ইউজার লগইন

আমাদের আনন্দ

আমাদের আনন্দের জীবনটাই জানি কেমন! মফস্বল শহেরর ছেলে সে। স্মার্ট, সুদর্শন। পড়াশুনাটা শেষ করে জীবন জীবিকার সন্ধানে একই ট্রেনে ঢাকা আসার পথে পরিচয় হয় মেলিতার সাথে। মেলিতা ঢাকার কোনো এক বিখ্যাত কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। সাত ঘন্টা খুব বেশি সময় না, আবার কমো না ! মেলিতা আনন্দের জীবনটা এলোমেলো করে নেমে যায় এয়ারপোর্ট স্টেশনে।

আনন্দ মেলিতার কলেজের সামনের একটা বিখ্যাত ফাস্টফুডের দোকানে চাকরী নিলো। দোকানের মালিক তার এক পরিচিত বড় ভাই (হতেই হবে, নাইলে গল্প জমবে কী করে ?)। মেলিতার সাথে দেখা হয় তার। টুকটাক হথা হয়। একদিন সাহস করে মেলিতাকে বলে ফেলে নিজের মনের কথা। মেলিতা অবাক চোখে তাকায় আনন্দের দিকে। আনন্দ কিছু বুঝে, কিছু বুঝে না।

বাসায় যেয়ে রাতে ফোন করে মেলিতা। জানায়, তার অপারগতার কথা। অনেকদিন থেকেই সে একটা ছেলেকে ভালোবাসে....। আনন্দকে সে পছন্দ করে, বন্ধু হিসেবে। শুনে আনন্দের জীবনটা নিরানন্দ হয়ে যায়। বেচারা ! বেশ ক'দিন দোকানে আসেনা। তার খোঁজে একদিন বাসায় যায় জয়িতা। একই দোকানে পাটটাইম কাজ করে সে। জয়িতাকে বাসায় দেখে আনন্দ অবাক হয়। ঘন্টাখানেক আনন্দের সাথে আড্ডা মেরে, চা-টা খেয়ে জয়িতা আনন্দের হাত ধরে অনুরোধ করে, পরদিন থেকে কাজে যাবার জন্য। প্রতিশ্রুতি নিয়ে জয়িতা ফিরে আসে।

আনন্দ যথারীতি পরদিন থেকে কাজে যায়। সকালবেলাটা তার ছটফট করে কেটে যায়...। কখোন জয়িতা আসবে! জয়িতা দোকানে আসে ২টার পরে। এরপর আনন্দের সময়টা কীভাবে কেটে যায় টের পায়না সে। কাজের মাঝে টুকটাক কথা হয়। কাজ সেরে একসাথে বের হয় দু'জন। জয়িতাকে বাসায় নামিয়ে আনন্দ নিজের বাসায় ফিরে। সারাপথ আনন্দ বকবক করে। তার মায়ের গল্প, মফস্বল শহরের গল্প শুনতে শুনতে একদিন জয়িতা জেদ ধরলো- সে আনন্দদের শহরে যাবে। বেচারা আনন্দ নিরুপায় হয়ে রাজি হয়।

একদিন দু'জনে ৩ দিনের জন্য ছুটি নিয়ে ট্রেনে চেপে বসে। মা আনন্দকে দেখে যতোটা খুশি হয়, ততটাই অবাক হয় জয়িতাকে দেখে। আনন্দ সহকর্মী বলে পরিচয় করে দেয়। মা হাসেন। মনে মনে ভাবেন, দু'জনেক বেশ মানিয়েছে...।

ফিরে আসার দিন আনন্দ জয়িতাকে তার ভালোলাগার কথা বলে। শুনে জয়িতা তাকিয়ে থাকে.... চোখ দিয়ে টপ টপ করে ক'ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ে। আনন্দের হাত ধরে বলে-আনন্দ, তুমি না বললে কোনোদিন তোমাকে বলা হতো না। তুমি শুধু আমার বন্ধুই না, তারচেয়ে বেশি...। কিন্তু আনন্দ, আমার যে একটা অতীত আছে....। পুরো ঘটনা শুনে আমাদের আনন্দ আরেকবার তব্দা খেয়ে গেলো...।

বাইরে তাকিয়ে ঈশ্বরকে লক্ষ্য করে বললো- আমার বেলায় বার বার এসব কেনো ঘটছে খোদা ? খোদা নিরুত্তর ! আনন্দ উদাস নয়নে বাইরে তাকয়ে থাকে.... (চলবে)

পোস্টটি ৫ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

টুটুল's picture


অনেক দিন পর একটা চমৎকার সিরিজ ছারতেছেন :)

অপেক্ষায় রইলাম :)

মেসবাহ য়াযাদ's picture


কটকা, কচিখালী, ডিমের চর, হিরন পয়েন্ট, দুবলার চর ঘুইরা পরের পর্ব লেখনের ইচ্ছা ...

