তার জামিন চেয়েছিল। আদালত তাকে জামিন না দিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড দিল। সুইডেনে তার বিরুদ্দে দুই নারী অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ নামা পড়ে আমার হাসি পেয়েছিল। জুলিয়ান আসাঞ্জ শুধু চেষ্টা করেছিলেন মাত্র! জুলিয়ান আসাঞ্জ’র বিরুদ্দে আসলে এটা ফালতু অভিযোগ বলে মনে হয় কিন্তু ওরা এটাই সত্য বলেই প্রমান করে ফেলবে হয়ত। এই সাহসী বীরের জন্য আমার হ্রদয়ে একটা মায়া জমে গেছে।
আমি আশাকরি জুলিয়ান আসাঞ্জ খুব তাড়াতাড়ি মুক্তি পাবেন এবং স্যুটটাই পরা আরো অনেক লোক/দেশ কে উলঙ্গ করে ফেলবেন। এদের আসলে উলঙ্গ না করলে আর চলছে না। অনেক দেশের লোক/সরকার উপরে ফিটফাট, ভিতরে বসিয়েছে গরুর হাট। আমরা বন্ধু’র মাধ্যমে আমি তাকে সালাম জানাই। জুলিয়ান আবারো আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝালেন - সত্য কখনো মরে না। জুলিয়ান আসাঞ্জ, তোমার জন্য শুভ কামনা। তুমি সত্যিই আমাদের বন্ধু।

১। জুলিয়ান আসাঞ্জ

২। সুপার টেকনিক্যাল

৩। টার্গেট অন

৪। কাম অন, লেট সুট!

৫। ওয়েট, অন্যদের ধরে আনি

৬। ফায়ার

৭। সোমালিয়া
(ভাল লিখতে পারলে তাকে নিয়ে একটা বই লিখে ফেলতাম)





১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট জাপানের নাগাসাকিতে দ্বিতীয় অ্যাটম বোমাটি পড়ার পর সম্ভবত এতো বড় বিস্ফোরণ দেখেনি বিশ্ব। ছয় জনের একটি টিম গত কয়েক মাস যাবত ফাটিয়ে চলেছেন এই তথ্যবোমা। গোটা পৃথিবীতে মার্কিন দূতাবাসগুলোতে চলছে ব্যাপক রদবদল। এমনকি খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং সেক্রেটারি অফ স্টেট হিলারি ক্লিনটনের ‘পদত্যাগ করা উচিৎ’ এমন সব অন্যায় আচরণ প্রকাশ করে দিয়েছেন যিনি, তার নাম- জুলিয়ান অ্যাস্যাঞ্জ, আর তার মাধ্যমটির নাম উইকিলিকস।
যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদ সাময়িকী টাইম এ বছরের পার্সন অফ দ্য ইয়ার-এর শর্ট লিস্টে রেখেছে তাঁকে। কেবল ২০১০ সাল নয়, তিনি হয়ে উঠতে পারেন এক দশকের সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র।
কে এই জুলিয়ান অ্যাস্যাঞ্জ
উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতার পুরো নাম জুলিয়ান পল অ্যাস্যাঞ্জ। জন্ম অস্ট্রেলিয়ায়। তাঁর শৈশব কেটেছে সংগ্রাম করে। ১৩ বছর বয়সে মায়ের কাছ থেকে প্রথম কম্পিউটার উপহার পেয়েছিলেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি বাবা হন। একটু বড় হবার পর শুরু করেন কম্পিউটার হ্যাকিং। তার সম্পর্কে বলা হয় তিনি এক সময়ের অন্যতম সেরা হ্যাকারও ছিলেন। পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছেন অ্যাস্যাঞ্জ। ১৯৯৫ সালে তার বিরুদ্ধে কমপক্ষে ২৫টি হ্যাকিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছিল। সে সময় অল্পের জন্য হাজতবাস থেকে বেঁচে যান জুলিয়ান। গোপনীয়তা রক্ষার্থে খুব অল্প সময়েই বদলে যায় তার মোবাইল ফোন নম্বর আর বাসস্থানের ঠিকানা।
অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ গোপন কূটনৈতিক নথি ফাঁস করে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলা কম্পিউটার হ্যাকার জুলিয়ানকে তার মা ক্রিস্টিন অ্যাস্যাঞ্জে নিজের ছেলেকে দোষী ভাবতে নারাজ। নিজেকে সাংবাদিক, প্রকাশক ও উদ্ভাবক মনে করেন অ্যাস্যাঞ্জ। তিনি বলেন, ‘আমি এমন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছি যা গণমাধ্যমের ওপর সেন্সরশিপ সমস্যার সমাধান করবে।’
যেভাবে কাজ করে উইকিলিকস
গোটা বিশ্বের স্বেচ্ছাসেবীদের বানানো অনলাইন এনসাইক্লেপিডিয়ার নাম উইকিপিডিয়া। একই পথ ধরে গোটা বিশ্বের স্বেচ্ছাসেবীদের দেয়া গোপন তথ্যের ভাণ্ডারটির নাম দেয়া হয় উইকিলিকস। এর ওয়েবসাইটটিও উইকিপিডিয়া আদলেই তৈরি।
উইকিলিকসে কাজ করেন ছয়জন পূর্ণকালীন
স্বেচ্ছাসেবী। ওয়েবসাইটটির রয়েছে প্রায় এক হাজার এনক্রিপশন বিশেষজ্ঞ। অ্যাসাঞ্জ বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের রক্ষা করার তাড়নাই তাঁর প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। তাঁর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘সরকারের স্বচ্ছতা দুর্নীতি হ্রাস করে’। গোপনীয় নথি জোগাড় করার উৎসের সন্ধান হিসেবে উইকিলিকস জানিয়েছে, কিছু সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তাই এ কাজে তাদেরকে সাহায্য করছেন।
