লাল সবুজের মাঝের হলুদ মানচিত্র

খুব সাধারণ একজন ব্লগার, হয়তো ব্লগার হিসেবে খুব কম মানুষের কাছেই পরিচিত, তবুও আজ মনের কিছু অব্যক্ত কথা আর চেপে রাখতে না পেরে কি-বোর্ড নিয়ে বসে পড়ি।
গত চারদিন, খুব বেশি অনিচ্ছা স্বত্তে অনলাইন থেকে দূরে ছিলাম। না, আমি দূরে ছিলাম না। কৌশলে চোখ রাখছিলাম কিছু পুরোন বন্ধুর উপর। হ্যাঁ। কারণ, তারা বার বার আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার পূর্বে বলছিলো তারা নাকি চায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কিন্তু তা হতে হবে স্বচ্ছ নিরপেক্ষ। আমি তাদের কথায় দ্বিধান্বিত ছিলাম না মোটেই, কিন্তু তাদের জন্য করুণা হচ্ছিলো আমার খুব। কেন? কারণ তারা তাই করছিলো যা তাদের দ্বারা করাতে চাচ্ছে তাদের পরিচালকবৃন্দ তথা জামায়াত-শিবির।
খুব ছোট বেলার এক বন্ধুর সাথে আমার সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে যা এর আগের পোস্টে উল্লেখ করার কারণে কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয় থাকার কারণে জানেন অনেকেই। আজ কি তার কথা বলবো? হ্যাঁ কিছুটা তবে আজ শুধু তার কথায় বলবো না।
সেই ছোট বেলার বন্ধুকে আরেক ছোট বেলার বন্ধু অনেক্ষণ ধরে বোঝানোর চেষ্টা করে অবশেষে আরেক বন্ধুকে বলে, "তাকে আর কেউ বোঝানোর চেষ্টা করে লাভ নেই, তার ব্রেইন ওয়াশ হয়ে গেছে।" এই কথাটা যখন প্রথম আমি সেই বন্ধুদের জানাই তারা আমাকে বলেছিলো, "ধুর তুই কি বলিস, আমরা বুঝিয়ে বললে সে বুঝবে।"
এই গেলো আমাদের একেবারেই ছোট বেলার খুব ঘনিষ্ট সহপাঠির ঘটনা। কি মনে হচ্ছে? খুব ধোঁয়াশে? তাহলে আরেকটু জেনে নেয়ার জন্য পড়তে পারেন এই লিখাটির কিছু অংশ।
মা বলেন, "বাহ! বাপতো খুব খুশী, বাপেও আওয়ামীলীগ করে, এখন ছেলেও।" প্রত্যুত্তরে বাবা বলেন, দেশে ধান্দাবাজি করতে চায়না এবং আমাদের ইতিহাস নিয়ে কিছুটা হলেও জানার চেষ্টা করেছে এমন প্রত্যেকেই আওয়ামীলীগ করে। বাবা যেতে চান না কোন রাজনৈতিক সভা সমাবেশ কিংবা মিটিং মিছিলে। বলেন, আমাকে মেরে ফেলবে। এই ভয় তার ঢুকেছে ১৯৭৫ সালের পর থেকে। তিনি যেদিন নিজে চট্টগ্রামের ছাত্রনেতা থাকা অবস্থায় দেখেছেন কিভাবে ছাত্রলীগ এবং আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের ঘর থেকে খুঁজে বের করে মারা হয়েছে কিংবা জেলে ভরা হয়েছে। দোষ কি ছিলো তাদের? কেউ কি সেসব প্রশ্নের জবাব জানতে চেয়েছেন কখনো? নাহ। আমরাতো প্রশ্ন করাই ভুলে গেছি, কারণ আমাদের প্রশ্ন করার ক্ষমতাকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়া হয়েছে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট।
বাবা বলেন, আব্বু তুমি দেশে আসো। "জয় বাংলা" এর দল এখন ক্ষমতায়। আমি বলি, যেই দেশে এখনো "তোমার নেতা, আমার নেতা; শেখ মুজিব" বলতে মানুষের লজ্জা লাগে সেই দেশে "জয় বাংলা" এর দল ক্ষমতায় আমি বিশ্বাস করি না।
বাবার মুখে শুনেছিলাম, তাদের কমান্ডার ধরা পড়েছিলো পাকিস্তানীদের হাতে। চরম অত্যাচারের মুখে সে যখন পানি খেতে চাইলো তার মুখে পেশাব করে দিয়েছিলো এক পাকিস্তানী সৈন্য। কে ছিলো সেই কমান্ডার? তিনি আর কেউ নন। চট্টগ্রামের প্রাক্তন মেয়র, এ কে এম মহিঊদ্দিন চৌধুরী। আমি তার নিজের মুখেও শুনেছি সেই ঘটনা।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে আজ এত রাজনীতি। চট্টগ্রামে থেকে ঘোষিত হয়েছিলো আমাদের স্বাধীনতা। তাইতো? না। বঙ্গবন্ধুর পর চট্টগ্রামে যখন তার কাছ থেকে মেসেজটি পৌঁছে তখন সবার আগে এই স্বাধীনতার ঘোষণা কবে কোথায় পাঠ করা হয়েছিলো কেউ কি জানে? হ্যাঁ জানেন, তৎকালীন চট্টগ্রাম আওয়ামীলীগের কাউকে জিজ্ঞেস করলেই এর সত্যতা পাওয়া যায়। চট্টগ্রামের বর্তমান শেখ মুজিব রোড, তৎকালীন জিন্নাহ রোড এ অবস্থিত যেই জেক্স শপিং কম্প্লেক্স রয়েছে ঠিক সেই স্থানে একটি ড্রামের উপর দাঁড়িয়ে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন এম এ হান্নান সাহেব। সেই ঘোষণাও ছিলো বঙ্গবন্ধুর পক্ষে।
আজ, আমাদের পরিচিত অনেক বন্ধুকে দেখি এসব নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত। দ্বিধাগ্রস্তদের সংখ্যা কি ১৯৭১ এ খুব কম ছিলো? না, মোটেই নয়। তাদেরকে বাদ দিয়ে, যারা আজ সরাসরি ৭১এর ঘাতকদের পক্ষে নিচ্ছে তাদেরকি আমরা আজ প্রতিহত করছি? নাকি বন্ধুত্বের খাতিরে এখনো তাদের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রেখেছি? আমরা কি আমাদের খুব কাছের মানুষটি যে কিনা বাংলাদেশে আছে জিজ্ঞেস করেছি, "ভাই/বোন, একবার কি শাহবাগ গিয়েছো?" আমরা তার এই কথার জবাবে কি চিনে নিতে পারিনা সে আসলেই কোন পরিবার থেকে এসেছে? আসলেই তাকে তার বাবা/মা কি শিক্ষা দিয়েছে?
যেদিন রাতে ঘুমাতে যাবার পূর্বে এমন কিছু দেখিনা যে, এই প্রজন্মের কেউ ৭১ এর নরঘাতকদের পক্ষে কথা বলছে, তারপর দিন সকালে ঘুম থেকে উঠলে মনে হয়, বাবার বুকে ঘুমিয়েছি সারাটি রাত। আর যেদিন ঘুমাতে যাবার পূর্বে অন্তত একটা হলেও রাজাকারদের পক্ষে কথা বলা মানুষের সন্ধান পাই, সে রাতে বার বার স্বপ্নে সামনে আসে সেই ছেঁড়া পতাকা। আমার সেই লাল সবুজের পতাকা। আর ঘুমের মাঝে এমন অনেক রাতেই উঠে বসে গেছি। কারণ, সেই লাল সবুজের পতাকার মাঝে থাকে আমার সেই হলুদ মানচিত্র।





