আমি কাউরে না করতে পারিনা
পুরা গ্রাম জুড়ে ছিছি, ঢিঢি, রিরি পড়ে গেলো। গ্রামের অতি উৎসাহী মুরুব্বিরা ইয়াং ছেলেপুলেদের উস্কে দিলো। এভাবে চলতে পারেনা। গ্রামের একটা ইজ্জত আছে না ? ঠিক, তাইতো ! যুবকেরা চিৎকার করে উঠে। এইসব অনাচার গ্রামে চলতে দেয়া যাবে না। এর একটা বিহিত করতেই হবে। সিদ্ধান্ত হলো, শুক্কুরবার বাদ আছর বিচার বসবে। বিচার হবে চেয়ারম্যানের বাড়িতে। গ্রামের ছোট বড়, ছেলে-বুড়ো সবাই এল সেই বিচার শুনতে।
বিচার করবে কে ?
কেনো, চেয়ারম্যান সাব !
আরে না, না। বিচার করবেন মসজিদের ঈমাম সাহেব, বললেন চেয়ারম্যান।
বিচার শুরু হলো।
কিন্তু আসামী কোথায় ?
ভিড়ের মধ্য থেকে কে একজন বলে উঠলো-
ঐতো কমলা। এই কমলা, তুমি সামনে আসো।
মাথা নত করে কমলা সামনে আসলো। পায়ের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে মাটি খোঁচাচ্ছে। চেয়ারম্যান সাব একবার আড় চোখে কমলার দিকে তাকিয়ে নিলেন। তারপর সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
আপনারা গ্রামের মুরুব্বিরা আছেন। এই গ্রামের একটা মান-সম্মান আছে।
আপনারাই বলেন, কমলার কী শাস্তি হওয়া উচিৎ।
কয়েকজন একজোটে বললো,
ওকে ১০১ টা দোররা মেরে গ্রাম থেকে বের করে দেয়া হোক।
চেয়ারম্যান আর ঈমাম সাহেব চট করে একে অন্যের মুখের দিকে তাকিয়ে নিলেন।
চুপ করেন আপনেরা।
চেয়ারম্যান বেশ জোরেই বললেন। সবাই চুপ।
কমলা তোমার কিছু বলার আছে ?
ও আবার কী বলবে ?
দুই দিকে আস্তে করে মাথা নাড়লো কমলা- অর্থাৎ তার কিছু বলার নাই। ১০১ টা দোররা মেরে এ যাত্রা ছেড়ে দেয়া হলো কমলাকে।
কমলার অপরাধ কী, সেটা কি আপনারা বুঝতে পারছেন ? না পারলে, অপেক্ষা করুন। আমিই একটু পরে বলছি।
কয়েক মাস পর আবার বিচার বসলো। যথারীতি আসামী হচ্ছে কমলা। একই অপরাধে কমলাকে আবারও দোররা মারা হলো। এবার ১৫১ ঘা। কমলা সবার সামনে ওয়াদা করলো-
আর এমন হবে না। এবারের মত আমারে গ্রাম ছাড়া কৈরেন না। ছাইড়া দেন। কমলাকে দোররা মেরে এবারও ছেড়ে দেয়া হলো।
বেশ কয়েকমাস পর আবার একই অপরাধে কমলার বিচার বসলো। এইবার কমলার আর রক্ষা নাই। তাকে দোররাতো মারা হবেই। গ্রাম ছাড়াও করা হবে। সিদ্ধান্ত ফাইনাল। বিচারের দিন কমলার প্রতি একটাই প্রশ্ন :
বল কমলা, ঘটনা কী ? কে তোমার এই হাল করেছে ?
কমলা নিরুত্তর। মাটির দিকে তাকিয়ে আছে। পায়ের নখ দিয়ে যথারীতি মাটি খুঁড়ছে। ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটলো উপস্থিত প্রায় সকলের। চিৎকার করে উঠলেন চেয়ারম্যান:
হারামজাদী বল, কার লগে শুইছস ? কে তোর পেটের সন্তানের বাপ ?