অলাভজনক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘উইকিলিকস'। সূত্র উল্লেখ না করে গোপন তথ্য প্রকাশ করাই এর কাজ। তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে জবাবদিহিতাকে শক্তিশালী এবং সরকারের কাজে স্বচ্ছতা আনার লক্ষে ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে সাইটটি। ৪০ জন দক্ষ স্বেচ্ছাসেবী এবং প্রায় ৮শ কর্মী উইকিলিকসের যাবতীয় কাজ করছে। ৫ ডিসেম্বর রোববার সর্বশেষ তথ্য ফাঁসের ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে আত্মপক্ষ সমর্থন করে জুলিয়ান বলেন, ‘মার্কিন সেনাবাহিনীর জবাবদিহিতা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। কিন্তু সৌভাগ্যবশত সেখানেও কিছু ভালো লোক রয়েছেন, যারা চান তথ্য অন্য কোনো উপায়ে প্রকাশ পাক এবং সেজন্য তারা আমাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সন্দেহ করছে, সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ব্র্যাডলি ম্যানিং রয়েছেন এর পেছনে। বলা হচ্ছে, বিখ্যাত গায়িকা লেডি গাগার সিডি থেকে গান মুছে সেখানে গোপন বার্তাগুলো তুলে নেন ওই সেনা। আর সেগুলোই পৌঁছে যায় উইকিলিকসের ভাণ্ডারে।
পাল্টা হামালার শিকার উইকিলিকস
উইকিলিকসে তথ্য ফাঁসের ঘটনার পরপরই তাদের ওয়েবসাইট অ্যাকসেস করা ঠেকানোর মরিয়া চেষ্টা হয়। উইকিলিকস কর্তৃপক্ষ বলেছে, তাদের সাইট থেমে থেমে সমস্যার মধ্যে পড়েছে। একটি সমস্যা তৈরি করা হয় পরিকল্পিতভাবে একত্রে অগণিত হিট করার মাধ্যমে। এতে সাইটটি দেখা সাময়িকভা বে অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর স্পর্শকাতর কূটনৈতিক নথি দেখার ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর অধিকার সীমিত করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। একের পর এক মার্কিন সরকারি অফিসে বন্ধ করা হয়েছে এ সাইটটি দেখার সুযোগ।
৭ নভেম্বর যুক্তরাজ্যে ধরা দিয়েছেন জুলিয়ান অ্যাসেঞ্জ। আগে থেকেই দর কষাকষির মাধ্যমে কেবল সুইডেনে জারি হওয়া যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাজ্য। এর সঙ্গে তথ্য বোমার কোনো সম্পর্ক নেই বলেই জানা গেছে।
এর আগে ওয়েব সার্ভার অ্যামাজন থেকে উইকিলিকসের ডোমেইন ব্লক করে দেয়া হয়েছিল। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে গোপন তথ্য ফাঁস করে দেওয়া সাইটটি। কিন্তু মাত্র ছয় ঘন্টার মধ্যেই সুইজারল্যান্ডের ওয়েব ঠিকানা থেকে নতুনভাবে আবারও আত্মপ্রকাশ করে সাইটটি। বন্ধ করে দেয়া হয় সেই সাইটটিও। এর পরে নেদারল্যান্ড থেকে আবারো চালু করা হয় সাইটটি।
অ্যামাজন তাদের ওয়েব সার্ভার থেকে উইকিলিকসের অ্যাক্সেস বন্ধ করেছিলো ২ ডিসেম্বর বৃহষ্পতিবার। যুক্তরাষ্ট্রের চাপেই অ্যামাজন উইকিলিকসের সাইট বন্ধ করেছিলো এমন অভিযোগ নাকচ করেছিলো অ্যামাজন। ক্রমাগত হ্যাকিংয়ের শিকার হচ্ছে অ্যামাজন এবং উইকিলিকস যেন ব্যবহার করা না যায় এজন্য ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অফ সার্ভিস (ডিডিওএস) আক্রমণের কথা অস্বীকার করেছিলো প্রতিষ্ঠানটি। অ্যামাজন জানিয়েছিল, উইকিলিকস শর্ত না মানার কারণেই তারা বন্ধ সাইটটি বন্ধ করে দেয়।
পাল্টা হুমকি দিয়েছে উইকিলিকস
বিভিন্ন দেশের গুমর ফাঁস করলেও অ্যাস্যাঞ্জ নিজে রয়েছেন মারাত্মক হুমকির মুখে। গ্রেপ্তারের মুখে থাকলেও উইকিলিকসের সাইটে বিভিন্ন সময় ফেটেই চলেছে তথ্যবোমা। সেখানে লেখা রয়েছে যতোই আঘাত আসুক আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে উইকিলিকস। অ্যামাজন থেকে সার্ভার বন্ধ হলেও ভিন্ন তিনটি দেশ থেকে নতুন করে সাইটটির নথি প্রকাশ হচ্ছে। অ্যাস্যাঞ্জও হুমকি দিয়েছেন তাকে গুপ্তহত্যা করা হলে আরো স্পর্শকাতর নথি প্রকাশ পাবে । ইকুয়েডরের মতো দেশ আস্যাঞ্জকে নিরাপত্তা দিতে এবং নাগরিকত্ব দিতে রাজি হয়েছে। রাশিয়াকে মাফিয়া রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করা, যুক্তরাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি, পাকিস্তানের ওপর সৌদি প্রভাব, ভারতীয় নেতাকে হত্যা চেষ্টা এমনকি বাংলাদেশে হিজবুত তাহরীরের কার্যক্রম চলছে এমনও তথ্য উইকিলিকসের কাছে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান কি বলে
