সময়টা বড় বেশি খারাপ যাচ্ছে
সময়টা বড় বেশি খারাপ যাচ্ছে। গত বুধবার বিকেলের পর থেকে আমি ছিলাম নারায়ণগঞ্জে। ছোট বোন আর ছোট ভাইয়ের বৌও গিয়েছিল সেখানে বৃহস্পতিবার। শুক্রবার আমার শ্যালকের বিয়ের রিসেপশন। এর আগের শুক্রবার বিয়ে হয়েছে।
বুধবার
বুধবার রাতে টিভির দিকে চোখ পড়তেই চমকে উঠেছি। বেগুন বাড়িতে একটি ৫ তলা বাড়ি হেলে পড়েছে। কয়েকজন নিহত হয়েছে। আহতদের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি।
রাত নয়টার দিকে ছোট ভাই এল ঢাকা থেকে। একটু সময় পরে ফোনে জানা গেলো তার ভায়রা মহসিন সাহেব (যার সাথে রাত আটটার দিকেও ছোট ভাইয়ের কথা হয়েছে ফোনে) রাজবাড়ির পাংশায় নিজের বাড়িতে রক্ত বমি করতে করতে মারা গেছেন। ছোট ভাইটা রাতেই রাজবাড়ির পথে রওয়ানা হল।
বৃহস্পতিবার
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর নিমতলীতে ঘটে গেল স্মরণকালের ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ক্যামিকেলের আগুনে পুড়ে মারা গেল শতাধিক মানুষ। স্বজনহারা মানুষের আহাজারি আর হাহাকারে ভারী হয়ে পড়ে ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটসহ অন্য হাসপাতালগুলো। দল-মত নির্বিশেষে সবাই উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মনটা একদম খারাপ হয়ে যায়। আমাদের বিয়ে বাড়ি হয়ে পড়ে নিরানন্দ একটা বাড়ি। অপ্রয়োজনে কেই একটা কথাও বলছেনা। বড়দের অবস্থা দেখে শিশুরা পর্যন্ত আনন্দ করা ভুলে গেছে।
শুক্রবার
শুক্রবার কোনো রকমে বৌভাত অনুষ্ঠানটা শেষ করে সন্ধ্যায় আমরা চলে এলাম ঢাকায়। রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে ফোনে খবর পেলাম- প্রচুর বৃষ্টির কারনে বারান্দা পিচ্ছিল থাকাতে নতুন বৌ পড়ে গিয়ে বাঁহাতের অবস্থা খারাপ। ডাক্তারের কাছে নেয়া হয়েছে। ডাক্তার পুরো হাত প্লাস্টার করে দিয়েছেন। অন্তত ১৫ দিন হাতে প্লাস্টার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
শনিবার
শনিবার দুপুরে আমাদের একটা অরিয়েন্টেশন ক্লাশ ছিল। কোম্পানিতে নতুন লোকজন জয়েন করলে তাদের কে প্রতি শনিবার অরিয়েন্টেশন ক্লাস করাতে হয়। বেলা ২ টায় ক্লাশ শুরুর কথা। ২ টা বেজে ১০ মিনিট। তখনও সবাই এসে পৌঁছায় নাই। আট তলার হলরুমের বাইরে আমরা ৩ জন দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছি। বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি আর ঝড়... হঠাৎ করে ২১ ফুট বাই ৮ ফুট টেম্পার্ড ১০মিলিমিটারের গ্লাস ভীষণ শব্দ করে ভেঙ্গে পড়লো আমাদের গায়ে। কিছুই বুঝে উঠার আগে দেখলাম- সবার শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। কারো হাত, কারো মাথা, কারো পেট কেটে গেছে। সিকিউরিটির লোকজন ছুটে এল। আমাদেরকে ধরাধরি করে নিয়ে গেল ইমার্জেন্সিতে। সারা শরীরে কাঁচের টুকরা। সেসব বের করে শেলাই, ড্রেসিং, ব্যান্ডেজ বেঁধে সবাইকে অফিসের গাড়ীতে করে বাসায় পৌঁছে দেয়া হল। সবচেয়ে কম কেটেছে আমার। তবে এতটাই ভয় পেয়েছিলাম যে, রাতে ঘুমাতে পারিনি। যতটা ব্যথায়, তারচেয়ে বেশি আতংকে।
বরি, সোম অফিস করিনি। আজ অপিসে এলাম। বুঝতে পারছিনা, কী শুরু হয়েছে এসব...??





সময়টা আসলেই বড় বেশি খারাপ যাচ্ছে।
তবে আশা করি দ্রুতই আপনার, আমার, ঢাকাবাসীর ও দেশবাসীর দুর্দিন কেটে যাবে। আশা করি
আমিও বিশ্বাস করি, সব ঠিক হয়ে যাবে...।
আর দুর্যোগের মুহুর্তে কখনো সন্ত্রস্ত হবেন না। আমরা সবাই পাশে আছি
নিমতলীর স্বজনহারা মানুষগুলোর জন্য বড় বেশি কষ্ট হচ্ছে। এতগুলো মানুষের জীবন গেলো... এতবড় ক্ষতি আর কোনোভাবেই পোষাবে না... আল্লাহ তাদের সবার আত্মার শান্তি দিক... যারা বেঁচে আছে তাদের শোক সইবার শক্তি দিক
মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মড়ক লাগলো যেন!