লাল সবুজের মাঝের হলুদ মানচিত্র টা কে আমরা আগলিয়ে রাখবোই! আর জয় বাংলা স্লোগান কে যেমন শাহবাগ ফিরিয়ে এনেছে ঠিক তেমনি সময়ই আমাদের কে বঙ্গবন্ধুর স্লোগান আমাদের মুখে তুলে দিবে!
চট্টগ্রামের মহিউদ্দিন সম্পর্কে বাজারেতো অনেক কথা ছড়িয়ে আছে... সে নাকি ভোটের জন্য জামাতের সহায়তা নেয়? জানো কিছু?
চট্টগ্রামে জামায়াত-শিবির যদি কাউকে ভয় পেয়ে থাকে তবে সে হলো মহিউদ্দিন চৌধুরী। এই লোক কাউরে কেয়ার করেনা।
মিশু ভাই কি লেখালেখি ছেড়েই দিছেন?
অনেক অনেক দিন পর দেখলাম আপনাকে। ভাল আছেন তো?
আপনার দেশে ফিরে না আসার যুক্তিটা ভালো লাগলো না,
মা অসুস্হ থাকলে কি কোন অভিমানে দুরে সরে থাকা চলে?
নাহ আমার দেশে না ফেরার কারণ এমন কিছুই না রে ভাই, আমি শুধু বলেছি, যেই বাংলায় এখনো বঙ্গবন্ধুকে তার প্রাপ্য সম্মান দিতে কার্পণ্য করে, সে জাতি এখনো একাত্তরের চেতনায় ফিরেছে আমি বিশ্বাস করিনা
বাই দ্যা ওয়ে, এই বছর দেশে যামু।
ব্লগে আজকাল এত কম আসেন কেন ভাই?
কিল্লিগা আসেন না?
কিল্লিগা আইবেন দেশে?
বাতাসে দাওয়াতের ঘ্রাণ!
কিল্লিগা আইবোনা দেশে?
(

তোমার অনুভূতি, অনুভব এমনই থাকুক আজীবন । বদলে না যাক কখনো ।
অামাদের দেশে এখন চরম বিশৃংখলা । আমাদের এখন আর নিশ্চিন্তে দিনযাপন হয় না, ঘুম হয় না । এখন দেশে শান্তি ফিরে আসার অপেক্ষায় আমরা । দেখ, পুলিশরা কেমন মার খাচ্ছে, গাড়ি পুড়ছে .... সহ্য করা যাচ্ছে না আর ।
মন্তব্য করুন