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিতে উল্লেখ আছে, মার্কিন দূতাবাসের কূটনীতিকদের নির্ভয়ে ওয়াশিংটনে সাদাসিধে ভাষায় এ ধরনের বার্তা পাঠাতে পারা উচিত। হিন্দুস্তান টাইমস এর বরাতে জানা গেছে, জুলিয়ানকে শাস্তি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বড় বাধা তাদের সংবিধান। সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে বাক স্বাধীনতা রক্ষার ধারা যুক্ত করা হয়, যার মূল বক্তব্য হলো, যে কোনো সরকারি তথ্য জনগণের সম্পত্তি। যে কেউ এ তথ্য পেতে পারে। আর এতেই বেঁধেছে বিপত্তি। ফলে সংবিধান অনুসারে জুলিয়ানকে আটক করতে বেগ পেতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। তাই কোনো না কোন উপায় খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের আইনজীবীরা এখন দিনরাত সংবিধান, বিধি, ধারা ইত্যাদি হাতড়ে বেড়াচ্ছেন। আইনের ফাঁক খুঁজে জুলিয়ানকে ধরা হবে এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এটর্নি জেনারেল এরিক হোন্ডার।
তথ্য ফাঁসে বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আড়াই লাখেরও বেশি গোপন নথি প্রকাশ শুরু করার পর থেকে সে দেশের কূটনীতিকদের জটিল পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে উইকিলিকস। উইকিলিকসের একটি লিংকে জানানো হয়েছে, সেক্রেটারি অফ স্টেট (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) হিলারি ক্লিনটন জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের টেলিফোন ও ই-মেইল নম্বর এবং ক্রেডিট কার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য (অন্যায়ভাবে) জানতে চেয়েছেন। এর ফলে হিলারীর পদত্যাগের দাবীও উঠেছে। উইকিলিকসের নথির তথ্যমতে, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বিদেশে সব মার্কিন মিশনকে ওই সব দেশের এমন সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার তালিকা তৈরির নির্দেশ দেয়, যেসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। এই তালিকায় তেলের পাইপলাইন, যোগাযোগ ও পরিবহনবিষয়ক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। রয়েছে যুক্তরাজ্যের কিছু কেবল লোকেশন ও স্যাটেলাইট সাইট এবং টিকা তৈরি ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিএই সিস্টেমসের নাম। তালিকায় জিবুতির জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সব লেন এবং মিসরের সুয়েজ খালের জাহাজ টার্মিনাল ও ইরাকের বসরার তেলের টার্মিনালের নাম রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নাম। অ্যাস্যাঞ্জ জানিয়েছেন, জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন কূটনীতিকদের গোয়েন্দাগিরির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অনুমোদনের বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাঁরও পদত্যাগ করা উচিত। গত রোববার ৫ ডিসেম্বর স্প্যানিশ পত্রিকা এল পাই-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
এখানেই শেষ নয়
উইকিলিকস-এর অন্যতম সমর্থক পত্রিকা বৃটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের অনলাইন সংস্করণে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে অ্যাস্যাঞ্জ জানিয়েছিলেন, ‘জীবনের হুমকির বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা আগে থেকেই এমন ব্যবস্থা নিয়েছি, যাতে যে কোনো পরাশক্তির বিরুদ্ধেও আত্মরক্ষার চেষ্টা করা যায়।’ অ্যাস্যাঞ্জ বা উইকিলিকসের কর্মীদের হত্যা বা গ্রেপ্তার করা হলে তাদের প্রকাশ করা কূটনৈতিক নথির কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছেন, ‘কেবলগেট আর্কাইভের এসব নথি এখন আর উইকিলিকসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ‘এনক্রিপটেড’ অবস্থায় এসব তথ্য এরই মধ্যে এক লাখ লোকের কাছে পৌঁছে গেছে। আমরা না থাকলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকাশিত হতে থাকবে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘এমন ব্যবস্থা নেয়া আছে যাতে আমাকে মেরে ফেললে বা এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা উইকিলিকসের বিরুদ্ধে নেয়া হলে আরও এক লাখ ‘গোপনতম’ ফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবেই প্রকাশিত হয়ে পড়বে’।