আপনাদের অফিসে অতোবড় কাঁচটা হঠাৎ ভেঙ্গে পড়লো কীভাবে? বাইরে থেকে কোনকিছুর আঘাত নাকি এসব কাঁচের মেয়াদকালের কোন ব্যাপার আছে? আপনার আতঙ্কটা অনুমান করতে পারছি। সেরে উঠুন তাড়াতাড়ি। সবাই বিপদমুক্ত থাকুক, নিরাপদে থাকুক।
সম্ভবত মেয়াদ শেষ হয়ে গেছিলো। সবার দোয়ায় ভালোই আছি।
বাই দ্য ওয়ে, আপনার প্রো.পিকটা কি ছেলেবেলার (নাকী মেয়েবেলার)?
খুবই দুঃখজনক পরিস্থিতি, আসলেই। আশার কথা হলো অবস্থা খারাপ হতে হতে একেবারে তলানীতে পৌছে গেলে আর ভালো হওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। আমার ধারণা আমাদের দেশ সেই তলানীতে পৌছে গেছে।
আপনি ভালো আছেন জেনে শান্তি পেলাম। আরও কিছুদিন রেস্ট নিন, সম্ভব হলে।
আশার কথা হলো অবস্থা খারাপ হতে হতে একেবারে তলানীতে পৌছে গেলে আর ভালো হওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। আমার ধারণা আমাদের দেশ সেই তলানীতে পৌছে গেছে।
আমারো তাই ধারণা।
নারে ভাই, রেস্ট নেয়া হলো না। একদিন কোনো রকমে রেস্ট নিয়েছিলাম। পরদিন থেকেই ফোনে অফিস করতে হয়েছে। ফলে বিরক্ত হয়ে ২ দিন পরে অফিসে চলে এসেছি... আপনাদের দোয়ায় ভালোই আছি
একমত।
মেসবাহ ভাই ভালো হইয়ে যান তাড়াতাড়ি এই কামনায়।
হ
ভিন গ্রহের প্রানিদের কুনজর লাগছে
আসলেই, সময়টা খুবই খারাপ যাইতেছে। দেশেরও, আমারও।
ডোন্ট অরি... খারাপের পরই ভালো...
আমারো
চারদিকেই ভালো না লাগার মড়ক লাগলো নাকি ? সবাই ভালো থাকুক
আমিও বিশ্বাস করি, একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে...।
হাম রাহে না রাহে, ইয়াদ আয়েঙ্গে ইয়ে পাল
হিন্দী বুঝি না, অনুবাদ করে দেন
ঠিক বলেছেন। আমার বেশ প্রিয় একটি গান...
বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছেন!!!
বাতাস ১০মিমি গ্লাস ভেঙ্গে ফেলতে পারে না। নিশ্চয়ই ফিটিংস ত্রুটি। ২১-৮ বিশাল ওজন। ইদানীং গ্লাস অফিসের ফ্যাশান সবখানে, কিন্তু বিপদেও যে বাড়ন্ত এটা এখন বুঝতে হবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
না হবার কথা থাকলেও অনেক কিছু হয় বস... সেটা এদেশেই হোক বা প্রকৃতিতেই হোক... তবে অভিজ্ঞতাটা বড়ই ভয়াবহ আর অতংকের... সত্যি বলছেন, বড় বাঁচা বেঁচে গেছি...
ভাইয়া, আমারও সময়টা ভালো যাচ্ছেনা..ভিতর ভিতর শেষ হয়ে যাচ্ছি..কিন্তু মুখে হাসি আছে..
ভেতর ভেতর শেষ হয়ে যাচ্ছেন মানে কী ? শারীরিক সমস্যা, না মানসিক ? হাসি মুখ থাকা ভাল... কষ্টকে সবসময় পাত্তা দিতে নাই... হোক সেটা শারীরিক বা মানসিক... শুভ কামনা সবার জন্য
আপনার সিরিয়াস কিছু হয় নাই এজন্য ভালো লাগছে।
ক্যান, আর কিছু... আই মিন খাওয়া-দাওয়া ভাল লাগে নাই ?
আপনার যে সিরিরয়াস কিছু হয় নাই সেজন্য সত্যিই খুব ভালো লাগছে।
ভাবীরেও খুব ভালো লাগছে। আপনার কপাল....
হ, কপালের নাম গোপাল..........
ভাবীরে দেইখ্যা আসলে আমার কষ্ট লাগছে। আপনারে সহ্য করতে হয় তার। আহা......
আহা ! ভাসুরের কী দরদ গো .......... !!!
মন্তব্য করুন