সাঈদ's picture


অপেক্ষায় রইলাম :)

মেসবাহ য়াযাদ's picture


অপেক্ষায় রইলাম, লেখনের...

শাতিল's picture


চলুক

মেসবাহ য়াযাদ's picture


চলবে

মেসবাহ য়াযাদ's picture


চলবে

জেবীন's picture


কাহিনীর শুরুটা ভালো লাগসে....

কিন্তু ঠিক কলেজের সামনেই চাকরি পাওয়াটা  কাকতালীয় লাগলো... আর একদিনের ব্যবহারে ধুম করে মনটানা লাগাটা বেশী না?....
জটিল জীবনে কঠিন কঠিন প্যাচানি দেখে দেখে সরল কিছু দেখলেই চোখ টাটায় মনে হয়..Smile

মেসবাহ য়াযাদ's picture


আরে বইন, আমি কি আপনাদের মতন গল্প লেখক নাকী ? আমগো এক দোস্তের জীবনী অবলম্বনে ইনাইয়া বিনাইয়া লেখনের চেষ্টা করতেছি। ইরাম ভুল ধরলে কৈলাম খেলুম (লেখুম) না...

১০

জেবীন's picture


আরে, আপনেরে তো ইনাইয়া বিনাইয়াই লিখতে বলতেছি.... আপনেইতো ধর পেরেক তো মারা হাতুড়ি শুরু করছেন!!

ঠিক আছে কান ধরছি তাও লেখা দিয়েন....

১১

সোহেল কাজী's picture


জগৎ জুড়িয়া এক জাতি আছে তাহার নাম নারী,
যাকে বুঝিতে ঈশ্বর ফেইল, আমি কি কর্তে পারি। (লুইচ্চা রিটনের কবিতা)

Wink

গল্প ভাল্লাগলো দারুন, তয় তাড়াহুড়া কেলা? আরেট্টু স্লো কইরা আরো ডিটেইল দেয়া হঊক যাতে তাড়াইয়া তাড়াইয়া পড়তে পারি।Smile

অটঃ আপ্নে না কুই যান দুইশ পোলামাইয়া লইয়া? আমিতো ফটুক ব্লগের আশায় আছি।

১২

মেসবাহ য়াযাদ's picture


লুইচ্ছা রিটন বালাই কৈছে।

ঠিকাছে  যান, তাড়াহুড়া করুম না (বড় লেখার পাঠক কমতো) !

কাইলকা  (৩০ ডিসেম্বর) যাইতাছি, দোয়া রাইখেন...

১৩

মলিকিউল's picture


লাইগা রৈছি। দেখি কুন দিক নেন কাহিনী......

১৪

মেসবাহ য়াযাদ's picture


দোয়া রাইখেন

১৫

রন's picture


কাহিনী চলে না কেন...

১৬

মেসবাহ য়াযাদ's picture


সুন্দরবন শেষ কৈরা লেখুমনে

১৭

নীড় সন্ধানী's picture


তারপর?.................

১৮

মেসবাহ য়াযাদ's picture


তারপর ফুড়ুৎ............

১৯

তানবীরা's picture


জয়িতাকে কেন টানা হইলো? খেলবো না Tongue out

২০

মেসবাহ য়াযাদ's picture


আরে কী তাজ্জব ব্যাপার ! এইডা আমগো জয়িতা হৈবো ক্যান ? এইডা আনন্দের জয়িতা......

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মেসবাহ য়াযাদ's picture

নিজের সম্পর্কে

মানুষকে বিশ্বাস করে ঠকার সম্ভাবনা আছে জেনেও
আমি মানুষকে বিশ্বাস করি এবং ঠকি। গড় অনুপাতে
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি।
কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
কন্যা রাশির জাতক। আমার ভুমিষ্ঠ দিন হচ্ছে
১৬ সেপ্টেম্বর। নারীদের সাথে আমার সখ্যতা
বেশি। এতে অনেকেই হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরে।
মরুকগে। আমার কিসস্যু যায় আসে না।
দেশটাকে ভালবাসি আমি। ভালবাসি, স্ত্রী
আর দুই রাজপুত্রকে। আর সবচেয়ে বেশি
ভালবাসি নিজেকে।