ঠেকানোর নানা উপায় : সবার আগে বন্ধ আর্থিক ক্ষমতা
সুইজারল্যান্ডের পোস্ট অফিস ব্যাংক ও পোস্ট ফিন্যান্স ৬ ডিসেম্বর অ্যাস্যাঞ্জের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। এর ফলে তাঁর ৩১ হাজার ইউরোর সমপরিমাণ সম্পদ জব্দ হয়েছে। এছাড়াও পেপল অ্যাকাউন্ট থেকে উইকিলিকসের যাবতীয় লেনদেনও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
সমালোচনার উর্ব্ধে নন অ্যাস্যাঞ্জ
অ্যাস্যাঞ্জের সাংবাদিক পরিচয় নিয়ে বেশ সন্দেহই রয়েছে বিশেষজ্ঞদেও ভেতরে। উইকিলিকসের মুখপাত্র শুধু তিনি নিজে। আর যাঁরা কাজ করছেন তাঁদের দায়বদ্ধতার বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ওয়েবসাইটটিতে যেসব নথিপত্র প্রকাশ করা হয়, তা সব সময় হুবহু প্রকাশ করা হয় না। ২০০৭ সালে বাগদাদে মার্কিন হেলিকপ্টার হামলায় প্রাণহানির যে ভিডিওচিত্রটি প্রকাশিত হয়েছিল তা ছিল কিছুটা সম্পাদিত। হেলিকপ্টার থেকে যাদের ওপর হামলা চালানো হয় তাদের একজনের হাতে ছিল রকেটচালিত গ্রেনেড লঞ্চার। উইকিলিকসে প্রকাশিত চিত্রে ওই লোকের ছবি বাদ দেওয়া হয়। অনেকেই অ্যাস্যাঞ্জের কাজের পদ্ধতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। রিপোর্টার্স কমিটি ফর ফ্রিডম অফ দ্য প্রেসের নির্বাহী পরিচালক লুসি ডালগ্লিশ বলেছেন, ‘এটা সাংবাদিকতা নয়, এটা হচ্ছে তথ্য বিতরণ।’ অ্যাস্যাঞ্জও জবাব দিয়েছেন এর। তাঁর মতে, ‘আমি সাংবাদিক কি-না তাতে কী আসে যায়, এগুলো এমন সব তথ্য যা জানার অধিকার সবার রয়েছে’।
গ্রেপ্তার অ্যাসেঞ্জ, তার পর কী?
টাইমস অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ৭ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ব্রিটিশ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করার কথা জানিয়েছিলেন অ্যাস্যাঞ্জ। তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছিলেন সুইডেনের দুই নারী। তবে, বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। সুইডেনের দুই নারীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অ্যাস্যাঞ্জের বিরুদ্ধে ১৯ নভেম্বর (তথ্য প্রকাশিত হবার পরপর) সুইডেনে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ‘ইন্টারপোল' অ্যাস্যাঞ্জকে ধরিয়ে দিতে সহযোগিতা চেয়ে রেড অ্যালার্ট জারি করে। অভিযোগ বিষয়ে অ্যাস্যাঞ্জের বক্তব্য, উইকিলিকসের তৎপরতা বন্ধের জন্য পশ্চিমারা তাকে ফাঁসিয়েছে। এদিকে, যৌন নির্যাতনের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি পাননি জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। সুইডেনের উচ্চ আদালত বৃহস্পতিবার তার আপিলের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে।
যাইহোক এখন প্রশ্ন হচ্ছে- বিভিন্ন দেশের সরকারের তথাকথিত ‘গোপন’ তথ্য এবং সাধারণ লোকের তথ্য জানার তথাকথিত অধিকার- এ দুইয়ের মধ্যে কে জিতবে?
টুটুল ভাইয়ের জন্য দোয়া করি। আগামীতে তিনি যেন আরো একটি সন্তানের পিতা হতে পারেন।
উইকিলিক্স কিছু জানাইছে এ ব্যাপারে ???
টুটুল ভাইর জন্য সাহাদাত ভাইর উপহারের শেষ নাই।
টুটুল ভাই'রে উত্তম জাঝা।
(আপনি ইদানীং খালি জাঝা মন্তব্য করছেন। বিষয়টা কি? @টুটুল ভাই)
আপ্নি আমার পেছনে লাগছেন ক্যান?
সত্যি আমি কোন দোষ্করিনাই
জুলিয়ান আমাদের বন্ধু কেমন করে ??? আমেরিকারে উলঙ্গ করলে আমাদের কি ভাই?
ঐ আদার ব্যাপারীর জাহাজের খবরের মতন।
এই ক্ষুদ্র দেশের তুচ্ছ নাগরিক , আমেরিকার সাদা বাড়ীতে কি হলো , পেন্টাগন কারে কি করলো - এই খবর দিয়ে আমাদের কি লাভ ???