এই প্রথম কমলা চোখ তুলে তাকালো, মজলিসের সবার দিকে। তারপর শুরু করলো:
কার কতা কমু ? কয়জনের কতা কমু ?
রাইত হইলেই সবতে আমার লগে শুইতে চায়।
আমি কাউরে না করতে পারিনা। আমিওতো মানুষ ! নাকী ??
কাউকে কিছু বলার বা দোররা মারার সুযোগ না দিয়ে কমলা মজলিসের সামনে থেকে মাথা ঊঁচু করে হেঁটে বেরিয়ে যায়। সেদিন থেকে কমলাকে আর কেউ সেই গ্রামে দেখনি...





১১৭ বার শুনলাম।
১১৮...
ভালা হয়েছে।
ভালাতো হইবোই। আমি কি
লেখক খারাপ ??
গল্প লেখা ভাল হয়েছে।
বাই দ্য ওয়ে এইটা কী সত্য ঘটণা?
এইরকম কী ঘটতে দেখা গেছে?
দুর সইত্য হইবো ক্যান ?
এইটাতো গল্প...
তয় রায়হান ভাইরে জিগাইতে পারো। উনি
বলেছেন, এর আগে ১১৭ বার এই গল্প শুনেছেন...
কথায় আছেনা সবকিছু একদিন গল্প হয়ে যায়। আমি বলতে চাইছিলাম, এইরকম ঘটতে পারে কীনা। নাকী নিছকই মনগড়া কাহিনি।
সত্যি বলতে কী, এমন ঘটতে না পারার কোনো কারন নাই।
গ্রামে গঞ্জে এমন ঘটনা ঘটে বলেই শুনেছি...
হুমম
কী, মানু ?
আহারে।মনের ভিতরটা কেমন যেনো লাগছে!
???? !!!! ....
পুরুষ কমলার আত্মজীবনী টাইপ লাগলো কেন জানি।
স্মৃতির জাবর কাটলেন ?
কমন পড়লো বস ?
এই গল্প ভাস্কো দ্য গামার মুখে প্রথম শুনা গেছিলো, প্রায় চাইর পাঁচশ বচ্ছর আগে।
তোমার লাইগা একটা পরামর্শ বিমা,
চাইর পাঁচশো বছরেরও আগে থেইক্কা ছেলেরা
মেয়েদের বলে আসছে- আমি তোমাকে ভালোবাসি /
আই লাভ য়্যু...সো, পুরান জিনিস তুমি বইলো না...
ইয়াযাদ ভাই, থাইকেন আইতাছি। বেলি ফুচকা খাওয়াইব।
ওয়েলকাম... জেঠু....
আমি ফুচকা খাপো...........
শুধুমাত্র আপনেরে আমি খাওয়ামু...
কইলাম না, মেজবাহ ভাই না করতে পারে না। প্রমানিত।
আমি কাউরে না করতে পারিনা
লিখেছেন: মেসবাহ য়াযাদ | এপ্রিল ২১, ২০১০ - ৪:৫৯ অপরাহ্ন
মেসবাহ ভাই কাউরে না কইতে পারে না, এইটা কি এইরম গল্প লেইখা বুঝাইতে হয় নাকি আজকাল?
হা হা হা হা হা হা হা
চরম হৈছে....
এই গল্প শুনাইয়া মূল্যবান টাইম নষ্ট করা লাগি ইয়াযাদ ভাইরে জরিমানা করা উচিৎ। সিরিয়াসলি!
ডাইনোসরের আমলে টি-রেক্সরা এই গল্প বলাবলি করতো বইলা জানা যায়
য়াজাদ ভাই কি ডাইনোসররেও না করতে পারতো না!
এরশাদ হাসপাতালে।
তার্মানে আমি ভদ্র পুলা। এইবারই পরথম শুনলাম

আমি শুনছিলাম মেয়ের নাম বেদানা কিনতু মেসবাহ ভাই বললেন "কমলা"! বিষয় কি?
মন্তব্য করুন