সাঈদ ভাই, সোমালিয়ার ওই বালকটির মত আপনাকেও আগুনে ঝলসাতে হবে! হা হা হা ।। বিবাহ সাদী করেন তাহলে বুঝবেন!! বিবাহের আগে আঁতেল সেজে থাকা যায়!
সাইদ ভাই, আপনাকে আমি বুঝি।
সাঈদ ভাই,
আপনার মন্তব্য আমাকে ভাবিয়ে তুলল। আমার মনে হয় প্রশ্নটা শুধু লাভের অঙ্ক নিয়ে না।
তথ্যের অধিকার মানুষের জন্মগত। খাদ্য, বস্ত্রের মতই তা মৌলিক। রাস্ট্রের গোপনীয়তার ব্যাপারটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অজুহাত (যে অজুহাতে ইন্টারনেট সংযোগ পেতে বাংলাদেশের মানুষের দেরী হয়)। এই অধিকার আদায়ের সৈনিকেরা মানুষের বন্ধু হবে - এটাই স্বাভাবিক।
সাদা বাড়ির কর্মকান্ড কিন্তু কেবল আমেরিকাকে ঘিরে তা কিন্তু না। externality -র ব্যাপারটা ভুলে গেলে চলবে না। সাদা বাড়ির মেম্বরদের রাজনৈতিক দর্শন, বিশষ করে ফরেইন পলিসি বিশ্বকে ভাবায় বইকি ! কার সাথে কার আঁতাত হল তা জানা থাকলে আদার ব্যাপারী কার দরজ়ায় কি বেচতে হবে সে সম্পর্কে একটা ধারণা পায়।
" গঙ্গায় একটুকরো পাথর ফেললে তার চাপও বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে।" - ড আইনুন নিশাত
জুলিয়ান আসাঞ্জরে গুরু কইলেন। সালামও দিলেন। এখন কি মগবাজার নিবেন?
মগবাজার ওভার ব্রীজে নিয়ে সালাম করতে পারলে মনে শান্তি পেতাম। সাক্ষী হিসাবে যদি আপনাদের পাই।
টুটুল ভাই, গুড জব ম্যান। হ্যাটস অফ
সাইদ সাহেবদের এইসব খবরে দরকার নাই, তারা রইস আদমী। কিন্তু বড়লুকেরা কি করে না জানলে গরীবেরা খাইপে ক্যামনে?
টুটুল ভাই আপনি একটা আলাদা পোষ্ট দিতে পারতেন কিন্তু
সিস্টার তানবীরা, মাসুম ভাইও একটা আলাদা পোষ্ট দিতে পারতেন।
দেখা যাক কোথাকার পানি কোথায় গড়ায়।
সংবাদপত্র প্রায়ই পড়া হয়ে ওঠে না, বেশীরভাগ সময়ই শুধু দেখা হয় । কয়েকদিন যাবৎ জুলিয়ান আসাঞ্জকে নিয়ে খবর ছাপা হচ্ছে দেখে আসছি । আজ সকালে প্রথমবারের মত বিস্তারিত পড়লাম । স্তম্ভিত হলাম এবং জুলিয়ান আসাঞ্জের জন্য অন্তরে ভালবাসা অনুভব করলাম । আজ বৃষ্টিস্নাত পড়ন্ত বিকেলে সাহাদাত উদরাজীর পোস্ট আর টুটুলের মন্তব্য পড়ে মুগ্ধ হলাম । বিভিন্ন দেশের সরকারের 'তথাকথিত গোপন তথ্য' এবং সাধারণ লোকের 'তথ্য জানার অধিকার'- এ দুইয়ের মধ্যে যে ব্যাপক ব্যবধান সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে তার নিরসন চায় সকলেই । কিন্তু আন্তরিকতার সাথে চায় কয়জন তা বোধ করি এবার ফয়সালা হতে পারে ।
আবার একটু ঘুরিয়ে চিন্তা করলে সাঈদের মন্তব্যকে কিন্তু একেবারে অবহেলায় ঠেলে ফেলে দেওয়া যায় না । সতিই তো যাদের পেটে খাবার নাই, মাথা গুজবার ঠাঁই নাই, বিপদ ভিন্ন অন্য কোন বন্ধু নাই তাদের তথ্য জানা-না-জানায় কি যায় আসে ?
কত কথা বলেরে।
উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে দুই সুইডিশ নারীর যৌন নিপীড়নের মামলার বিষয়টি এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার শীর্ষে। এ মামলার কারণেই মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় এবং সর্বশেষ গত মঙ্গলবার তিনি গ্রেপ্তারও হন। অনেকেই অভিযোগ করছেন, গোপন নথি প্রকাশের প্রতিশোধ নিতে 'ক্ষুব্ধ' যুক্তরাষ্ট্রই অ্যাসাঞ্জকে গ্রেপ্তার করিয়েছে।
তবে সুইডেন বলছে, কারো চাপে নয়, নিজেদের আইনকে সমুন্নত রাখতেই অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছে তারা। নারী অধিকারের জন্য সুপরিচিত দেশটিতে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নবিষয়ক আইনের পরিধি অনেক বড়। যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে পান থেকে চুন খসলেই নিপীড়নের অভিযোগ করার অধিকার আছে সুইডিশ নারীদের। অভিযোগকারী দুই নারীর মামলার বিবরণে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠে এসেছে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বেশির ভাগ দেশেই তা অপরাধ বলে গণ্য হয় না। পাঠকদের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন অভিযোগের বর্ণনা তুলে ধরা হলো।
অভিযোগের বিবরণ: ব্রাদারহুড মুভমেন্ট নামে একটি সংগঠনের আয়োজনে 'যুদ্ধ ও গণমাধ্যমের ভূমিকা' শীর্ষক সেমিনারে যোগ দিতে গত আগস্টে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম যান অ্যাসাঞ্জ। এ সংগঠনের পক্ষে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্ব ছিল 'সারাহ' (কাল্পনিক নাম, সুইডেন অভিযোগকারী নারীর নাম প্রকাশ করে না) নামে এক নারীর। তিনি দেশটিতে নারীবাদী নেত্রী হিসেবে পরিচিত। সারাহ সরাসরি কখনো অ্যাসাঞ্জকে না দেখলেও ফোন ও ইন্টারনেটে আলাপের মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সময় সারাহ স্টকহোমে অবস্থানের সময় তাঁর ফ্ল্যাটে থাকার প্রস্তাব দেন অ্যাসাঞ্জকে। এতে রাজি হয়ে ১১ আগস্ট সুইডেনে পেঁৗছেই সারাহর ফ্ল্যাটে ওঠেন উইকিলিকস সম্পাদক। ওইদিন রাতেই দুজনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। একপর্যায়ে অ্যাসাঞ্জের ব্যবহৃত কনডমটি ছিঁড়ে যায় এবং তিনি কনডম ছাড়াই যৌনক্রিয়া শেষ করেন।
পরের দিন সকালে অ্যাসাঞ্জ যথারীতি সেমিনারে যোগ দেন। সেখানে 'জেসিকা' (কাল্পনিক নাম) নামে এক ভক্ত তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। এই নারী স্টকহোম থেকে ৪৫ মাইল দূরের এনকোপিং নামের মফস্বল শহরে থাকেন। জেসিকা পুলিশকে বলেছেন, 'টিভিতে দেখে ও পত্রপত্রিকায় পড়ে অ্যাসাঞ্জের ব্যক্তিত্বে মোহিত হয়ে যাই। তাঁর স্টকহোমে আসার খবর পেয়ে ওই সেমিনারে যোগ দেওয়ার লোভ সামলাতে পারিনি।' সেমিনার শেষে অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে দেখা করলে তিনি জেসিকাকে দুপুরে একসঙ্গে খাওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে তাঁরা দুজন একত্রে জাদুঘরে যান, সিনেমা দেখেন এবং পার্কে ঘুরতে যান। অ্যাসাঞ্জ ফের যোগাযোগের আশ্বাস দিয়ে জেসিকার কাছ থেকে বিদায় নেন।
অ্যাসাঞ্জ ওইরাতে সারাহর ফ্ল্যাটেই থাকেন এবং পরের দিন সকালে আবার জেসিকার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় জেসিকা তাঁকে এনকোপিংয়ের বাড়িতে রাত কাটানোর প্রস্তাব দেন। জেসিকা বলেন, 'অ্যাসাঞ্জ সিআইএর ভয়ে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে চাননি এবং তাঁর কাছে নগদ টাকাও ছিল না। তাই আমিই ট্রেনের দুটি টিকিট কাটি।' ওই রাতে জেসিকার সঙ্গে দুবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন অ্যাসাঞ্জ। প্রথমবার তিনি কনডম ব্যবহার করেন, দ্বিতীয়বার করেননি। জেসিকা অভিযোগ করেছেন, তিনি অনুরোধ করার পরও কনডম ব্যবহার করতে অস্বীকৃতি জানান অ্যাসাঞ্জ। পরের দিন সকালে জেসিকার টাকায় কেনা টিকিটেই স্টকহোমে ফিরে যান অ্যাসাঞ্জ।
জেসিকা পুলিশের কাছে বলেছেন, অ্যাসাঞ্জ ফিরে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে ভীত হয়ে পড়েন তিনি। অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে না পেরে দুই দিন পর তিনি ব্রাদারহুড মুভমেন্ট কার্যালয়ে ফোন করেন। আর তখনই 'কাকতালীয়ভাবে' সারাহর সঙ্গে তার কথা হয়। জেসিকার কথা শুনে সারাহ অবাক হয়ে যান এবং জানান, তাঁর সঙ্গেও অ্যাসাঞ্জের অনিরাপদ সম্পর্ক হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ দায়েরের জন্য ২০ আগস্ট সারাহ ও জেসিকা একত্রে পুলিশের কাছে যান। সুইডেনের একটি পত্রিকায় সারাহ বলেছেন, 'আমি আসলে নিজে অভিযোগ জানাতে যাইনি। একজন নারীনেত্রী হিসেবে আমি কেবল জেসিকাকে সহায়তা করতে চেয়েছিলাম। আর তাঁর অভিযোগকে জোরালো করার জন্যই আমার ঘটনাও পুলিশকে জানাই।' সারাহ বলেন, 'আমাদের দুজনের ক্ষেত্রেই সম্মতির ভিত্তিতে সম্পর্ক শুরু হয়। কিন্তু পরে তা নিপীড়নের পর্যায়ে চলে যায়।'
শুরুতে পুলিশ ধর্ষণের এ অভিযোগ গ্রহণ করেনি। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টিকে মামলা হিসেবে গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। সুইডেনের প্রধান সরকারি কেঁৗসুলি ম্যারিয়ান নি বলেন, 'আমাদের আইন অনুসারে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কনডমবিহীন সম্পর্কের বিষয়টি ধর্ষণ এবং কনডম ছিঁড়ে যাওয়ার বিষয়টি জানার পর তা পরিবর্তন না করলে যৌন নিপীড়নের আওতায় পড়ে।' দেশটিতে অপরাধের ওপর ভিত্তি করে ধর্ষণের তিনটি মাত্রা রয়েছে। অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি সবচেয়ে নিম্ন মাত্রার ধর্ষণ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ চার বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
অ্যাসাঞ্জ শুরু থেকেই ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতেই স্টকহোমে তিনি যৌন সম্পর্ক গড়েছেন। লন্ডনে তাঁর আইনজীবী মার্ক স্টিফেন্স এ অভিযোগকে 'অভূতপূর্ব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, "বিশ্বে প্রতিদিন এমন হাজার হাজার 'নিপীড়নের' ঘটনা ঘটে। তাদের বিরুদ্ধে কিন্তু আন্তর্জাতিক পরোয়ানা জারি হয় না।" স্টিফেন্স দাবি করেছেন, সুইডিশ আইন সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই এমন নিপীড়নের ভুল করেছেন অ্যাসাঞ্জ। সুইডেনের একজন আইনজীবী বেন্ট হেসেলবার্গ বলেন, 'আমাদের দেশে ধর্ষণের আইন এত জটিল যে, অনেক সময় আমরা পরামর্শ দিয়ে থাকি, প্রতিবার যৌনক্রিয়ার আগে সঙ্গীর লিখিত সম্মতি নিয়ে নেবেন।' সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, ডেইলি মেইল, দ্য অস্ট্রেলিয়ান।
মাসুম ভাইকে অতি উত্তম জাঝা।
প্রথমে ধরেই নিয়েছিলাম ধর্ষণ মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগের বর্ণনা পড়ে এ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা তৈরী হলো।
যদিও শুধু এই অভিযোগের ভিত্তিতে এবং এই ঘটনার বিচার করতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এটা মানা যাচ্ছে না। উইকিলিক্স-এর কল্যাণে ক্ষতিগ্রস্থদের হাতে মোক্ষম অস্ত্র অ্যাসাঞ্জ নিজেই তুলে দিয়েছেন।
দেখা যাক শেষতক কি হয়।
কত কিছু জানিনা ! ধন্যবাদ আপনাকে, না-জানা তথ্য অত্যন্ত সুন্দর ও প্রাঞ্জল ভাষায় অবগত করার জন্য ।
মাসুম ভাই, টুটুল ভাইয়ের জন্য যে দোয়া করেছিলাম তা আপনার জন্য করা ঠিক হবে না বলে জানি। আপনার জন্য আমাদের এখানের চার প্লেট খিচুড়ি আলাদা করে রাখা হল। যখন ইচ্ছা ভাবী/ ভাতিজিদের নিয়ে চলে আসুন।
অফারের জন্য ধন্যবাদ । তবে এখন না । যখন ঝিরিঝিরি বিষ্টি হবে তখন, ঠিক আছে ?
উদরাজী,শওকত মাসুম এবং টুটুল-আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ হালের বহুল আলোচিত এই বিষয়টির ওপর তথ্যবহুল আলোকপাত করার জন্য।
আবার একটু ঘুরিয়ে চিন্তা করলে সাঈদের মন্তব্যকে কিন্তু একেবারে অবহেলায় ঠেলে ফেলে দেওয়া যায় না । সতিই তো যাদের পেটে খাবার নাই, মাথা গুজবার ঠাঁই নাই, বিপদ ভিন্ন অন্য কোন বন্ধু নাই তাদের তথ্য জানা-না-জানায় কি যায় আসে ?
ঈশান, টুটুল ভাই এবং মাসুম ভাই বিষয়টা আমাদের একদম 'ফকফকা' করে দিলেন। দেখা যাক কার কোপালে কি আছে! তবে এসব ঘটনা থেকে আমাদের অনেক শিক্ষার আছে!! সরকার প্রধান হিসাবে যে কোন সিদান্ত নেয়া যাবে না! এবং আমরা সাধারন, অসাধারন যে কোন বাড়িতে দাওয়াত খেতে পারি না!!!
অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সুইডেনের রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী হওয়া ভালো। আর মনে হয় অ্যাসাঞ্জ অবশ্যই সুইডেনের নারী নির্যাতন আইনের ফাঁক ফোকর সম্পর্কে জেনে থাকবেন। মামলা পরবর্তী সময়ে বিশ্ব ব্যাপী পরোয়ানা জারি দিয়েই বুঝা যায় এটা একটি টোপ। জুলিয়ান এ দু'নারীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক করেছে, এটাকে পুঁজি করেই হয়রানি করা হচ্ছে। দেখি বিষয়টি প্রমাণ করতে সুইডিশ বিচার বিভাগকে কি পরিমান বেগ পেতে হয়।
তবে সুন্দর লাগছে এই ভেবে যে, অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে নৈতিক কোন অভিযোগ অন্তত আনতে পারেন সাম্রাজ্যবাদীরা।
অ্যাসাঞ্জ যে কার্যক্রম শুরু করে দিলেন, নিশ্চয় এর ধারাবাহিক উন্নতি হবে। উত্তরসূরীরা আরো সুচারুরূপে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।
ওপেনসোর্স গ্রহ চাই। স্বচ্ছ মানুষ চাই।
আসান্জকে গ্রেফতার করা হয়েছে ব্রিটেন থেকে -- রেপ আর যৌন হয়রানীর অভিযোগে --
ইন্টারপোলের রেড এলার্ট জাড়ি করা হয়েছে - একজন রেপিষ্ট ধরার জন্য!!! আর সবচে মজার ব্যাপার হলো -- যে মেয়ে সাথে সেক্স হয়েছে সেটা সম্মতি ক্রমে ছিলো। আসান্জের দোষ হলো - মেয়েটা তাকে থামতে বল্লেও থামে নি। এবং মেয়েটা নাকি আগেই টের পেয়েছে কন্ডম ছিড়ে গেছে - সেক্স চলাকালীন সময়েই (?!)। যৌনহয়রানীর আইনকানুনের এহেন প্রয়োগ পুরুষ প্রজাতির জন্যও একটা সতর্কবার্তা। প্রসংগ ক্রমে বলা যায় -- আসান্জের ডানকানে কম শোনে ছোট বেলা আঘাত পাওয়ার কারণে। আর তারচে বড়ো ব্যাপার হচ্ছে - এই মেয়েটি ইউএস মিলিটারী এক উচ্চপদস্থ অবসর প্রাপ্ত জেনারেলের মেয়ে। এবং সে সুইডেনের আমেরিকান কনস্যুলেটে কাজ করে। সুতরাং সহজেই বোঝা যায় রেপ আর যৌন হয়রানী অভিযোগটা কতটুকো ঠুনকো।
আসান্জের মতো মানুষেরা কালে কালে মৃত্যুভয়-ক্ষতিভয়কে জয় করে মানুষের পাশে দাড়ায় বলেই মাফিয়া রাষ্ট্রের চক্ষুশূল হয়ে উঠে এরা।
লেখকঃ আরণ্যক (তার পুরা পরিচয় আমার জানা নেই) অন্য একটি ব্লগে তার এ বিষয়ে লেখা পড়ে ভাল লেগেছে। খাঁটি একটা বিশ্লেষণ করেছেন তিনি - ক্রীতদাসদের মালিকদের তৈরী মাফিয়া রাষ্ট্র, একজন "ভালো" গডফাদার এবং উইকিলিক্স্ )।
লেখকের অনুমতির অপেক্ষায় আছি, অনুমতি দিলে পুরাটা উঠিয়ে দেয়া যেতে পারে।
এইটা একটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এভাবে শক্তশালী রাষ্ট্রগুলোর গোমর ফাঁস হতে থাকলে পৃথিবীর চেহারা অবশ্যই পাল্টে যাবে।
অ.ট: জুলিয়ান নামের মানুষগুলা সবসময় বাধা-বিঘ্নের মধ্য দিয়া তার কার্যক্রম চালাইতে বাধ্য হয়। তাই আমিও মনে হয় এ কারণেই বেশিরভাগ সময় চিপায় পইড়া থাকি। মানে মানুষের চোখ জ্বলনের কারণ হই। নামটা কি পাল্টামু?
আরো আমাগো জুলিয়ান ভাই। কই গেলেন আপনি! নাম পাল্টাবেন ক্যান। আমরা আছি না আপনার লগে!
তথ্য চুরি করেছে আমেরিকান ব্র্যাডলি ম্যানিং, অ্যাসাঞ্জ শুধু এগুলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। আমার মনে হয় চলমান ইনফরমেশন এজ (তথ্য যুগ?) কে দুভাগে ভাগ করেছেন অ্যাসাঞ্জ - বিফোর উইকিলিক্স আর আফটার উইকিলিক্স।
উদরাজী ভাই, টুটুল ভাই আর মাসুম ভাইকে অনেক ধন্যবাদ।
চুপচাপ পড়ে গেলাম... অনেক সময় লাগলো...
সময় লাগলো কেন? ফেটে গেছিল?
বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড়তো... সেজন্য সময় লাগলো

টেম্পোরারি ফিলিং এর একটা গল্প আছে, সাক্ষাতে বলবোনে। এইখানে মডুর ভয়ে হাত পা........
পপকর্ন লইয়া আপাতত গ্যালারিতে বইসা আছি। দেখি কি হয়?
তয়, "উইকি" নামওয়ালা সবগুলাই বস বস জিনিসপাতি!!!
মন্তব্য করুন